বাংলা শব্দের পৌরাণিক উৎস সম্পূর্ণ বই, এক মলাটে বাংলা শব্দের পৌরাণিক উৎস পিডিএফ

ড. মোহাম্মদ আমীন

বাংলা শব্দের পৌরাণিক উৎস

অষ্টম অধ্যায়

গো
গো অর্থ কী তা দেখা যেতে পারে। গম্্ + ও (ডে), যে (কেউ) যায়, যে যায়; যার দ্বারা স্বর্গে যায়, গোজাতি, গরু, বৃষরাশি, সূর্য, চন্দ্র, গোমেধযজ্ঞ, ইন্দ্রিয়, ঋষিবিশেষ, গায়ক, গৃহ, সংখ্যা, গোজাতি স্ত্রী, ধেনু, দিক, বাক্্, বাক্যাধিদেবতা, সরস্বতী, পৃথিবী, স্বর্গ, বজ্র, অম্বু, জল, আকাশ, রশ্মি, কিরণ, চক্ষু, বাণ, লোম, কেশ, গোসম্বন্ধী, দুগ্ধঘৃতচর্মাদি, গৃহপালিত পশু, সিংহ, পড়ি অর্থে শব্দটি প্রচলিত। এর ক্রিয়াভিত্তিক অর্থ : ‘যে যায়’ এবং প্রকৃত অর্থ হলো : গ (= গামী), গি (গতিশীল গামী), গু (= নবরূপে উত্তীর্ণ গামী), গে (= দিশাগ্রস্ত গামী) প্রভৃতি সর্বপ্রকার গামীদের আশ্রয় যাতে থাকে সে হলো ‘গো’। তা সে অতি উচ্চমার্গের গো যেমন সূর্য বা গোলকবাসী গোবিন্দ বা নারায়ণ থেকে অতি নিম্নমার্গের গো যেমন, গরু; এদের মধ্যে যে কেউ হতে পারে। কোনো ‘গো’-কে খালি চোখে দেখা যায় আবার কোনো ‘গো’-কে চোখ বন্ধ করে দেখতে হয়। যেমন বাক্ কিংবা তত্ত্বকথা। কেউ মুহূর্তে বিশ্বের যেকোনো স্থানে যেতে পারে আবার কাউকে যতটুকু তাড়ানো হয় কেবল ততটুকু যেতে পারে। অর্থাৎ গতিশীল বস্তুমাত্র ‘গো’ পদবাচ্য। তবে পড়-িকে যে ‘গো’ বলা হতো তার কারণ ভিন্ন। সে অন্য জীবের মতো হেঁটে-চলে স্থানান্তরে যেতে পারত বলে তাকে ‘গো’ বলা হতো না। পড়-িকে ‘গো’ বলা হতো তার বিশেষ ‘গতিশীল’ ভূমিকার জন্য। এ জীবটাই মানব সভ্যতার হাতে পোষমানা প্রথম জীব, যা ‘প্রেরিত’ হতো, তা সে বিনিময়যোগ্য পণ্যরূপে হোক আর বিনিময়ের মাধ্যমরূপেই হোক। উভয় ক্ষেত্রেই সে ‘প্রেরিত’ হতো এবং ‘যেত’। তখন ‘গো’ উত্তম ও সম্মানজনক সম্পদ। ‘গো’ বৃদ্ধি করার অর্থই ছিল সম্পদের শ্রীবৃদ্ধি ও সম্মান। অধিকন্তু ‘পড়’ি-এর প্রথম ‘বিনিময়ের মাধ্যম’ হওয়ার যোগ্যতা ছিল। ‘মড়ষফ সড়হবু’ আবিষ্কারের পূর্বে ‘গো’-এর যে সে-ভূমিকা ছিল মহাভারতে তার সুস্পষ্ট প্রমাণ আছে। এ ‘গো’ শব্দের উত্তরাধিকার ইংরেজিতে রয়েছে মড় রূপে, আভেস্তার মধড়, ফারসির ‘গাও’ এবং চীনের হমড় রূপে। অর্থাৎ ‘গো’ অর্থ গতিশীল অনুসন্ধান, আবিষ্কার, শ্রেষ্ঠত্ব, সম্মান, মূল্যবোধ, অগ্রসর, উন্নতি কল্যাণ ও বিমূর্ততার চিরন্তন আধার।

