বিখ্যাতদের কৌতুকথা: বিখ্যাতদের কৌতুক

এক
একদিন মহাবীর আলেকজান্ডার গেলেন দার্শনিক ডায়োজেনেসের আস্তানায়। তেমন পাত্তা পেলেন না মহাবীর।  ডায়োজেনেস তার গামলার মুখে বসে আছেন নির্বিকারচিত্তে। আশেপাশে কুকুর। ভাগাড় থেকে ভেসে আসছে দুর্গন্ধ।
আলেকজান্ডার বললেন, চলুন, আপনাকে রাজপ্রাসাদে নিয়ে যাই।
যাব না। আমার গামলা রাজপ্রাসাদের চেয়ে ছোটো এবং ছোটো বলে সুখদের কুড়িয়ে নিতে কষ্ট হয় না।
ডায়াজেনেসের দৃঢ়তা দেখে বললেন, আমি আলেকজান্ডার না হলে আপনার মতো ডায়োজেনেস হতাম।
ডায়োজেনেসে বললেন, ডায়োজেনেস হওয়া সহজ নয়।
আলেকজান্ডার বললেন, আপনি যদি ডায়োজেনেস না হতেন, তা হলে কী হতে চাইতেন?
ডায়োজেনেস, বললেন, আমি ডায়োজেনেস না হলে আমি ডায়োজেনেস হতে চাইতাম।
দুই
রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব এক সন্ধ্যায় ভক্তদের উপদেশ দিচ্ছিলেন। এসময় এক তঁর কাছে এক সাধু এলেন। রামকৃষ্ণ তাকে সবার মতো স্বাগত জানালেন। এমন সাধারণ সম্মানে সাধু খুশি হতে পারলেন না। তিনি মনে করেছিলেন রামকৃষ্ণ তাকে প্রণাম করে অতি সম্মানের সঙ্গে স্বাগত জানাবেন।
তা না পেয়ে সাধু উত্তেজিত স্বরে বললেন, জানেন আমি কে?
রামকৃষ্ণ : কে?
সাধু : আমি ত্রিশ বছর সাধনা করে এখন হেঁটে নদী পার হতে পারি, আপনি কি সেটা পারেন?
স্মিত হেসে রামকৃষ্ণ বললেন, যেখানে এক পয়সা দিলেই মাঝি আমাকে নদী পার করে দেয়, সেখানে এর জন্য ত্রিশ বছর সময় নষ্ট করার মতো বোকা আমি নই।
তিন
আমেরিকান সিভিল ওয়ারের সময় একদিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহম লিংকন হোয়াইট হাউসে নিজের জুতো পালিশ করছিলেন। এসময় ক্যাবিনেটের সেক্রেটারি অব স্টেট মিস্টার হেনরি শোয়ার্ড জরুরি কাজে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করতে এলেন।
প্রেসিডেন্টকে জুতো পালিশ করতে দেখে শোয়ার্ড বিস্মিত হয়ে বললেন, স্যার, আপনি কী করেন?
জুতো পালিশ করছি।
কার জুতো স্যার?
নিজের জুতো।
একথা শুনে শোয়ার্ড বললেন, আমাদের দেশে তো কোনো ভদ্রলোক নিজের জুতা পালিশ করেন না।
লিংকন বললেন, তাহলে বলুন, আপনার দেশের ভদ্রলোকেরা কার জুতা পালিশ করেন?
চার
আলেকজান্ডার দেখলেন ডায়োজেনেস হাড়ের গাদায় বসে বেশ একাগ্র মনে মানুষের হাড় খঁুজছেন। অন্যদিকে খেয়াল নেই। সসৈন্যে আলেকজান্ডার এসেছেন, তাও ডায়োজেনেসের চোখে পড়ল না।
কী করছেন আপনি, আলেকজান্ডার জানতে চাইলেন।
চোখ তুলে ডায়োজেনের নির্বিকার গলায় বললেন, আপনার পিতার হাড় খুঁজছি।
পেলেন?
কীভাবে পাব?
