বিশ্বকোষ: কী কেন এবং ইতিবৃত্ত : একনজরে বিশ্বকোষ

ড. মোহাম্মদ আমীন

বিশ্বকোষ: কী কেন এবং ইতিবৃত্ত : একনজরে বিশ্বকোষ

 

বিশ্বকোষ কী
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, তৎসম বিশ্বকোষ (বিশ্ব+কোষ) অর্থ (বিশেষ্যে) সমগ্র বিশ্বের জ্ঞান বিজ্ঞান, কলা প্রভৃতিবিষয়ক তথ্যসংবলিত বর্ণানুক্রমিক আকর গ্রন্থ। এটি এমন  একটি জ্ঞানসংগ্রহ বা বিশাল পুস্তক  যেখানে  বিশ্বজগতের সকল বিষয়ে  সাধারণ তথ্য  এবং কোনো বিশেষ বিষয়ে বিস্তারিত ও গভীর আলোচনা থাকে । বিশ্বকোষের নিবন্ধগুলো বিভিন্ন কৌশলে সাজানো হয়। বিশ্বকোষের লেখাগুলো অভিধানের তুলনায় অধিক বিস্তারিত ও তথ্যবহুল থাকে। এখানে কোনো বিষয়ের সংজ্ঞার্থ, উৎপত্তি, ব্যুৎপত্তি, উদাহরণ, প্রয়োজনীয় সংযুক্তি, ছবি প্রভৃতি যথাসম্ভব স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে অথচ সংক্ষেপে যুক্ত করা হয়। বিশ্বকোষের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি বিশ্বের জানা জ্ঞানসমূহ সম্পর্কে সহজে জানার সুযোগ পায়।
 
ইতিহাস উৎপত্তি
বাংলা বিশ্বকোষ শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ encyclopedia।  প্রাচীন গ্রিক “ἐγκύκλιος”(এঙ্গিক্লোস- চক্রাকার,সাধারণ) ও παιδεία”(পেদিয়া-শিক্ষা) শব্দের মিলনে ইংরেজি encyclopedia  শব্দের উদ্ভব।  এঙ্গিক্লোস অর্থ চক্রাকার, সাধারণ, সমন্বিত, সামগ্রিক, সংগ্রহ, ভান্ডার এবং পোদিয়া অর্থ শিক্ষা, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা। সুতরাং, এনসাইক্লোপেডিয়া অর্থ সার্বিক জ্ঞান, জ্ঞানভান্ডার, সার্বিক জ্ঞানের বিশাল সংগ্রহ প্রভৃতি।   রোমান লেখক প্লিনি শব্দটি ল্যাটিন ভাষায় প্রথম ব্যবহার করেছিলেন। এরপর ল্যাটিন থেকে শব্দটি  ইংরেজিতে প্রবেশ করেছে।

এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা

এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা (Encyclopædia Britannica) “এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা, ইনকর্পোরেটেড”  প্রকাশিত সাধারণ জ্ঞানের ইংরেজি বিশ্বকোষ।  নিয়মিত প্রায় ১০০ জন সম্পাদক ও প্রায় ৪০০০  অবদানকারীর মাধ্যমে এটি লিখিত ও নিয়মিত সংশোধিত হয়। অনুবাদকারীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১১০ জন নোবেল বিজয়ী এবং ৫ জন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এই বিশাল গ্রন্থ সমগ্রকে ইংরেজি ভাষার সবচেয়ে পাণ্ডিত্যপূর্ণ বিশ্বকোষগুলোর একটি মনে করা হয়। মূলত এটি হচ্ছে লাতিন ভাষায় ব্রিটিশ বিশ্বকোষ। পৃথিবীর তাবৎ বিষয়ের বিবরণ এখানে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়।

ব্রিটানিকা ইংরেজি ভাষায় এখনও নিয়মিত প্রকাশিত বিশ্বকোষগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন। ১৭৬৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৭৭১ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে স্কটল্যান্ডের এডিনবরা থেকে তিনটি আলাদা খণ্ডে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।  দ্বিতীয় সংস্কণ প্রকাশিত হয় ১০ খণ্ডে, এবং ১৮০১ থেকে ১৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে প্রকাশিত চতুর্থ সংস্করণে ছিল ২০ খণ্ড। পাণ্ডিত্যপূর্ণ নিবন্ধের কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি লেখক সমাজের অন্তর্ভুক্ত হন, এবং ৯ম (১৮৭৫-৮৯) ও ১১তম (১৯১১) সংস্করণ বিশ্বকোষের পাণ্ডিত্য ও রচনাশৈলীর ইতিহাসে যুগান্তকারী অর্জন বলে স্বীকৃত। একাদশ সংস্করণ প্রকাশ এবং একটি মার্কিন কোম্পানি কর্তৃক ব্রিটানিকা ইনকর্পোরেটেড-এর অধিগ্রহণের পর আমেরিকান পাঠকদের জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য বিশ্বকোষটির নিবন্ধের আকার ছোট করে বিষয় সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়। ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটানিকা বিশ্বকোষ রচনার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এর ভুক্তিগুলো নিয়মিত পুনর্ম্যল্যায়ন এবং সংশোধন করা শুরু করে। ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের মার্চে ব্রিটানিকা ইনকর্পোরেটেড ঘোষণা করে যে, তারা আর কাগজে মুদ্রিত সংস্করণ প্রকাশ করবে না, বরং কেবল অনলাইন সংস্করণের (এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা অনলাইন) দিকে নজর দেবে। এর সর্বশেষ কাগজে মুদ্রিত সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছিল ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে মোট ৩২ খণ্ডে।

