বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও প্রধান /৫

বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রবন্ধ গ্রন্থ
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ইংরেজ শিক্ষার্থীদের বাংলা শেখানোর উদ্দেশ্যে পাঠ্যপুস্তক হিসেবে ব্যবহারের জন্য মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত এবং ১৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত “বেদান্ত চন্দ্রিকা” বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রবন্ধ গ্রন্থ।

বাংলা গদ্য সাহিত্যের প্রথম বাঙালি লেখক
রামরাম বসু বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি গদ্য লেখক। ১৮০১ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ এবং ১৮০২ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত ‘লিপিমালা’ রামরাম বসুর প্রসিদ্ধ গদ্যগ্রন্থ।

বাংলা গদ্যের প্রাচীনতম নিদর্শন
প্রাচীন গদ্যের যে সকল নিদর্শন এ পর্যন্ত পাওয়া গেছে তন্মধ্যে ষোড়শ শতকে লেখা একটি পত্র সবচেয়ে প্রাচীন বলে খ্যাত। পত্রটি ১৫৫৫ খ্রিষ্টাব্দে কুচবিহারের মহারাজা নারায়ণ তৎকালীন আহোমরাজ চুক্কা স্বর্গদেবকে লিখেছিলেন।

শরৎচন্দ্রের প্রথম গল্প
১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত ‘মন্দির’ নামক গল্পটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম গল্প। গল্পটি কুন্তলীন গল্প প্রতিযোগিতায় পুরষ্কৃত হয়েছিল। তাঁর দ্বিতীয় গল্প ‘বড়দিদি’ ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক প্রাবন্ধিক
রাজা রামমোহন রায়ের উপাধি ছিল ‘ভারত সূর্য’। তাঁর লিখিত ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ বাংলা সাহিত্যে বাংলা ভাষায় কোনো বাঙালি লিখিত প্রথম ব্যাকরণ। তাঁকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক প্রবন্ধকারও বলা হয়।

বাংলা গদ্যের ভাষাকে ‘উদ্দেশ্যানুগ ও বিষয়োচিত’ করার অলিখিত সংস্কারক
বাংলা গদ্যের ক্ষেত্রে ভাষাকে উদ্দেশ্যানুগ ও বিষয়োচিত করে তোলার লক্ষ্যে সুস্পষ্ঠ সংস্কার মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারই প্রথম প্রবর্তন করেন।

বীরবল
বাংলা কথ্যরীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম বীরবল। ‘বীরবলের হালখাতা’ গ্রন্থের জন্য তিনি বাংলা সাহিত্যে বীরবল নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা ‘সবুজ পত্র’ প্রকাশিত হয়। ‘সবুজ’ পত্র পত্রিকার মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে। প্রমথ চৌধুরীর ‘সবুজ পত্র’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম চলতি রীতির মুখপত্র হিসেবে খ্যাত। প্যারীচাঁদ মিত্র বাংলা সাহিত্যে প্রথম অভিনবত্ব প্রণয়নের প্রচেষ্টা নেন।

error: Content is protected !!