কেন?
আপনার পিতা ফিলিপস —এর হাড় হাজার হাজার দাসের হাড়ের সঙ্গে একীভূত হয়ে গেছে। পৃথক করতে পারছি না।
পাঁচ
গল্পটি বলেছেন আমার বন্ধু প্রাক্তন মার্কিন জেনারেল ইলিয়াস ধামি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। সেসময় প্রতি শুক্রবার তিনি বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে যেতেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে খুব স্নেহ করতেন। 
আপনি সেখানে কী করতেন? জানতে চাইলাম ইলিয়স ধামীর কাছে।
বঙ্গবন্ধু আমাকে তাঁর টোবাকে পাইপ পরিস্কার করে তামাক ভরে দিতে বলতেন। কাজটা করতে খুব আনন্দ লাগত। আমি মন দিয়ে পাইপ পরিষ্কার করে বঙ্গবন্ধুর প্রিয় তামাক ক্যাপ্টেন ব্ল্যাক ভরে বঙ্গবন্ধুর হাতে তুলে দিতাম।
বঙ্গবন্ধু “ভালোভাবে করেছিস তো?” প্রশ্ন করে আগুন লাগিয়ে মুখে দিতেন পাইপ।
এক শুক্রবারের কথা। বেশ পরিষ্কার দিন। ভালো লাগছিল না, তাই আগেভাগে চলে এলাম। বঙ্গবন্ধু আমাকে দেখে ডাক দিলেন : ধামি, আয় বাবা। তুই পাইপ পরিষ্কার না করলে টেনে ভালো লাগে না। বাংলাদেশে একমাত্র তুই—ই আসল আফগান। তোর হাতে যাদু আছে।
আমি পাইপটা হাতে নিলাম। মেরুন কালারের পাইপ, ঝকঝক করছে। পাইপটাতেও কেমন যেন নেতৃত্বের ছোঁয়া। আমি সযত্নে পাইপ নিয়ে পরিষ্কার করার জন্য বারান্দায় চলে এলাম।
পরিষ্কার করতে গিয়ে দুর্ভাগ্যক্রমে পাইপটি ভেঙে দু—টুকরো হয়ে গেল। আমি ভয় পেয়ে যাই। কী জবাব দেব বঙ্গবন্ধুকে।
তারপর কী হলো? আমি প্রশ্ন করলাম।
ইলিয়াস ধামি বললেন, বঙ্গবন্ধু তাঁর সখের পাইপের টুকরো আর আমার কম্পমান অবস্থা দেখে উচ্চৈঃস্বরে হেসে বললেন, ধামি, তোকে দিলাম একটা পাইপ, তুই নিয়ে এলি দুটো, বল কী পুরষ্কার চাই তোর?
ছয়
চার্লস ল্যাম্ব সবময় অফিসে দেরি করে যেতেন। বিখ্যাত মানুষ বলে বস তার এমন আচরণ অনেকদিন সহ্য করেছেন।
একদিন বললেন, আপনি প্রতিদিন দেরি করে আসেন। এতে কাজের ক্ষতি হয় না?
চার্লস ল্যাম্ব বললেন, অবশ্যই হয়। আমি কিন্তু আমি তো তা পুষিয়ে দিই।
বস বললেন, কীভাবে পুষিয়ে দেন?
চার্লস ল্যাম্ব বললেন, আমি সব সময় দেরি করে অফিসে আসিÑ এটি সত্য। তবে তাড়াতাড়ি অফিস থেকে বের হয়ে সেটা পুষিয়ে দিতে চেষ্টা করি।
সাত
আইরিশ সাহিত্যিক অস্কার ওয়াইল্ডকে এক লোক প্রশ্ন করলেন, কেন এবং কারা পরিশ্রম করে সময় কাটায়?
অস্কার ওয়াইল্ড বললেন, তারাই পরিশ্রম করে সময় কাটায়, যাদের আসলে কিছুই করার নেই। যাদের কিছু করার আছে তারা কখনো পরিশ্রম করে সময় কাটাবে না। তাদের পরিশ্রম করে সময় কাটানোর সময় কোথায়?
