বাংলা শব্দের পৌরাণিক উৎস সম্পূর্ণ বই, এক মলাটে বাংলা শব্দের পৌরাণিক উৎস পিডিএফ

ড. মোহাম্মদ আমীন
অষ্টবিংশ অধ্যায়

হঠকারিতা
‘হঠকারিতা’ শব্দের আভিধানিক অর্থ গোয়ার্তুমি, অবিমৃষ্যকারিতা, জবরদস্তি প্রভৃতি। কোনোরূপ চিন্তা-ভাবনা ব্যতিরেকে হঠাৎ করে যে কার্য করা হয় সেটি ‘হঠকারী’। হঠকারী থেকে হঠকারিতা। হঠকারিতা শব্দের মূল ‘বলাৎকার’। দৈহিক মিলন একটি সুকুমার কার্য। মানুষ সাধারণত অতি আনন্দে অনেক বিষয়াদি চিন্তা করে ধীরে ধীরে দৈহিক মিলনে অগ্রসর হয়। কিন্তু বলাৎকার চরম জঘন্য, এখানে কোনো প্রেম-ভালবাসা বা সুকুমার ভাবনার স্ফুটন নেই। তারা প্রচণ্ড হিংস্র ভাব নিয়ে কোনোরূপ চিন্তা-ভাবনা ব্যতিরেকে হঠাৎ বলাৎকার করে বসে। বলাৎকারের এ জঘন্য চরিত্র ও প্রতিক্রিয়া হতে ‘হঠকারিতা’ শব্দের উৎপত্তি।

হঠাৎ
শব্দটি বহুল প্রচলিত। এর আভিধানিক অর্থ অকস্মাৎ, সহসা, দৈবাৎ, কোনোরূপ পূর্ব-সতর্কতা ব্যতীত প্রভৃতি। শব্দটির মূল অর্থ অবিমৃষ্যকারিতাবশত। আসলে যা হঠাৎ আসে তা সাধারণত ভালো হয় না। যা অপ্রত্যাশিত তা সাধারণত অবাঞ্ছিত হয়। এ অবাঞ্ছিত জিনিসই ‘হঠাৎ’। যেমন হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়া, হঠাৎ ভূমিকম্প, হঠাৎ গোলাগুলি, হঠাৎ বজ্রপাত প্রভৃতি। হঠাৎ বড়লোক হয়ে ওঠাও কিন্তু কাক্সিক্ষত নয়। তবে মাঝে মাঝে হঠাৎ কিছু প্রত্যাশিত ঘটনাও ঘটে। যেমন এক যুগ পর হঠাৎ অতি প্রিয় কোনো বন্ধুর দেখা পাওয়া।

হদিস
শব্দটির আভিধানিক অর্থ সন্ধান, উপায়, পথ, দিশা প্রভৃতি। আরবি ‘হাদিস’ শব্দ থেকে ‘হদিস’ শব্দের উৎপত্তি। ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণী, আচরণ, কর্ম ও নির্দেশাবিলকে ‘হাদিস’ বলা হয়। এক কথায় বলা যায়, তাঁর অনুমোদিত বাক্য ও কর্মই ‘হাদিস’। মুসলমানগণ নিজেদের জীবন ও ধর্মীয় আচরণকে শুদ্ধরূপে পরিচালিত করার বিষয়ে কোনো কিছু জানার জন্য ‘হাদিস’ খোঁজেন। হাদিস অনুসন্ধান করে তাঁরা যথার্থ উত্তর পেতে চেষ্টা করেন। কোরানের পর এ হাদিস তাঁদের পথনির্দেশক বা দিশা। এ কার্যকারণই আরবি ‘হাদিস’ শব্দকে বাংলায় ‘হদিস’ শব্দে পরিণত করেছে। অন্তর্নিহিত কার্যকারণ বিশ্লেষণ করলে বাংলা হদিস এখন যে অর্থ ধারণ করেছে তা যেকোনো বিবেচনায় যথার্থ। সূচনাটা ধর্মীয় শব্দ হতে হলেও ‘হদিস’ এখন একটি সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ শব্দ। ‘হদিস’ অর্থ অনুসন্ধান, খোঁজ।

