বাংলা শব্দের পৌরাণিক উৎস সম্পূর্ণ বই, এক মলাটে বাংলা শব্দের পৌরাণিক উৎস পিডিএফ

ড. মোহাম্মদ আমীন

বাংলা শব্দের পৌরাণিক উৎস

ষষ্ঠ অধ্যায়

কংস মামার আদর
বাগ্্ভঙ্গিটির আভিধানিক অর্থ কৃত্রিম ভালোবাসা, ভালোবাসার ভান, ভালোবাসার আবরণে ক্ষতি করার চেষ্টা। কংস ছিলেন কৃষ্ণের মামা। কংস যদুবংশীয় বসুদেবের সঙ্গে নিজের ভগিনী দেবকীর বিবাহ দেন। বিবাহকালে দৈববাণী হয় যে, দেবকীর অষ্টম গর্ভের সন্তান কংসকে হত্যা করবে। ভীত কংস বসুদেব ও দেবকীকে কারাগারে নিক্ষেপ করেন। কারাগারে দেবকী ও বসুদেবের ছয়টি সন্তান হয়, তাদের প্রত্যেককে মামা কংস হত্যা করে। অষ্টম সন্তান কৃষ্ণকে কৌশলে বসুদেব কারাগারের বাইরে পাঠিয়ে দেন। অষ্টম সন্তানকে হত্যার মানসে কংস হাজার হাজার শিশুকে হত্যা করেন। কংস নানা উপায়ে ভাগ্নে কৃষ্ণকে হত্যার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল হননি। ভাগ্নেকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে মামা কংসের এ নিষ্ঠুরতা থেকে ‘কংস মামার আদর’ বাগ্্ধারাটির উৎপত্তি।

কঞ্চি
‘কঞ্চি’ শব্দের আভিধানিক ও প্রচলিত অর্থ বাঁশের সরু শাখা। কঞ্চি তুর্কিজাত শব্দ। তুর্কি ‘কম্চি’ শব্দ বাংলায় এসে কিছুটা পরিবর্তন হয়ে কঞ্চি রূপ ধারণ করেছে। তুর্কি ভাষায় ‘কম্চি’ শব্দের অর্থ চাবুক। একসময় শিক্ষার্থীদের শায়েস্তা করার জন্য এরূপ কঞ্চি চাবুক হিসাবে ব্যবহার করা হতো। এখনও যে ব্যবহার করা হয় না তা নয়। মূলত বাঁশের গ্রন্থিমূল থেকে নির্গত একটি ক্ষুদ্র শাখা কঞ্চি নামে পরিচিত। এটি খুব শক্ত, সহজে বাঁকানো গেলেও ভাঙা যায় না। কিন্তু যে বাঁশ থেকে কঞ্চি বের হয় সে কাণ্ড এর চেয়ে অনেক নরম। এ জন্য গুরুর চেয়ে সাগরেদ অধিক দক্ষ হয়ে গেলে বলা হয় ‘বাঁশের চেয়ে কঞ্চি দড়’ হয়ে গিয়েছে। কঞ্চি মহোপকারী বস্তু। এর দ্বারা শায়েস্তা করা শুধু হয় না, নানা রকমের আসবাবপত্র ও ঝুড়ি তৈরি হয়। ক্ষেতের বেড়া দেওয়ার জন্য কঞ্চির ব্যবহার রয়েছে। জ্বালানি হিসাবে গ্রামাঞ্চলে এখনও কঞ্চির জুড়ি নেই।

কথার ফুলঝুরি
‘বাগাড়ম্বর, অর্থহীন বাগবিস্তার, অলঙ্কারবহুল কথা’ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশে বাগ্ধারাটি ব্যবহার করা হয়। মূলত কথা ও ফুলঝুরি শব্দ-দুটোর মিলনে ‘কথার ফুলঝুরি’ বাগ্ধারার উৎপত্তি। ফুলঝুরি একপ্রকার আতশবাজি। দেখতে অনেকটা আগরবাতির মতো। এটি হাতে ধরে আগুন দিলে স্ফূলিঙ্গ বের হয়ে পুষ্পবৃষ্টির মতো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ‘ফুলঝুরি’ নামের আতশবাজির এ বৈশিষ্ট্য থেকে ‘কথার ফুলঝুরি’ বাগ্ধারার জন্ম। বক্তার মুখ দিয়ে কথার ফুলঝুরি ফুটতে পারে, লেখার মধ্যেও কথার ফুলঝুরি থাকতে পারে। ‘কথার ফুলঝুরি’ যেখান থেকেই ফুটুক তা অর্থহীন বাগ্বিস্তার ছাড়া কিছু নয়। তবু আতশবাজির মতো এমন কথারও সৌন্দর্য আছে।

