বাংলা শব্দের পৌরাণিক উৎস সম্পূর্ণ বই, এক মলাটে বাংলা শব্দের পৌরাণিক উৎস পিডিএফ

ড. মোহাম্মদ আমীন

একবিংশ অধ্যায়

ভণিতা
ভণিতা শব্দের আভিধানিক অর্থ ভূমিকা, মুখবন্ধ, গৌরচন্দ্রিকা প্রভৃতি। সংস্কৃত ‘ভণ’ শব্দ থেকে ‘ভণিতা’ শব্দের উৎপত্তি। ভণিতা শব্দের অর্থ আত্মপরিচয়মূলক পঙ্ক্তিসমগ্র। এর আর এক অর্থ ছিল : ‘যিনি বলেন’। কবিরাই তখন বলতেন। তাই ভণিতার অন্য অর্থ কবি। মধ্যযুগের কবিদের আত্মপরিচয় দেওয়ার সময় তাঁদের নামের সঙ্গে ‘ভণ’ শব্দটি অনিবার্যভাবে চলে আসত। তখন কবিদের ‘ভণ’ কাব্যের মতোই ছিল অপরিহার্য এবং বিবরণও হতো হৃদয়গ্রাহী। ‘ভণ’ যত আকর্ষণীয় ও মনোহর হতো তার কাব্যও তত হৃদয়গ্রাহী বলে বিবেচনা করা হতো। তবে ‘ভণিতা’ অর্থ মূলত মূল কবিতা শুরু করার আগে কবির আত্মপরিচয়মূলক বর্ণনা এবং কাব্য রচনার উদ্দেশ্যসহ তার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি। যা আধুনিক কবি-সাহিত্যিকগণের লেখায় মুখবন্ধ, ভূমিকা বা গৌরচন্দ্রিকা প্রভৃতি নামে দেখা যায়।

ভদ্র
‘ভদ্র’ শব্দের অর্থ মার্জিত রুচি, শিষ্ট, শান্ত, অমায়িক প্রভৃতি। সংস্কৃত ভাষায় ‘ভদ্র’ শব্দের অর্থ কল্যাণকর, শ্রেষ্ঠ, কুশল, নিপুণ, সাধু, রূপবান্ প্রভৃতি। যে ব্যক্তি গোপনে কুকর্ম করে বাইরে শালীন হওয়ার লক্ষ্যে মার্জিত ব্যবহার করে তাকেও ‘ভদ্র’ বলা হয়।

ভরাডুবি
পতন, বিনাশ, সর্বনাশ প্রভৃতি। ‘ভরা’ ও ‘ডুবি’ শব্দদ্বয়ের সংযোগে ‘ভরাডুবি’ শব্দ গঠিত। ভরা মানে ভর্তি, বোঝাই; ডুবি মানে নিমজ্জিত এবং ‘ভরাডুবি’ মানে বোঝাই জাহাজ বা নৌকা নিমজ্জিত হওয়া। তৎকালে নৌকা বা জাহাজ বোঝাই মাল নিয়ে দীর্ঘ নৌপথে পরিবহন ও ব্যবসায়-বাণিজ্য পরিচালনা করা হতো। নৌকায় থাকত বহুমূল্যে সম্পদ। কখনো কোনো কারণে মাল-বোঝাই নৌকা ডুবে গেলে মালিকের সর্বনাশ হয়ে যেত। এ অনুষঙ্গে শব্দটির অর্থ হয় পতন, বিনাশ, সর্বনাশ, মহাক্ষতি প্রভৃতি।

ভাইরাস
‘ভাইরাস’ শব্দের মূল অর্থ বিষ। বাংলায় ‘ভাইরাস’ শব্দের কোনো প্রতিশব্দ নেই। ‘ভাইরাস’ হিসাবে এটি বহুল প্রচলিত। গ্রামের সাধারণ লোকদের কাছেও এটি অতি পরিচিত। সুতরাং এর প্রতিশব্দ তৈরি করা তেমন জরুরি নয়। তবে ‘বিষ’ থেকে এর অর্থ দাঁড়িয়েছে ‘একদল অতি ক্ষুদে শয়তান যারা শরীরে ঢুকে অসুস্থতা আনে।’ অণুবীক্ষণেও গা ঢাকা দিয়ে থাকে। কবির ভাষায় : ‘‘স্বার্থ আর লুব্ধতার ভাইরাস বলে, ‘আয় আয় ঢুকে পড়ি সবলে সকলে’, সমাজের শরীরে শরীরে বেঁধে ফেলি বাসা।” [ভাইরাস, কল্যাণ দাশগুপ্ত]। ‘ভাইরাস’ এখন শুধু জীবের শরীরে নয়, কম্পিউটারেও হানা দিয়েছে। তবে এ ভাইরাস সে ভাইরাস নয়।

