বাক্‌ বাগ ও বাগ্‌

ড. মোহাম্মদ আমীন

বাক্ : বিশেষ্যে হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ‘বাক্’ অর্থ— বাক্য, শব্দ, বিদ্যা, সরস্বতী, বাগিন্দ্রিয় প্রভৃতি। শব্দটির বানানে ক-য়ে হসন্ত আবশ্যক। বাংলায় ‘বাক্’ শব্দের স্বাধীন ব্যবহার বিরল। তবে অন্য শব্দের পূর্বে বসে এটি তার অর্থকে বিবিধার্থে দ্যোতিত করতে পারে। সেক্ষেত্রে ‘বাক্’ শব্দের সঙ্গে যদি কোনো বিভক্তি যুক্ত না হয় তাহলে ‘বাক্’ অবিকল থেকে অন্য শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়। এক্ষেত্রে ‘বাক্‌’ বানানের কোনো পরিবর্তন করা যাবে না। যেমন: বাক্‌কলহ, বাক্‌চাতুরী, বাক্‌চাতুর্য, বাক্‌ছল, বাক্‌পটু, বাক্‌পতি, বাক্‌পারুষ্য, বাক্‌প্রণালি, বাক্‌প্রতিমা, বাক্‌বিভূতি, বাক্‌শক্তি, বাক্‌সংযম, বাক্‌সর্বস্ব, বাক্‌সিদ্ধ, বাক্‌স্ফূর্তি, বাক্‌স্বাধীনতা প্রভৃতি। তবে কোনো বিভক্তি বা প্রত্যয় যুক্ত হলে ‘বাক্’ প্রয়োজনীয় পরিবর্তন-সহ নতুন সাজে নতুন শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন: বাক্+ য= বাক্য। এভাবে গঠিত শব্দ: বাক্যজাল, বাক্যদান, বাক্যবাগীশ, বাক্যবাণ, বাক্যবিনিময়, বাক্যবিশারদ, বাক্যবীর, বাক্যব্যয়, বাক্যস্ফূর্তি, বাক্যহারা, বাক্যাংশ, বাক্যাতীত, বাক্যালাপ, বাঙ্‌নিষ্ঠা (বাক্‌+নিষ্ঠা), বাঙ্‌নিষ্পত্তি (বাক্‌+নিষ্পত্তি) প্রভৃতি। 

বাগ বাগ্: ফারসি ‘বাগ’ অর্থ বিশেষ্যে বাগান, কানন, উপবন। হিন্দি ‘বাগ’ অর্থ বিশেষ্যে দিক, পথ, শাসন, বশ (বাগে আনা), আয়ত্তি (বাগে পাওয়া) প্রভৃতি। বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ‘-বাগ্’ অর্থ বাক্য, শব্দ, বিদ্যা, সরস্বতী, বাগিন্দ্রিয়, সমাস ও সন্ধিতে ঘোষ বর্ণের পূর্বে ‘বাক্’ শব্দের রূপ। এটি ‘বাগ্‌’ শব্দের সমার্থক। অর্থ বিভ্রাটমুক্ত রাখার জন্য বাক্য অর্থ-দ্যোতিত ‘বাগ্-’ শব্দের বানানে গ-য়ে হসন্ত আবশ্যক। -বাগ্ দিয়ে গঠিত কয়েকটি শব্দ: বাগ্‌গি, বাগ্‌জাল, বাগ্‌ড়ম্বর, বাগ্‌দত্তা, বাগ্‌দান, বাগ্‌দেবী, বাগ্‌ধারা, বাগ্‌বিতণ্ডা, বাগ্‌বিদগ্ধ, বাগ্‌বিধি, বাগ্‌বিভূতি, বাগ্‌বৈদগ্ধ, বাগ্‌যত, বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যুদ্ধ, বাগ্‌রোধ প্রভৃতি।

