বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও প্রধান /১৩

পাঁচালী গানের পথিকৃৎ
দাশু রায় নামে খ্যাত দাশরথি রায় (১৮০৬-১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দ) কবি গানের যুগে পাঁচালি গান নামে ভিন্ন ধারার এক ধরণের গানের পথিকৃৎ হিসেবে খ্যাত।

পল্লি প্রকৃতির সহৃদয় রূপায়নকারী
শ্রীশচন্দ্র মজুমদার (১৮৬০-১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দ) বাংলা সাহিত্যে বাংলা পল্লি প্রকৃতির সহৃদয় রূপায়নকারী হিসেবে খ্যাত। তাঁর রচিত ফুলজানী (১৮৯৪ খ্রিষ্টাব্দ ) দৈনন্দিন জীবনের মমতার অবিস্মরণীয় আলেখ্য হিসেবে খ্যাত।

মহাকাব্য রচনার উল্লেখযোগ্য শেষ প্রচেষ্টা
যোগীন্দ্রনাথ বসু (১৮৫৪-১৯২৭ খ্রি.) রচিত কাব্য পৃথ্বিরাজ (১৯১৫ খ্রি.) ও শিবাজী (১৯২১ খ্রিষ্টাব্দ) বাংলা সাহিত্যে মহাকাব্য লেখার শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে খ্যাত।

ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত বিখ্যাত গ্রন্থ
“ভানু সিংহের পদাবলী” ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত বিখ্যাত গ্রন্থ।

আধুনিকতার লক্ষণাক্রান্ত কবি/হাস্যরসের স্রষ্টা
ইশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯ খ্রি.) বাংলা সাহিত্যের প্রথম পরিবেশ সচেতন কবি। তাঁকে আধুনিকতার লক্ষণাক্রান্ত প্রথম কবি বলা হয়। বাংলা সাহিত্যে তাঁকে হাস্যরসের স্রষ্টাও বলা হয়।

স্বদেশ প্রেম ও স্বাধীনতা প্রীতির কবি
রঙ্গলাল বন্দোপাধ্যায় (১৮২৭-১৮৮৬ খ্রি.) বাংলা সাহিত্যের প্রথম দেশাত্ববোধক কাব্যে পাশ্চাত্য সাহিত্যাদর্শের রোমান্টিক ভাবধারার প্রয়োগ করেন। ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত ‘পদ্মিনী উপাখ্যান’ রঙ্গলাল বন্দোপাধ্যায়ের প্রথম কাব্য। পদ্মিনী উপাখ্যান এর রচয়িতা হিসেবে তাঁকে ‘স্বদেশ প্রেম ও স্বাধীনতা প্রীতির’ কবি বলা হয়

বাংলা সাহিত্যের রুশো
বাংলা সাহিত্যের রুশো নামে খ্যাত জীবনান্দ দাসকে নির্জন কবি বলা হয়। তিনি ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ই ফ্রেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। ‘বনলতা সেন’ জীবনান্দ দাসের শ্রেষ্ঠ কাব্য। অনেকে ‘বনলতা সেন’ কাব্যটিকে একবিংশ শতকের শ্রেষ্ঠ কাব্য বলে।

জগত্তরারিণী সুবর্ণপদক প্রাপ্ত প্রথম মহিলা
স্বর্ণকুমারী দেবী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জেষ্ঠ্যা ভগিনী। তিনি অনেক দিন ভারতী পত্রিকা পরিচালনা করেছেন। তার প্রথম কাব্য ‘বসন্ত উৎসব’ একটি গীতিনাট্য। এটি ১৮৭৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে জগত্তাররিণী সুবর্ণ-পদক’ প্রদান করেন। তিনিই জগত্তারারিণী সুবর্ণপদক প্রাপ্ত প্রথম মহিলা।

error: Content is protected !!