বিশেষণ নির্ণয় করার সহজ কৌশল: বিশেষণ চেনার উপায়

ড. মোহাম্মদ আমীন

বিশেষণ নির্ণয় করার সহজ কৌশল: বিশেষণ চেনার উপায়

সংযোগ: https://draminbd.com/বিশেষণ-নির্ণয়-করার-সহজ-কৌ/

বিশেষণ নির্ণয় করার সহজ কৌশল/১


১. সংশ্লিষ্ট পদকে কেমন, কয়টি, কতটুকু, কী পরিমাণ, কত দূর, কত লম্বা, কী রকম প্রভৃতি কত-কী-সমূহ যোগে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় সেই পদটি সাধারণত বিশেষণ। যেমন—
নীল আকাশ। কেমন আকাশ, উত্তর: নীল। ফরসা দিন; কেমন দিন? উত্তর: ফরসা। দশ টাকা; কয় টাকা? দশ টাকা। অনেক দূর। উত্তর: অনেক। বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে; কতটুকু জল? উত্তর: হাঁটু। এখানে নীল, ফরসা, দশ, অনেক, হাঁটু প্রভৃতি বিশেষণ।
প্রসঙ্গত, একটি পদ বিশেষ্য হবে না কি বিশেষণ হবে তা বাক্যের ওপর নির্ভর করে। সাধারণভাবে কোনো শব্দ বিশেষ্য হিসেবে মনে করা হলেও বাক্যে তা বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন: বৈশখা মাসে তার হাঁটু জল থাকে। হাঁটু সাধারণভাবে বিশেষ্য, কিন্তু আলোচ্য বাক্যে তা বিশেষণ। কারণ এখানে হাঁটু দ্বারা জলের পরিমাণ কতটুকু জল তা প্রকাশ করা হয়েছে।
ক্রমশ:

বিশেষণ নির্ণয় করার সহজ কৌশল/২

পদের সঙ্গে অতিরিক্ত যে তথ্য থাকে বা যে অতিরিক্ত তথ্যগুলো পদকে আরোপ করা হয় সেগুলোই বিশেষণ। যেমন—
আকাশে দুরন্ত উড়ন্ত পাখির মেলা। এ বাক্যে আকাশ নামের বিশেষ্য পদের দুটি অতিরিক্ত তথ্য আছে। প্রশ্ন করা যাক- কেমন পাখি? উত্তর: ‘দুরন্ত’ ও ‘উড়ন্ত’ পাখি। সুতরাং এই দুটি পদই বিশেষণ। অনুরূপ: সাদা কালো ছবি। বাধ ভাঙা জোয়ার। রক্ত লাল জবা।লাল সবুজের পতাকা।

বিশেষণ নির্ণয় করার সহজ কৌশল/৩


পদের শেষে ঈন, ইক, ইত, ইষ্ট, মতী, বতী, ব্রতী, মান, বান, কুল, শীল, শালী, স্পর্শী, হীন, পূর্ণ, নিপুন, ময়, ধর্মী, অনীয়, গত, অন্ত, তর, তম, প্রবণ যুক্ত থাকলে তা বিশেষণ হবে। যেমন: মায়াবতী কন্যা, গুণবান লোক, সত্যব্রতী মহিলা, সাহিত্যিক অমিয় ভূষণ মজুমদার , কনিষ্ঠ ভাই, সম্পদশালী মানুষ, মাননীয় প্রধানশিক্ষক,, বৃহত্তম সাগর, খোদা দয়াময়, মর্মস্পর্শী ঘটনা। ক্রমশ:
উৎস: ব্যাবহারিক প্রমিত বাংলা বানান সমগ্র, ড. মোহাম্মদ আমীন, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.
error: Content is protected !!