বাংলা শব্দের পৌরাণিক উৎস সম্পূর্ণ বই, এক মলাটে বাংলা শব্দের পৌরাণিক উৎস পিডিএফ

ড. মোহাম্মদ আমীন

বাংলা শব্দের পৌরাণিক উৎস

অন্তরীক্ষ
‘অন্তরীক্ষ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ পৃথিবী। ভারতীয় পুরাণ মতে ভুবর্লোক, স্বর্গ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী স্থানকে অন্তরীক্ষ বলে। গন্ধর্ব, অপ্সরা ও যক্ষদের বাসস্থান ছিল। যযাতি স্বর্গ হতে পতিত হয়ে এ স্থানে অবস্থান করতেন।

অন্ধ্রদেশ
ভারতীয় পুরাণে বর্ণিত একটি বিখ্যাত রাজ্য। বর্তমান মাদ্রাজ প্রদেশের উত্তরাংশ ও হায়দ্রাবাদের দক্ষিণাংশ নিয়ে এটি গঠিত ছিল। অন্ধ্রদেশ ভারতীয় পুরাণে বর্ণিত বহু ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু।

অন্ন
‘অন্ন’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো : ভাত, খাদ্য প্রভৃতি। অন্ন বলতে যেকোনো খাদ্য বোঝালেও বাংলা ভাষায় অন্ন বলতে সাধারণত ভাত বোঝায়। সংস্কৃত অন্ন শব্দের অর্থ সব রকমের আহার্য দ্রব্যাদি, খাদ্যদ্রব্য প্রভৃতি। সংস্কৃত ভাষায় অন্ন চার প্রকার। যথা : চর্ব্য, চোষ্য, লেহ্য ও পেয়। এ অর্থে যেকোনো প্রকার খাদ্যই সংস্কৃতে ভাত। কিন্তু বাংলায় ভাত বলতে শুধু অন্ন বোঝায়। এর কারণ অযৌক্তিক নয়। ভাত ভক্ষণের সময় সাধারণ ভাতের সঙ্গে সকল প্রকার খাদ্য ও ব্যঞ্জন উদরস্থ করা হয়। তাই সংস্কৃত ‘অন্ন’ বাংলায় এসে শুধু ‘ভাত’ হয়ে গিয়েছে। বাঙালিরা ভাত খাওয়ার সময় প্রায় সকল প্রকার খাদ্য ভক্ষণ করে।
অন্নচিন্তা চমৎকারা, কাতরে কবিতা কুতঃ
এটি মহাকবি কালিদাসের একটি উক্তি। এককালে অন্নচিন্তাই ছিল মানুষের মুখ্য ভাবনা। অন্ন পেলে মানুষ আর তেমন কিছু চিন্তা করত না। অবশ্য আধুনিক মানুষ শুধু অন্ন পেয়ে সন্তুষ্ট থাকে না। আধুনিকতার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক মানুষের উদরের সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে। যাই হোক, অন্নচিন্তা এমনই চমৎকার, অনিবার্য ও ঐকান্তিক যে, তাতে কাতর ব্যক্তি যতই বিদ্বান হোন না কেন, তাঁর কোনো গুণেরই বিকাশ ঘটে না। ক্ষুধা সমস্ত জ্ঞান, চঞ্চলতা ও প্রজ্ঞাকে সুপ্ত করে রাখে। জ্ঞান, মেধা ও চিন্তা যতই গভীর হোক না, তা সবসময় অন্ন দ্বারা উৎসরিত এবং অন্নময় নিশ্চয়তাকে ঘিরে আবর্তিত হয়। এ চিরন্তন বোধ থেকে বাগ্্ভঙ্গিটির উৎপত্তি।
মহাকবি কালিদাসের ঘরে একদিন অন্ন ছিল না। ওই দিন রাজসভায় বিশাল এক আসর বসেছিল। রাজসভার প্রতিটি আসরে প্রজ্ঞা আর জ্ঞান-গরিমার অনবদ্য প্রকাশের কারণে কালিদাসই হয়ে উঠেছিলেন রাজ্যের সেরা জ্ঞানী। কিন্তু রাজা দেখলেন, সেদিনের বিশাল আসরে কালিদাস বিমর্ষ, কিছুই পারছেন না। অন্য দিনের চেয়ে তাঁকে অবিশ্বাস্য রকমের উদাসীন ও বিপর্যস্ত মনে হচ্ছে। তাঁকে বিমর্ষ, হতাশ ও মনমরা দেখাচ্ছিল। রাজা এর কারণ জানতে চাইলে কালিদাস বিষণ্ন বদনে বলেছিলেন : অন্নচিন্তা চমৎকারা, কাতরে কবিতা কুতঃ। সোজা বাংলায় : অন্নচিন্তা আমার কাব্যপ্রতিভাকে কাত করে দিয়েছে।

