বানান নিয়ে নানান কথা

বানান নিয়ে নানান কথা : এক 🔰
মোহাম্মদ হাদীউজ্জামান

বলতে গেলে ভাষায় দখল থাকা চাই। লিখতে গেলে চাই আরও বেশি। তিনবছরের শিশুও শুদ্ধভাষায় কলকল করে কথা বলতে পারে। কিন্তু ওই কথাগুলো সে লিখে প্রকাশ করতে পারে না। এ জন্য ভাষার লিখিতরূপের সঙ্গে পরিচিত হতে হয়। শিশুদের অস্পষ্ট উচ্চারণ শুনলে আমরা মজা পাই। কিন্তু বড়োদের বলার উচ্চারণ বা লেখার বানানে ভুল হলে ? কানে বাজে। চোখে বাধে। অথচ অনেক দূর পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা করার পর, এমনকি নিয়মিত লেখালেখি করা সত্ত্বেও, সাধারণ শব্দের বানানেও ভুল থেকে যায়। এটা কাম্য নয়। আবার, আমাকে যদি অনেকের সামনে বোর্ডে লিখতে হয়, আর তাতেও যদি ভুল থাকে…!
অবশ্য, আজ থেকে কয়েকবছর আগে যেসব বানানের মান্যতা ছিল, যেগুলো আমার জানা আছে, সেগুলোর বেশ কিছু তো এখন বদলে গেছে। শুধু বাংলায় নয়, পৃথিবীর প্রায় সব প্রাণবন্ত ভাষার ক্ষেত্রে কমবেশি এমনটা হচ্ছে। সুতরাং আমি যে ভাষায় লিখব, সেই ভাষার বানানের বিষয়েও আমাকে সচেতন থাকতে হবে, যাতে আমার লেখা অন্তত বানানভুলমুক্ত হতে পারে।
আরেকটি কথা, অনেকে এখন কলম দিয়ে লেখেন না, কি-প্যাড বা কি-বোর্ডে ‘লেখেন’। এসব যন্ত্র ব্যবহারে সড়গড় না হওয়ার কারণে, সঠিক বানান জানা সত্ত্বেও, ভুল হয়ে থাকে। তাই এদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। হাতের কাছে (টেবিলে/সেলফোনে/পিসিতে) মজুত রাখতে হবে আধুনিক বানানের প্রামাণ্য অভিধান। কোনও শব্দের বানানে সামান্য খটকা লাগলেই দেখে নিতে হবে ঝট করে। তাড়াহুড়ো করে লেখা হতে পারে, পরে ধীরেসুস্থে দেখে নিতে হবে, কোনও শব্দের বানানে ভুল থেকে গেল কি না।
‘বানান নিয়ে নানান কথা’র প্রথম পর্বে প্রধানত কয়েকটি ‘প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম’ তুলে ধরা হলো ‘বাংলা একাডেমি’ (বাংলাদেশ)- এর সৌজন্যে।

📚 ১. তৎসম শব্দ 📚
—————-

১ : ১  তৎসম শব্দের বানান বদলায় না 
এই নিয়মে বর্ণিত ব্যতিক্রম ছাড়া তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের নির্দিষ্ট বানান অপরিবর্তিত থাকবে।

১ : ২  ই, ঈ না উ, ঊ 
যেসব তৎসম শব্দে ই ঈ বা উ ঊ দুটোই শুদ্ধ কেবল সেসব শব্দে ই বা উ এবং তার কারচিহ্ন ি ু হবে। যেমন :
কী হবে কী হবে না
——— ———-
কিংবদন্তি কিংবদন্তী
খঞ্জনি খঞ্জনী
চিৎকার চীৎকার
চুল্লি চুল্লী
তরণি তরণী
ধমনি ধমনী
ধরণি ধরণী
নাড়ি নাড়ী
পঞ্জি পঞ্জী
পদবি পদবী
পল্লি পল্লী
ভঙ্গি ভঙ্গী
মঞ্জরি মঞ্জরী
মসি মসী
রচনাবলি রচনাবলী
লহরি লহরী
সরণি সরণী
শ্রেণি শ্রেণী
সূচিপত্র সূচীপত্র
#
উর্ণা ঊর্ণা
উষা ঊষা