হন্যে
‘হন্যে’ শব্দটির আভিধানিক অর্থ ক্ষিপ্ত, হিতাহিতজ্ঞানহীন, পাগলা প্রভৃতি। হন্যে শব্দটি সংস্কৃত ‘হন্য’ শব্দ হতে বাংলায় এসেছে। এর আদি ও মূল অর্থ হননীয় বা বধযোগ্য প্রাণী। যে প্রাণী বধযোগ্য ছিল সে প্রাণীকে বলা হতো ‘হন্য’। পশুদের মধ্যে জনপদে পাগলা কুকুর ছিল ভয়ঙ্কর প্রাণী এবং বধযোগ্য। তাই বাংলায় ‘হন্যে’ শব্দ দ্বারা প্রথমে শুধু পাগলা কুকুর প্রকাশ করা হতো। পরবর্তীকালে শব্দটির অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে এবং কুকুরের ক্ষিপ্ততা বা পাগলামি পশু ছাড়িয়ে ক্ষিপ্ত, পাগলা, হিতাহিতজ্ঞাশূন্য, বিকৃতমস্তিষ্ক প্রভৃতি নেতিবাচক বিশেষণকে নির্দেশ করে। তবে এখন হন্যে শব্দের ক্ষিপ্ততা বা পাগলামি আর নেই। এখন ‘হন্যে’ শব্দের অর্থ প্রবল আগ্রহে কোনো কিছু খোঁজা। যেমন সে হন্যে হয়ে তার হারানো ছেলেকে খুঁজছে। বেকার যুবকটি হন্যে হয়ে চাকরি খুঁজছে। আসলে ছেলে হারালে এবং বেকার থাকলে ছেলে ও কাজ দুটোই খুঁজতে খুঁজতে ব্যক্তি হিতাহিতজ্ঞানশূন্য হয়ে যায়।

হ য ব র ল
এটি একটি বহুল প্রচলিত বাগ্ধারা। যার আভিধানিক অর্থ : বিপর্যস্ত, বিশৃঙ্খলা, গোঁজামিল, অব্যবস্থা প্রভৃতি। বাংলায় স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ একটি নির্দিষ্ট ক্রমানুসারে সুশৃঙ্খলভাবে সজ্জিত থাকে। যেমন অ আ ই ঈ উ ঊ ঋ; ক খ গ ঘ ঙ প্রভৃতি। শিশুদের যখন বর্ণপরিচয় শুরু হয়, তখন বর্ণগুলো শিশুরা শুধু মুখস্থ করেছে নাকি চিনে চিনে ভালোভাবে রপ্ত করেছে তা পরীক্ষা করার জন্য বর্ণগুলো পর পর না-দেখিয়ে এলোমেলো ও বিশৃঙ্খলভাবে দেখানো হয়। এটাই ছিল বর্ণমালা পরিচয় পরীক্ষার রেওয়াজ। যেমন ‘য র ল ব শ হ’ এ নির্ধারিত ক্রম ভেঙে হয়তো শিশুদের দেখানো হতে পরে : ‘হ য ব র ল’। বর্ণপরিচয়ের পরীক্ষার জন্য বর্ণসমূহের ক্রমবিন্যাসের চ্যুতি, গোঁজামিল বা বিশৃঙ্খলা থেকে ‘হ য ব র ল’ বাগ্ধারাটির উৎপত্তি।

হরতাল
‘হরতাল’ গুজরাটি শব্দ। তবে বর্তমানে বাংলা ভাষায় বহুল প্রচলিত। এর আভিধানিক বাংলা অর্থ বিক্ষোভ প্রকাশের জন্য যানবাহন, ব্যবসায়-বাণিজ্য, অফিস-আদালত প্রভৃতি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ রাখা। মহাত্মা গান্ধী প্রথম ‘হরতাল’ শব্দটি অহিংস আন্দোলন প্রকাশে ব্যবহার করেন। ‘হরতাল’ শব্দটি কিন্তু পুরোপুরি গুজরাটি নয়। ফারসি ‘হর’ ও গুজরাটি ‘তালু’ মিলে নতুন গুজরাটি শব্দ ‘হরতাল’ গঠিত। ফারসি ‘হর’ শব্দের অর্থ প্রত্যেক ও গুজরাটি ‘তালু’ শব্দের অর্থ তালা বা কুলুপ। প্রত্যেক দোকান বা প্রতিষ্ঠান বা যানবাহনে তালা দেওয়া হলো কিংবা বন্ধ করা হলো এটিই ছিল গুজরাটি ‘হরতাল’ শব্দের আদি অর্থ। এখন শব্দটির অর্থের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। পরিবর্তন ঘটেছে আচরণেরও। এটি ক্রমশ হিংস্র হয়ে উঠছে মানুষের চরিত্রের পাশব অংশের ন্যায়।

হরিচন্দন
স্বর্গের নন্দন কাননের পাঁচটি অমূল্য বৃক্ষের অন্যতম। এর কাঠ অত্যন্ত সুগন্ধযুক্ত।

হরিহর
বিষ্ণু ও শিবের নামের সমন্বয়। যারা এক দেবতারূপে পরিগণিত। ‘হরিহর আত্মা’ বাক্ভঙ্গিটি হরিহর অর্থাৎ বিষ্ণু ও শিবের সমন্বয় থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।