অপত্য
‘অপত্য’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে : পুত্র-কন্যা, সন্তান-সন্ততি প্রভৃতি। এটি সংস্কৃত শব্দ। সংস্কৃত ভাষায় শব্দটির অর্থ যদ্দ¦ারা বংশ পতিত বা লোপ হয় না। তা হলে এখন প্রশ্ন আসে কার দ্বারা বংশ পতিত বা লোপ হয় না। যদি কেউ সন্তান-সন্ততি রেখে মারা যান তা হলে বংশ লোপ বা পতিত হয় না। আবার কেউ যদি সন্তান-সন্ততি না-রেখে মারা যান তা হলে তার আর বংশবৃদ্ধির সুযোগ থাকে না, ফলে বংশ লোপ পায় বা পতিত হয়। তাই বাংলায় অপত্য বলতে পুত্র-কন্যা বা সন্তান-সন্ততিকে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে অপত্য শব্দটির এখন একক বা স্বাধীন ব্যবহার তেমন দেখা যায় না। শব্দটি অন্য শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে চমৎকার অর্থ প্রকাশে প্রয়োগ করা হয়। যেমন অপত্যস্নেহ, অপত্যনির্বিশেষে, অপত্যভালবাসা প্রভৃতি।

অপরূপ
‘অপরূপ’ শব্দের আদি অর্থ কদাকার। ‘অপ’ একটি উপসর্গ। এটি উপসর্গরূপে অন্য শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নঞর্থক দিকে তার অর্থের পরিবর্তন ঘটিয়ে দেয়। যেমন অপগমন, অপকর্ষ, অপমান, অপঘাত, অপকৃষ্ট, অপরূপ, অপযান ইত্যাদি। অপরূপ একটি বিশেষণ। অভিধানে এর অর্থ দেওয়া আছে : অপূর্ব, অতুলনীয় রূপবিশিষ্ট; আশ্চর্য, কিম্ভূত; কদাকার, কুরূপ; বেয়াড়া। সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় ‘অপরূপ’ শব্দটি ‘অপূর্ব’ অর্থে যেমন ব্যবহৃত হয় তেমনি কদাকার/বেতাল/বেয়াড়া অর্থেও ব্যবহৃত হয়। যেমন বউটা ভালা আছে, হইলে কিতা হইবো অপরূপ জামাইটার যন্ত্রণায় ঘরো শান্তি নাই। ‘অপ’ আসলে এক অপয়া উপসর্গ। অপকর্ম, অপচেষ্টা, অপপ্রচার, অপচিকীর্ষা, অপবাদ, অপভাষা, অপজাত প্রভৃতি এর অপয়ার স্বাক্ষর বহন করে।
‘অপরূপ’ শব্দের অর্থ জানার আগে ‘অলঙ্কার’ শব্দের অর্থ জানা দরকার। অলঙ্কার = অলম+/কৃ+অ(ঘঞ্); যে করণ (কাজ করা) অলম্ (নিষিদ্ধ); নিষেধ সত্ত্বেও যা করা হয়েছে। অলম্ শব্দের অর্থ ‘করিও না’। অহঙ্কার, অলঙ্কার, সত্যঙ্কার ‘কার’ যুক্ত এই তিনটি শব্দই যৌথসমাজের উদ্বৃত্ত সম্পদকে ব্যক্তিগত করার প্রাচীন চেষ্টার নিদর্শন। প্রজাপতিতন্ত্রের পূর্বে উদ্বৃত্ত জমানো নিষিদ্ধ ছিল, ফেলে দেওয়া হতো আবর্জনারূপে, আর