১ : ৩  রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হয় না 
রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না। যেমন :
কী হবে কী হবে না
——– ———-
অর্জন অর্জ্জন
ঊর্ধ্ব ঊর্দ্ধ্ব
কর্ম কর্ম্ম
কার্তিক কার্ত্তিক
কার্য কার্য্য
বার্ধক্য বার্দ্ধক্য
মূর্ছা মূর্চ্ছা
সূর্য সূর্য্য

১ : ৪  অনুস্বারের ব্যবহার 
সন্ধির ক্ষেত্রে ক খ গ ঘ পরে থাকলে আগের পদের শেষে থাকা ম্-এর জায়গায় অনুস্বার ং হবে। যেমন : অহম্ + কার = অহংকার। এভাবে হবে ভয়ংকর, সংগীত, শুভংকর, হৃদয়ংগম, সংঘটন ইত্যাদি।
সন্ধি না হলে ঙ-র জায়গায় ঙ হবে, ং হবে না। যেমন :
কী হবে কী হবে না
——– ———-
অঙ্ক অংক
অঙ্গ অংগ
আকাঙ্ক্ষা আকাংক্ষা
আতঙ্ক আতংক
কঙ্কাল কংকাল
গঙ্গা গংগা
বঙ্কিম বংকিম
বঙ্গ বংগ
লঙ্ঘন লংঘন
শঙ্কা শংকা
শৃঙ্খলা শৃংখলা
সঙ্গে সংগে
সঙ্গী সংগী

১ : ৫  ইন্‌-প্রত্যয়ান্ত শব্দের কারচিহ্ন বদলে যায় 
সংস্কৃত ইন্-প্রত্যয়ান্ত শব্দের দীর্ঘ ঈ-কারান্ত রূপ সমাসবদ্ধ হলে সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী সেগুলিতে হ্রস্ব ই-কার হয়। যেমন :
গুণী ==> গুণিজন
প্রাণী ==> প্রাণিবিদ্যা
মন্ত্রী ==> মন্ত্রিপরিষদ

👉 অবশ্য এগুলির সমাসবদ্ধ রূপে দীর্ঘ ঈ-কারও ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন :
গুণী ==> গুণীজন
প্রাণী ==> প্রাণীবিদ্যা
মন্ত্রী ==> মন্ত্রীপরিষদ

👉 ইন্-প্রত্যয়ান্ত শব্দের সঙ্গে -ত্ব বা -তা যুক্ত হলে ঈ-কারটি ই-কারে বদলে যাবে। যেমন :
কৃতী ==> কৃতিত্ব
দায়ী ==> দায়িত্ব
মন্ত্রী ==> মন্ত্রিত্ব
উপযোগী ==> উপযোগিতা
প্রতিযোগী ==> প্রতিযোগিতা
সহযোগী ==> সহযোগিতা

১ : ৬  বিসর্গ 
শব্দের শেষে বিসর্গ (ঃ) হবে না। যেমন :
কী হবে কী হবে না
——– ———-
ইতস্তত ইতস্ততঃ
কার্যত কার্যতঃ
ক্রমশ ক্রমশঃ
দৃশ্যত দৃশ্যতঃ
পুনঃপুন পুনঃপুনঃ
প্রথমত প্রথমতঃ
প্রধানত প্রধানতঃ
প্রয়াত প্রয়াতঃ
প্রায়শ প্রায়শঃ
ফলত ফলতঃ
বস্তুত বস্তুতঃ
বাহ্যত বাহ্যতঃ
মূলত মূলতঃ

