বাসি: হাতে গোনা বলতে কয়টি: ভারি ও ভারী, শ্রাগ করা: ছৈয়ালের ভাঙা ঘর, বৈদ্যের নিত্য জ্বর

ড. মোহাম্মদ আমীন

বাসি: হাতে গোনা বলতে কয়টি: ভারি ও ভারী, শ্রাগ করা: ছৈয়ালের ভাঙা ঘর, বৈদ্যের নিত্য জ্বর

বাসি মানে কী?

সোনা: তুমি কি আমাকে ভালোবাস?

ময়না: খুব বাসি।
সোনার প্রশ্নে ময়নার উত্তর কি যথাযথ হয়েছে? সোনা খুশি হতে পারেনি- ভালোবাসার কথায় ময়না এত হিসেবি কেন? ভালোবাসা কি পরীক্ষার সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর? এমসিকিউ বা নৈর্ব্যক্তিক! সোনা যাই ভাবুক, রবীন্দ্রনাথ ভেবেছেন অন্য রকম:
“ভালো যদি বাস, সখী, কী দিব গো আর—.
কবির হৃদয় এই দিব উপহার ।।”
বাস আর বাসি কি অভিন্ন?
John Donne-ও বলেছেন, “For God’s sake hold your tongue, and let me love.” কথা বেশি বললে ভালোবাসা হবে কীভাবে? সোনা এটি বুঝে না কেন? সোনা, তুমি করো চুপ; আমি বাসব ভালো খুব।
বাসি মানে কী?
পচা নয় তো! বাসি তরকারি খাব না মা।
পচা বানানে আবার চন্দ্রবিন্দু দিয়ে বসবেন না। চন্দ্র পচা জায়গায় থাকে না। তাঁর একটা মর্যাদা আছে। চন্দ্র থাকে পাঁচে, বাঁশে আর আঁশে। কাচেও থাকে না সে; ভেঙে যাবে বলে, থাকে জলেভাসা হাঁসে। হাঁটা আর হাঁটুতে, ঝগড়ার ঝাঁটিতে, শ্রীকৃষ্ণের বাঁশিতে। মাস্টার দা-র ফাঁসিতে।মায়ের আঁচলে আর জিবে-জল তেঁতুলে। তবে পচার পুঁজে সে থাকে।
 

হাতে গোনা বলতে কয়টি

হাতে গোনা বলতে ঠিক কয়টি বা কত সংখ্যক বোঝায় তার কোনো নির্দিষ্টতা  নেই। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি আনুমানিক ছোটো সংখ্যা। তবে  গাণিতিক ও বৈয়াকরণদের মতে— সংখ্যাটি খুব কমও নয় আবার বেশিও নয়। সাধারণভাবে বলা যায়—  যা হাতের মাধ্যমে সহজে গণনা করে বলে দেওয়া যায় সেটিই হাতে গোনা। ব্যক্তিবিশেষের বুদ্ধিমত্তা অনুযায়ী এটি কমবেশি হতে পারে। কারো কারো মতে— যা কোনোরূপ খাতপত্র, জটিল হিসাব, কষাকষি কিংবা গণনাযন্ত্র ছাড়া হাতে হাতে সহজে নির্ণয় বা অনুমান করা যায় তাকে বলা হয় হাতে গোনা।  গাণিতিকদের মতে, এটি দশটির কম নয় এবং সাধারণ বুদ্ধিমত্তা বিবেচনায় চল্লিশের ১০ গুণ বা ৪০০-এর বেশি ধরা হয় না। কারণে দুই হাতে আঙুল হচ্ছে ১০টি ।  প্রতি আঙুলের সাংখ্যিক বিভাজন ধরা হয় চারটি। সে হিসেবে ১০টি আঙুলে মোট বিভাজন ৪০টি। ৪০ সংখ্যাকে আবার দশটি আঙুলের কারণে ১০ দিয়ে গুণ করলে হয় ৪০০। গবেষণায় দেখা গেছে হাতের আঙ্গুল দ্বারা ৪০০ পর্যন্ত  নানা হিসেব সহজ উপায়ে গণনা, বিশ্লেষণ এবং পরিবিশ্লেষণ করা যায়।

