বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও প্রধান/৩

বাংলা সাহিত্যের আঞ্চলিক ভাষার প্রথম অভিধান
১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে ‘পূর্ব-পাকিস্তানের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান’ পাকিস্তান সরকারের আনুকূল্যে বাংলা একাডেমীর (বর্তমানে বাংলা একাডেমি) উদ্যোগে সৈয়দ আলী আহসানের পরিচালনায় দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়। ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দ হতে সংকলনের কাজ শুরু হয় এবং ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে এর প্রস্তুতি পর্ব শেষ হয়। চৌদ্দটি জেলা হতে গৃহীত ৭৫ হাজার আঞ্চলিক শব্দ নিয়ে অভিধানটি রচিত। এর সম্পাদক ছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এটাই একমাত্র কিছুটা নির্ভরযোগ্য আঞ্চলিক অভিধান। ২য় সংস্করণে অভিধানটির নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশের আঞ্চলিক অভিধান’ রাখা হয়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলা ভাষার প্রথম আঞ্চলিক অভিধানের রচয়িতা। 

বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলিম প্রামাণ্য বৈয়াকরণ
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলিম প্রামাণ্য বৈয়াকরণ। তাঁর লেখা ‘বাঙ্গালা ব্যাকরণ’ কোনো বাঙালি মুসলিম লিখিত প্রথম প্রামাণিক ব্যাকরণ। গ্রন্থটি ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।

প্রথম বাংলা টাইপ
ভগ্বদ্গীতার অনুুবাদক (‘The Bhagvat Gita or Dialogues of Krishna and Arjoons’) ইংরেজ কোম্পানির কর্মচারী চার্লস উইলকিন্স ও পঞ্চানন কর্মকার প্রথম বাংলা টাইপ প্রস্তুত করেন। এ কারণে ১৭৭৮ খ্রিষ্টাব্দকে বাংলা গদ্যের ‘ঐতিহাসিক যুগে’র সূচনা-বর্ষ বলা যায়। তবে যথার্থ গদ্যের সূত্রপাত ঘটে ১৮০১ খ্রিষ্টাব্দে। ১৭৭৮ খ্রিষ্টাব্দ হতে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে বাংলা গদ্য সৃষ্টির প্রস্তুতিকাল বলা যায়।

ভারতবর্ষে মুদ্রিত প্রথম গ্রন্থ
ভারতবর্ষে ১৫৭৭ খ্রিষ্টাব্দে তামিল অক্ষরে মালায়ালাম ভাষায় প্রথম বই মুদ্রিত হয়।স্পেনের এক পাদ্রি গ্রন্থটির রচয়িতা। ১৭৭৮ খ্রিষ্টাব্দ হতে বাংলা অক্ষরে বাংলা ভাষায় ভারতবর্ষে প্রতিষ্ঠিত মুদ্রণ যন্ত্র হতে গ্রন্থ প্রকাশের সূচনা ঘটে।

বাংলা ভাষাকে পূর্ণাঙ্গরূপে প্রকাশের প্রথম প্রয়াস
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি ‘The Origin and Development of the Bengali Language` গ্রন্থটিকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বাংলা ভাষাকে পূর্ণাঙ্গরূপে উপস্থাপন করার প্রথম ও সার্থক প্রয়াস হিসেবে অভিহিত করা হয়। ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ মে সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় মারা যান।

error: Content is protected !!