Warning: Constant DISALLOW_FILE_MODS already defined in /home/draminb1/public_html/wp-config.php on line 102

Warning: Constant DISALLOW_FILE_EDIT already defined in /home/draminb1/public_html/wp-config.php on line 103
বিপদমুক্ত নয়, বিপন্মুক্ত – Dr. Mohammed Amin

বিপদমুক্ত নয়, বিপন্মুক্ত

ড. মোহাম্মদ আমীন

‘বিপদ হতে মুক্তি বা পরিত্রাণ পেয়েছে’ এমন অর্থ প্রকাশে ‘বিপন্মুক্ত’ ও ‘বিপদমুক্ত’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। বাক্যে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ‘বিপন্মুক্ত’ শব্দের নির্মাণচিত্র হলো : বিপদ্+উন্মুক্ত = বিপন্মুক্ত। যার অর্থ বিপদ হতে ‍মুক্তি বা পরিত্রাণ পেয়েছে এমন। যেমন : ঘূর্ণিঝড় দূরে সরে গেছে, উপকূলীয় অঞ্চল এখন বিপন্মুক্ত। ডাক্তার বললেন, রোগি এখন বিপন্মুক্ত।

‘বিপদমুক্ত’ শব্দটি ‘বিপন্মুক্ত’ শব্দের পরিবর্তে অভিন্ন অর্থ প্রকাশে ব্যবহার করা হলেও ব্যাকরণ এবং বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, ‘বিপন্মুক্ত’ শব্দটিই শুদ্ধ এবং প্রমিত। তবে বাংলায় ‘বিপন্মুক্ত’ শব্দে দ্যোতিত অর্থ প্রকাশে ‘বিপদমুক্ত’ শব্দটির বহুল প্রচলন লক্ষণীয়। অথচ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে ‘বিপদমুক্ত’ শব্দটিকে স্থানই দেওয়া হয়নি। এতে বোঝা যায়, বাংলা একাডেমির কাছে ব্যাকরণই প্রধান, ভাষাভাষী নয়।  শব্দের জনপ্রিয়তা ও প্রচলন  উপেক্ষাকারী এমন ব্যাকরণ নির্ভর অভিধান, অভিধান নয়, অবিধান। এমন অবিধান বেশি দিন টিকে না।

হরিচরণ বন্দোপাধ্যায়-সহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির রচিত অভিধানেও ‘বিপদমুক্ত’ শব্দটি পাওয়া যায় না। বৈয়াকরণদের মতে, ‘বিপদমুক্ত’ শব্দটি আদৌ বিপন্মুক্ত নয়। তাঁদের মতে, শব্দটির জন্মের ঠিক নেই।  এটি অসিদ্ধ এবং প্রতিবন্ধী।

প্রতিবন্ধী হোক বা অসিদ্ধ হোক, ‘বিপদমুক্ত’ শব্দটি ‘বিপন্মুক্ত’ শব্দকে বিতাড়িত করে  বিপদ হতে মুক্ত হয়ে বাংলার সর্বত্র হরদম ব্যবহৃত হচ্ছে। এর প্রসার এত ব্যাপক যে, অসিদ্ধ ‘বিপদমুক্ত’ শব্দের কাছে সিদ্ধ ‘বিপন্মুক্ত’ শব্দটি আসলেই মারাত্মকভাবে বিপদগ্রস্ত। সংস্কৃত ভাষার অনুকরণে নির্মিত বাংলা ব্যাকরণের নিয়মানুসারে ‘বিপদমুক্ত’ শব্দ অসিদ্ধ হতে পারে, কিন্তু বাংলা ভাষার শব্দ হিসেবে ‘বিপদমুক্ত’ শব্দটি সম্পূর্ণ সিদ্ধ এবং বাংলায় এর জন্মও যথাযথ।

অধুনা ‘বিপদমুক্ত’ শব্দটির প্রচলন এত ব্যাপক এবং জনপ্রিয়তা এত বিস্তৃত হয়ে পড়েছে, যে শব্দটির প্রসার ও ব্যবহার রোধ করার সাধ্য কারো নেই। তাই বাংলা একাডেমির উচিত, সংস্কৃত অনুকরণে সিদ্ধ-অসিদ্ধ বিবেচনা না করে ‘বিপন্মুক্ত’ শব্দের পাশাপাশি বাংলা শব্দ হিসেবে ‘বিপদমুক্ত’ শব্দকেও অভিধানে সসম্মানে স্থান দেওয়া। নইলে একাডেমির অভিধান  কেবল  ‘বিপন্মুক্ত’ নিয়ে জনপ্রিয়তার অভাবে নিজেই বিপদগ্রস্ত হয়ে থাকবে সবসময়।

অভিধান দোকানের মতো। দোকানের পণ্য দোকানদারের ভোগের জন্য নয়, সাধারণের ভোগের জন্য।  সাধারণ জনগণ যে দোকানের পণ্য বেশি ক্রয় করবে, সে দোকান ও দোকানদার তত বেশি সফল হবে। কিন্তু সাধারণ জনগণ যদি দোকানে তাদের প্রত্যাশিত পণ্য না-পায় তাহলে ওই দোকানের পণ্য কেবল দোকানদারের  ভোগ্যপণ্য হয়ে যাবে। ফলে অচিরে শেষ হয়ে যাবে দোকান, দেউলিয়া হয়ে যাবে দোকানদার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *