বাংলা শব্দের পৌরাণিক উৎস সম্পূর্ণ বই, এক মলাটে বাংলা শব্দের পৌরাণিক উৎস পিডিএফ

ড. মোহাম্মদ আমীন

বাংলা শব্দের পৌরাণিক উৎস

ষষ্ঠ অধ্যায়

কিম্ভূতকিমাকার
বিকট, ভয়ঙ্কর, অতি বিশ্রী, কদাকার, অদ্ভুত প্রভৃতি অর্থ বোঝাতে ‘কিম্ভূতকিমাকার’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। সংস্কৃতাগত বা সংস্কৃতরূপী শব্দ ‘কিম্ভূত’ ও ‘কিমাকার’ মিলে বাংলা ‘কিম্ভূতকিমাকার’ শব্দের গঠন। তবে ‘কিম্ভূত’ বা ‘কিমাকার’ শব্দের কোনোটাতে বিকট বা কুৎসিত কিছু নেই। ‘কিম্ভূত’ সংস্কৃত ‘কিম ভূত’ হতে এসেছে। এর অর্থ হচ্ছে কী প্রকার/কীসের মতো/কী ধরনের ইত্যাদি। অন্যদিকে কিমাকারের সংস্কৃত রূপ হলো ‘কিম্ আকার’। এর অর্থ কী তার আকার। অথচ বাংলায় শব্দ দুটি মিলিত হয়ে কেমন কদাকার হয়ে গেল। মনে হয়, ‘কিম্ভূত’ বা ‘কিম ভূত’ এর ভূত শব্দটা এ জন্য দায়ী। বাঙালিরা ভূতের ভয়ে এত তটস্থ থাকত যে, ‘কিম ভূত’-এর কী প্রকার অর্থটিকে শেষ পর্যন্ত ভূতের মতো অদ্ভুত বানিয়েই ছাড়ল। এতগুলো শব্দ থাকাতেও কেন কিম্ভূতকিমাকার? আসলে শব্দটি তার অর্থের মতোই বিকট ও ভয়ঙ্কর। হয়তো এ জন্য বক্তা বিষয়ের বিদঘুটে অর্থটি এ কথার মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে চায়। সংস্কৃত ‘কিম্ভূত’ ও ‘কিমাকার’ শব্দ মিলে কিম্ভূতকিমাকার শব্দের উৎপত্তি। কিম্ভূত-এর ভূত ‘কিমাকার’ শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভয়ঙ্কর অর্থদায়ক শব্দটির বিকাশ ঘটিয়েছে। সংস্কৃত কিম্ভূত শব্দের অর্থ কিম ভূত বা কী প্রকার, কীসের মতো বা কী ধরনের। একইভাবে কিমাকারের সংস্কৃত রূপ হলো ‘কিম্ আকার’ বা কী আকারের। সুতরাং ‘কিম্ভূতকিমাকার’ শব্দের অর্থ হলো কীসের মতো ও কী ধরনের। কিন্তু বর্তমানে এ শব্দটির অর্থ বিকট, ভয়ঙ্কর প্রভৃতি। আদি অর্থের সঙ্গে বর্তমান প্রচলিত অর্থের সম্পর্ক নেই। তবে মানুষ নিজেকে ছাড়া অন্য কিছুকে প্রায় সময় ভয়ানক বা কুশ্রী ভাবে। সে অর্থে কেউ যদি জিজ্ঞাসা করে ‘কী আকারের?’ স্বাভাবিক উত্তর আসতে পারে কদাকার, ভয়ানক প্রভৃতি। পরশ্রীকাতর বাঙালিরা অন্যের সুখ-শান্তি সহ্য করতে পারে না। ‘কিম্ভূতকিমাকার’ শব্দের উৎপত্তি তারই ইঙ্গিত দেয়।