কদর্য
‘কদর্য’ শব্দটির আভিধানিক অর্থ কুৎসিত, বিশ্রী, গর্হিত, অশালীন, পাপময় প্রভৃতি। বাংলা ভাষায কু বা খারাপ অর্থে কদর্য বিশেষণটির বহুল ব্যবহার লক্ষণীয়। ‘কদর্য’ শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে সরাসির বাংলা ভাষায় প্রবেশ করলেও সে তার মূল সংস্কৃত অর্থ সঙ্গে করে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়নি। তবে যে অর্থ এনেছে তা মূল অর্থের সঙ্গে সঙ্গতিহীন এমনটি বলা যাবে না। ‘কু’ মানে কুৎসিত এবং ‘অর্য’ মনে স্বামী। সুতরাং সংস্কৃতে কদর্য শব্দের অর্থ কুৎসিত স্বামী। তবে এ কুৎসিত কেবল শারীরিক নয়। যে সব স্বামী স্ত্রী-পুত্রকে নিপীড়ন করে ধনসঞ্চয় করত সংস্কৃতে তাদেরকেই কদর্য বলা হতো। বাংলা ভাষায় ‘কদর্য’ বলতে এখন শুধু স্বামী বোঝায় না। স্বামী হোক বা পিতা হোক যা কিছু কুৎসিত, বেমানান, অশালীন, বিরূপতার পরিচায়ক, ঘৃণ্যময়, তা-ই কদর্য।

কদলি
কদলি শব্দের আভিধানিক অর্থ কলাগাছ, কলা প্রভৃতি। কিন্তু এর মূল অর্থ হচ্ছে : যা বাতাস দ্বারা সহজে দলিত হয়। কদলিবৃক্ষের কোনো শাখা-প্রশাখা নেই। এর শেকড়গুলোও মাটির গভীরে যায় না। পুরো শরীর যেমন নরম তেমনি ভঙ্গুর। অল্প বায়ু প্রবাহিত হলেও দলিত হয়ে সহজে ভেঙে পড়ে। তাই এর নাম কদলিবৃক্ষ। কদলি বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত সুস্বাদু ফল। এটি শুধু সুস্বাদুই নয়, দেখতেও সুন্দর এবং অতি পুষ্টিকর। কদলি বলতে গাছ ও ফল দুটোকে বোঝালেও অনেক সময় অর্থ-বিভ্রাট দূর করার জন্য বলা হয় কদলিবৃক্ষ ও কদলি। এটি কলাগাছ বা রম্ভাতরু নামেও পরিচিত।
কলা আর কচু বাগ্্ভঙ্গিতে অনেকটা সমার্থক। যখন আমরা বলি, ‘কচু পাবে’ মানে কিছুই পাবে না। তেমনি পরীক্ষার দিন অনেকেই কলা খেতে চান না। কারণ পরীক্ষায় কেউ কলা পেতে চান না। কেন কলাকে কচুর ভাগ্য বরণ করতে হলো? কলা অত্যন্ত পুষ্টিকর ও আদর্শ ফল। তবু কলার এ পরিণতির কারণ হচ্ছে সহজলভ্যতা। অধিক ফলনের কারণে তুলনামূলকভাবে স্বল্পমূল্যে অধিক ফল পাওয়া যায়। তাই কলা এত সুন্দর, সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হওয়া সত্ত্বেও আমাদের সাহিত্য ও মনোজগতে এটি অবহেলার পাত্র। ঠিক কচুর ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। আসলে দাম ও মর্যাদা সবসময় গুণের ওপর নির্ভর করে না, লভ্যতার ওপরও নির্ভর করে। কোনো ব্যক্তি অথবা বস্তু যতই গুণকর হোক না কেন, সহজলভ্যতা তার মর্যাদা ও দাম দুটোকেই কমিয়ে দেয়। এ জন্য কলার চেয়ে সজনের দাম বেশি, দুধের চেয়ে মদের বেশি দাম। তুমি আমার কলাটা করবে, কাঁচকলা খাও, কলাপোড়া খাও, কলা খাও, ফল তোমার কলা প্রভৃতি বাগ্্ভঙ্গি নেতিবাচক ও অপমানজনক। অথচ কলা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত একটি পুষ্টিকর ফল।

