বানানে বর্গীয়-জ; জ; অন্তস্থ-য, য ব্যবহারের নিয়ম: আ-কার কোথায়, আ-কার নেই

ড. মোহাম্মদ আমীন

 বানানে বর্গীয়-জ; জ; অন্তস্থ-য, য ব্যবহারের নিয়ম: আ-কার কোথায়, আ-কার নেই

আমার আ-কার কোথায়? 
 
‘আ-কার’ নিয়ে বানান-সমস্যা ব্যবহারগত বিবেচনায় জটিল না হলেও ক্ষেত্রবিশেষে ‘আ-কার’ মহা ঝামেলার হয়ে দাঁড়ায়। কিছু বিশেষ্যপদ বিশেষণে পরিণত হওয়ার সময় আ-কার ছেড়ে দেয়। মনে হয় যেন ভুলবশত আ-কার বাদ পড়েছে। অতিপরিচিত ও চেনা শব্দে এরূপ আকস্মিক আ-কার বিলুপ্তির বিষয়টি অনেককে দ্বিধায় ফেলে দেয়। ফলে আ-কারযুক্ত শব্দে এরূপ আ-কারচ্যুতির ঘটনা বানানে ভুলের অবতারণা ঘটায়।
 
যেমন: যথেচ্ছা, চেতনা, প্রতিজ্ঞা প্রভৃতি শব্দ পদপরিবর্তন করলে যথাক্রমে যথেচ্ছ, চেতন, প্রতিজ্ঞ হয়। কিন্তু অনেকে আ-কার বিভ্রান্তিতে পড়ে যান। এরূপ কিছু শব্দের উদাহরণ দেখুন:
আকাঙক্ষা> আকাঙক্ষ, দূরাকাঙ্‌ক্ষা> দরাকাঙ্‌ক্ষ, আশা> আশ, হতাশা> হতাশ, ইচ্ছা> ইচছ, যথেচ্ছা> যথেচ্ছ, কুণ্ঠা> কুণ্ঠ, ব্যয়কুণ্ঠা> ব্যয়কুণ্ঠ, চেতনা> চেতন, পরিবেশচেতনা>পরিবেশচেতন, চেষ্টা> চেষ্ট, সচেষ্টা> সচেষ্ট, দয়া> দয়, সদয়া> সদয়, নিদ্রা> নিদ্র, বিনিদ্রা> বিনিদ্র, প্রতিজ্ঞা> প্রতিজ্ঞ, দৃঢ়প্রতিজ্ঞা> দৃঢ়প্রতিজ্ঞা বাধা> বাধ, অবাধা> অবাধ, বিদ্যা> বিদ্য, কৃতবিদ্যা> কৃতবিদ্য, ভাষা>ভাষ, মিতভাষা>মিতভাষ, রেখা> রেখ, নিম্নরেখা> নিম্নরেখ, লজ্জা> লজ্জ, সলজ্জা> সলজ্জ, লীলা> লীল, সলীলা(ভঙ্গী)> সলীল, শ্রদ্ধা> শ্রদ্ধ, সশ্রদ্ধা> সশ্রদ্ধ, সংখ্যা> সংখ্য, অসংখ্যা>অসংখ্য ইত্যাদি। অনুরূপ: বীতশ্রদ্ধ বীতকাম (কামনাশূন্য), বীতভয় (ভয়মুক্ত), বীতরাগ (নিস্পৃহ), বীতশোক (শোকমুক্ত), বীতস্পৃহ (নিরাকঙ্ক্ষ), বীতহব্য (হোম বা যজ্ঞ ত্যাগ করেছে এমন)।
 
 
 
বানানে বর্গীয়-জ ব্যবহারের নিয়ম 
১. শব্দর শেষে বর্গীয়-জ:  শব্দের শেষে সাধারণত বর্গীয়-জ বসে । যেমন:  অনুজ, আজ, খনিজ, কাগ কাগজ, সমাজ, তেজ, লেজ, লাজ, গজ, নিজ,  সাজ, দেশজ, ভেষজ, জলজ, পঙ্কজ, নামাজ, রোজ, হজ, বরজ, সহজ, মগজ, যমজ।
 
২. ক্রিয়াবাচক শব্দে বর্গীয়-জ:   সাধারণত অধিকাংশ ক্রিয়াবাচক শব্দের বানানের শেষ বর্ণটি বর্গীয়-জ হয় । যেমন ভাজা, ভজা, ভেজা, খোঁজা, গজানো, ভজানো, ভেজানো, বাজানো, সাজানো, মজানো, মাজা প্রভৃতি।
 
৩. বিদেশি শব্দে বর্গীয়-জ:  বিদেশি শব্দে সাধারণত বর্গীয়-জ হয় । যেমন: রমজান, রাজ, জমিদার, শাহজাদা, জ্যাম, জেলি, জংশন, জিনিস, জুলুম, গজল, জাহাজ, মরজি, কলিজা, সেমিজ, কামিজ, জালিম, হজ, জাকাত, জাপান, জর্দান, জাস্টিস, জুকারবার্গ।


 
বানানে অন্তস্থ-য এর ব্যবহার 
১. তৎসম শব্দের বানানে অন্তস্থ-য:  তৎসম শব্দে সাধারণত অন্তস্থ-য হয় । যেমন:  যম, যজ্ঞ, যবন, যথা, যতি, যত্ন, যতেক, যন্ত্রণা, যমুনা, যশ, যষ্টি, যবুথবু, যুক্ত, যাহা, যাতনা।
 
২. য-প্রত্যয় যুক্ত শব্দে অন্তস্থ-য:  ‘য্ ‘ প্রত্যয়যুক্ত শব্দের শেষে ‘য’ হয় । যেমন সূর্য, তূর্য, শৌর্য, কার্য, আর্য, বীর্য, চৌর্য, ভার্যা, গাম্ভীর্য, স্বীকার্য, সাহচর্য, অপরিহার্য, অনিবার্য।
 
৩. বিদেশি শব্দের বানানে অন্তস্থ-য:  বিদেশি শব্দের বানানে ‘Y’-এর প্রতিবর্ণ হিসেবে সাধারণত অন্তস্থ-য  ব্যবহৃত হয় । যেমন Yugoslovia ( যুগোশ্লোভিয়া ) Yogy ( যোগী ) । 

৪.  ব্যতিক্রম:   আরবি ফারসি শব্দের উচ্চারণজনিত কারণে প্রতিধ্বনিকরণের জন্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে  ‘য’ ব্যবহার করা দূষণীয় মনে করা হয় না । যেমন ওযু, নামায, হযরত, রমযান, রোযা আযান । যদিও বর্গীয়-জ ব্যবহার করাই সমীচীন।

ক্লিক করুন এখানে পাবেন অজানা  অনেক মজার বিষয়

দাপ্তরিক প্রমিত বাংলা বানান

error: Content is protected !!