👉 এছাড়া নিচের শব্দগুলির ক্ষেত্রে শব্দমধ্যস্থ বিসর্গ-বর্জিত বানান গৃহীত হবে। যেমন : দুস্থ, নিস্তব্ধ, নিস্পৃহ, নিশ্বাস।

📚 ২. অতৎসম শব্দ 📚
——————

২ : ১  ই, ঈ, উ, ঊ 
সকল অতৎসম অর্থাৎ তদ্ভব, দেশি, বিদেশি, মিশ্র শব্দে কেবল ই এবং উ এবং এদের -কার চিহ্ন ি ু ব্যবহৃত হবে৷ যেমন : আরবি, আসামি, ইংরেজি, ইরানি, উনিশ, ওকালতি, কাহিনি, কুমির, কেরামতি, খুশি, খেয়ালি, গাড়ি, গোয়ালিনি, চাচি, জমিদারি, জাপানি, জার্মানি, টুপি, তরকারি, দাড়ি, দাদি, দাবি, দিঘি, নানি, নিচু, পশমি, পাখি, পাগলামি, পাগলি, পিসি, ফরাসি, ফরিয়াদি, ফারসি, ফিরিঙ্গি, বর্ণালি, বাঁশি, বাঙালি, বাড়ি, বিবি, বুড়ি, বেআইনি, বেশি, বোমাবাজি, ভারি (অত্যন্ত অর্থে), মামি, মালি, মাসি, মাস্টারি, রানি, রুপালি, রেশমি, শাড়ি, সরকারি, সিন্ধি, সোনালি, হাতি, হিজরি, হিন্দি, হেঁয়ালি।

চুন, পুজো, পুব, মুলা, মুলো।

👉 পদাশ্রিত নির্দেশক টি-তে ই-কার হবে৷ যেমন: ছেলেটি, লোকটি, বইটি৷

🖋কোথায় #কি আর কোথায় #কী 🖋

👉 যেসব প্রশ্নবোধক বাক্যের উত্তর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ হবে, সেইসব বাক্যে হ্রস্ব ই-কার দিয়ে ‘কি’ লেখা হবে। যেমন: তুমি কি যাবে? সে কি এসেছিল? তোমার নাম কি আহসান?

👉 যেসব প্রশ্নের উত্তর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ দিয়ে বলা সম্ভব নয় সেসব জায়গায় ‘কী’ হবে। অর্থাৎ সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া-বিশেষণ ও যোজক পদরূপে কী শব্দটি ঈ-কারে লেখা হবে। যেমন: এটা কী বই? আহা, কী আনন্দ! কী আর বলব? কী করছ? কী করে যাব? কী খেলে? কী জানি? কী দুরাশা! তাতে তোমার কী! কী বুদ্ধি নিয়ে এসেছিলে! কী পড়ো? কী যে করি! কী বাংলা কী ইংরেজি উভয় ভাষাতেই তিনি পারদর্শী। তোমার নাম কী?

👉 কীভাবে, কীরকম, কীরূপে প্রভৃতি শব্দেও ঈ-কার হবে।

২ : ২  এ, অ্যা 
বাংলায় এ বর্ণ বা ে-কার দিয়ে এ এবং অ্যা এই উভয় ধ্বনি নির্দেশিত হয়৷ যেমন: কেন, কেনো (ক্রয় করো); খেলা, খেলি; গেল, গেলে, গেছে; দেখা, দেখি; জেনো, যেন।

তবে কিছু তদ্ভব এবং বিশেষভাবে দেশি শব্দ রয়েছে যেগুলির ্যা-কার (য-ফলা + আ-কার) যুক্ত রূপ বহুল পরিচিত৷ যেমন: ব্যাং, ল্যাঠা৷ এসব শব্দে ্যা (য-ফলা + আ-কার) অপরিবর্তিত থাকবে৷