গোগ্রাস
‘গোগ্রাস’ শব্দের অর্থ বড় গ্রাস, ঘন ঘন গ্রাস। ‘গো’ ও ‘গ্রাস’ শব্দের মিলনে ‘গোগ্রাস’ শব্দের উৎপত্তি। ‘গো’ মানে গরু এবং ‘গ্রাস’ মানে লোক্মা বা একবারে যে পরিমাণ খাদ্য মুখে পোরা যায়। সুতরাং গোগ্রাস মানে গরুর লোক্মা। গোগ্রাস শব্দের ব্যাকরণগত অর্থ গরুর লোক্মা হলেও শব্দটি গরুর খাদ্য বোঝাতে কেউ ব্যবহার করেন না। কোনো ব্যক্তি যখন অতি দ্রুত বেশি পরিমাণ খাদ্য মুখে দিয়ে তাড়াতাড়ি গিলতে থাকেন এবং গেলা শেষ হওয়া মাত্র আবার একই কায়দায় মুখে বড় গ্রাস ঢুকিয়ে দিতে থাকেন, তখন সেটাকে গোগ্রাস বলা হয়। বিভিন্ন কারণে মানুষকে গোগ্রাসে গিলতে হয়। প্রচণ্ড ক্ষুধা নিয়ে অনেক দিন পর উপাদেয় খাবার পেলে মানুষ গোগ্রাসে গিলতে শুরু করে। আবার অনেকে খাদ্য তাড়াতাড়ি খেয়ে না-নিলে ভাগে কম পড়বে ভেবে এমনটি করে থাকেন। আবার কারও কারও অভ্যাসই হচ্ছে গোগ্রাসে গেলা। আধুনিক যান্ত্রিক যুগে সময়ের অভাবের ফাঁদে পড়ে গোগ্রাসে গেলাটা অনেক উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের অনিবার্য অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

গোড়ায় গলদ/বিসমিল্লায় ভুল
‘গোড়ায় গলদ’ ও ‘বিসমিল্লায় ভুল’ বাক্্ভঙ্গি দুটোর অর্থ অভিন্ন, প্রয়োগ ও অন্তর্নিহিত দ্যোতনাতেও কোনো পার্থক্য নেই। তবু বাক্্ভঙ্গি দুটো প্রয়োগে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। অনেকে ‘বিসমিল্লায় গলদ’ বাক্্ভঙ্গিটিকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করে এর ব্যবহার অনুচিত মনে করেন। যদিও বাক্্ভঙ্গিটি প্রকৃতপক্ষে ধর্মীয়ভাবে কাউকে আহত করার মানসে সৃষ্টি হয়নি। তারপরও যেহেতু অনেকে ‘বিসমিল্লায় গলদ’ বাক্্ভঙ্গিটিকে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করেন সেহেতু এটি ব্যবহার না-করাই সমীচীন। তৎপরিবর্তে ‘গোড়ায় গলদ’ বাক্্ভঙ্গিটি ব্যবহার করুন।

গোতম
ভারতীয় পুরাণে বর্ণিত একজন বিখ্যাত ব্যক্তি। তিনি দর্শনের ন্যায়শাস্ত্র বিভাগ এবং ঋগ্বেদের অনেক মন্ত্রের রচয়িতা। গোতম, শতানন্দ নামেও পরিচিত। তিনি ধর্মশাস্ত্র নামের একটি আইন পুস্তক প্রণয়ন করেন। এই আইনশাস্ত্র প্রাচীন ভারতীয় কর্মকাণ্ডে তৎকালে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছিল।

