বামপন্থি বনাম ডানপন্থি

ড. মোহাম্মদ আমীন
 

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, সংস্কৃত বাম ‍ও হিন্দি শব্দ নিয়ে বামপন্থি শব্দ গঠিত। বাক্যে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত বামপন্থি শব্দের অর্থ প্রগতিবাদী মতাদর্শের অনুসারী; ‘সমাজতান্ত্রিক

পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.

আদর্শের অনুসারী’।  অভিধানে শব্দ হিসেবে দক্ষিণপন্থা রয়েছে। অথচ, রক্তমাংস কিংবা বাস্তবে ‘বামপন্থি’ আছে  ‘বামপন্থা’ নেই। যদিও ব্যাকরণের নিয়মানুসারে যারা বামপন্থা অনুসরণ করেন তাদের ‘বামপন্থী’ বলার কথা।

একই ঘটনা দেখা যায় ‘দক্ষিণপন্থী’ শব্দে। ‘দক্ষিণপন্থী’ আছে কিন্তু ‘দক্ষিণপন্থা’ নেই। তাহলে ‘-পন্থা’ ছাড়া ‘-পন্থী’ হলে কীভাবে? প্রকৃতপক্ষে বাংলা শব্দ ভাণ্ডার কিংবা বাংলা ব্যাকরণ মেনে ‘বামপন্থী’ শব্দটির উদ্ভব হয়নি। ইংরেজি leftist শব্দের বাংলা অনুবাদ হতে বামপন্থী শব্দের উৎপত্তি। এবার দেখা যাক leftist কী।

ইউরোপের প্রাচীন সামাজিক প্রথা অনুযায়ী আমন্ত্রিত অতিথিগণের মধ্যে যারা অতি সম্মানিত তারা খাওয়ার টেবিলে কিংবা বৈঠক খানায় গৃহকর্তার ডান দিকে বসতেন। অভিজাত পরিবারের যে-কোনো আপ্যায়নে এ প্রথা কঠোরভাবে মেনে চলা হতো। এই সামাজিক প্রথাটি ক্রমান্বয়ে ইউরোপের অধিকাংশ দেশের পার্লামেন্টে সদস্যদের আসন বিন্যাসে স্থান করে নেয়।

অভিজাতগণ সাধারণত রক্ষণীশল দলের প্রতিনিধিত্ব করতেন। তাই রক্ষণশীল দল যে দিকে বসতেন তার বাম দিকে বসতেন প্রগতিশীল (র‌্যাডিক্যাল) দল। মাঝখানে বসতেন মডারেট দল। রক্ষণশীল অভিজাতগণের ‘বাম দিকে’ বসার কারণে কালক্রমে প্রগতিশীল দলের সদস্যদের leftist বা বামপন্থী

ড. মোহাম্মদ আমীন

নামে পরিচিতি পেয়ে যায়। অন্যদিকে, তাদের উলটো দিকে আসনগ্রহণকারী সদস্যগণ হয়ে যান ‘দক্ষিণপন্থী’।

ইউরোপে দীর্ঘকাল ধরে প্রগতিশীল রাজনীতিক দলগুলোকে বামপন্থি দল নামে অভিহিত করা হতো। সময়ের বিবর্তনে রাজনীতিক অঙ্গনে যখন সমাজতান্ত্রিক আদর্শ এবং আন্দোলন প্রবেশ করে তখন ‘বামপন্থি’ অভিধা পরিবর্তিত হয়ে প্রগতিশীল দলের প্রতিরূপ হিসেবে ‘সমাজতান্ত্রিক আদর্শের অনুসারীগণ’ leftist নামে পরিচিতি পায়।

একইভাবে বাংলা ভাষাতেও সমাজতান্ত্রিক আদর্শের অনুসারী ব্যক্তি বা রাজনীতিক দল ‘বামপন্থি’ হয়ে যায়। এর দ্বারা ক্ষমতাসীন দলের বিপক্ষ দলকেও বোঝায়।

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুযায়ী, এখন বামপন্থি ও ডানপন্থি বানান প্রমিত। ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের আগে  বামপন্থী ও ডানপন্থী বানানই ছিল প্রমিত। কখন কোনট প্রমিত করে, কীভাবে কাকে কখন শুদ্ধ আবার আবার কাকে অশুদ্ধ ঘোষণা করে তা আমাদের মতো সাধারণ বাংলাভাষীদের বোধে আসে না।

সূত্র : বাংলা ভাষার মজা, ড. মোহাম্মদ আমীন, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.।


সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

বিবিধ এবং হযবরল : জ্ঞান কোষ

সেবা কিন্তু পরিষেবা কেন

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন/১

কি না  বনাম কিনা এবং না কি বনাম নাকি

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/১

দৈনন্দিন বিজ্ঞান লিংক

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/২

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৩

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৪

কীভাবে হলো দেশের নাম

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/১

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/২

এককথায় প্রকাশ

শব্দের বানানে অভিধানের ভূমিকা

error: Content is protected !!