কিরাত
ভারতের পূর্বদিকে অবস্থিত পার্বত্য ও অরণ্য অঞ্চলের অধিবাসী বিশেষ। রামায়ণ অনুসারে কিরাত দ্বীপবাসী এবং অদগ্ধ মাংস ভক্ষণ করেন। পর্বতের গুহায় এবং পর্বতগাত্রে এঁরা বসবাস করতেন। প্রাচীন ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, এঁরা ভারতের আদি অধিবাসীদের অন্যতম।
কীর্তিকলাপ
‘কীর্তিকলাপ’ শব্দের অর্থ যশোরাশি, কৃতিত্বের পরিচায়ক ভালো কাজ, কুকীর্তি প্রভৃতি। ‘কীর্তি’ ও ‘কলাপ’ এ দুটি শব্দ মিলে তৈরি হয়েছে কীর্তিকলাপ। ‘কীর্তি’ শব্দের অর্থ : যশ, খ্যাতি, সম্মান, সুনাম প্রভৃতি। আর ‘কলাপ’ শব্দের অর্থ হচ্ছে ময়ূরের ছড়ানো পেখম। সুতরাং কীর্তিকলাপ শব্দের ব্যাকরণগত অর্থ হচ্ছে : ময়ূরের পেখমের মতো সজ্জিত বিচিত্র রঙের কীর্তি। ময়ূরের পেখম সৌন্দর্য ও সম্মানের প্রতীক। তাই ‘কীর্তিকলাপ’ শব্দের মূল ও আদি অর্থ ভালো কাজ, কীর্তিসমূহ, যশ প্রভৃতি। তবে কীর্তিকলাপ শব্দের সে আদি অর্থ এখন আর নেই। এখন কীর্তিকলাপ বলতে কুকীর্তিই বুঝায়। কুকীর্তি ময়ূরের পেখমের মতো সজ্জিত না-হলেও নিজস্ব সজ্জায় যেমন বিচিত্র তেমন অন্য লোকের ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। পত্রিকায় কোনো ব্যক্তিবিশেষের কুকীর্তি ছাপা হলে কাটতি বেড়ে যায় কিন্তু সুকীর্তি ছাপা হলে কেউ পড়ে না। বঙ্গদেশে মানুষ অন্যের প্রশংসা শুনতে আগ্রহী নয়, বদনাম বা কুকীর্তিসমূহ শুনতে আগ্রহী। এসব কারণে সংস্কৃত সুকীর্তি (কীর্তিকলাপ) বাংলায় এসে কীর্তিকলাপ (কুকীর্তি) অর্থ ধারণ করেছে।

কুক্ষিগত
‘কুক্ষিগত’ শব্দটির আভিধানিক ও প্রচলিত অর্থ কুক্ষিগত করা, দখল করে নেওয়া। সংস্কৃত ‘কুক্ষি’ শব্দ থেকে বাংলা ‘কুক্ষিগত’ শব্দের উৎপত্তি। ‘কুক্ষি’ শব্দের অর্থ উদর, গর্ত ইত্যাদি। সুতরাং যা উদরে গত বা উদরে প্রবিষ্ট তাই কুক্ষিগত। এর মূল অর্থ উদরগত, ভক্ষিত। যা খাওয়ার পরে হজম হয়ে গেছে তাই কুক্ষিগত। তবে বাংলায় শব্দটি মূল অর্থে প্রয়োগ হয় না। এটি অন্তর্নিহিত বা আলঙ্করিক অর্থে ব্যবহৃত হয়। ‘ক্ষমতা ও সম্পত্তি কুক্ষিগত করা’ প্রকাশের ক্ষেত্রে শব্দটির বহুল ব্যবহার দেখা যায়।

কুপোকাত
‘কুপোকাত’ শব্দের আভিধানিক অর্থ পতন, ভূমিস্যাৎ, পর্যুদস্ত প্রভৃতি। কুপো ও কাত শব্দের সংযোগে কুপোকাত শব্দের সৃষ্টি। ‘কুপো’ শব্দের অর্থ পেট মোটা ও সরু গলাবিশিষ্ট পাত্র, যাতে সাধারণত তৈল রাখা হয়। কাত অর্থ হেলে পড়া বা মাটিতে ঢলে-পড়া। অতএব কুপোকাত শব্দের অর্থ তেলের পাত্র মাটিটে ‘কাত’ হয়ে পড়া। সুতরাং ‘কুপোকাত’ শব্দের অর্থ দাঁড়ায় চিৎপাত, পরাজয়, বিনষ্ট, এলোমেলো, বিপর্যস্ত, পঞ্চত্বপ্রাপ্ত প্রভৃতি। পাত্রের তেল মাটিতে গড়িয়ে পড়লে যেমন ভীষণ বিপর্যয়কর অবস্থার সৃষ্টি হয় তেমনি কোনো ব্যক্তিবিশেষ কুপোকাত হলেও একই রকম করুণ অবস্থার সৃষ্টি হয়।

