বাংলা সাহিত্যে মুসলিম প্রথম ও প্রধান/২

বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসিলম প্রণয়োপাখ্যান লেখক: রোমান্টিক সাহিত্য ধারায় প্রাচীনতম মুসলিম লেখক শাহ মুহাম্মদ সগীর (চতুর্দশ শতকের লেখক) বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রণয়োপাখ্যান ‘ইউসুফ জোলেখা’ কাব্যগ্রন্থের লেখক । তিনি বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলমান প্রণয়োপাখ্যানকারী হিসেবে খ্যাত এবং ‘ইউসুফ জোলেখা’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রণোয়পাখ্যান।

প্রথম মুসলমান মহিলা ঐতিহাসিক: সম্রাট হুমায়ুনের ভগ্নী গুলবদন প্রথম মহিলা মুসলিম ঐতিহাসিক। তিনি তাঁর ভাইয়ের রাজত্বকালের ইতিহাস লিখে  ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মহিলা সাহিত্যিক হিসেবে খ্যাত হয়ে আছেন। তিনি উপমহাদেশের ইতিহাসের প্রথম মহিলা ঐতিহাসিক হিসেবেও খ্যাত। তাঁর আগে উপমহাদেশের কোনো মহিলা কোনো ঐতিহাসিক গ্রন্থ লিখেননি।

অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুসলিম সাহিত্যিক-পুলিশ: বিখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ এমদাদ আলী (১৮৭৬-১৯৫৫ খ্রি.) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম পুলিশ, যিনি সাহিত্যিক হিসেবেও অপরিমেয় খ্যাতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ‘তাপসী রাবেয়া’ তার একটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।

প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক: সাধারণভাবে মীর মশাররফ হোসেনকে প্রথম মুসলিম গদ্য রচনাকারী হিসেবে গুরুত্ব প্রদান করা হলেও তাঁর পূর্বে গোলাম হোসেনের ‘হাড় জ্বালানী’ এবং খোন্দকার সামশুদ্দিন মোহাম্মদ সিদ্দিকীর(১৮০৮-৭০ খ্রিষ্টাব্দ) ‘উচিৎ শ্রবণ’ (১৮৬০খ্রিষ্টাব্দ) এবং শেখ আজিমদ্দির ‘কড়ির মাথায় বুড়োর বিয়ে’ প্রভৃতি গদ্যগ্রন্থ মীর মশাররফ হোসেনের আগের লেখা। তবে তাঁদের উপন্যাসের মধ্যে উপন্যাসের আদর্শমান পুরোপুরি বিকশিত হয় নি। এজন্য মীর মশাররফ হোসেনকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মুসলিম ঔপন্যাসিক বলা হয়।

প্রথম সার্থক মুসলিম ব্যঙ্গ সাহিত্যিক: প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ আবুল মনসুর আহমদ বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মুসলিম ব্যাঙ্গ সাহিত্যিক। কাজী দীন মুহাম্মদ বাংলা সাহিত্যের আরেক বিখ্যাত ব্যঙ্গ লেখক। ‘গোলক চন্দ্রের আত্মকথা’ তাঁর একটি জনপ্রিয় ব্যাঙ্গ রচনা।

ইকবালের শাকাওয়াত কবিতার প্রথম বঙ্গানুবাদক: আত্মহত্যাকারী কবি আশরাফ আলী খান ইকবালের শাকাওয়াত কবিতার প্রথম বঙ্গানুবাদ করেন। তিনিই বাংলা সাহিত্যের একমাত্র মুসলিম কবি, যিনি আর্থনীতিক দুরবস্থা ও পারিবারিক অশান্তির কারণে আত্মহত্যা করেছিলেন।

পর্দাপ্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক: কাজী এমদাদুল হক (১৮২-১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দ) প্রথম মুসলিম লেখক যিনি সুনিপন লেখনী ও বক্তব্যের মাধ্যমে পর্দাপ্রথার বিরুদ্ধে প্রথম সোচ্চার আন্দোলন শুরু করেছিলেন। তিনি তাঁর বিখ্যাত ‘আবদুল্লাহ্’ উপন্যাসের মাধ্যমে পর্দাপ্রথার বিরুদ্ধে প্রথম কলম ধরেছিলেন। তাঁকে বাংলা সাহিত্যে পর্দাপ্রথার বিরুদ্ধে প্রথম আন্দোলনকারী বলা হয়।

মুসলমান রচিত প্রথম সার্থক উপন্যাস ও প্রথম সার্থক নাটক: ১৮৬৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত মীর মশাররফ হোসেনের প্রথম উপন্যাস ‘রত্নাবতী’ মুসলমান রচিত প্রথম সার্থক উপন্যাস। ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত মীর মশাররফ হোসেনের ‘বসন্ত কুমারী নাটক’ মুসলমান রচিত প্রথম নাটক। তাঁর লিখিত দ্বিতীয় নাটক ‘জমিদার দর্পণ’। ‘জমিদার দর্পণ’ মুসলমান লিখিত দ্বিতীয় নাটক হিসেবেও খ্যাত। গ্রন্থটি ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।

মুসলমান রচিত প্রথম সার্থক প্রহসন: ১৮৭৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত মীর মশাররফ হোসেন রচিত ‘এর উপায় কি’ নামক প্রহসন গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কোন মুসলমান রচিত প্রথম সার্থক প্রহসন।

মুসলমান রচিত প্রথম পাকপ্রণালী গ্রন্থ: সুধাকর দলের প্রবর্তনকারীদের অন্যতম মুন্সী মোহাম্মদ রেয়াজুদ্দিন আহমদ (১৮৬২-১৯৩৩ খ্রি.) লিখিত ‘মোসলেম পাকপ্রণালী’ গ্রন্থটি মুসলমান লিখিত পাকপ্রণালীর বিবরণ সংবলিত প্রথম গ্রন্থ। গ্রীস তুরস্ক যুদ্ধ, তোহফাতুল মুসলেমিন, কৃষক বন্ধু (কাব্য), হযরত মোহাম্মদ মোস্তফার জীবনচরিত, আমার সংসার জীবন প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।

মুসলমান রচিত প্রথম পত্ররচনা শিক্ষাগ্রন্থ: ইসলাম ধর্ম প্রচারে মুন্সী মেহেরুল্লাহর সহকর্মী মুন্সি মোহাম্মদ জমিরুদ্দিন (১৮৭০-১৯৩০ খ্রি.) রচিত ‘বিশুদ্ধ খতনাম’ গ্রন্থটিই কোন মুসলমান লিখিত প্রথম পত্ররচনা শিক্ষা গ্রন্থ।

বাংলা সাহিত্যে মুসলিম প্রথম ও প্রধান

বাংলা সাহিত্যে প্রথম ও প্রধান/১

বাংলা সাহিত্যবিষয়ক লিংক

error: Content is protected !!