ভাগবত পুরাণ
এটি অষ্টাদশ পুরাণের অন্তর্গত। ভগবতকে অধ্যায় শেষে ‘মহাপুরাণ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ পুরাণ ব্যাস-রচিত। শুকদেব এটি পিতার নিকট শ্রবণ করেন এবং গঙ্গাতীরে ব্রহ্মশাপগ্রস্ত পরীক্ষিতের প্রার্থনায় এ ভগবত-কথা কীর্তন করেন। এ পুরাণে অসুর বৃত্রের পরাজয় ও মৃত্যুর বিবরণ আছে। এ পুরাণের দশম ভাগে শ্রীকৃষ্ণের বিস্তৃত ইতিহাস পাওয়া যায়।

ভাত
কারও মতে সংস্কৃত ‘ভক্ত’ থেকে প্রাকৃত ‘ভন্ত’ এবং সেখান থেকে ‘ভাত’। আবার অনেকে মনে করেন ‘ভাতার’ শব্দ থেকে ভাত। বিষয়টা পর্যালোচনা করা যাক। ভাত বলতে সে-সকল বিষয় বা বস্তু বোঝায় যা অন্নরূপে শোভা পায়। সিদ্ধ তণ্ডুল, অন্ন, অন্নপ্রাশন, জীবিকা, দীপ্তি পাওয়া, প্রকাশ পাওয়া, শোভা পাওয়া প্রভৃতি অর্থও শব্দটি প্রকাশ করে। ভাত-এর সঙ্গে ‘ভাতা, ভাতার, ভাতারকামড়া, ভাতারখোর, ভাতারখাগী, ভাতারনড়, ভাতারী’ প্রভৃতি শব্দের সম্পর্ক বেশ নিবিড়। ভাতা = ভাত-এর আধার যাতে; বেতন ব্যতিরেকে কর্মচারীদের অন্যত্র যাতায়াত ইত্যাদির জন্য প্রদেয় বৃত্তিকেও ‘ভাতা’ বলে এবং এর সঙ্গেও ভাতের সম্পর্ক রয়েছে। ভাতার = ভাতা রয় যাতে; পতি অর্থেও ভাতার (স্ত্রী ভাষায়) প্রচলিত, কারণ পতি ‘ভাত’ দেয়। ভাতারী = ভাতারকে সক্রিয়ভাবে ধারণ করে যে। ‘ভাতারকামড়া’ শব্দটি প্রাচীন সাহিত্যে পাওয়া যায়। এর অর্থ যে স্ত্রী ভাতারকে কামড়িয়ে রাখে অর্থাৎ ছাড়তে চায় না। ‘ভাতারখোর’ বলতে বোঝায় সে স্ত্রী, যে ভাতার (স্বামী)-এর ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল এবং ভাতার ভিন্ন যার আর কোনো উপায় নেই, তাই ভাতারকে ছাড়তে সে চায় না। আবার ‘ভাতারখোর’ বলতে তৎকালে প্রচলিত কুসংস্কারের কারণে যে স্ত্রীকে স্বামীর মৃত্যুর জন্য ‘অপয়া’ গালি দেওয়া হয় তাকেও বোঝায়। ‘ভাতারখাগী’ বলে একটা শব্দও প্রচলিত ছিল, এটি সধবার প্রতি অকল্যাণসূচক গালি; যার অর্থ ভাতারকে খেয়ে ফেলা বা মেরে ফেলা। শব্দগুলো গ্রামবাংলায় কম-বেশি প্রচলিত ছিল।