আট
মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী একদিন বিমানে করে লন্ডন যাচ্ছিলেন। উড়োজাহাজ ছাড়ার আগে একজন বিমানবালা এসে মোহাম্মদ আলীকে সিল্ট বেল্ট বেঁধে নেওয়ার অনুরোধ করলেন।
মোহাম্মদ আলী বললেন, আমি সুপারম্যান। আমার সিল্ট বেল্ট বাঁধার কোনো প্রয়োজন নেই।
বিমানবালা বললেন, তাহলে তো স্যার সুপারম্যানদের বিমানে চড়ারও প্রয়োজন নেই।
মোহাম্মদ আলী স্টুয়ার্টের কথা শুনে তাড়াতাড়ি সিট বেল্ট বেধেঁ নিলেন।
জন এবারনেথি একজন খ্যাতিমান চিকিৎসক ও বিশ্বখ্যাত সার্জন। একদিন এবারনেথির কাছে অবসাদ আক্রান্ত এক রোগি এলেন। এবারনেথি তাকে পরীক্ষা—নীরিক্ষা করে বললেন, আপনার আনন্দ ফূর্তি করা আবশ্যক।
কী করে আনন্দ—ফূর্তি করব?
আপনি বিখ্যাত কৌতুকাভিনেতা গ্রিমালডির নাম শুনেছেন?
শুনেছি।
তার কৌতুক উপভোগ করুন। কোনো ওষুধপথ্য লাগবে না। আপনার জন্য তার কৌতুকের চেয়ে উত্তম ওষুধ আর হয় না। যদি বাঁচতে চান তাহলে তাড়াতাড়ি গ্রিমালডির কাছে চলে যান।
ডাক্তারের পরামর্শ শেষ হওয়ার পর রোগী বলল, আমি কৌতুকাভিনেতা নিজেই গ্রিমালডি।
নয়
টিভি শো চলছে। অতিথিদের একজন হচ্ছেন মার্কিন লেখক ডেভ ব্যারি।
উপস্থাপক বললেন, পৃথিবীর দ্রুততম প্রাণী কী?
একজন দর্শক বললেন, চিতা।
উপস্থাপক উত্তর শুনে ডেভ ব্যারিকে লক্ষ করে বললেন, আপনি বলুন তো পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রততম প্রাণী কী?
ডেভ ব্যারি বললেন, পৃথিবীর দ্রুততম প্রাণী Ñ যার সর্বোচ্চ গতি সেকেন্ডে ১২০ ফুট সেটি হলো হেলিকপটার থেকে ফেলে দেওয়া একটি হাতি। হাতি যত মোটা হবে তার গতি তত বেশি হবে। 
দশ
চার বছর বয়স পর্যন্ত আইনস্টাইন একটা কথাও বলেননি। এত বছর বয়সেও যখন কথা বলছিলেন না তখন সবাই ধরে নিয়েছিলেন, তিনি বোবা এবং কখনো কথা বলতে পারবেন না। মা—বাবার ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে ওঠেন।
একদিন সবাই খাবার টেবিলে বসে খাচ্ছিলেন। মা তার ছেলে আইনস্টাইনের দিকে এক বাটি স্যুপ এগিয়ে দিয়ে বললেন, তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও। আইনস্টাইন এক চামচ স্যুপ মুখে দিয়ে হঠাৎ বলে ওঠেন, ‘স্যুপটা খুবই গরম’।
সবাই তার মুখে কথা শুনে বিস্ময়ে থ।
বাবা বললেন, তুমি তো কথা বলতে পার। এতদিন কেন কথা বলোনি কেন?
আইনস্টাইন বললেন, এতদিন সব কিছুই ঠিকঠাক চলছিল।
এটি ছিল তার জীবনের দ্বিতীয় বাক্য।

আমি শুবাচ থেকে বলছি

— — — — — — — — √— — — — — — — — —
 
error: Content is protected !!