হস্তীবিভ্রাট
বাংলায় ‘হস্তী’ মানে ‘হাতি’ এবং ‘বড় হস্তী’ মানে ‘বিরাট হাতি’। হিন্দিতে ‘হস্তী’ মানে অস্তিত্ব; তার থেকে অর্থ দাঁড়িয়েছে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’। একটি হিন্দি সংস্কৃতি সংস্থা খ্যাতিমান এক বাঙালি ব্যক্তিকে একটি সভায় সভাপতি পদে বরণ করেছিল। ঘোষক বললেন : ‘এক বড়ি হস্তী আজ হমারে বিচ মেঁ হাজির হৈঁ।’ ঘোষকের কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাঙালি সভাপতি ও বাঙালি দর্শকগণ সভা-ত্যাগ করার জন্য উঠে দাঁড়ান। তাঁদের কথা : একজন বিখ্যাত বাঙালিকে ডেকে অপমান করা হয়েছে, এটি কখনো মেনে নেওয়া যায় না। এ পর্যায়ে একজন হিন্দি-অভিজ্ঞ বাঙালি জোড়হাত করে বোঝালেন, ‘বড়ি হস্তী’ মানে বড়মাপের এক জন গুণী।

হাজত
বিচারের পূর্বে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আসামিকে আদালতে হাজির করার জন্য পুলিশের জিম্মায় রাখার স্থান। ‘হাজত’ আরবি শব্দ। এর আদি ও মূল অর্থ ছিল প্রয়োজন, চাহিদা, প্রাপ্যতা প্রভৃতি। বাংলায় আসার পর শব্দটি তার মূল অর্থ হারিয়ে কেবল আদালতের প্রয়োজন মেটানোর লক্ষ্যে আসামিদের রাখার স্থানে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। বাংলায় ‘হাজত’ শব্দটি এখন আরবির মতো আর সাধারণ অর্থে ব্যবহার করা হয় না। এটি এখন আইনগত শব্দ। ‘হাজত’ শব্দটিকে সাধারণ মানুষ এখন আর চাহিদা মনে করে না। এটি একটি ভয়ঙ্কর স্থান।

হাত ও হাতি
বাংলায় হাত ও হাতি শব্দদ্বয় সংস্কৃত ‘হস্ত’ থেকে এসেছে। হস্ত শব্দের বাংলা হাত। আবার এ ‘হস্ত’ থেকে প্রত্যয়যোগে ‘হস্তী’ শব্দ গঠিত হয়েছে। মূলত সংস্কৃত শব্দ হস্ত থেকে বাংলা ‘হাত, হস্ত’ ও ‘হাতি, হস্তী’ শব্দের উৎপত্তি। হস্ত শব্দের বাংলা রূপান্তর হাত (যধহফ)। এ ‘হস্ত’ থেকে প্রত্যয়যোগে গঠিত হয়েছে হস্তী (বষবঢ়যধহঃ)। হস্তী শব্দের অর্থ হস্তযুক্ত বা যার হাত রয়েছে। ব্যাকরণের এ সূত্র মানতে গেলে মানুষেরই ‘হস্তী’ নাম হওয়া উচিত ছিল। কারণ মানুষই কেবল উত্তম হস্ত-সমৃদ্ধ প্রাণী। কিন্তু মানুষ সৃষ্টির সেরা প্রাণীর উপাধিটা আরও ভালোভাবে প্রকাশের জন্য খুব ভেবেচিন্তে ‘হস্তী’ হয়নি। বিশাল পশু ঐরাবতকে ‘হস্তী’ বানিয়ে সে নিজে মানুষ থেকে গেছে। মানুষ হয়তো হাতির শুঁড়ের অসাধারণ কলাকৌশল দেখে মুগ্ধ হয়েছিল। এ জন্য সে নিজেদের হস্তটি হাতির মাথায় তুলে দেয়। হস্ত তুলে দিলেও কিন্তু নামটি হস্তী ধারণ করেনি, মানুষ রেখে দিয়েছে। প্রাণিকুলে একমাত্র হস্তীরই দেহের সম্মুখাংশে শুঁড় নামের একটি সঞ্চরণশীল অঙ্গ রয়েছে। এটি অনেকটা মানুষের হাতের মতো কাজ করে। এ সুযোগে মানুষ নিজে হস্তী না হয়ে ঐরাবতকে হস্তী বানিয়ে ছেড়ে দেয়।
হাতের পাঁচ
‘হাতের পাঁচ’ বাগ্ভঙ্গিটির আভিধানিক অর্থ শেষ সম্বল, একমাত্র উপায়। তাসখেলা থেকে ‘হাতের পাঁচ’ বাগ্ধারাটির উৎপত্তি। বিন্তি খেলায় যে শেষ পিঠ পায় তার প্রাপ্য পাঁচ হচ্ছে ‘হাতের পাঁচ’। এ অনুষঙ্গ থেকে ‘হাতের পাঁচ’কে বলা হয় শেষ সম্বল। কারণ এর পর আর কোনো উপায় থাকে না।