ভাত শব্দের উৎস বিশ্লেষণে সংস্কৃত ‘ভক্ত’ ও প্রাকৃত ‘ভত্ত’ শব্দের যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যায়। অর্থাৎ ‘ভক্ত’ থেকে ‘ভত্ত’ এবং সেখান থেকে ‘ভাত’ শব্দটি প্রসূত হয়েছে। প্রমাণস্বরূপ একটি প্রাচীন কবিতার উদ্ধৃতি দেওয়া যায় : ‘ওগ্্গর ভত্তা, রম্ভম পত্তা . . . দিজ্জই কন্তা, খা পুনবন্তা। তবে ‘ভত্ত’ শব্দ থেকে ‘ভাত’ শব্দের উৎপত্তি হলেও পরবর্তীকালে শব্দটি ‘ভ’ শব্দ-পরিবার থেকে দল পরিবর্তন করে ‘ভা’ শব্দ-পরিবারে চলে এসেছে। যে ‘ওগ্্গর ভত্তা’ বাংলাভাষীকে তার ক্ষুধার পরম প্রাপ্যরূপে প্রতিভাত করে, তাকে সে ‘ভাত’রূপেই অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকবে। সে ‘ভাত’-এর আধারই তার কাছে ‘ভাতা’ এবং যে সত্তা এ ‘ভাত’ সরবরাহ করার মূল ব্যক্তি সে ‘ভাতার’। আবার উল্টোভাবে বলা যায়, ভাতার যা দেয় তা-ই ‘ভাত’। প্রাচীন বাংলায় বর্তমান ‘ভাত’রূপে প্রচলিত খাদ্যটিই ছিল জীবন-ধারণের অন্যতম আধার। পরিবারের প্রধান হিসাবে ভাতারই এটি সংগ্রহের ও প্রদানের মূল হোতা ছিল। পারিবারিক সকল সম্পর্ক, বিবাহ, কন্যার ‘ভাতার’ (স্বামী) নির্বাচন প্রভৃতি ‘ভাত’ দিতে পারা বা না-পারার সামর্থ্য দিয়ে বিবেচনা করা হতো। তাই অনেকে মনে করেন ‘ভাতার’ থেকে ‘ভাত’।

ভীমরতি
‘ভীমরতি’ শব্দের আভিধানিক ও প্রচলিত অর্থ কাণ্ডজ্ঞানহীনতা, অতি বার্ধক্যজনিত বুদ্ধিভ্রংশতা। ‘ভীম’ মানে ভীষণ আর ‘রতি’ মানে রাত্রি। সুতরাং ভীমরতি মানে ভীষণরাত্রি। সংস্কৃত শব্দ ‘ভীমরতি’র সঙ্গে ‘বয়স’ ও ‘বয়স অনুযায়ী’ আচরণের সম্পর্ক প্রকাশ করা হতো। চাল্শেও বয়সপ্রকাশজনিত একটি শব্দ। বয়স চল্লিশ পার হলে মানুষের চোখের দৃষ্টি কমে আসার প্রমাণ স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হয়ে উঠতে শুরু করে। এ সময় মানুষ দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক রাখার জন্য চশমা পরতে শুরু করে। এটাকে বলে চাল্শে। সত্তর পার হয়ে বাহাত্তুরে ধরলে মানুষের বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কেও গণ্ডগোল শুরু হয়। আস্তে আস্তে তার স্বাভাবিকতায় বিঘ্ন দেখা দেয়। ‘বাহাত্তুরে’ আরও বিপজ্জনক শারীরিক অবস্থার ইঙ্গিত দেয়। এর কয়েক বছর পর শুরু হয় ‘ভীমরতি’। ভারতীয় পুরাণ মতে বয়স সাতাত্তর বছরের সাত মাসের সপ্তম রাত্রির নাম ‘ভীমরতি’। এ রাতের পর মানুষের জীবনে ভীষণ পরিবর্তন আসে। শিশুর মতো সে অবোধ আবার কাণ্ডজ্ঞানহীন যুবকের মতো নির্বোধ আচরণ শুরু করে। তার সামগ্রিক চালচলন পূর্বেকার স্বাভাবিকতাকেও অস্বাভাবিক করে তোলে। এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ থেকে শব্দটি এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন অর্থ ধারণ করে। ভীমরতি শব্দের একটি কদর্থ করা যায় ‘ভীষণ রকম রতি’, যদিও তা অবাস্তব নয়। সত্তর-বাহাত্তর বছর বয়সে পুরুষ মানুষের প্রোস্টেট গ্ল্যান্ড বড় হয়ে যায়। তখন পুরুষালী হরমোন ঞবংঃড়ংঃবৎড়হব একটু বেশি পরিমাণে নিঃসরণ হয়। ফলে রতিশক্তি বেড়ে যায়। তখন অনেক পুরুষ নতুন করে বিয়ে করতে চায়। ভীষণরকম রতি শক্তি বেড়ে যায় এবং এর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ে কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ। তাই একে ‘বুড়ো বয়সের ভীমরতি’ বলা যায়।