বিদেশি শব্দে ক্ষেত্র-অনুযায়ী অ্যা বা ্যা-কার (য-ফলা + আ-কার) ব্যবহৃত হবে। যেমন: অ্যাকাউন্ট, অ্যান্ড (and), অ্যাসিড, ক্যাসেট, ব্যাংক, ভ্যাট, ম্যানেজার, হ্যাট।

২ : ৩  ও-কার ো 
বাংলা অ-ধ্বনির উচ্চারণ বহু ক্ষেত্রে ও-র মতো হয়। শব্দশেষের এসব অ-ধ্বনি ও-কার দিয়ে লেখা যেতে পারে। যেমন: কালো, খাটো, ছোটো, ভালো;

এগারো, বারো, তেরো, পনেরো, ষোলো, সতেরো, আঠারো;

করানো, খাওয়ানো, চড়ানো, চরানো, চালানো, দেখানো, নামানো, পাঠানো, বসানো, শেখানো, শোনানো, হাসানো;

কুড়ানো, নিকানো, বাঁকানো, বাঁধানো, ঘোরালো, জোরালো, ধারালো, প্যাঁচানো;

করো, চড়ো, জেনো, ধরো, পড়ো, বলো, বসো, শেখো, করাতো, কেনো, দেবো, হতো, হবো, হলো;

কোনো, মতো।

ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞায় শব্দের আদিতেও ও-কার লেখা যেতে পারে। যেমন: কোরো, বোলো, বোসো।

২ : ৪  ং, ঙ 
শব্দের শেষে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে সাধারণভাবে অনুস্বার (ং) ব্যবহৃত হবে। যেমন: গাং, ঢং, পালং, রং, রাং, সং।

👉 তবে অনুস্বারের সঙ্গে স্বর যুক্ত হলে ঙ হবে। যেমন: বাঙালি, ভাঙা, রঙিন, রঙের

👉 বাংলা ও বাংলাদেশ শব্দে অনুস্বার থাকবে।

২ : ৫  ক্ষ, খ 
অতৎসম শব্দ খিদে, খুদ, খুর (গবাদি পশুর পায়ের শেষ প্রান্ত), খেত, খ্যাপা ইত্যাদি লেখা হবে।

২ : ৬  জ, য 
বাংলায় প্রচলিত বিদেশি শব্দ সাধারণভাবে বাংলা ভাষার ধ্বনিপদ্ধতি-অনুযায়ী লিখতে হবে। যেমন: কাগজ, জাদু, জাহাজ, জুলুম, জেব্রা, বাজার, হাজার।

👉 ইসলাম ধর্ম-সংক্রান্ত কয়েকটি শব্দে বিকল্পে ‘য’ লেখা যেতে পারে। যেমন: আযান, উযু/ওযু, কাযা, নামায, মুয়ায্‌যিন, যোহর, রমযান, হযরত ইত্যাদি।

২ : ৭  মূর্ধন্য ণ, দন্ত্য ন 
অতৎসম শব্দের বানানে ণ ব্যবহার করা যাবে না। যেমন: অঘ্রান, ইরান, কান, কোরান, গভর্নর, গুনতি, গোনা, ঝরনা, ধরন, পরান, রানি, সোনা, হর্ন।

👉 তৎসম শব্দে ট ঠ ড ঢ-য়ের পূর্বে যুক্ত নাসিক্যবর্ণ ণ হয়। যেমন: কণ্টক, প্রচণ্ড, লুণ্ঠন।

👉 কিন্তু অতৎসম শব্দের ক্ষেত্রে ট ঠ ড ঢ-য়ের আগে কেবল ন হবে। যেমন: গুন্ডা, ঝান্ডা, ঠান্ডা, ডান্ডা, লন্ঠন।

২ : ৮  শ, ষ, স 
বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে ‘ষ’ ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। যেমন: কিশমিশ, নাশতা, পোশাক, বেহেশ্‌ত, শখ, শয়তান, শরবত, শরম, শহর, শামিয়ানা, শার্ট, শৌখিন;