হাবভাব
‘হাবভাব’ শব্দের বর্তমান আভিধানিক অর্থ হলো চালচলন, ছলাকলা, আকার-ইঙ্গিত প্রভৃতি। ‘হাব’ ও ‘ভাব’ এ দুটো পৃথক শব্দের মিলনে ‘হাবভাব’ শব্দটির সৃষ্টি। তবে ‘হাব’ পৃথক শব্দ হলেও ‘ভাব’ এর সঙ্গ ছাড়া এর ব্যবহার লেখা বা মুখের ভাষায় একেবারেই নেই। বলা যায় ‘ভাব’ ছাড়া ‘হাব’ অর্থহীন। ‘হাব’ শব্দের অর্থ : নারীর মনোহর লাস্য বা বিলাসভঙ্গি। অন্যদিকে ‘ভাব’ শব্দের অর্থ হলো : অভিপ্রায়, অবস্থা, চিন্তা, মানসিক অনুভব, ধরন, প্রণয় প্রভৃতি। ‘হাব’ ও ‘ভাব’ জোড়া লাগার পর প্রাথমিক পর্যায়ে ‘হাবভাব’ শব্দটি কেবল নারীদের বেলায় ব্যবহার করা হতো। তখন শব্দটির মধ্যে ছিল রোমাঞ্চ, যদিও তা কিছুটা কামস্বভাবের বা কিছুটা অশালীন, তবে ফুরফুরে। বর্তমানে ‘হাবভাব’ সম্পূর্ণ লিঙ্গ-নিরপেক্ষ শব্দ। এটি শুধু মানুষের ক্ষেত্রে নয়, প্রাণীদের বেলাতেও ব্যবহৃত হয়। হাবভাব এখন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ব্যাপক অর্থ প্রকাশে ব্যবহার করা হয়। যেমন দেশের রাজনীতির হাবভাব ভালো মনে হচ্ছে না। রোগীর হাবভাব দেখে মনে হয় সময় ঘনিয়ে আসছে। কুকুরটির হাবভাব বেশ আক্রমণাত্মক।

হাবুডুবু
‘হাবুডুবু’ শব্দের অর্থ একান্ত বিহ্বল, নিমজ্জিত প্রায়, অস্থিরভাবে মগ্ন প্রভৃতি। হাঁপ ও ডুব শব্দের মিলনে গঠিত হয় হাঁপডুব। শব্দটি ক্রমান্বয়ে হাবুডুবু বাগ্ভঙ্গিতে এসে স্থিত হয়েছে। গঠনানুসারে শব্দটির মূল ও আদি অর্থ ছিল পানিতে বারবার ডোবা ও ভাসার কারণে শ্বাসকষ্ট। সাঁতার না-জানলে কেউ পানিতে পুরোপুরি ডুবে যাওয়ার পূর্বে ভেসে ওঠার এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় সেটি ‘হাবুডুবু’। হাবুডুবু খাওয়া মানুষ বাঁচার জন্য একাগ্রচিত্তে প্রাণপণ চেষ্টায় ব্যস্ত থাকে। তবে বর্তমান বাংলা বাগ্ভঙ্গির হাবুডুবু কেবল ডুবন্ত মানুষের বেলায় প্রযোজ্য নয়। মানুষ জীবনের নানা ক্ষেত্রে বহু সমস্যায় নিপতিত থাকে। সমস্যাহীন কোনো মানুষ পৃথিবীতে নেই। তাই মানুষকে প্রতিনিয়ত জীবনসংগ্রামের মহাঢেউয়ে হাবুডুবু খেতে হয়।
প্রয়োগ : কিছুদিন আগেও তার দুটি কারখানা ছিল। আগুন লেগে দুটোই এখন ছাইভস্ম। ঋণের বোঝায় আকণ্ঠ নিমজ্জিত তোরাব সাহেবের সংসার চালাতে এখন হাবুডুবু অবস্থা। এ হাবুডুবু জলে না-হলেও তার কষ্ট জলে ডুবে যাওয়ার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।

হাম ছোড়া লেকিন কমলি তো নেহি ছোড়তা
হিন্দি হলেও প্রবাদটি বাংলা ভাষায়ও প্রচলিত। ‘বিরক্তিকর বিষয় ত্যাগ করলেও অনিচ্ছাসত্ত্বেও ওই ব্যাপারে জড়িয়ে পড়তে হয়’ এমন অর্থ প্রকাশে প্রবাদটি প্রচলিত। একটি গল্প থেকে প্রবাদটির জন্ম। দুই বন্ধু নদীর তীরে বসে গল্প করছিল। এ সময় জলে একটা ভাল্লুক ভেসে আসে। এক বন্ধু কম্বল মনে করে নদীতে নেমে ভাল্লুকটাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। তীরের বন্ধু নদীর জলে ভাসমান বন্ধুর ভুল বুঝতে পেরে ডাক দিয়ে বলল : কমলি (কম্বল) ছেড়ে নদী থেকে তীরে চলে আস। উত্তরে জলের বন্ধু বলল : হাম ছোড়া লেকিন কমলি তো নেহি ছোড়তা। অর্থাৎ আমি তো কমলি ছেড়ে দিয়েছি কিন্তু কমলি তো আমাকে ছাড়ছে না।