ভারি ভারী

ভারি বাংলা শব্দ। বিশেষেণ অর্থ— খুব (ভারি কষ্টে আছি), অতি (ভারি চালাক), অত্যন্ত (ভারি বুদ্ধিমান), অতিশয় (ভারি শীত পড়ছে), দারুণ (ভারি মিষ্টি মেয়ে), অত্যধিক (ভারি দুষ্ট)। তুচ্ছার্থেও ‘ভারি’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। যেমন: ‘ভারি কয়টা টাকার উপর দিয়েই তো গেল, যদি তোমার কিছু হয়ে যেত!’ ভারি অতৎসম শব্দ। তাই বানানে ই-কার।

সংস্কৃত ভারী অর্থ বিশেষণে— অতিরিক্ত ভারযুক্ত (ভারী বোঝা), দায়িত্বপূর্ণ (ভারী কাজ), দায়িত্বভার (কার্যভার গ্রহণ), দায়িত্বপূর্ণ ( ভারী মানুষ ভারী কাজ), ভারবাহক। বিশেষ্যে ভারী শব্দের অর্থ— যে ব্যক্তি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভিস্তি ভরা জল সরবরাহ করেন। যিনি ভার বহন করেন তাঁকেও ‘ভারী’ বলা হয়। ‘ভারীর কাঁধে বোঝা ভারি, বলল ভারী, ডাকো গাড়ি।
ওপরের আলোচনায় দেখা যায়— ভারি ও ভারী দুটোই বিশেষণ। তবে ভারী যখন ভারবাহী অর্থে ব্যবহৃত হয় তখন এটি বিশেষ্য। অনেক সময় কোথায় কোন বানান হবে তা মনে থাকে না।

নিমোনিক: ঈ-কার, ই-কারের চেয়ে মোটসোটা; ওজন, শারীরিক গঠন ও মর্যাদায়ও ভারী। তাই ওজন, ভারী বোঝা, ভারবাহক প্রভৃতি অর্থদ্যোতক ভারী বানানেই ঈ-কার দিন।বাকিটায় ই-কার।

ছৈয়ালের ভাঙা ঘর, বৈদ্যের নিত্য জ্বর

 ছৈয়াল অর্থাৎ যারা মেরামত করে। এরা  নিজের ঘর মেরামত করার সময় পায় না। বৈদ্য অর্থাৎ চিকিৎসক। সে সবার চিকিৎসা করে বেড়ায় কিন্তু নিজের জ্বর থাকলে সেটা নিয়ে বেশি চিন্তিত হয় না। অন্যের সুস্থতায় সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকে। তাই নিজের জ্বরের চিকিৎসা উপেক্ষিত হয়।

শ্রাগ করা অর্থ কী? 

শ্রাগ হলো দুই কাঁধ ঝাঁকানোর মাধ্যমে করা বিশেষ ধরনের অঙ্গভঙ্গি। এর মধ্য দিয়ে কোনো বিষয়ে অনাসক্তি প্রকাশ করা হয়, অথবা কোনো প্রশ্নের উত্তর জানা নেই এমন অনুভূতি প্রকাশিত হয়। শ্রাগ এক ধরনের প্রতীকি প্রকাশ। যা কিছু সংস্কৃতির শব্দভাণ্ডারকে একত্রিত করে; যেন শব্দের পরিবর্তে এই অঙ্গভঙ্গি ব্যবহার করা যায়। কোনো প্রশ্ন উপেক্ষা করার সময়ও এটি ব্যবহার করা হয়। ভ্রু উঁচু করা, মুখ বাঁকানো, কিংবা চমকিত ভ্রু, এবং হাত উঁচু করা ইত্যাদি শ্রাগের সাথে যুক্ত হতে পারে। পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে এটা বহুল ব্যবহৃত একটি অঙ্গভঙ্গি। সাধারণভাবে — “আমি জানি না” বলার পরিবর্তে কেউ  কাঁধ ঝাঁকুনি দিয়ে তার মনের কথা প্রকাশ করে দিতে পারে।
 
এই পোস্টের লিংক: https://draminbd.com/বাসি-হাতে-গোনা-বলতে-কয়টি-ভ/
 
 
 
error: Content is protected !!