যে আবর্জনা নিক্ষেপ-স্থানে যেত তাকে নিন্দা করা হতো ‘কিরাত’ বলে। কারণ সামাজিক উৎপাদনের ‘অবশেষ’ থেকে সমাজদেহে পুঁজ জমতে পারে। এই উদ্বৃত্ত তাই ছিল ‘ভূষা’ পদবাচ্য, যা খাদ্যাদির ছোবড়ার সঙ্গে ফেলে দেওয়া হতো। ‘ভূষা’ কথাটি একালেও খুব ভালো কথা নয়। গহনাদি তাই ‘ভূষা’ পদবাচ্য হয়ে যায়। পরে সমাজে সম্পদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা হলে, অলঙ্কারের মর্যাদাও বৃদ্ধি পায়। যদিও ভারতসমাজে ‘অহঙ্কার’-এর মর্যাদাতে মন প্রতিষ্ঠিত নয়, বরং নিন্দিতই রয়ে গেছে। আর ‘সত্যঙ্কার’ গেছে হারিয়ে। আবার ‘অল’ মানেই ‘নিবারণ’ ও ‘ভূষণ’। ভূষণের দ্বারা নিজেকে গোপন করেই তো শত্র“নিবারণ করা যায়। নইলে ‘অল’ শব্দের আরেকটি অর্থ কেন ‘শত্র“নিবারক’ হতে যাবে।
কলিম খান-রবি চক্রবর্ত্তী রচিত ‘বঙ্গীয় শব্দার্থকোষ’ গ্রন্থেও এর বিবরণ দেওয়া হয়েছে। অপরূপ = অপকৃষ্ট রূপ যাহার। ‘অপ’ শব্দটি নিন্দাসূচক, সবাই জানেন। অথচ রূপের আগে ‘অপ’ থাকা সত্ত্বেও ‘অপরূপ’ কথাটি একালে ‘অতি সুন্দর’ অর্থে প্রচলিত রয়েছে। এটা হলো কীভাবে? ‘অলঙ্কার’ শব্দটি থেকে জানা যায়, গহনাদি এককালে নিষিদ্ধ ছিল। শারীরিক সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে প্রদর্শনও সেকালে মন্দ কাজ মনে করা হতো। বঙ্গীয় শব্দকোষে উল্লেখ আছে, ‘বাচস্পত্যে’ ‘আশ্চর্যরূপ’ অর্থে সংস্কৃত ‘অপরূপ’ ধৃত হয়েছে। অর্থাৎ ‘আশ্চর্য’ শব্দের ক্ষেত্রে যেমন দেখা যায়, কারও কারও আশামূলক আচরণ (সবাই মিলে চাষ করার ফলে যে ফলগুলো ফলেছে, তার মধ্যে যে-লতায় ওই বড় ফলটি ফলেছে, তাতে আমি জল ঢালতাম, অতএব ভাগের সময় আমি যেন ওই ফলটি পাই এইরূপ আশামূলক আচরণ) দেখে সবাই অবাক হয়ে যেত, সে রকম নিজেকে সুন্দর করে সাজিয়ে (অপকৃষ্ট করে) অন্যদের দেখিয়ে আকর্ষণ করার মধ্যেও লোকে সেকালে ‘আশামূলক আচরণ’ দেখেছিল। সে জন্য রূপসজ্জা অপকর্ম বলে নিন্দিত হয়েছিল। পরে সেটাই সমাজে গ্রহণীয় হয়ে গৌরবজনক হয়ে যায়, যেমন হয়েছে ‘অলঙ্কার’-এর ক্ষেত্রে। তাই অপরূপ শব্দের শব্দগত অর্থ ‘মন্দ-রূপ’ হলেও সমাজ-ইতিহাসের বিচারে প্রাচীনকালে তা মন্দই ছিল। পরবর্তীকালে সমাজ ব্যক্তিমালিকানার দিকে যত অগ্রসর হতে থাকে, শব্দটির অর্থ ক্রমশ ‘অতি সুন্দর রূপ’ হয়ে যায়।