মাইক্রোপিডিয়া, ম্যাক্রোপিডিয়া ও প্রোপিডিয়া

এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার ১৫তম অর্থাৎ সর্বশেষ মুদ্রিত সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছিল তিন ভাগে। যথা: একটি ১২ খণ্ডের মাইক্রোপিডিয়া যেখানে সাধারণত ছোটো ছোটো ৭৫০ শব্দের নিবন্ধ স্থান পায়। একটি ১৯ খণ্ডের ম্যাক্রোপিডিয়া যাতে বড়ো সাধারণত ২ থেকে ৩১০ পৃষ্ঠার নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। এবং একটি এক খণ্ডের প্রোপিডিয়া যাতে ব্রিটানিকার সমগ্র জ্ঞানের  ধারাবাহিক ভূমিকা দেওয়া হয়। মাইক্রোপিডিয়া হচ্ছে দ্রুত কোনো বিষয় সম্পর্কে সংক্ষেপে জানার জন্য এবং আরও জানার ইচ্ছা থাকলে সেখান থেকে ম্যাক্রোপিডিয়াতে যেতে হয়।  প্রোপিডিয়া একটি নিবন্ধকে অপেক্ষাকৃত বড়ো প্রেক্ষাপটে স্থাপন করে সে সম্পর্কিত অন্যান্য নিবন্ধের ধারণা দেয়। প্রায় ৭০ বছর ধরে ব্রিটানিকার মুদ্রিত সংস্করণের আকার প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। এখানে প্রায় ৫ লাখ বিষয়ের ওপর প্রায় ৪ কোটি শব্দ ছিল। এর বানান ছিল ব্রিটিশ বানান। ১৯০১ খ্রিষ্টাব্দের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত হলেও ব্রিটানিকাতে ব্রিটিশ বানান পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

বাংলায় বিশ্বকোষ রচনার উন্মেষ

১৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের  উপযোগী পাঠ্যপুস্তক রচনার জন্য ষোলোজন ইউরোপীয় ও আটজন ভারতীয়ের উদ্যোগে ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করা  হয়। সোসাইটির ভারতীয় সদস্যদের মধ্যে ছিলেন মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, রাধাকান্ত দেব, রামকমল সেন, তারিণীচরণ মিত্র, আবদুল ওয়াজেদ, করিম হোসেন, আবদুল হামিদ ও মহম্মদ রশিদ। ১৮২২  খ্রিষ্টাব্দে স্কুল বুক সোসাইটি ‘পশ্বাবলী’ শিরোনামের একটি মাসিকপত্র চালু করেন। প্রথম পর্যায়ে  পাদরি লসন এই পত্রিকার রচনাগুলো সংগ্রহ করতেন।  ডব্লিউ এইচ পিয়ার্স সংগৃহীত রচনাগুলো বাংলায় অনুবাদ করতেন। পত্রিকার প্রতিটি সংখ্যায় একটি পশুর কাঠখোদাই ছবি ও তার নিচে পশুটির পরিচয় দেওয়া হত। ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দ থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ে পত্রিকাটি পরিচালনা শুরু করেন হিন্দু কলেজের শিক্ষক রামচন্দ্র মিত্র। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, ‘পশ্বাবলী’-ই বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বিশ্বকোষীয় রচনা। এর সঙ্গে আধুনিক ‘অ্যানিম্যাল এনসাইক্লোপিডিয়া’ বা ‘প্রাণী বিশ্বকোষ’ জাতীয় বইয়ের  সাদৃশ্য রয়েছে।

