বিদ্যাসাগর অনেক: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কেবল একজন

 বিদ্যাসাগর অনেক: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কেবল একজন

বিদ্যাসাগর একজন নয়, অনেক জন।তবে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর একজন। তিনি হিমালয়প্রতীম যুগপুরুষ; তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। আসলে বিদ্যাসাগর একটি উপাধি মাত্র। প্রথম বিদ্যাসাগর ঈশ্বরচন্দ্র। এরপর আরও ৭জন বিদ্যাসাগর উপাধি পেয়েছেন। কিন্তু মহাসাগর রূপী ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের তলায় ঢাকা পড়ে আছেন বাকি বিদ্যাসাগরবৃন্দ। এবার দেখা যাক তাঁরা কারা?
১) জীবানন্দ বিদ্যাসাগর:  পিতা তারানাথ তর্কবাচস্পতি সে যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত। ২৬ বছর বয়সে বিদ্যাসাগর উপাধি অর্জন করেন জীবানন্দ। ২১৫ টিরও বেশি সংস্কৃত গ্রন্থ সম্পাদনার কাজ করেছেন। জীবানন্দ লাহোর ওরিয়েন্টাল কলেজের অধ্যক্ষের পদ, জয়পুরের মহারাজ, কাশ্মীরের মহারাজ ও নেপালের মহারাজের তৎকালীন সহস্র মুদ্রার চাকরিও প্রত্যাখান করেছিলেন বাংলার বাইরে যাবেন না বলে।
২) নীলকমল বিদ্যাসাগর:  রঙপুরে জন্ম। কাব্য, ব্যাকরণ, স্মৃতিশাস্ত্রে অগাধ পান্ডিত্য। রচিত গ্রন্থঃ কালার্চন চন্দ্রিকা, কৃষিতত্ত্ব, শক্তি ভক্তি, শ্রীশ্রী সরস্বতীপুজা পদ্ধতি,
৩) প্রাণকৃষ্ণ বিদ্যাসাগর: হরিনাভি গ্রামে জন্ম। ভাই রামনারায়ন তর্করত্ন। প্রাণকৃষ্ণ সংস্কৃত কলেজে ব্যাকরণের অধ্যাপক ছিলেন, সমাচার চন্দ্রিকা পত্রিকার সম্পাদক। রচিত গ্রন্থঃ কূলরহস্য, শ্রীশ্রী অন্নপূর্ণা শতকম, ধর্মসভা বিলাস।
৪) রাজীবলোচন বিদ্যাসাগর: ফরিদপুরে জন্ম। স্মৃতি ও জ্যোতিষশাস্ত্রে পন্ডিত। নড়াইলের জমিদার বংশের পন্ডিত হিসাবে কাজ করতেন।
৫) শশিশেখর বিদ্যাসাগর: পিতা খ্যাতনামা হরিদাস সিদ্ধান্তবাগীশ। ফরিদপুরের কোটালিপাড়ার বাসিন্দা। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সংস্কৃত শিক্ষক ছিলেন।
৬) হরিহর বিদ্যাসাগর: নদীয়ার নাকাশিপাড়ায় জন্ম। পিতা মধুসূদন তর্কপঞ্চাননের কাছে স্মৃতি শিক্ষা। ভাওয়ালের রাজা রমেন্দ্রনারায়নের আগ্রহে ঢাকার সারস্বতসমাজের প্রধান অধ্যাপক হন। পরে আন্দুলরাজের চতুষ্পাঠীর অধ্যাপক।
৭) হরানন্দ বিদ্যাসাগর: দক্ষিণ ২৪ পরগনার মজিলপুরে জন্ম। পুত্র শিবনাথ শাস্ত্রী স্বনামধন্য ব্যক্তি। হরানন্দ বাল্মিকী রামায়ণের অনুবাদক। জনহিতকর কাজের পাশাপাশি জজপণ্ডিতের কাজ করতেন। রচিত গ্রন্থ: নলোপাখ্যান।

উৎস:  পিনাক বিশ্বাসের লেখা; শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ)।

শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com
error: Content is protected !!