বাসর: বাসররাত, বাসরঘর, বাসরশয্যা, বাসরজাগানি

ড. মোহাম্মদ আমীন
 
 
অভিধানে বাসর শব্দের দুটি পৃথক ভুক্তি। একটি তদ্ভব বা খাঁটি বাংলা বাসর এবং অন্যটি সংস্কৃত বা তৎসম বাসর। সংস্কৃত বাসগৃহ থেকে উদ্ভূত খাঁটি বাংলা বাসর অর্থ— (বিশেষ্যে) বরকনের বিবাহরাত যাপন; বরকনের ফুলশয্যার কক্ষ।
 
বাসরে যেমন বরকনে সেঁটে থাকে, তেমনি বাসর শব্দের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শব্দও সেঁটে বসবে। যেমন: বাসরঘর, বাসরশয্যা, বাসরজাগানিয়া, বাসরকথা, বাসরযাপন, বাসরফুল, বাসরমিলন ইত্যাদি।
 
বাসর-এর সমার্থক শব্দ— বাসরঘর বা বরকনের ফুলশয্যার কক্ষ। বাসরশয্যা হলো— বরকনের শয়নের জন্য সজ্জিত বিছানা, ফুলশয্যা। বাসররাতে জেগে থাকার জন্য বরের কাছ থেকে ছোটোদের আদায় করা অর্থকে বলা হয় বাসরজাগানি। 
 
বাসর শব্দের মধ্যে রাত শব্দটির উল্লেখ রয়েছে। তাই বরকনের বিবাহরাত যাপন অর্থে বাসররাত কথাটি বাহুল্য দোষে দুষ্ট। তবে এই অর্থে বাসররাত কথাটি বহুল প্রচলিত। বাসররাত বা বাসর রাথ কথাটি এত বহুল প্রচলিত যে,  বরকনের বিবাহরাত যাপন অর্থে শুধু বাসর কথাটি লিখলে কেমন জানি ফাঁকা ফাঁকা লাগে। মনে হয় বর বা কনের কেউ একজন জানি উধাও। ভুল বলতে বলতে এখন শুদ্ধটা আপাঙ্‌ক্তেয় হয়ে গেছে।
 
বাসর শব্দে রাত কথাটি অনাবশ্যক ও বাহুল্যদুষ্ট হওয়া সত্ত্বেও অতিরিক্ত একটি রাত টেনে এনে বাসরকে বাসররাত করার কারণেই হয়তো পরবর্তী জাম্পত্যজীবন রাতে রাতে দুঃসহ হয়ে যায়। তাই নজরুল বাসররাত রচেননি। তিনি বাসর করার জন্য তাঁর প্রিয়াকে আহ্বান জানিয়েছেন —
 
“আমার গানের সাত-সুর দিয়া তোমার বাসর রচিব প্রিয়া
তোমাকে ঘেরিয়া গাহিবে আমার কবিতার বুলবুল—
দেব খোপায় তারার ফুল।”
 
 
তৎসম বাসর: সংস্কৃত (বাসি+অর) অর্থ— দিন, বার। যেমন: রবিবাসর, রবিবাসরীয়, শনিবাসর, দুঃসহবাসর ফুরায় নাগো আর। তবে  দিন বা বার অর্থে বাসর শব্দের স্বাধীন ব্যবহার বিরল। এটি সর্বদা সংশ্লিষ্ট শব্দের সঙ্গে সেঁটে বসে। 
 
এখন বাসর বলতে দিন বার মনে আসে না। কেবল ‘বরকনের বিবাহরাত যাপন’ কথাটিই মনে হয়।
“প্রিয়ার আদর ফুলেল বাসর
অধর-নধর চুয়ে পড়া
হাজার হাজার চুমো কদর”
দ্বিরুক্ত শব্দ: নিরেট আর ফাঁকা
 
যখন কোনো শব্দের অর্থকে সম্প্রসারিত করার জন্য ওই  শব্দটি অবিকৃতভাবে বা সামান্য বিকৃত করে পর পর দুবার ব্যবহার করা হয়, তখন তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে।  দ্বিরুক্ত শব্দে  দ্বিতীয় বার লেখা শব্দটি যদি মূল শব্দ ভিন্ন বা  কিছুটাও বিকৃত হয়ে যায়, তবে তা সেঁটে বা নিরেটভাবে লিখতে হবে। যেমন: মাঝেমধ্যে, তাড়াতাড়ি, আগেভাগে, মাঝামাঝি, ছোটাছুটি, লেখালিখি ইত্যাদি।
 
যদি দ্বিতীয় বারও মূল শব্দটি সম্পূর্ণ অবিকৃত থাকে, তাহলে শব্দ দুটির মাঝে ফাঁকা রাখতে হবে। যেমন: মাঝে মাঝে, ঘন ঘন, মধ্যে মধ্যে, দিন দিন, বাড়ি বাড়ি, সকাল সকাল, বড়ো বড়ো, রাশি রাশি ইত্যাদি।
 
তবে,  অবিকৃত শব্দগুলো মাঝখানে ফাঁকা রেখে লেখার ক্ষেত্রে আরেকটি বাড়তি শর্ত খেয়াল রাখতে হবে এবং সেটি হলো— শব্দগুলোকে আলাদাভাবেও প্রাসঙ্গিক অর্থবহ হতে হবে। আলাদাভাবে অর্থবহ না-হলে সেঁটে লিখতে হবে। যেমন: মড়মড়, পতপত, ডগডগ, গজগজ ইত্যাদি। এই শব্দগুলোর ক্ষেত্রে ‘মড়’, ‘পত’, ‘ডগ’, ‘গজ’ ইত্যাদি আলাদাভাবে কোনো  অর্থ বহন করে না। তাই অবিকল দুটি অবিকল হওয়া সত্ত্বেও সেঁটে লেখা হয়েছে।  

তেহারি নেহারি

তেহারি বাংলা শব্দ। আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, বাংলা তেহারি অর্থ— (বিশেষ্যে) সরিষার তেল ও কুচি করে কাটা মাংস সহযোগে রাঁধা হালকা পলান্ন। অনেকে বলেন, তে মানে তিন এবং তেহারি মানে তিন আহারের সমাহার। এই তিন আহার হলো— চাল, সরিষার তেল ও মাংস। এ তিন দিয়ে রান্না করা পলান্নই হলো তেহারি।
তেহারি পোলাওর চেয়ে তুলনামূলকভাবে কম দামে বিক্রি হয়। তাই অনেকে তেহারিকে গরিবের পোলাও বলে।
প্রসঙ্গত, তৎসম পলান্ন (পল+অন্ন) অর্থ (বিশেষ্যে) মাংস প্রভৃতি সহযোগে ঘি দিয়ে পাক করা অন্ন, পোলাও।
নেহারি: নেহারি হিন্দি উৎসের বাংলা শব্দ। গোরু বা ছাগলের হাঁটু থেকে পায়ের নিচের অংশের হাড় সেদ্ধ করে রাঁধা ক্বাথ; ইংরেজিতে soup
 
 
 
 
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমি শুবাচ থেকে বলছি
— — — — — — — — — — — — — — — — —
প্রতিদিন খসড়া
আমাদের টেপাভুল: অনবধানতায়
— — — — — — — — — — — — — — — — —
Spelling and Pronunciation
HTTPS://DRAMINBD.COM/ENGLISH-PRONUNCIATION-AND-SPELLING-RULES-ইংরেজি-উচ্চারণ-ও-বান/
 
 



error: Content is protected !!