বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও প্রধান /৯

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের প্রথম মৌলিক-কাব্য
শ্রী সুধর্মা (রাজত্বকাল ১৬২২-১৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দ )-এর শাসনামলে কবি মরদন (মর্দন) (অনুমান ১৬০০-১৬৪৫ খ্রিষ্টাব্দ ) রচিত ‘নসীরনামা’ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের প্রথম মৌলিক-কাব্য এবং তিনি প্রথম মৌলিক কবি।

মধ্যযুগের প্রথম মৌলিক কাব্য
চট্টগ্রামের কবি দৌলত কাজীর ‘সতী ময়না ও লোর চন্দ্রানী’ কাব্য গ্রন্থকে মধ্যযুগের প্রথম মৌলিক কাব্য বলা হয়।

বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী কাব্য
বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীকাব্য বৃন্দাবন দাসের (জন্ম ১৫১৮ খ্রিষ্টাব্দ ) ‘শ্রীচৈতন্যভাগবত’। কাব্যটি ১৫৪৮ খ্রিষ্টাব্দে রচিত হয়। রচনাকালে গ্রন্থটি ‘চৈতন্যমঙ্গল’ নামে পরিচিত ছিল।

ভাগবত এর প্রথম বাংলা অনুবাদক
মালাধর বসু ভাগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক। ১৪৭৩ খ্রিষ্টাব্দ হতে ১৪৮০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে সাত বছরের প্রচেষ্টায় শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাবের পূর্বে ভাগবতের দশম ও একাদশ স্কন্ধ অনুসরণে তিনি ‘শ্রীকৃষ্ণবিজয়’ কাব্য রচনা করেন।

বাংলা সাহিত্যের প্রথম জঙ্গনামা বা যুদ্ধকাব্য
পনের শতকে রচিত জৈনুদ্দিনের ‘রসুল বিজয়’ মধ্যযুগের প্রথম জঙ্গনামা বা যুদ্ধকাব্য। অতএব জৈনুদ্দিনের ‘রসুল বিজয়’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম যুদ্ধকাব্য।

মধ্যযুগের শেষকবি
কবি ভারতচন্দ্রকে মধ্যযুগের শেষকবি,‘পর-মধ্য যুগের শ্রেষ্ঠ রূপকার’,মধ্যযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি বলা হয়। ‘অন্নদামঙ্গল’ ভারতচন্দ্রের শ্রেষ্ঠ সাহিত্য কর্ম। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের অনুরোধে তিনি ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছিলেন। ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য রচনা করায় রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে ‘গুণাকর’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। ভারতচন্দ্র ‘অন্নদামঙ্গল’ রচনার মাধ্যমে মঙ্গলকাব্য রচনার সমাপ্তি ঘটান। তাঁকে মঙ্গল কাব্য যুগের শেষ কবিও বলা হয়।

মধ্যযুগের আদি-নিদর্শন
রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত বড়ূচ-ীদাসের ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ মধ্যযুগের আদি নিদর্শন। বড়ূচ-ীদাসকে মধ্যযুগের ‘আদিকবি’ বলা হয়। ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ বাংলা সাহিত্যের অগ্রগতির দ্বিতীয় পদক্ষেপ।

মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি
কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়।

চণ্ডীমঙ্গল ও মনসামঙ্গল কাব্যের আদি-কবি
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মাণিক দত্ত এবং মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি কানা হরিদত্ত।

error: Content is protected !!