আপস, জিনিস, মসলা, সন, সাদা, সাল (বৎসর), স্মার্ট, হিসাব;

স্টল, স্টাইল, স্টিমার, স্ট্রিট, স্টুডিয়ো, স্টেশন, স্টোর;

ইসলাম, তসলিম, মুসলমান, মুসলিম, সালাত, সালাম;

ইশা/এশা, শাওয়াল (হিজরি মাস বিশেষ), শাবান (হিজরি মাস বিশেষ)।

👉 ইংরেজি ও ইংরেজির মাধ্যমে আগত বিদেশি s ও ss ধ্বনির জন্য স এবং -sh, -sion, -ssion, -tion প্রভৃতি বর্ণগুচ্ছ বা ধ্বনির জন্য শ ব্যবহৃত হবে। যেমন: বাস (-s); পাসপোর্ট (-ss); ক্যাশ (-sh); টেলিভিশন (-sion); মিশন, সেশন (-ssion); রেশন, স্টেশন (-tion)।

👉 যেখানে বাংলায় বিদেশি শব্দের বানান পরিবর্তিত হয়ে স ছ এর রূপ ধারণ করেছে সেখানে ছ-এর ব্যবহার থাকবে। যেমন: তছনছ, পছন্দ, মিছরি, মিছিল।

২ : ৯  বিদেশি শব্দ ও যুক্তবর্ণ 
বাংলায় বিদেশি শব্দের আদিতে বর্ণবিশ্লেষ সম্ভব নয়। এগুলো যুক্তবর্ণ দিয়ে লিখতে হবে। যেমন: স্টেশন, স্ট্রিট, স্প্রিং।

👉 তবে অন্য ক্ষেত্রে বিশ্লেষ করা যায়। যেমন: মার্কস, শেকসপিয়র, ইসরাফিল।

২ : ১০  হস-চিহ্ন ্ 
হস-চিহ্ন যথাসম্ভব বর্জন করতে হবে। যেমন: কলকল, করলেন, কাত, চট, চেক, জজ, ঝরঝর, টক, টন, টাক, ডিশ, তছনছ, ফটফট, বললেন, শখ, হুক।

👉 তবে যদি অর্থবিভ্রান্তি বা ভুল উচ্চারণের আশঙ্কা থাকে তাহলে হস-চিহ্ন ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন: উহ্‌, বাহ্‌, যাহ্‌।

২ : ১১  ঊর্ধ্ব-কমা 
ঊর্ধ্ব-কমা যথাসম্ভব বর্জন করতে হবে৷ যেমন:
কী হবে কী হবে না
——– ———-
বলে ব’লে (বলিয়া)
হয়ে হ’য়ে (হইয়া)
দুজন দু’জন (দুইজন)
চাল চা’ল (চাউল)
আল আ’ল (আইল)

📚 ৩. বিবিধ 📚
————

৩ : ১  সমাসবদ্ধ পদ 
সমাসবদ্ধ পদগুলি যথাসম্ভব একসঙ্গে লিখতে হবে। যেমন: অদৃষ্টপূর্ব, অনাস্বাদিতপূর্ব, নেশাগ্রস্ত, পিতাপুত্র, পূর্বপরিচিত, বিষাদমণ্ডিত, মঙ্গলবার, রবিবার, লক্ষ্যভ্রষ্ট, সংবাদপত্র, সংযতবাক, সমস্যাপূর্ণ, স্বভাবগতভাবে।

👉 বিশেষ প্রয়োজনে সমাসবদ্ধ শব্দটিকে এক বা একাধিক হাইফেন (-) দিয়ে যুক্ত করা যায়৷ যেমন: কিছু-না-কিছু, জল-স্থল-আকাশ, বাপ-বেটা, বেটা-বেটি, মা-ছেলে, মা-মেয়ে।