গোধূলি
‘গোধূলি’ শব্দের অর্থ সন্ধ্যাবেলা, সায়াহ্নকাল, সূর্যাস্তকাল, সন্ধ্যা প্রভৃতি। ‘গো’ ও ‘ধূলি’ শব্দ দুটি যুক্ত হয়ে গোধূলি শব্দ গঠন করেছে। সুতরাং এর ব্যাকরণগত অর্থ হচ্ছে : গরুর ধূলি বা গরুর পায়ের ধূলি। কিন্তু ব্যাকরণগত অর্থ প্রায়শ আভিধানিক অর্থের সঙ্গে হুবহু অভিন্ন হয় না। হুবহু অভিন্ন না-হলেও উভয় অর্থের মধ্যে নিবিড় কোনো যোগসূত্র অবশ্যই থাকে। গোধূলি একটি সংস্কৃত শব্দ। যখন গরুর দল ধূলি উড়িয়ে গোয়ালে ফেরে সে সময়টি হচ্ছে গোধূলি। গরু যখন গোয়ালে ফেরে বা গরুকে যখন রাখাল সারাদিন মাঠে চরিয়ে গোয়ালে নিয়ে যায়? সাধারণত এটি ঘটে সন্ধ্যার সামান্য আগে, যখন সূর্য ডুবুডুবু করে ডুবে যাওয়ার প্রস্তুতি প্রায় সেরে ফেলে। গরুর পায়ের ক্ষুরের ধূলি হলেও ‘গোধূলি’ বাংলা ভাষার একটি চমৎকার কাব্যিক শব্দ। বাংলা গানে, কবিতায় ও নানা গল্পে গোধূলির নান্দনিক রূপময়তা শব্দটিকে আকর্ষণীয় করে দিয়েছে। গরুর ক্ষুরের ধুলো আকাশে উড়ছে, দিগন্তে সে ধুলোর আবরণের সঙ্গে অস্তগামী সূর্যের মনোহর রক্তিম আভা চারদিকে এক অপূর্ব মৃন্ময়তার সৃষ্টি করে। নজরুলের কণ্ঠে গোধূলি কী চমৎকার লাস্যে ফুটে উঠেছে : গোধূলি লগনে বুকের মাঝে, মধুর বাঁশরী বাজে।

গোবেচারা
‘গোবেচারা’ শব্দের আভিধানিক অর্থ নিরীহ, শান্তশিষ্ট, নির্বিরোধ ভালো মানুষ। তবে ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হলো ‘গরুর মতো বেচারা’। সংস্কৃত ‘গো’ এবং ফারসি ‘বেচারহ্’ শব্দ দুটো মিলে ‘গোবেচারা’ শব্দের উৎপত্তি। সংস্কৃত ‘গো’ শব্দের অর্থ গরু। এটি নিরীহ, পোষমানা ও গৃহপালিত একটি জীব। অন্যদিকে ফারসি ‘বেচারহ্’ শব্দের অর্থ যার কোনো উপায় নেই বা নিরূপায়। ফারসি ‘বেচারহ্’ শব্দ হতে বাংলা ‘বেচারা’ শব্দের উৎপত্তি। যার অর্থ শান্তশিষ্ট, নির্বিরোধ ব্যক্তি। কিন্তু গোবেচারা শব্দে গরুর স্বভাবজাত নিরীহতা ও বেচারার চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য উভয়ই বিদ্যমান। তাই গোবেচারাকে সবাই ব্যবহার করতে চায় কিন্তু মূল্য দিতে চায় না।