হারিকেন
‘হারিকেন’ আমাদের অনেকের পরিচিত একপ্রকার বাতি বা দীপাধার। কাচের ঘেরাটোপ দেওয়া বিশেষ ধরনের এ দীপাধারটি বিদ্যুৎবিহীন এলাকায় এখনও বেশ জনপ্রিয়। এছাড়া আর এক হ্যারিকেন (ঐঁৎৎরপধহব) আছে, যা প্রবল-ঘূর্ণিঝড় হিসাবে পরিচিত। বাংলাদেশে প্রায় প্রতিবছর এটি উপকূলীয় এলাকায় কম-বেশি আঘাত হানে। মূলত প্রবল ঘূর্ণিঝড় নামে পরিচিত ‘হারিকেন’ হতে আমাদের দীপাধার ‘হারিকেন’ নামের উৎপত্তি। কিন্তু কেন? কাচের ঘেরাটোপে ঘেরা থাকে বলে ঐঁৎৎরপধহব তথা প্রবল ঘূর্ণিঝড়েও ‘হারিকেন’ নামে পরিচিত দীপাধারের আলো সহজে নেভে না। তাই এ বাতি বা দীপাধারটির নাম হয়ে যায় হারিকেন। এ নাম যিনিই দিয়ে থাকুন না কেন, তিনি যে বেশ বুদ্ধিমান ছিলেন এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
হালছাড়া
চেষ্টা-পরিত্যাগ, সংকল্পে-শিথিলতা, কাজকর্মে-অনীহা প্রভৃতি অর্থ প্রকাশে ‘হালছাড়া’ শব্দটির বহুল ব্যবহার লক্ষণীয়। নৌকার হাল থেকে ‘হালছাড়া’ শব্দটির উৎপত্তি। হাল ধরে, হাল ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে মাঝি নদীর জলে নৌকাকে নিজের ইচ্ছেমতো পরিচালনা করে। নৌকার গতিপথ নিয়ন্ত্রণের একমাত্র মাধ্যম হাল। হাল চালনা যদি ব্যর্থ হয় তাহলে নৌকা গতিপথ হারিয়ে ফেলে। তখন মহা বিপত্তি ঘটে। জলে নৌকার হালের এ কার্যক্রমই বাংলায় ‘হালছাড়া’ বাগ্ভঙ্গিতে ওঠে এসেছে। মানুষ যখন জীবনযুদ্ধের হাল ছেড়ে দেয় তখন সংসার-জীবনে নেমে আসে বিপর্যয়। তবে মানুষ কি সহজে হাল ছাড়ে? নানা কারণে বাধ্য হয় হাল ছেড়ে দিত।

হুজুর
বাংলায় ‘হুজুর’ একটি সম্মানসূচক সম্বোধন। এর আভিধানিক অর্থ সম্মানিত ব্যক্তি, মনিব, প্রভু ইত্যাদি। হুজুর ‘আরবি’ শব্দ। শব্দটির সঙ্গে আরবি ‘হাজির’ শব্দের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আরবি ভাষায় ‘হাজির’ অর্থ ‘উপস্থিত’ এবং হুজুর অর্থ ‘উপস্থিতি’। আরবি ‘হাজির’ ও বাংলা ‘হাজির’ অভিন্ন অর্থ বহন করলেও আরবি ‘হুজুর’ আর বাংলা ‘হুজুর’ অভিন্ন অর্থ বহন করে না। বাংলায় এসে আরবি ‘হুজুর’ তার মূল অর্থ সম্পূর্ণ হারিয়ে নতুন অর্থ ধারণ করে। যার ডাকে হাজির হওয়া বাধ্যতামূলক তিনি ‘হুজুর’ এভাবে হয়তো আরবি ‘হুজুর’ বাংলায় এসে অর্থের পরিবর্তন করে নিয়েছে।

হুলিয়া
হুলিয়া হলো কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতারের জন্য চেহারার বিবরণ বা ছবিসহ বিজ্ঞাপন। ‘হুলিয়া’ বাংলা শব্দ নয়। এটি আরবি ভাষা হতে ফারসি ভাষা হয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে বাংলায় এসেছে। আরবি ভাষায় ‘হুলিয়া’ শব্দের অর্থ হলো : মানুষের বাহ্যিক ও চেহারার বিবরণ। ইসলাম ধর্মে মানুষের ছবি আঁকা একসময় নিষিদ্ধ ছিল বলে যতটা সম্ভব নিখুঁতভাবে মানুষের হুলিয়া লেখা হতো। এ লেখা এত নিখুঁত ছিল যে, বিবরণ পড়লে মানুষের পূর্ণ অবয়ব ভেসে উঠত। হুলিয়া পড়লে সহজে বোঝা যেত কার কথা বলা হচ্ছে এবং যার কথা বলা হচ্ছে সে কে এবং কেমন। বাংলা ভাষায় ‘হুলিয়া’ শব্দটি সাধারণ কোনো শব্দ নয়। এটি মূলত আদালতের কাজকর্মে পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের সুবিধার জন্য জারি করা হয়। ‘হুলিয়া জারি’র মাধ্যমে আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

