বিদেহ বিদেহী, পোয়াবারো, অধর্ম মিথ্যা দম্ভ মায়া লোভ ক্রোধ হিংসা কলি ভয় ও মৃত্যু

ড. মোহাম্মদ আমীন

এই পোস্টের সংযোগ: https://draminbd.com/বিদেহ-বিদেহী-পোয়াবারো-অধ/

বিদেহ বিদেহী, পোয়াবারো; অধর্ম মিথ্যা দম্ভ মায়া লোভ ক্রোধ হিংসা কলি ভয় ও মৃত্যু

বিদেহ বনাম বিদেহী

বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ‘বিদেহ (বি+দেহ)’ অর্থ— পূর্বভারতের অন্তর্গত বিহার রাজ্যে অবস্থিত মিথিলা (বর্তমান মোজাফ্‌ফরপুর ও দ্বারাভাঙা অঞ্চল)। বিশেষণে শব্দটির অর্থ নিরবয়ব, অশরীরী, মৃত, স্ত্রীবাচক: বিদেহা।
 
এবার দেখি বিদেহী। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুযায়ী বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত বিদেহী অর্থ— দেহহীন, অশরীরী। এই অভিধান বিদেহী শব্দকে ‘অশুদ্ধ প্রচলিত/অশুদ্ধ প্রয়োগ’ নির্দেশ করলেও তার গর্বিত বুকে যথামর্যাদায় স্থান দিয়ে এটাই প্রমাণ করেছে যে, শব্দটি বহুল প্রচলিত এবং ব্যবহার দূষণীয় নয়।
 
সংস্কৃত ব্যাকরণমতে, বিদেহী অশুদ্ধ হতে পারে। কিন্তু বাংলা শব্দ হিসেবে এটি শুদ্ধ। সংস্কৃত শব্দের অবিকলতা যদি শুদ্ধতার একমাত্র মাপকাঠি হয়, তাহলে সংস্কৃত হতে বিকৃত হয়ে বাংলায় আগত সব খাঁটি বাংলা শব্দই অশুদ্ধ বলতে হবে।
যেহেতু বিদেহী বহুল প্রচলিত শব্দ এবং বাংলা একাডেমি তার অভিধানে

বিদেহীকে পৃথক ভুক্তি হিসেবে স্থান দিয়েছে। তাই খাঁটি বাংলা শব্দ হিসেবে এটাকে অশুদ্ধ বলার কোনো সুযোগ নেই। পৃথিবীর সব বৈয়াকরণ এক হলেও বিদেহী শব্দের কারোনিক (করোনা+ইক) গতি রোধ করতে পারবে না।
 
অধিকন্তু বাংলা একাডেমি শব্দটিকে অভিধানে স্বীকৃতি দিয়ে তার বৈধতাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রমিত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এটি এখন বাংলা শব্দ হিসেবে শুধু প্রমিত নয়, শুদ্ধ ও সিদ্ধ।
 
আমি বিদেহী লিখব। কারণ বাংলা একাডেমি তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। বাড়ুক না, বাংলায় একটি শব্দ। বাংলা তো আর সংস্কৃত না যে, তার সব বিধান অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হবে! বাংলা আমার বাংলা, এখনও জীবিত সে— সংস্কৃতের মতো মৃত নয়।
 
পোয়াবারো
 
‘পোয়াবারো’ শব্দের অর্থ— সম্পূর্ণ অনুকূল, পরম সৌভাগ্য। পাশা খেলার একটা দান হতে শব্দটির উদ্ভব।
পাশা খেলার একটা দান হলো ‘পোয়াবারো’। ছক্কার গুটি ফেলে কোনো চালে যদি পরপর ৬+৫+১ অথবা ৬+৬+১ দান পড়ে সেটাই ‘পোয়াবারো’ দান নামে পরিচিত। পাশা খেলায় ‘পোয়াবারো’ দান পাওয়া হলো জয়সূচক দান পাওয়া। জয় ও সৌভাগ্যের সঙ্গে জড়িত বলে পোয়াবারো দানটি ‘পোয়াবারো’ শব্দরূপে বাংলা বাগ্‌‌ভঙ্গিতে উঠে এসেছে।

অধর্ম মিথ্যা দম্ভ মায়া লোভ ক্রোধ হিংসা কলি ভয় ও মৃত্যুর জন্মবৃত্তান্ত

ভারতীয় পুরাণমতে, দ্বাপরের অবসানে ব্রহ্মার পৃষ্ঠদেশ হতে অধর্মের সৃষ্টি হয়। অধর্মের স্ত্রীর নাম মিথ্যা। মিথ্যার গর্ভে ও অধর্মের ঔরসে দম্ভ নামের এক পুত্র জন্মগ্রহণ করেন। দম্ভ নিজ ভগিনী মায়াকে বিবাহ করেন এবং তাঁদের ‘লোভ’ নামের এক পুত্র জন্মগ্রহণ করেন। লোভ নিজের ভগিনী নিবৃতিকে বিয়ে করেন এবং তাঁদের ক্রোধ নামের এক পুত্র ও হিংসা নামের এক কন্যা জন্মগ্রহণ করেন। ক্রোধ নিজ ভগিনী হিংসাকে বিবাহ করেন। তাঁদের কলি নামের এক পুত্র জন্মগ্রহণ করেন। কলি নিজের ভগিনী দ্বিরুক্তিকে বিয়ে করেন। তাদের ‘ভয়’ নামের এক পুত্র এবং ‘মৃত্যু’ নামের এক কন্যার জন্ম হয়।
 
এ কলিই ‘কলি’ যুগের প্রতিষ্ঠাতা।‘কলি’ যুগপ্রবর্তক দেবতা। তাঁর নামানুসারে বর্তমান যুগের নাম কলিযুগ। পৃথিবী ৪,৩২,০০০ বছর এ দেবতার অধিকারে থাকবে। এ যুগের শেষে ভগবান বিষ্ণু কল্কিরূপে আবির্ভূত হবেন।
 
error: Content is protected !!