গোমড়া
‘গোমড়া’ বিষণ্ন, মলিন, অপ্রসন্ন, অসহায়, হাসিবিহীন মুখ। ফারসি ‘গোম্রাহ্’ শব্দ থেকে বাংলা ‘গোমড়া’ শব্দের উৎপত্তি। তবে ফারসি গোমড়া শব্দের অর্থ বিপথগামী, বিভ্রান্ত, পথভ্রষ্ট, অজ্ঞ প্রভৃতি। যারা এমন চরিত্রের অধিকারী তাদের মুখ সর্বদা অপ্রসন্ন থাকে। পথভ্রষ্টতার কারণে তাদের সর্বক্ষণ বিষণ্ন, মলিন, ভীত ও অসহায় দেখায়। বস্তুত এ জন্য ফারসি গোম্রাহ্ তথা বিপথগামী, বিভ্রান্ত বা পথভ্রষ্টকে বাংলায় ‘গোমড়া’ তথা বিষণ্ন, মলিন, অপ্রসন্ন, অসহায়, হাসিবিহীন অর্থে গ্রহণ করা হয়েছে।
গোলোক
‘গোলোক’ হচ্ছে বিষ্ণু বা কৃষ্ণের আবাসস্থল। ব্রহ্মাণ্ডের অন্তর্গত সকল লোকের উপরে এটি অবস্থিত। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ মতে, বৈকুণ্ঠের উপরে গোলক অবস্থিত। এর আয়তন পঞ্চাশ কোটি যোজন। বিষ্ণুর অভিপ্রায় অনুযায়ী এ গোলোক বায়ুর উপর অবস্থিত। এখানে একটি বিশাল পর্বত রয়েছে। পর্বতের বহির্দেশে বৃন্দাবন নামের একটি অপূর্ব সুন্দর বন রয়েছে। এটি কৃষ্ণ ও রাধিকার ক্রীড়ার স্থান।

গোষ্ঠী
‘গোষ্ঠী’ শব্দের অর্থ পরিবার, জ্ঞাতি, আত্মীয়স্বজন, দল, সম্প্রদায়, একই জাতি প্রভৃতি। সংস্কৃত ‘গোষ্ঠ’ শব্দ হতে গোষ্ঠী শব্দের উৎপত্তি। সংস্কৃত ভাষায় ‘গোষ্ঠ’ শব্দের অর্থ হলো গো বা গরুসমূহ রাখার স্থান। যেখানে গরুর পাল রাখা হয় বা থাকে সংস্কৃত ভাষায় সেটিই গোষ্ঠ। এ ‘গোষ্ঠ’ শব্দের সঙ্গে দীর্ঘ-ঈ-কার যুক্ত হয়ে বাংলা গোষ্ঠী শব্দের উৎপত্তি হয়েছে। সংস্কৃতে ‘গোষ্ঠ’ গরুর পাল রাখার স্থান এবং গোষ্ঠপ্রধান অর্থ হচ্ছে গোশালার অধ্যক্ষ বা গোশালার রক্ষণাবেক্ষণ যিনি করেন। তবে বাংলায় গোষ্ঠপ্রধান অর্থ পরিবার বা জ্ঞাতি বা আত্মীয়স্বজন বা দল বা সম্প্রদায়ের নেতা কিংবা প্রধান ব্যক্তি। এখন প্রশ্ন হলো, গরুর পাল রাখার স্থান বাংলায় কীভাবে পরিবার-প্রধান হয়ে গেল? প্রাচীন আমলে বঙ্গদেশে গরু ছিল অন্যতম অর্থকরী প্রাণী। এটি ছিল সম্পদের মূল অধিষ্ঠাতা। কৃষিকাজ ছিল তখন একমাত্র অন্যতম জীবিকা আর এ জীবিকার কর্ষক ছিল গরু। অধিকন্তু আদর্শ খাদ্য হিসাবে খ্যাত দুধের যোগানদাতাও ছিল গো। হিন্দুদের অন্যতম দেবতা কৃষ্ণের বাহন ছিল গো। গো ছিল সমাজ, পরিবার, গোত্র, জ্ঞাতি ও দলের সমৃদ্ধির প্রতীক। হয়তো এ অনুষঙ্গে সংস্কৃত গরুর পাল রাখার স্থানটি বাংলায় এসে পরিবার, জাতি, আত্মীয়স্বজন, দল, সম্প্রদায়, একই জাতি প্রভৃতি অর্থে রূপ নেয়।