৩ : ২  বিশেষণ পদ 
বিশেষণ পদ সাধারণভাবে পরবর্তী পদের সঙ্গে যুক্ত হবে না। যেমন:
ভালো দিন, লাল গোলাপ, সুগন্ধি ফুল, সুনীল আকাশ, সুন্দরী মেয়ে, স্তব্ধ মধ্যাহ্ন।

৩ : ৩  না-বাচক শব্দ 
না-বাচক ‘না’ এবং ‘নি’-র প্রথমটি (না) স্বতন্ত্র পদ হিসেবে এবং দ্বিতীয়টি (নি) সমাসবদ্ধ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। যেমন: করি না, করিনি।

👉 এছাড়া শব্দের পূর্বে না-বাচক উপসর্গ ‘না’ উত্তরপদের সঙ্গে যুক্ত ধাকবে। যেমন: নাবালাক, নারাজ, নাহক।

👉 অর্থ পরিস্ফুট করার জন্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুভূত হলে না-এর পর হাইফেন ব্যবহার করা যায়। যেমন: না-গোনা পাখি, না-বলা বাণী, না-শোনা কথা।

৩ : ৪  অধিকন্তু অর্থে ‘ও’ 
অধিকন্তু অর্থে ব্যবহৃত ‘ও’ প্রত্যয় শব্দের সঙ্গে কার-চিহ্ন রূপে যুক্ত না হয়ে পূর্ণরূপে শব্দের পরে যুক্ত হবে। যেমন:
কী হবে কী হবে না
——– ———-
আজও আজো
আমারও আমারো
তারও তারো
তোমারও তোমারো

৩ : ৫  নিশ্চয়ার্থক ‘ই’ 
নিশ্চয়ার্থক ‘ই’ শব্দের সঙ্গে কার-চিহ্ন রূপে যুক্ত না হয়ে পূর্ণরূপে শব্দের পরে যুক্ত হবে। যেমন:
কী হবে কী হবে না
——– ———-
আজই আজি
এখনই এখনি
এমনই তেমনি
তেমনই তেমনি

📚 ৪ নামবাচক শব্দ 📚
——————–
ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার নাম এই নিয়মের আওতাভুক্ত নয়। মানে, যা আছে তাই থাকবে।

🌿🌿🌿

📖 ক্রিয়াপদে ‘ই’ ও ‘য়’-র ব্যবহার 📖
————————————–
ক্রিয়াপদে ‘ই’ ও ‘য়’-র ব্যবহার নিয়ে বেশ কিছু বিভ্রান্তি চোখে পড়ে। এখানে কয়েকটি শুদ্ধ ও অশুদ্ধ প্রয়োগ দেখানো হলো :

শুদ্ধ  অশুদ্ধ
——– ———
আমি খাই আমি খায়
আমি চাই আমি চায়
আমি পাই আমি পায়
আমি যাই আমি যায়
আমি হই আমি হয়
সে খায় সে খাই
সে চায় সে চাই
সে পায় সে পাই
সে যায় সে যাই
সে হয় সে হই

🌿🌿🌿

(‘লেখালেখির কলাকৌশল’ বইটি লেখার কাজ চলছে। তার থেকে কিছু কিছু অংশ এখানে মাঝে মাঝে পেশ করা হচ্ছে। আজ একটু বেশি হয়ে গেল। এ পর্যন্ত পড়ে থাকলে, জাযাকাল্লাহু খায়র। ভালো থাকুন। আরও ভালো করে লিখুন। এই কামনায় – ক্ষমা ও দোয়াপ্রার্থী – মোহাম্মদ হাদীউজ্জামান)

সূত্র: শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ)।


শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/১

দৈনন্দিন বিজ্ঞান লিংক

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/২

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৩

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৪

কীভাবে হলো দেশের নাম

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/১

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/২

শুদ্ধ বানান চর্চা প্রমিত বাংলা বানান বিধি : বানান শেখার বই

বাংলা ভাষার মজা, ড. মোহাম্মদ আমীন, পাঞ্জেরী পাবিলিকেশন্স লি.।

error: Content is protected !!