অপ্সরা
‘অপ্সরা’ শব্দের আভিধানিক অর্থ স্বর্গবেশ্যা, সুরসুন্দরী প্রভৃতি। ভারতীয় পুরাণ মতে সংস্কৃত অপ (জল) হতে এরা উৎপন্ন হয়েছিল। তাই এদের নাম অপ্সরা। দেবাসুরের সমুদ্রমন্থনকালে সমুদ্র হতে অনেক কিছুর সঙ্গে অসংখ্য পরিচারিকা উঠে আসে। দেব-দানব কেউ ওদের গ্রহণ না-করায় এরা সাধারণ স্ত্রীরূপে গণ্য হয়। মনুসংহিতা মতে এরা সপ্তমনু দ্বারা সৃষ্ট এবং সংখ্যায় ৬০ কোটি। কামদেব অপ্সরাদের অধিপতি ছিলেন। অপ্সরাগণ গান, নৃত্য, বাদ্য, ছলাকলা প্রভৃতি বিদ্যায় পারদর্শী ছিল। দেবতারা এদের নানা কাজে নিযুক্ত করতেন। কোনো মুনি বা ঋষি কঠোর তপস্যাবলে দেবতাদের চেয়েও যাতে শক্তিশালী হয়ে ওঠেন এ ভয়ে দেবতারা কখনো কখনো মুনি-ঋষিদের প্রলুব্ধ করে তপস্যা ভঙ্গ করার জন্য অপ্সরা পাঠাতেন। বিশ্বামিত্রের তপস্যা ভঙ্গের জন্য মেনকাকে পাঠানো হয়েছিল। যার ফলে শকুন্তলার জন্ম হয়।

অপাঙ্ক্তেয়
পঙ্ক্তির সঙ্গে নেতিবাচক অ-প্রত্যয় যুক্ত হয়ে অপাঙ্ক্তেয় শব্দের উৎপত্তি। এর অর্থ অনুপযুক্ত বা অসমকক্ষ। শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হলো একই পঙ্ক্তিতে বা একই সারিতে বসার অনুপযুক্ত। সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে সমবেত মর্যাদাশীল ব্যক্তিদের পঙ্ক্তিতে বা সারিতে নিম্নশ্রেণির মানুষদের বসতে বা খেতে দেওয়া হতো না। তাই তাদের বলা হতো অপাঙ্ক্তেয় বা পঙ্ক্তিতে বসার অনুপযুক্ত। তখন অপাঙ্ক্তেয় বলতে একঘরে, পতিত, ঘৃণিত, নিন্দিত ও অবজ্ঞেয় ব্যক্তিবর্গকে বোঝানো হতো। এখন অযোগ্য, অনুপযুক্ত কিংবা অসমকক্ষ বোঝাতে শব্দটি ব্যবহৃত হয়।