কুবের
‘কুবের’ ভারতীয় পুরাণে বর্ণিত ধনাধিপতি যক্ষরাজ। তিনি ব্রহ্মর্ষি পুলস্ত্যের পৌত্র এবং পৌলস্ত্য বা বিশ্রবার ও ভরদ্বাজ-কন্যা দেববর্ণিনীর পুত্র। বিশ্রবার পুত্র বলে তাঁর আর এক নাম বৈশ্রবণ। কুবের মহাবনে গিয়ে দ্বিসহস্র বৎসর তপস্যা করে ব্রহ্মার নিকট বর-লাভ করেন যে, তিনি অমর ও উত্তর দিগন্তের দিক্পাল এবং ধনাধিপতি হবেন। দেবতাদের সমান মর্যাদা দিয়ে ব্রহ্মা তাঁকে একটা পুষ্পক রথ দান করেন। তবে ব্রহ্মা তাঁর আবাসস্থান নির্দেশ না-করায়, তিনি নিজ পিতাকে বাসস্থান নির্দেশ করার অনুরোধ জানান। পিতা বিশ্রবা বিশ্বকর্মা-নির্মিত ত্রিকূট-শিখরে অবস্থিত লঙ্কাপুরীতে কুবেরের আবাসস্থল স্থির করেন। কুবেরের বৈমাত্রেয় ভাই রাবণ লঙ্কাপুরী অধিকার করতে চাইলে কুবের পিতার উপদেশ অনুযায়ী লঙ্কাপুরী ত্যাগ করে কৈলাসে প্রস্থান করেন। ভারতীয় পুরাণ অনুযায়ী কুবের সমস্ত ধনের প্রদাতা ও অধ্যক্ষ। তিনি যক্ষ ও কিন্নরগণের অধিপতি ও দশ দিক্পালের অন্যতম। তাঁর দেহের গঠন খুব কুৎসিত ছিল। তাই তাঁর নাম হয় কুবের। তাঁর তিনটি পা ও আটটি দাঁত ছিল। কুবেরের স্ত্রীর নাম আহুতি। তাঁদের দুই পুত্র নলকুবের ও মণিগ্রীব এবং এক কন্যা মীনাক্ষী। কুবের বিভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন ধনপতি, যক্ষরাজ, বৈশ্রবণ, রাক্ষসেন্দ্র, রত্নগর্ভ, কিন্নরেশ, পৌলস্ত্য, দিক্্পাল, ত্র্যম্বকসখা, গুহ্যকেশর, ধনদ, নরবাহন, একপিঙ্গল প্রভৃতি। কুবেরের ধন থেকে বাংলায় ‘ধনকুবের’ শব্দের উৎপত্তি।