করুণ
কৃ + √উন্্ (উনন্্), অথবা করুণা + অ্্ (অচ্্) অন্ত্যর্থে, যাতে কর্ম/কর/কাজ ‘উন’ বা কম বা এলোমেলো, যা চিত্ত বিক্ষেপ করে, যা শোক উদ্দীপন করে, দীন, করুণাযুক্ত, শোকব্যঞ্জক, প্রিয়বিয়োগনিবন্ধন, শোক, দুঃখজনক প্রভৃতি অর্থে করুণা শব্দ ব্যবহৃত হয়। বস্তুত বেকার বা অর্ধ-বেকারের অবস্থাই করুণ অবস্থা। কারণ এদের ‘করা’র বা কর্ম পরিবেশটা ‘উন’, ফলে উৎপাদন নেই বা হয় না। কিংবা, কাঁচামাল রয়েছে, হাতিয়ার রয়েছে, কিন্তু কেমন করে কী উৎপাদনে যেতে হবে তা জানা নেই, অথবা যিনি দেখিয়ে দেবেন তিনি নেই, অথবা জানা থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাদি নেই, ফলে কাজ হচ্ছে না। অর্থাৎ কর (কাজ) উন। এ অবস্থায় যে দুরবস্থা সেটিই করুণ। অবশ্য আজকাল যেকোনো দুঃখজনক অবস্থাকে করুণ বলা হয়ে থাকে।

কলকে/কল্কে পাওয়া
আসরে সম্মান পাওয়া, মর্যাদা পাওয়া, খাতির-যত্ন পাওয়া, উষ্ণ অভ্যর্থনা পাওয়া, বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়া প্রভৃতি অর্থে ‘কলকে পাওয়া’ বা ‘কল্কে পাওয়া’ বাগ্্ভঙ্গিটি ব্যবহার করা হয়। প্রাচীন বাংলাদেশে সামাজিক প্রথা অনুসারে সভা-সমাবেশ কিংবা কোনো আমন্ত্রণে সম্মানিত বিশিষ্ট অতিথিকে তামাক সেবন করতে দিয়ে স্বাগত জানানো হতো। এটি বর্তমানে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করার চেয়েও অনেক বেশি মর্যাদাকর ছিল। তামাক বা হুঁকোর নল মুখে দিয়ে বরণ করা ছিল গর্ব, মর্যাদা ও সম্মানের বিষয়। হুঁকোর উপর যে পাত্রে তামাক দিয়ে আগুন জ্বালানো হয় সেটি কলকে/কল্কে। তাই হুঁকোর সঙ্গে কলকের সম্পর্ক নিবিড়। কলকেহীন হুঁকো অর্থহীন। কলকের আগুন ছলকে না উঠলে হুঁকোর আর দাম কী! সবাই কিন্তু কলকে পেত না, কেবল বিশিষ্ট ব্যক্তিরাই সম্মান ও মর্যাদার নিদর্শনস্বরূপ অনুষ্ঠানাদিতে কলকে পেতেন। যিনি অধিক মর্যাদাসম্পন্ন তিনি সবার আগে কলকে পেতেন। এভাবে ক্রমান্বয়ে কলকে পরিচালনা করা হতো। কলকে পাওয়ার মাধ্যমে মর্যদা ও সম্মান পাওয়ার এ প্রাচীন সামাজিক প্রথাটি ‘কলকে পাওয়া’ বাগ্ধারার মাধ্যমে ভাষায় স্থায়ী আসন গেড়ে নিয়েছে। তবে বর্তমানে কলকে পাওয়া শব্দটি গুরুত্ব পাওয়া প্রকাশে সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়। যেমন প্রাক্তন সভাপতি রশিদ সাহেব কলেজের বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় কলকে পেলেন না।

কলঙ্ক
‘কলঙ্ক’ শব্দের আভিধানিক অর্থ কেলেঙ্কারি, অখ্যাতি, দাগ প্রভৃতি। তবে শব্দটির মূল অর্থ যা নিজেকে হীন করে। যে সকল কাজকর্ম, বিষয় বা আচরণ নিজেকে হীন করে সে সবই ছিল ‘কলঙ্ক’ শব্দের মূল অর্থ। তবে এর আধুনিক ও প্রচলিত অর্থ অখ্যাতি, দাগ, অপবাদ, দীর্ঘস্থায়ী নিন্দা, বড় রকমের নিন্দা, মালিন্য প্রভৃতি। অর্থের সামান্য পরিবর্তন হলেও শব্দটির মূল অর্থ ও প্রচলিত অর্থের তেমন প্রায়োগিক পার্থক্য নেই। যে সকল বিষয় কারও অখ্যাতি এনে দেয় সে সকল বিষয় কারও থাকলে সে ব্যক্তি কলঙ্কিত। মেয়ে হলে বলা হয় কলঙ্কিনী। তবে পুরুষ-শাসিত সমাজে ‘কলঙ্ক’ শব্দটা মেয়েদের ক্ষেত্রে বেশি প্রয়োগ করা হয়। যদিও কলঙ্ক নিজে ছেলেমেয়ে ভেদাভেদ করে না।

