বাংলা সাহিত্যে অনুবাদ প্রথম ও প্রধান /৩

বাংলা ভাষায় পবিত্র বাইবেলের প্রথম বঙ্গানুবাদ
শ্রীরামপুর মিশনারিদের প্রচেষ্টায় ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে বাইবেলের নিউ টেস্টামেন্টের ‘Gospel of St. Mathews ’ অংশের অনুবাদ মুল গ্রিক হতে ‘মঙ্গলসমাচার মাতীয়ের রচিত’ নামক গ্রন্থের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এটি বাংলা সাহিত্যে বাইবেলের প্রথম বঙ্গানুবাদ। ১৮০১ খ্রিষ্টাব্দে বাইবেলের নিউ টেস্টামেন্ট এবং ওল্ড টেস্টামেন্ট এর কিয়দংশের অনুবাদ প্রকাশিত হয়। ১৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে উইলিয়াম কেরি অনুদিত সমগ্র বাইবেলের অনুবাদ গ্রন্থ ‘ধর্মপুস্তক’ নামে প্রকাশিত হয়। ধর্মপুস্তক গ্রন্থে বাংলা ভাষার নিজস্ব পদবিন্যাস রীতিকে উপেক্ষা করে ইংরেজি পদবিন্যাস রীতি অনুসরণ করায় বাংলা সাহিত্যে এ গদ্যের প্রভাব নগন্য।

কোরআন শরিফের প্রথম বঙ্গানুবাদ
ভাই গিরিশচন্দ্র সেন প্রথম পবিত্র কোরআন শরিফ আরবি ভাষা হতে বাংলায় অনুবাদ করেন। ১৮৮১ খ্রিষ্টাব্দ হতে ১৮৮৬ খ্রিষ্টাব্দে গিরিশচন্দ্র অনুদিত কোরআন শরীফের বঙ্গানুবাদ মুদ্রিত হয় এবং ১৮৮৬ খ্রিষ্টাব্দে সম্পূর্ণ অনুবাদ প্রকাশিত হয়। তাঁর মৃত্যুর পর ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে অনুবাদের ৪র্থ সংস্করণ প্রকাশিত হয়। পাদরি উইলিয়াম গোল্ডস্যাকও কোরআন শরিফের পূর্ণাঙ্গ বঙ্গানুবাদ করেছিলেন। ভাই গিরিশচন্দ্র সেনের পর মুসলমানদের মধ্যে কোরআন শরিফের প্রথম বঙ্গানুবাদক মৌলবি মুহম্মদ নঈমুদ্দিন। তিনি বোখারি শরিফের প্রথম অনুবাদক হিসেবেও খ্যাত। চব্বিশ পরগণার অধিবাসী মৌলবী আব্বাস আলী প্রথম মুসলিম যিনি কোরআন শরিফের বঙ্গানুবাদ করেছিলেন। ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দে কিরণ গোপাল সিংহ কোরআন শরিফের সার সংকলন প্রকাশ করেন। ঢাকার ইসলামি একাডেমী প্রকাশিত ‘কুরআনুল করীম’ কোরআন শরিফের একটি নির্ভরযোগ্য বাংলা অনুবাদ।
ইংরেজি সাহিত্যের রসে বাংলা সাহিত্যকে সঞ্জীবিত করার প্রথম প্রয়াস
রঙ্গলাল বন্দোপাধ্যায় ইংরেজি সাহিত্যের রসে বাংলা সাহিত্যকে সঞ্জীবিত করার প্রথম প্রয়াস নেন। তিনি ইংরেজি কবি টমাস মুর ও স্যার ওয়াল্টার স্কটের অনুকরণে বাংলা সাহিত্যে প্রথম দেশাত্ববোধসূচক কাব্য রচনার সূচনা করেন।

error: Content is protected !!