হাল ও হালি:  বাংলায় তিনটি ‘হাল’ ও দুটি ‘হালি’ আছে। প্রথম: বিশেষ্যে সংস্কৃত ‘হাল’ অর্থ— লাঙল। দ্বিতীয়: বিশেষ্যে দেশি ‘হাল’ অর্থ— যা দিয়ে নৌকার গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করা হয়, কর্ণ প্রভৃতি। যিনি কর্ণ ধারণ করেন তিনি কর্ণধার, মানে মাঝি। তৃতীয়: আরবি থেকে আগত ‘হাল’। বিশেষ্যে এর অর্থ— অবস্থা, দশা, বর্তমান কাল প্রভৃতি এবং বৈশেষণিক অর্থ—বর্তমান।
অধুনা বাংলায় ব্যবহৃত তিনটি ‘হাল’-এর মধ্যে আরবি ‘হাল’ই অধিক প্রচলিত। যেমন: হাল আমল, হালখাতা, হালচাল, হালত, হালদার, হালফিল, হালফ্যাশন, হালহাকিকত, হালে (বর্তমান) প্রভৃতি। একসময় বাংলা ‘হাল’ও বহুল প্রচলিত ছিল। এখন প্রত্যন্ত এলাকাতেও যন্ত্র দিয়ে জমি চাষ করা হয়। তাই বাংলা ‘হাল’ আগের মতো অধিক ব্যবহৃত হয় না। বাংলা ‘হাল’ দিয়ে গঠিত কয়েকটি শব্দ: হালট, হালচাষ, হালি, হালিক, হালিয়া প্রভৃতি।
এবার দেখি ‘হালি’। প্রথম হালি বাংলা, অর্থ— যে ব্যক্তি লাঙল চালায়। দ্বিতীয় ‘হালি’ আরবি থেকে আগত। এর অর্থ— চারটির সমষ্টি। এছাড়াও আর একটি ‘হালি’ মাঝে মাঝে দেখা যায়। সেটি আঞ্চলিক হালি। আঞ্চলিক ভাষায় শালিকেও অনেকে হালি বলে।

All Link

বিসিএস প্রিলি থেকে ভাইভা কৃতকার্য কৌশল

ড. মোহাম্মদ আমীনের লেখা বইয়ের তালিকা

বাংলা সাহিত্যবিষয়ক লিংক

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশবিষয়ক সকল গুরুত্বপূর্ণ সাধারণজ্ঞান লিংক

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন/১

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন/২

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন /৩

কীভাবে হলো দেশের নাম

ইউরোপ মহাদেশ : ইতিহাস ও নামকরণ লিংক

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/১

দৈনন্দিন বিজ্ঞান লিংক

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/২

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৩

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৪

কীভাবে হলো দেশের নাম

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/১

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/২

বাংলাদেশের তারিখ

ব্যাবহারিক বাংলা বানান সমগ্র : পাঞ্জেরী পবিলেকশন্স লি.

শুদ্ধ বানান চর্চা প্রমিত বাংলা বানান বিধি : বানান শেখার বই

কি না  বনাম কিনা এবং না কি বনাম নাকি

মত বনাম মতো : কোথায় কোনটি এবং কেন লিখবেন

ভূ ভূমি ভূগোল ভূতল ভূলোক কিন্তু ত্রিভুবন : ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ

মত বনাম মতো : কোথায় কোনটি এবং কেন লিখবেন

প্রশাসনিক প্রাশাসনিক  ও সমসাময়িক ও সামসময়িক

বিবিধ এবং হযবরল : জ্ঞান কোষ

সেবা কিন্তু পরিষেবা কেন

ভাষা নদীর মতো নয় প্রকৃতির মতো

এককথায় প্রকাশ

শব্দের বানানে অভিধানের ভূমিকা

আফসোস নিয়ে আফসোস

লক্ষ বনাম লক্ষ্য : বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন

ব্যাঘ্র শব্দের অর্থ এবং পাণিনির মৃত্যু

যুক্তবর্ণ সরলীকরণ আন্দোলন : হাস্যকর অবতারণা

প্রায়শ ভুল হয় এমন কিছু শব্দের বানান/২

গীতাঞ্জলি

error: Content is protected !!