হৃদ্রোগবৈরী
অর্জুনবৃক্ষকে বলা হতো হৃদরোগবোইরি বা হৃদ্রোগবৈরী। অর্জুনবৃক্ষের ছাল হৃদ্রোগ নিবারণের কাজ করে। তাই এর অপর নাম হৃদ্রোগবৈরী। যা হৃদরোগের বৈরী বা যা হৃদরোগকে তাড়িয়ে দেয় বা হরণ করে সেটাই হৃদ্রোগবৈরী। হৃদ্ + রোগ + বৈরী = হৃদ্রোগবৈরী।

হৃষ্টপুষ্ট
‘হৃষ্টপুষ্ট’ শব্দটির আভিধানিক অর্থ মোটাসোটা, নাদুসনুদুস, গোলগাল, সুন্দর প্রভৃতি। ‘হৃষ্ট’ ও ‘পুষ্ট’ শব্দদ্বয়ের মিলনে ‘হৃষ্টপুষ্ট’ শব্দের উৎপত্তি। হৃষ্ট শব্দের অর্থ হর্ষোৎফুল্ল, প্রফুল্ল, প্রীত, মনোরম প্রভৃতি। পুষ্ট শব্দের অর্থ নিটোল, পরিপক্ব, পরিণত, পাকা প্রভৃতি। সুতরাং ‘হৃষ্টপুষ্ট’ শব্দের আদি গঠনগত অর্থ হলো : হাসিখুশি ও নিটোল। তবে বর্তমানে এ অর্থে শব্দটির ব্যবহার নেই। মূলত নাদুসনুদুস ও গোলগাল ব্যক্তি বা পশু বোঝাতে শব্দটি ব্যবহৃত হয়। মানুষ হোক বা পশু হোক তা যদি মোটাসোটা ও সুন্দর দেখায় সেটাকে ‘হৃষ্টপুষ্ট’ বলে। কোরবানির হাটে কোরবানির পশুর ক্ষেত্রে শব্দটি বেশ মজার সঙ্গে প্রয়োগ করা হয়। গৃহপালিত পশুর মোটাতাজাকরণ প্রকল্পের নাম ‘হৃষ্টপুষ্টকরণ প্রকল্প’ হলে নামটি নিঃসন্দেহে আরও কাব্যিক হতো।

হেয়
‘হেয়’ শব্দের আভিধানিক অর্থ নীচ, ঘৃণ্য, অবেহিলত, তুচ্ছ, অবজ্ঞাযোগ্য প্রভৃতি। ‘হেয়’ সংস্কৃত শব্দ। এর মূল অর্থ ত্যাগের যোগ্য, পরিহারযোগ্য, প্রত্যাখ্যানের যোগ্য, অবহেলার যোগ্য বা অপাঙ্ক্তেয়। সংস্কৃত ভাষায় যে হেয় পরিহারযোগ্য সেটিই বাংলায় নীচ বা ঘৃণ্য। যে ব্যক্তি, বস্তু বা প্রতিষ্ঠান পরিহারযোগ্য বা প্রত্যাখ্যানযোগ্য সেটিই বাংলা ভাষায় নীচ, ঘৃণ্য, অবহেলিত, তুচ্ছ বা অবজ্ঞার যোগ্য হিসাবে চিহ্নিত।
হেস্তনেস্ত
‘হেস্তনেস্ত’ শব্দের আভিধানিক অর্থ চরম বোঝাপড়া, চূড়ান্ত নিষ্পত্তি, এস্পারওস্পার প্রভৃতি। ফারসি ‘হস্ত্্ ওয় নিস্ত্’ বাগ্্ভঙ্গি থেকে বাংলা শব্দ ‘হেস্তনেস্ত’-এর উৎপত্তি। ‘হস্ত্্ ওয়্্ নিস্ত্্’ বাগ্ভঙ্গির অর্থ ‘আছে বা নেই’ > থাকা বা না-থাকা > যা হোক একটা কিন্তু। ফারসি ভাষায় শব্দটি ছিল অনিশ্চয়তাজ্ঞাপক কিন্তু বাংলায় এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তজ্ঞাপক।