গৌতম
ভারতীয় পুরাণে বর্ণিত একজন মহাতেজা মহর্ষি। তিনি মানবের আচার, রীতিনীতিবিষয়ক সংহতিকার। গৌতম জিতেন্দ্রিয় হয়ে কঠিন তপস্যা ও শাস্ত্রচর্চায় সময় কাটাতেন। তিনি অহল্যার স্বামী। গৌতম-রচিত সংহিতার নাম ‘গৌতম-সংহিতা’। মহাভারতে কৃতঘ্ন ও শাপভ্রষ্টা আর-এক গৌতমের কথা উল্লেখ আছে। ওই পাপ কাজের জন্য তাকে রাক্ষস দ্বারা হত্যা করে নরকে প্রেরণ করা হয়।
গৌরচন্দ্রিকা
‘গৌরচন্দ্রিকা’ শব্দের আভিধানিক অর্থ ভূমিকা, ভণিতা, মূল কাজ শুরুর আগে সে সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা প্রভৃতি। ‘গৌরচন্দ্র’ ও ‘পালাকীর্তন’ থেকে বাগ্ধারাটির উৎপত্তি। গৌরচন্দ্র হচ্ছে শ্রীচৈতন্যদেব। পালাকীর্তন শুরু করার পূর্বে গৌরচন্দ্রের বন্দনামূলক গান গাওয়া হয়। গৌরচন্দ্রের বন্দনা করে গাওয়া গীত বা গানকে বলা হতো গৌরচন্দ্রিকা। গৌরচন্দ্রিকা ছাড়া পালাগানের শুরু কল্পনাই করা যেত না। গায়ক-গায়িকাগণ পালাগান শুরু করার আগে গৌরচন্দ্রিকার মাধ্যমে পালাগানের আসরের সূচনা ঘটাতেন। গৌরচন্দ্রিকার এ সূচনামূলক ভূমিকা হতে গৌরচন্দ্রিকা শব্দটির উৎপত্তি। এখন এর অর্থ গৌরচন্দ্রের বন্দনা করে গাওয়া গান বোঝায় না; বোঝায় ভূমিকা, ভণিতা। গ্রন্থের ভূমিকাকে অনেক লেখক বলেন ‘ গৌরচন্দ্রিকা’।

গৌরী
কবি অন্নদাশঙ্কর রায়ের অমর কবিতার প্রথম চার লাইন :
যতদিন রবে পদ্মা মেঘনা
গৌরী যমুনা বহমান
ততদিন রবে কীর্তি তোমার
শেখ মুজিবুর রহমান।
গড়াই অত্যন্ত প্রাচীন একটি নদী। অতীতে এর নাম ছিল গৌরী। বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও ভূগোলবিদ টলেমি তদানীন্তন গঙ্গা প্রবাহের সাগরসঙ্গমে পাঁচটি মুখের কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে ‘কমবরী খান’ নামক মুখটিই প্রকৃতপক্ষে গড়াই বলে কেউ কেউ মনে করেন। গড়াই-মধুমতি নদীর গতিপথ দীর্ঘ এবং বিস্তৃত। গড়াই-মধুমতি নদী গঙ্গা নদীর বাংলাদেশ অংশের প্রধান শাখা। একই নদী উজানে গড়াই এবং ভাটিতে মধুমতি নামে পরিচিত। একসময় গড়াই-মধুমতি নদী দিয়ে গঙ্গার প্রধান ধারা প্রবাহিত হতো, যদিও হুগলী-ভাগীরথী ছিল গঙ্গার আদি ধারা। কুষ্টিয়া জেলার উত্তরে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ-এর ১৯ কিলোমিটার ভাটিতে তালবাড়িয়া নামক স্থানে গড়াই নদী গঙ্গা থেকে উৎপন্ন হয়েছে। নদীটি কুষ্টিয়া জেলার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গণেশপুর নামক স্থানে ঝিনাইদহ জেলায় প্রবেশ করেছে। অতঃপর ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া সীমানা বরাবর প্রবাহিত হয়ে চাদর নামক গ্রাম দিয়ে রাজবাড়ি জেলায় প্রবেশ করেছে। এরপর ঝিনাইদহ-রাজবাড়ি, মাগুরা-রাজবাড়ি এবং মাগুরা-ফরিদপুর জেলার সীমানা বরাবর প্রবাহিত হয়ে মধুমতি নামে নড়াইল ও বাগেরহাট জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। মধুমতি পরবর্তীকালে পিরোজপুর জেলার মধ্য দিয়ে বলেশ্বর নামে প্রবাহিত হয়েছে এবং মোহনার কাছাকাছি ‘হরিণঘাটা’ নাম ধারণ করে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।

