বিপজ্জনক, বিবৃত ‍ও সংবৃত রূপ: সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়া, পরি পরি: জিনপরি, ছন্দ, বিশিষ্ট ব্যক্তি, সাদ সাধ ও স্বাদ

 ড. মোহাম্মদ আমীন

বিপজ্জনক, বিবৃত ‍ও সংবৃত রূপ: সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়া, পরি পরি: জিনপরি, ছন্দ, বিশিষ্ট ব্যক্তি, সাদ সাধ ও স্বাদ

সংযোগ: https://draminbd.com/বিপজ্জনক-বিবৃত-‍ও-সংবৃত-র/

বিপজ্জনক

বিপদজনক লিখলে ভুল হবে কেন? শুবাচির প্রশ্ন। বিপদজনক ভুল। কারণ একশব্দ হিসেবে বিপদজনক কথাটি উচ্চারণ করা যায় না। ‘দ’ উচ্চারণ করতে গেলে ‘জনক’ কথাটি ‘বিপদ’ বলার পর থেমে উচ্চারণ করতে হয়। যারা বিপজ্জনক লিখতে জানেন না, তারা লিখেতে পারেন বিপদের জনক

পরি পরি: জিনপরি

বাংলা ভাষায় দুটি পরি আছে। একটি ফারসি উৎসের পরি এবং আরেকটি সংস্কৃত পরি।
  • ফারসি উৎসের পরি অর্থ (বিশেষ্যে) রূপকথায় বর্ণিত ডানাবিশিষ্ট সুন্দরী নারী (জিনপরি)। আলংকারিক অর্থে এই পরি অতি সুন্দরী নারী অর্থ প্রকাশেও ব্যবহৃত হয়। বিদেশি শব্দে ঈ-কার হয় না। তাই বানানে ই-কার।
  • সংস্কৃত পরি অব্যয়ে ব্যাপ্তি (পরিব্যাপ্ত), বিরোধ, প্রতিকুল (পরিপন্থি), কুৎসা (পরিবাদ) প্রভৃতিসূচক সংস্কৃত উপসর্গবিশেষ।

ছন্দ

অক্ষর, পঙ্‌ক্তি, পর্ব, চরণ, মাত্রা, সুর বা গতি প্রভৃতির সমন্বয়ে রচিত কথা বা বাণীকে পরিমিত প্রক্রিয়ায় ভাবোদ্দীপক ছকে বিন্যস্ত করার কৌশলকে ছন্দ বলে। ছন্দ এমন একটি রচনা কৌশল যা দিয়ে গদ্য থেকে পদ্যকে পৃথক করা যায়। বাংলার বহুল পরিচিত ত্রয়ী ছন্দের জনক প্রবোধচন্দ্র সেনের মতে, “শিল্পীত বাকরীতির নামই ছন্দ।”

বিশিষ্ট ব্যক্তি

বিশেষ গুণের অধিকারী ব্যক্তিকে বিশিষ্ট ব্যক্তি বলে। তবে নেতিবাচক গুণের অধিকারী ব্যক্তিকে বিশিষ্ট ব্যক্তি বলা হয় না। কথাটি কেবল ইতিবাচক এবং প্রশংসার্থক বৈশিষ্ট্য প্রকাশে প্রয়োগ করা হয়। যেমন: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট ব্যক্তি। গৌতমবুদ্ধকে পৃথিবীর বিশিষ্ট অবতারের অন্যতম বলে গণ্য করা হয়।

সাদ; সাধ ও স্বাদ শব্দে স এবং স্ব-এর উচ্চারণ

তৎসম সাধ (শাধ্‌) অর্থ— (বিশেষ্যে) ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা, স্বেচ্ছা।
বাক্য: আমার সাধ না মিটিল আশা না পুরিল।
সাধের লাউ বানাইল মোরে বৈরাগী।
তৎসম স্বাদ (শাদ্‌): অর্থ— (বিশেষ্যে) জিভে খাদ্যের স্পর্শজনিত অনুভূতি, রসনায় স্পর্শ করে বস্তুর গুণাগুণ বিচার।
বাক্য: ইলিশে এখন আগের স্বাদ নেই।
মায়ের হাতের দুধভাত, স্বাদে স্বাদে পুরায় সাধ
সাধ ও স্বাদ শব্দের প্রথম বর্ণ যথাক্রমে  ও স্ব-এর উচ্চারণ অভিন্ন এবং তা শ-এর অনুরূপ।
প্রসঙ্গত, তৎসম সাদ (শাদ্‌) অর্থ (বিশেষ্যে) আলস্য, অবসন্নতা, হিংসা, বিদ্বেষ, বিবাদ।
বাক্য: সাদ মনে স্বাধ আর সাধ কোনোটই থাকে না। কেবল থাকে বিস্বাদ।

বিবৃত ও সংবৃত রূপ: সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়া

যা উচ্চারণ করার সময় ঠোঁট বেশি মেলতে হয়, তা বিবৃত রূপ। নিমোনিক: মনে রাখবেন বেশি থেকে বিবৃত । অন্যদিকে, যা উচ্চারণ করার সময় ঠোঁট তুলনামূলকভাবে কম মেলতে হয় সেটি সংবৃত রূপ। নিমোনিক: মনে করুন সংবৃত মানে সংক্ষিপ্ত।
উদাহরণ: ওঠে, ছোটে, বোঝা, খোঁজা এবং মেশে, লেখা, শেখা প্রভৃতি উচ্চারণের সময় ঠোঁট বেশি মেলতে হয়। তাই শব্দগুলোর প্রথম বর্ণের ও/ও-কার এবং এ/এ-কার বিবৃত রূপ। উঠে, ছুটে, বুঝে, খুঁজে এবং মিশে, লিখি, শিখি প্রভৃতির ক্ষেত্রে ঠোঁট কম মেলতে হয়। তাই এসব ক্ষেত্রে ই/ই-কার এবং উ/উ-কার সংবৃত রূপ।
প্রয়োগ: সমাপিকা ক্রিয়ার ক্ষেত্রে ক্রিয়াপদের বিবৃত রূপ; যেমন— ছোটে, ওঠে, তোলে, বোঝে, কেনে, মেশে, শেখে প্রভৃতি এবং অসমাপিকা ক্রিয়ার ক্ষেত্রে ক্রিয়াপদের সংবৃত রূপ; যেমন: ছুটে, উঠে, তুলে, বুঝে, কিনে, মিশে, শিখে প্রভৃতি ব্যবহৃত হবে।
error: Content is protected !!