হোতা
হোতা শব্দের অর্থ নায়ক, নেতা, মূল ব্যক্তি প্রভৃতি। তবে এটি সাধারণত নেতিবাচক অর্থ প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। যেমন সব গণ্ডগোলের হোতা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। সংস্কৃত হতে আগত শব্দটির মূল ও প্রাচীন অর্থ ছিল পুরোহিত কিংবা যজ্ঞকর্তা। সেকালে বস্তুত পুরোহিতই ছিলেন যজ্ঞকর্মের মূল রূপকার। পুরোহিতের আদেশ-নির্দেশ ও ইচ্ছা-অনিচ্ছায় যজ্ঞকর্ম পরিচালিত হতো। বাঙালিরা সে যজ্ঞকর্মের পুরোহিতকে অপকর্মের পুরোহিত হিসাবে বাংলায় নিয়ে এসেছে। এখন বাংলায় সকল অপর্কমের নায়ককে ‘হোতা’ বলে প্রকাশ না-করলে যেন বাক্যের মজাই থাকে না।

হ্যাংলা
হীন-লোভী, হীনভাবে লোভ প্রকাশকারী, লঘুচিত্ত, নিচুমনের অধিকারী, ব্যক্তিত্বহীন প্রভৃতি অর্থে শব্দটি ব্যবহার করা হয়। এটি একটি দেশীয় শব্দ। বাংলাদেশের কোনো কোনো অঞ্চলে কুকুরকে হেঙ্গল, হ্যাঙ্গল, হেঙ্গুল প্রভৃতি নামে ডাকা হয়। মানুষ মনে করে, হীনভাবে ও লঘুচিত্তে লোভ প্রকাশ হেঙ্গলের চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। হেঙ্গলের এ চরিত্রকে বলা হয় হ্যাংলা স্বভাব। বস্তুত এ হ্যাংলা স্বভাব হতে ‘হ্যাংলা’ শব্দের উৎপত্তি। আঞ্চলিক ভাষায় শব্দটির বহুল প্রচলন দেখা গেলেও সাহিত্যকর্মেও শব্দটির প্রচলন কম নয়। আসলে কিছু কিছু বিষয় আছে যা যুতসই কিছু নির্দিষ্ট শব্দ ছাড়া পূর্ণভাবে প্রকাশ করা যায় না। ‘হ্যাংলা’ তেমন একটি শব্দ। এর দ্বারা কোনো ব্যক্তির শুধু ব্যক্তিত্বহীনতাই বোঝায় না, সঙ্গে তার লোভী মন-মানসিকতার উদগ্র প্রকাশ ও অস্থির আচরণকেও নির্দেশ করে। তাই ‘হ্যাংলা’ শব্দটি দ্বারা যা প্রকাশ করা সম্ভব তা অন্য কোনো বাক্য দিয়ে পূর্ণভাবে প্রকাশ করা সন্তোষজনকভাবে সম্ভব না-ও হতে পারে।

শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/

সহায়ক গ্রন্থ

১. বাল্মীকি রামায়ণ, রাজশেখর বসু অনূদিত, নবযুগ সংস্করণ, ফেব্রুয়ারি ২০০৮।
২. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, সমগ্র ব্যাকরণ-কৌমুদী, দেব সাহিত্য কুটীর প্রাইভেট লিমিটেড, ২১, ঝামাপুকুর লেন, কলিকাতা, পুনর্মুদ্রণ সেপ্টেম্বর ২০১৪।
৩. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, বাঙ্গালা ভাষা প্রসঙ্গে, জিজ্ঞাসা এজেন্সিস লিমিটেড, কলিকাতা, দ্বিতীয় প্রকাশ, ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৮৯।
৪. সুভাষ ভট্টাচার্য, বাংলা লেখক ও সম্পাদকের অভিধান, আনন্দবাজার পত্রিকা ব্যবহারবিধি গ্রন্থমালা, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা-৯, দ্বিতীয় সংস্করণ, মার্চ ১৯৯৭।
৫. হায়াৎ মামুদ, বাঙালির বাংলা ভাষা ইদানীং, চারুলিপি প্রকাশন, ৩৮/৪ বাংলাবাজার, ঢাকা, জুলাই ২০০৯।
৬. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন, শুদ্ধ বানান চর্চা, শুবাচ ফাউন্ডেশন, বাংলাবাজার, ঢাকা, জুন ২০১৫।
৭. রবিশঙ্কর মৈত্রী, বিদেশী বাংলা শব্দের অভিধান, অনুপম প্রকাশনী ৩৮/৪ বাংলাবাজার, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯।
৮. ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা সাহিত্যের অ আ ক খ, জাগৃতি প্রকাশনী, ৪২/এ আজিজ সুপার মার্কেট, শাহবাগ, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০০২।
৯. ড. মোহাম্মদ আমীন, হাসতে হাসতে বাংলা শেখা, আগামী প্রকাশনী, ৩৮ বাংলাবাজার, ঢাকা, জুন ২০০৬।
১০. ড. মোহাম্মদ আমীন, রঙ্গরসে বাংলা বানান, হাওলাদার প্রকাশনী, ২০১৫।
১১. ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা বানান ও শব্দচয়ন, জাগৃতি প্রকাশনী, ৪২/এ আজিজ সুপার মার্কেট, শাহবাগ, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০০৪।
১২. সুদেষ্ণা বসাক, বাংলার প্রবাদ, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, দ্বিতীয় মুদ্রণ, মে ২০০৮।
১৩. দিলীপ দেবনাথ, শব্দচিন্তা চমৎকারা, দিব্যপ্রকাশ, ৩৮/২ক বাংলাবাজার, ঢাকা, নভেম্বর ২০১১।
১৪. ফরহাদ খান, বাংলা শব্দের উৎস অভিধান, প্রতীক প্রকাশনা সংস্থা, ৪৬/২ হেমেন্দ্র দাস রোড, ঢাকা, জানুয়ারি ২০১২।
১৫. পি আচার্য, বাংলা বানান চিন্তা, বিকাশ গ্রন্থ ভবন, ৭৯/১বি, মহাত্মা গান্ধী রোড, কলকাতা, ১৯৯৬।
১৬. জ্যোতিভূষণ চাকী, বাগর্থকৌতুকী, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, এপ্রিল ২০০২।
১৭. জ্যোতিভূষণ চাকী, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, আনন্দবাজার পত্রিকা ব্যবহার বিধি, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, এপ্রিল ২০১৩।
১৮. হাকিম আরিফ, নজরুল-শব্দপঞ্জি, নজরুল ইনস্টিটিউট, কবিভবন, ধানমণ্ডি, ঢাকা, জুন ১৯৯৭।
১৯. কলিম খান ও রবি চক্রবর্তী, বঙ্গীয় শব্দার্থ কোষ, প্রথম খণ্ড, ভাষাবিন্যাস, কলকাতা, চৈত্র ১৪১৭।
২০. কলিম খান ও রবি চক্রবর্তী, বঙ্গীয় শব্দার্থ কোষ, দ্বিতীয় খণ্ড, ভাষাবিন্যাস, কলকাতা, চৈত্র ১৪১৭।
২১. বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, জানুয়ারি ২০১৪।
২২. ডক্টর মুহাম্মদ এনামুল হক, বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, ডিসেম্বর ২০০০।
২৩. হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বঙ্গীয় শব্দকোষ, প্রথম খণ্ড। অ-ন, সাহিত্য অকাদেমি, কলকাতা, অষ্টম মুদ্রণ, ২০১১।
২৪. হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বঙ্গীয় শব্দকোষ, দ্বিতীয় খণ্ড। প-হ, সাহিত্য অকাদেমি, কলকাতা, অষ্টম মুদ্রণ ২০১১।
২৫. অশোক মুখোপাধ্যায়, সংসদ ব্যাকরণ অভিধান, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, ডিসেম্বর ১৯৯৫।
২৬. সুবলচন্দ্র মিত্র, সরল ছাত্রবোধ অভিধান, নিউ বেঙ্গল প্রেস (প্রা.) লি. কলকাতা, দশম সংস্করণ, জানুয়ারি ১৯৯৬।
২৭. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, যথাশব্দ, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, প্রথম প্রকাশ ডিসেম্বর ১৯৭৪।
২৮. সুধীরচন্দ্র সরকার, পৌরাণিক অভিধান, এম. সি. সরকার অ্যান্ড সন্স প্রা. লি. কলকাতা, বৈশাখ ১৪১৬।
২৯. সুধীরচন্দ্র সরকার, বিবিধার্থ অভিধান, ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাবলিশিং কো. প্রাইভেট লি., কলকাতা, প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৮৮৪ শকাব্দ, ১৩৬৮ বঙ্গাব্দ।
৩০. রাজশেখর বসু (সংকলিত), চলন্তিকা : আধুনিক বঙ্গভাষার অভিধান, এম. সি. সরকার অ্যান্ড সন্স প্রাইভেট লি., কলিকাতা, ত্রয়োদশ সংস্করণ : পুনর্মুদ্রণ ১৪০৩।
৩১. ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, শব্দসঞ্চয়িতা, নিউ সেন্ট্রাল বুক এজেন্সি প্রা. লিমিটেড, কলকাতা, ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৮৮।
৩২. কলিম খান, দিশা থেকে বিদিশায় : ‘যোজনগন্ধবিকার : ‘সিস্টেম ডিজাইনিং’-এর একটি সমস্যা।

 

আবশ্যিকভাবে আপনার আগ্রহ সৃষ্টি করবে এমন কয়েকটি লিংক: প্রয়োজনীয় কিছু লিংক:
শুবাচ গ্রুপ এর লিংক: www.draminbd.com
 

শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ) প্রমিত বানানবিধি

শুবাচ আধুনিক প্রমিত বাংলা বানান অভিধান

 

এক মিনিট সময় দিন বানানগুলো শিখে নিন

 
 
 
 
 

 

 

error: Content is protected !!