কুম্ভকর্ণ
‘কুম্ভকর্ণ’ শব্দটির আভিধানিক অর্থ : প্রচণ্ড ঘুমকাতুরে, যে খুব ঘুমাতে পারে, যাকে সহজে ঘুম থেকে জাগানো যায় না। তবে ‘কুম্ভকর্ণ’ শব্দের অর্থ যাই বলা হোক না কেন, ‘কুম্ভকর্ণ’ ছাড়া আর কোনো শব্দ দ্বারা এর অর্থকে এমন জীবন্ত ও স্পষ্ট-দ্যোতনায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। কুম্ভকর্ণ ভারতীয় পুরাণের একটি চরিত্র। তিনি ছিলেন রামায়ণ মহাকাব্যে বর্ণিত খ্যাতিমান রাক্ষসরাজ রাবণের মধ্যম ভ্রাতা। কুম্ভকর্ণ একনাগাড়ে ছয় মাস ঘুমাতেন। মাঝে একদিন আহার করার জন্য জাগতেন এবং আহার শেষ হলে পুনরায় ঘুমিয়ে পড়তেন। কুম্ভকর্ণ ছিলেন প্রচণ্ড শক্তিশালী, প্রবল সাহসী ও কুশলী যোদ্ধা। তাঁর ভয়ে উপমহাদেশে দেবতা-দাবিদার বহিরাগতরা পর্যন্ত ভয়ে তটস্থ থাকতেন। তাই দেবতাগণ ষড়্যন্ত্র করে কুম্ভকর্ণের জন্য দীর্ঘ এ ভয়ঙ্কর ঘুমের ব্যবস্থা করেছিলেন।
দেবতাগণ কীভাবে প্রতারণার আশ্রয় নিতে কুম্ভকর্ণকে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছিলেন তা শোনা যাক। কুম্ভকর্ণ শুধু শক্তিশালী ছিলেন না, খেতেও পারতেন খুব। জন্মাবার পরপরই তিনি হাজারখানেক প্রজা গিলে ফেলেছিলেন। পরে তিনি ভাইদের সঙ্গে গোকর্ণ আশ্রমে তপস্যায় বসলেন। তপস্যায় ব্রহ্মাকে সন্তুষ্টও করলেন। তারপর বর চাইলেন অমরত্ব। দেবতারা ব্রহ্মাকে গিয়ে বললেন, কুম্ভকর্ণকে বর দিয়ে কাজ নেই। এমনিতেই ও যা খায়! ততদিনে কুম্ভকর্ণ প্রচুর রাক্ষস-প্রজা আর মানুষ তো বটেই, আরও খেয়ে ফেলেছে স্বর্গের সাতজন অপ্সরী, ইন্দ্রের দশজন অনুচর এবং অসংখ্য মুনি-ঋষি। ফলে ব্রহ্মা ওকে বর না দিয়েই চলে যান। বর পেয়ে অমর হয়ে গেলে তো ও ত্রিভুবন খেয়ে ফেলবে। বর না-পেয়ে অসন্তুষ্ট কুম্ভকর্ণ আবার কঠোর তপস্যায় বসে যান। সে তপস্যা এমন কঠোর ছিল যে, পুরো পৃথিবী ভীষণ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুরো পৃথিবী পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার অবস্থা। ব্রহ্মা ভীষণ চিন্তায় পড়ে গেলেন। শেষে ব্রহ্মা এক চাতুরীর আশ্রয় নিলেন। তিনি তাঁর স্ত্রী সরস্বতীকে কুম্ভকর্ণের কণ্ঠে গিয়ে ঘাপটি মেরে থাকতে বললেন। ব্রহ্মা যখন কুম্ভকর্ণের কাছে বর জানতে চাইবেন, তখন কুম্ভকর্ণের বদলে সরস্বতীই বর চেয়ে বসবেন। ব্রহ্মা কুম্ভকর্ণের ঘরে গিয়ে বর শুনতে চাইলে কুম্ভকর্ণ বললেন, ‘অনন্ত জীবন’। কিন্তু পূর্ব চাতুরী অনুযায়ী ঘাপটি মেরে থাকা সরস্বতী সেটাকে বদলে বানিয়ে দিলেন, ‘অনন্ত নিন্দ্রা’। ‘তথাস্তু’ বলে ব্রহ্মাও নিশ্চিন্তে বর দিয়ে দিলেন। চৈতন্য আসার পর কুম্ভকর্ণ ব্রহ্মার কাছে গিয়ে কৈফিয়ত চাইলেন। অবশেষে ব্রহ্মা নিজের ভুল বুঝতে পেরে বর একটু পাল্টে দিলেন ছয় মাস পর পর একদিনের জন্য কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙবে। তবে অসময়ে ঘুম ভাঙলে অবশ্য কুম্ভকর্ণের মৃত্যুও হতে পারে।
‘দেবতাগণ কারসাজি করে কুম্ভকর্ণের জন্য দীর্ঘ এ ভয়ঙ্কর ঘুমের ব্যবস্থা করেছিলেন’ এ কারসাজির কাহিনিটা বেশ চমকপ্রদ। কুম্ভকর্ণ যখন দেবতাদের রাজপদ ইন্দ্রাসন (দেবতাদের রাজার পদবি ইন্দ্র, ইন্দ্র কোনো ব্যক্তির নাম নয়) পাবার আশায় কঠোর তপস্যা শুরু করলেন, তখন দেবরাজ তাঁর মনের ইচ্ছা টের পেয়ে বাগ্দেবী সরস্বতীর শরণাপন্ন হলেন। ব্রহ্মা তপস্যায় তুষ্ট হয়ে বর দিতে এসে কুম্ভকর্ণকে বললেন, তুমি কী চাও? সরস্বতী তখন কুম্ভকর্ণের জিহ্বায় গিয়ে বসলেন, তাই কুম্ভকর্ণ ‘ইন্দ্রাসন’ উচ্চারণ না করে উচ্চারণ করল ‘নিদ্রাসন’। ব্রহ্মাও বললেন ‘তথাস্তু’। ব্রহ্মার বাক্য কখনই নিষ্ফল হয় না। দেবরাজ সরস্বতীর চাতুরীতে এভাবে এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন, কুম্ভকর্ণ হতে তাঁর সিংহাসন বাঁচল আবার নিদ্রার বর পাওয়ায় তাঁর দাপট থেকেও মুক্তি মিলল।
রাবণ-রামের যুদ্ধে পুরো লঙ্কা প্রায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিল। তবু কুম্ভকর্ণ দিব্যি আরামে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছিলেন। লঙ্কা বীরশূন্য হয়ে পড়লে কুম্ভকর্ণের সহায়তা অনিবার্য হয়ে দাঁড়ায়। এ অবস্থায় রাবণ বহু অনুচর ও সহস্র হস্তী দ্বারা ধাক্কা দিয়ে কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙিয়েছিলেন। কুম্ভকর্ণের এ ঘুমকাতুরে ঘটনা হতে বাগ্্ভঙ্গিটির উৎপত্তি। অনেক লোক আছে যারা সংসারে যা কিছুই ঘটুক না কেন, সবকিছু উপেক্ষা করে নির্বিকার থাকতে পারেন। বস্তুত এমন চরিত্রের লোকদের বোঝানোর জন্য ‘কুম্ভকর্ণ’ শব্দটি প্রয়োগ করা হয়।