অপেক্ষা
‘অপেক্ষা’ শব্দটির আভিধানিক অর্থ প্রতীক্ষা, প্রত্যাশা, দেরি, বিলম্ব প্রভৃতি। শব্দটি বহুমুখী দ্যোতনার অধিকারী। প্রতীক্ষা, দেরি, ভরসা, আশা, প্রত্যাশা প্রভৃতি অর্থেও শব্দটির ব্যবহার দেখা যায়। সংস্কৃত হতে বাংলায় শব্দটি এসেছে। তবে সংস্কৃতে শব্দটির অর্থ আকাক্সক্ষা, আশা, ইচ্ছা প্রভৃতি। কিন্তু বাংলায় ‘অপেক্ষা’ অর্থ প্রতীক্ষা, কোনো কিছু প্রত্যাশায় প্রহর গোনা প্রভৃতি।
অপেক্ষা শব্দটি ধিরঃ করা অর্থে এবং তুলনার্থক ‘হতে, থেকে, চেয়ে’ প্রভৃতি অর্থে প্রচলিত। ‘ঈক্ষ্’ শব্দের অর্থ হলো গতিশীল কোনো বস্তু বা বিষয় (= ঈ)-কে দর্শন করা বা দেখা। কিন্তু দেখার জন্য যে সময়, অর্থ, নিষ্ঠা ইত্যাদি ব্যয় করা হয় অথচ যাকে দেখার জন্য এত কিছু তার দেখা পাওয়া যাচ্ছে না, এ রকম ঈক্ষা-কে বলে অপ-ঈক্ষা বা অপেক্ষা বা খারাপ ঈক্ষা। বিশেষ ব্যক্তি বা ঘটনার অনিশ্চিত আগমনের জন্য ‘প্রতীক্ষা’ বা ধিরঃ করতে বাধ্য হতে হলে তখন বোঝা যায় আসলে অপেক্ষা নামক কাজটি কতখানি অপ। কারণ তাতে ঈক্ষিত উপস্থিত নেই, অথচ ঈক্ষণের বাকি সমস্ত উপাদানগুলো ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। এমন ঘটনা বিরল নয় যেখানে অপেক্ষাকারী অপেক্ষা করার চেয়ে আত্মহত্যাকে শ্রেয় ভেবেছে। এ অপ-ঈক্ষা বা অপেক্ষা ক্রমে একদিন কীভাবে যেন তুলনামূলক হয়ে গেল। আবুল অপেক্ষায় (তুলনায়) বাবুল শ্রেষ্ঠ, এজন্য যে, আবুলের যখন দেখাই পাওয়া যাচ্ছে না, তখন যে-বাবুলকে পাওয়া যাচ্ছে সে-ই ভালো। এভাবে অপেক্ষা শব্দটি ক্রমে তুলনাত্মক হয়ে যায়। কিন্তু সে তুলনা কেমন করে ‘হতে, থেকে, চেয়ে’ হয়ে গেল! আবুল অপেক্ষা (হতে, থেকে) বাবুল শ্রেষ্ঠ, আবুলের চেয়ে বাবুল শ্রেষ্ঠ হয়ে গেল?
অবতার
দেবতারা সময়ে সময়ে বিভিন্ন কারণে মনুষ্য-মূর্তি ধারণ করে পৃথিবীতে এসেছেন বলে বর্ণিত আছে : প্রজাপতি বা ব্রহ্মা শূকর, কূর্ম ও মৎস্য অবতাররূপে আবির্ভূত হয়ে পৃথিবী-সৃষ্টি ও রক্ষা করেছেন। পৃথিবীর রক্ষক হিসাবে বিষ্ণু অনেকবার অবতাররূপে জন্মগ্রহণ করেন। পুরাণের যুগেই বিষ্ণু দশ অবতারে পূর্ণ প্রকাশ হন। এ দশ অবতারের নাম : মৎস্য, কূর্ম, বরাহ, নৃসিংহ, বামন, পরশুরাম, রামচন্দ্র, কৃষ্ণ, বুদ্ধ ও কল্কি।

অবশ
যা বশে থাকে না, নিয়ন্ত্রণে থাকে না তা-ই অবশ। তবে বাংলায় শব্দটি ব্যাকরণগত অর্থের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন অর্থ প্রদান করে। অবশ শব্দের প্রচলিত ও আভিধানিক অর্থ অসাড়/বিকল। এর মূল অর্থ যা নিজের বশে নেই। অর্থাৎ যা নিজের বশীভূত নয় সেটাই অবশ। অবশ বলতে অবাধ্য বোঝায় আবার স্বাধীনও বোঝায়। শরীর অবশ হয়, মনও অবশ হয়। শরীর-মন অবশ হওয়া মানে নিজের বশে বা নিয়ন্ত্রণে না-থাকা।

অভিমত
অভিমত শব্দের আভিধানিক অর্থ মতামত, অভিপ্রায়, মন্তব্য প্রভৃতি। এটি সংস্কৃত শব্দ। সংস্কৃত ভাষায় ‘অভিমত’ শব্দের মূল অর্থ সম্মত, ইষ্ট, অনুমোদিত প্রভৃতি। সাধারণত কোনো বিষয়ের ওপর আলোচনার পর সম্মতি বা অনুমোদন আসে। সংস্কৃতে ‘অভিমত’ শব্দটি কোনো বিষয় আলোচনার পর অনুমোদন বা সম্মতি প্রদান অর্থে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বাংলা ভাষায় আলোচনার আগে কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে পর্যালোচনার জন্য অভিমত গ্রহণ করা হয়। সুতরাং বাংলার ‘অভিমত’ সংস্কৃত ‘অভিমত’ শব্দের চেয়ে কার্যগত বিবেচনায় কিছুটা ভিন্ন হলেও অন্তর্নিহিত অর্থ প্রায় অভিন্ন।

 

শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/

error: Content is protected !!