বিশেষ্য আর বিশেষণ: বাক্যে ব্যবহার-ব্যবহৃত প্রভৃতি লেখার কৌশল

 এবি ছিদ্দিক
 
এই পোস্টের সংযোগ: https://draminbd.com/বিশেষ্য-আর-বিশেষণ-বাক্যে/
 
 
প্রমাণ-প্রমাণিত, ব্যবহার-ব্যবহৃত, অপমান-অপমানিত, খণ্ডন-খণ্ডিত, গ্রহণ-গৃহীত, আলোচনা-আলোচিত প্রভৃতি যুগল শব্দ বোদ্ধা বাংলাভাষীরা ক্ষেত্রানুযায়ী বিনা বিভ্রান্তিতে প্রয়োগ করতে পারলেও আমার মতো নবীন যাত্রীদের মাঝেমধ্যে দ্বিধায় পড়ে যেতে হয় বইকি। তবে এ বিভ্রান্তি থেকে উত্তরণের রাস্তা একেবারেই সরল— কর্তৃবাচ্যে বিশেষ্য এবং কর্মবাচ্যে বিশেষণ রূপটি ব্যবহার করলেই হয়ে যায়।
 
এত্ত সহজ একটি নিয়ম উল্লেখ করার পর পাঠক যে খুশিতে আমাকে মারবার জন্যে লাঠি হাতে বেরিয়ে পড়বেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই! এর যথেষ্ট কারণ রয়েছে। প্রথমত, ওই রূপগুলোর মধ্যে কোনটি বিশেষ্য এবং কোনটি বিশেষণ, তা কীভাবে বোঝা যাবে? দ্বিতীয়ত, কোন বাক্যটি কর্তৃবাচ্যে লেখা এবং কোন বাক্যটি কর্মবাচ্যে লেখা, তা কীভাবে বোঝা যাবে? এরকম আরও অনেক প্রশ্ন সামনে চলে আসবে। লাঠিপেটা খাওয়ার শখ কিংবা এতসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সাধ্য— কোনোটিই আমার নেই। তাই, আপাতত ভিন্ন একটি পথ বাতলে দিয়ে কেটে পড়ছি।
 
কৌশল: বাক্যের মধ্যে উল্লেখ-করা যুগল শব্দের কোনটি প্রয়োগ করতে হবে, তা নিয়ে সংশয়ে পড়ে গেল শব্দটির ঠিক পরে ব্যবহৃত ক্রিয়াপদটি দেখতে হবে। যদি ক্রিয়াপদটি ‘কর্-আদিগণ’ হয়, তাহলে প্রথম; অর্থাৎ, ‘ত’ ছাড়া রূপগুলো লিখতে হবে। যদি ক্রিয়াপদটি ‘হ-আদিগণ’ হয়, তাহলে দ্বিতীয়; অর্থাৎ, ‘ত’-যুক্ত রূপগুলো লিখতে হবে।
 
প্রয়োগোদাহরণ:
১. ‘অনিক অপমান করেছে।’— পরের ক্রিয়াপদটি কর্-আদিগণ, তাই ‘ত’ ছাড়া রূপটি লেখা হয়েছে।
 
২. ‘অনিক অপমানিত হয়েছে।’— পরের ক্রিয়াপদটি হ-আদিগণ, তাই ত-যুক্ত রূপটি লেখা হয়েছে।
 
৩. ‘সূত্রটি ঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।’— পরের ক্রিয়াপদটি কর্-আদিগণ, তাই ‘ত’ ছাড়া রূপটি লেখা হয়েছে।
 
৪. সূত্রটি ঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।’— পরের ক্রিয়াপদটি হ-আদিগণ, তাই ত-যুক্ত রূপটি লেখা হয়েছে।
 
 

এবি ছিদ্দিক-এর পোস্ট সমগ্র:  https://draminbd.com/এবি-ছিদ্দিক-এর-পোস্ট-শুবা/

শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com
error: Content is protected !!