কুরুক্ষেত্র
‘কুরুক্ষেত্র’ শব্দটি সাংঘাতিক ঝগড়া, তুমুল কাণ্ড প্রভৃতি অর্থে ব্যবহার করা হয়। মহাভারতে বর্ণিত কুরু-পাণ্ডবের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে কুরুক্ষেত্র বাগ্্ভঙ্গিটির উৎপত্তি। মহাভারতের বর্ণনানুযায়ী, কুরুক্ষেত্রে একই বংশের কৌরব ও পাণ্ডবদের মধ্যে আঠারো দিনব্যাপী এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী-যুদ্ধ সংঘটিত হয়। কুলবিনাশী এ যুদ্ধ এতই ভয়াবহ ও নৃশংস ছিল যে, যুদ্ধ শেষে উভয় বংশে মাত্র দশজন জীবিত ছিলেন। কুরুক্ষেত্রে অনুষ্ঠিত এ যুদ্ধের মতো ভয়াবহ যুদ্ধ তৎকালে আর হয়নি। তাই কোনো পক্ষসমূহের ঝগড়ার ভয়াবহতা বোঝাতে এ বাগ্্ভঙ্গিটি ব্যবহার করা হয়।

কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ
কৌরব ও পাণ্ডবদের মধ্যে ১৮ দিনব্যাপী যে যুদ্ধ হয়েছিল সেটি ‘কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ’ নামে পরিচিত। এমন ভয়াবহ যুদ্ধ সেকালে আর হয়নি। য্দ্ধু-শেষে উভয়পক্ষের মাত্র দশজন জীবিত ছিলেন। তন্মধ্যে পাণ্ডবপক্ষে সাত জন এবং তাঁরা হলেন : যুধিষ্ঠির, ভীম, অর্জুন, নকুল, সহদেব, শ্রীকৃষ্ণ ও সাত্যকি। কৌরবপক্ষের তিনজন হচ্ছেন কৃপাচার্য, কৃতবর্মা ও অশ্বত্থামা।

 

শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/

error: Content is protected !!