গ্যারান্টি ও ওয়ারেন্টি
‘গ্যারান্টি (এঁধৎধহঃবব)’ শব্দের সর্বজনীন ও সহজবোধ্য প্রতিশব্দ বাংলায় আছে কি না জানা নেই। বাংলা একাডেমির ‘ইংলিশ টু বেঙ্গলি ডিকশনারি’তে এর প্রতিশব্দ দেওয়া হয়নি। যা দেওয়া হয়েছে সেটি সংজ্ঞার্থ : ‘কারও বা কোনো কিছুর জন্য লিখিত অঙ্গীকার প্রদান করা’; সংক্ষেপে : ‘জামিন হওয়া’। সাধারণভাবে বলা যায় গ্যারান্টি অর্থ : জামিন হওয়া। একই অভিধানে আইনের ক্ষেত্রে গ্যারান্টি শব্দের ভিন্ন অর্থ দেওয়া হয়েছে : ‘যেকোনো লেনদেনে স্বীকৃতি শর্তাবলি পূরণের (সাধা, লিখিত বা মুদ্রিত) অঙ্গীকার’ বা ‘জামিন’। গ্যারান্টি শব্দের মতো ‘ওয়ারেন্টি (ডধৎৎধহঃু)’ শব্দেরও যুতসই প্রতিশব্দ বাংলা ভাষায় নেই। একই অভিধানে ‘ওয়ারেন্টি’ শব্দের অর্থ বলা হয়েছে ‘সরবরাহকৃত ত্র“টিযুক্ত পণ্যসামগ্রী মেরামতের বা বদলে দেওয়ার লিখিত কর্তৃত্ব।’ এটি সংজ্ঞার্থ, প্রতিশব্দ নয়। উপযুক্ত প্রতিশব্দের অভাবে প্রায়োগিক ক্ষেত্রে বাংলা ভাষায় ‘গ্যারান্টি’ ও ‘ওয়ারেন্টি’ শব্দ দুটোই ব্যবহৃত হয়। শব্দ দুটোর পার্থক্য অনেকে বোঝেন কিন্তু উপযুক্ত বাংলা প্রতিশব্দ অনেকের জানা নেই।

গ্রহের দৃষ্টি
জ্যোতিষশাস্ত্রে গ্রহদের দৃষ্টি (ধংঢ়বপঃ) কল্পনা করা হয়। সব গ্রহই যে রাশিতে থাকে তার সপ্তম রাশিতে অর্থাৎ বিপরীতে অবস্থিত রাশিতে পূর্ণদৃষ্টি দিয়ে থাকে। শনির দৃষ্টিতে পড়লে তো দুর্ভোগের শেষ থাকে না। প্রাচীন বিশ্বাসমতে, গ্রহের দৃষ্টির ওপর মানুষের কল্যাণ-অকল্যাণ নির্ভর করত।

শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/

error: Content is protected !!