ভুজ
ভুজ শব্দের আভিধানিক অর্থ হাত, হস্ত, বাহু প্রভৃতি। সংস্কৃত এ শব্দটির সঙ্গে ‘ভোজন’ শব্দের সম্পর্ক বেশ নিবিড়। যেমন আকারে তেমন উচ্চারণ ও কার্যক্রমে। যা দিয়ে ভোজন করা হয় তাই ‘ভুজ’। তাহলে ভুজের কাজ কী শুধু ভোজন করা? আদিমকালে তা-ই ছিল। আধুনিক বিজ্ঞানের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে ভুজের ব্যবহারও বেড়ে যায়। তবু আজও ‘ভুজ’ ভোজনের নিমিত্ত ব্যবহার হয়ে আসছে। ইদানীং ‘ভুজ’ শব্দটি হাত অর্থে তেমন ব্যবহার করা হয় না। তবে ‘ভুজ’-এর অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ব্যবহার একটুও কমেনি। বিশেষ করে জ্যামিতিতে ভুজ-এর আধিপত্য এখনও প্রবল। যেমন: ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, পঞ্চভুজ এভাবে অসংখ্য ভুজের দেখা পাওয়া যায়। তবে এ ভুজ ভোজনের বা মানুষের ভুজ নয়। এ ভুজ মানুষের ভুজ দ্বারা অঙ্কিত জ্যামিতিক বস্তুর ভুজ যার অর্থ বাহু। যেমন তিন বাহু দ্বারা সীমাবদ্ধ ক্ষেত্রকে ত্রিভুজ বলা হয়। তেমনি দশ বাহু দ্বারা সীমাবদ্ধ ক্ষেত্র হচ্ছে দশভুজ।

ভূতাপেক্ষ
‘ভূতাপেক্ষ’ শব্দটির অর্থ অতীতের ঘটনা সম্পর্কিত। ‘ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা’ বাক্যাংশের অর্থ অতীতের কোনো বিষয় কার্যকর করা। অতীতে সংঘটিত কোনো বিষয়কে বর্তমানে (পরবর্তীকালে) স্বীকৃতি দেওয়া বা কোনো বিষয়কে অতীতের কোনো সময় থেকে স্বীকৃতি দেওয়ার বেলায় প্রাশাসনিক পরিভাষা হিসাবে ইংরেজি জবঃৎড়ংঢ়বপঃরাব শব্দের পরিবর্তে বাংলায় ‘ভূতাপেক্ষ’ শব্দটির বহুল প্রচলন লক্ষ করা যায়। প্রশাসনিক কারণে অতীতের কোনো বিষয়কে সংশোধন করার জন্য সাধারণত এরূপ আদেশ জারি করা হয়। তবে এটির ব্যবহার রাজনীতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতেও দেখা যায়। রহিম সাহেবকে ২১/৭/২০১৪ খ্রিস্টাব্দে সচিব পদে উন্নীত করার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয় যে, তাঁর এ পদোন্নতি ১/৩/২০০৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে কার্যকর হবে। এটাই ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা।
২০১২ খ্রিস্টাব্দের ২৩শে জানুয়ারির একটি প্রজ্ঞাপন : রুহুল আমিনকে ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক ও ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে মহাপরিদর্শক পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়। তিনি ২০০৭ খ্রিস্টাব্দের ৩০শে সেপ্টেম্বর অবসর গ্রহণ করেছেন বলে গণ্য হবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। আব্দুল মান্নানকে ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তিনি ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে অবসরে গিয়েছেন বলে ধরা হবে।

ভূপাতিত
ভূপাতিত = ভূ + পাতিত এবং ভূপতিত = ভূ + পতিত। জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাসের ‘বাঙ্গালা ভাষার অভিধান’ (২০১০ খ্রিস্টাব্দ) অনুযায়ী : ‘ভূপতিত [ভূ (তে) পতিত] বিণ. যে ভূমিতে পড়িয়া আছে।’ এবং ‘ভূপাতিত [ভূ (তে) পাতিত] বিণ. যা ভূতলে ফেলিয়া দেওয়া হইয়াছে; ভূমিতে নিক্ষিপ্ত। ২. ভূপৃষ্ঠে শায়িত।’ ভূ + পতিত বা ভূ + পাতিত = ভূপতিত বা ভূপাতিত। অবশ্য এ দুই শব্দের একটাতেও মনে হয় সন্ধির নিয়ম প্রযোজ্য হয়নি। এ দুটি ক্ষেত্রেই সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনে ধ্বনিগত কোনো পরিবর্তন আসেনি। ভূপতিত [ভূ (তে) পতিত] এবং ভূপাতিত [ভূ (তে) পাতিত] এ দুটি সাধিত বিশেষণ নির্মিত হয়েছে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাসের সাহায্যে, সন্ধির নিয়মে নয়। বাংলা একাডেমির ‘প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ’ (২০১৪ খ্রিস্টাব্দে) উল্লেখ আছে : ‘সব সমাসের ক্ষেত্রে সন্ধি হয় না’ এ কথা আসলেই যথার্থ।

 

শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/

error: Content is protected !!