কলম
কল্ + অম = কলম-ণ। শব্দটি দ্বারা ১. কল সীমায়িত হয় যাতে, কলের সীমায়ন বহন করে যে; ২. লেখনী, শালিধান্য, প্রচুর জলোৎপন্ন ধান্য, চোর, লিখিত বিষয়, বেলোয়ারি ঝাড়ের কলম; ৩. কলকল করে মানুষ কথা বলে যায় কিন্তু সে কলকাকলির ধারাকে সীমায়িত করে লিখে রাখে যে, সে হলো কলম বা কলম্ব; ৪. ইংরেজি ঢ়বহ প্রভৃতি অর্থে প্রচলিত।
মূলত ‘কলম’ অতি প্রাচীন শব্দ। ‘উণাদি সূত্র’ বৈয়াকরণ পাণিনির পূর্বে বৌদ্ধ যুগের একটি প্রাচীন অমরকোষ। এ অমরকোষেও ‘কলম’ শব্দটি পাওয়া যায়। শব্দরত্নাকর, মেদিনীকোষ, বৈজয়ন্তী, বিশ্বপ্রকাশ, ত্রিকাণ্ডশেষ, অভিধানচিন্তামণি প্রভৃতি গ্রন্থে ‘লেখনী’ অর্থে কলম শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। ‘বঙ্গীয় শব্দকোষ’ এর সঞ্চালক হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, অমরকোষধৃত ‘কলম্ব’ শাকনালিকা ‘ডাঁট’, বোধ হয় আরবি শব্দের মূল ‘কলম্ব’; মুসলমান শাসনামলে শব্দটি প্রথমে আদালতে, পরে কথ্য ভাষায় ‘কলম’ শব্দ প্রচলিত হয় এবং পরবর্তীকালে এটি সংস্কৃতকোষে ধৃত হয়েছে। তবে সংস্কৃত সাহিত্যে এর প্রয়োগ নেই। প্রাচীনকালে লেখার নিমিত্ত ব্যবহৃত ‘শর’, ‘খাক’, ‘কঞ্চির কলম’ সবই ছিল নালিকাবিশেষ। গ্রিক শধষধসড়ং এবং ল্যাটিন পধষধসঁং শব্দের মৌলিক অর্থ নল; বেত্র (ৎববফ, পধহব) এবং গৌণার্থে ‘নলের কলম’ (ৎববফ-ঢ়বহ)।
‘কলম’ শব্দটির ব্যুৎপত্তি বিশ্লেষণে বোঝা যায়, প্রাচীনকালে খাগের কাঠি ছিল এক ধরনের নালিকা। মূলত এ নালিকা দিয়ে লেখালেখির সূচনা। পৃথিবীর প্রায় সকল জাতির জন্য এটি ছিল অভিন্ন। এ জন্য গ্রিক শধষধসড়ং এবং ল্যাটিন পধষধসঁং শব্দের মৌলিক অর্থ নল বেত্র (ৎববফ, পধহব) এবং গৌণার্থে ‘নলের কলম’। পত্রিকায় লেখালেখিকেও পড়ষঁসহ বলা হয়। আরবরা ভারতে আসায় নলের কলমও তাদের সঙ্গে ভারতে চলে আসে। তবে শব্দটি কেন ‘চোর’ অর্থেও ব্যবহারের প্রচলন রাখা হয়েছিল তা আগে বোঝা না-গেলেও এখন বোঝা যায়। কলমের মাধ্যমে কলমবাজগণ জঘন্য চুরির নৃশংস কার্য করে থাকে। হয়তো এ জন্য প্রাচীন ঋষিগণ কলমের একটি অর্থকে ‘চোর’ ধার্য করেছিলেন। বর্তমানে একজন আমলা মুহূর্তের মধ্যে কলমের এক খোঁচায় যে চুরি করে তা হয়তো লক্ষাধিক বে-কলম লোকের পক্ষে একযুগেও সম্ভব হবে না।

কলস
কলস শব্দের আভিধানিক অর্থ জলপাত্র, বড় আকারের ঘড়া। তবে কলস শব্দের মূল অর্থ : যা জল দিয়ে ভরতি করার সময় কল্কল্ শব্দ করে। এ অর্থে জল দ্বারা ভর্তি করার সময় যে সকল পাত্র কল্ শব্দ করে সেটিই কলস। তবে এ ধরনের জলপাত্রের পেট গলার তুলনায় অনেক বড় হওয়ায় কলসে জল ঢোকানোর সময় বাতাস-প্রবাহের কারণে কল্কল্ শব্দে মেতে ওঠে। ‘কলস’ শব্দের একটি প্রায়-সমার্থক শব্দ ‘কলসি’। এর অর্থ ছোট আকারের জলপাত্র বা ছোট আকারের ঘড়া বা ছোট আকারের কলস। এটাতেও কল্কল্ শব্দ হয়। কলস সাধারণত বাড়িতে থাকে। অন্যদিকে কলসি কাঁখে মেয়েরা জল আনতে যায়। মেয়েরা জল আনতে যায় বলে হয়তো ছোট কলসের নাম হয়েছে ‘কলসি’।

 

শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/

error: Content is protected !!