উপমহাদেশের প্রথম বিশ্বকোষ

ডিরোজয়ো প্রতিষ্ঠিত ‘ইয়ংবেঙ্গল’ গোষ্ঠীর অন্যতম নেতা রেভারেন্ড কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮১৩-১৮৮৫) বাংলার প্রথম সার্থক বিশ্বকোষের রচয়িতা। তেরো খণ্ডে বিভক্ত এবং ১৮৪৬-১৮৬৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত   ইংরেজি-বাংলা দ্বিভাষিক বিশ্বকোষ রচনা করে তিনি উপমহাদেশে জ্ঞানের জগতে নতুন ধারার সূত্রপাত করেন। মূলত এটাই হচ্ছে উপমহাদেশের প্রথম সার্থক বিশ্বকোশ।  বইটির ইংরেজি নাম ছিল ‘এনসাইক্লোপিডিয়া বেঙ্গলিস্’ এবং বাংলা নাম ছিল ‘বিদ্যাকল্পদ্রুম’। বইটির উদ্দেশ্য লেখা হয়েছে এভাবে- “বঙ্গভূমির জন্য সাধারণ মতিভ্রম নিবারণার্থে গৌড়ীয় (বাংলা) ভাষাতে ইউরোপীয় পুরাবৃত্ত ও দর্শনাদি শাস্ত্রের বর্ণনা করা।” রেভারেন্ড বন্দ্যোপাধ্যায়ই ছিলেন এই গ্রন্থের প্রধান লেখক ও সম্পাদক। আচার্য অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় এই বইটি সম্পর্কে লিখেছেন, “তাঁর প্রতিভা ও পরিশ্রমের শ্রেষ্ঠ প্রমাণ ‘বিদ্যাকল্পদ্রুম’ (১৮৪৬-৬৭) – যাকে বিশ্বকোষ বলা যেতে পারে। এতে ইতিহাস, ভূগোল, ক্ষেত্রতত্ত্ব, জীবনচরিত, নীতিবোধক ইতিহাস, চিত্তের উৎকর্ষবিধান প্রভৃতি বিবিধ ও বিচিত্র বিষয়ের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দেওয়া হয়েছে।” 

বাংলায় রচিত প্রথম সার্থক বিশ্বকোষ

 
বাংলা ভাষায় রচিত অন্যান্য বিশ্বকোষ
নগেন্দ্রনাথ বসু সম্পাদিত ‘বিশ্বকোষ’ নামে বিশ্বকোষের কাজ ১৯০২ খ্রিষ্টাব্দে আরম্ভ হয়ে ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দে এর প্রকাশনা শেষ হয়। প্রায় সতের সহস্র পৃষ্ঠার এই বিশ্বকোষটি ২২ খণ্ডে সঙ্কলিত হয়েছিল। তবে বাংলা ভাষায় ‘ভারতকোষ’ নামে (প্রকাশকাল ১৮৯৬-১৯০৬)তিন খণ্ডে প্রকাশিত ‘ভারতকোষ’-এর সঙ্কলক ছিলেন রাজকৃষ্ণ রায় ও শরচ্চন্দ্র দেব। এছাড়াও ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে খান বাহাদুর আবদুল হাকিমের সম্পাদনায় ঢাকা হতে প্রকাশিত ৪ খণ্ডে মুক্তধারার বাংলা বিশ্বকোষ নাম উল্লেখযোগ্য। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কৃর্তক ইসলামি বিশ্বকোষ প্রকাশ করে ৷ যেটির কাজ শুরু হয় ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দে এবং শেষ হয় ২০০০ খ্রিষ্টাব্দে।
জীবনী  বিশ্বকোষ
নগেন্দ্রনাথের বিশ্বকোষের সাফল্যের পর বাংলা ভাষায় প্রকাশিত হয়েছিল একাধিক কোষগ্রন্থ-জাতীয় বই। তেমনই বিষয়ভিত্তিক বিশ্বকোষও রচিত হয়। বিংশ শতকের প্রথম ভাগে ব্রাহ্ম শিক্ষাবিদ শশিভূষণ বিদ্যালঙ্কার (১৮৬১-১৯৪৭) দুই পর্বে প্রথম জীবনীকেন্দ্রিক বাংলা বিশ্বকোষ রচনা করেন। এই কোষগ্রন্থের নাম ছিল ‘জীবনীকোষ’। এর প্রথম পর্বটি দুই খণ্ডে শেষ করা হয়। এর বিষয়বস্তু ছিল ভারতীয় পৌরাণিক চরিত্রের জীবনী। এর প্রকাশকাল ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দ। দ্বিতীয় পর্বের বিষয়বস্তু ঐতিহাসিক ব্যক্তিবর্গের জীবনী। দ্বিতীয় খণ্ডটি তিনি সম্পূর্ণ করে যেতে পারেননি।
 
ভারতকোষ

বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক ‘ভারতকোষ’ প্রকাশিত হয় ষাট-সত্তরের দশকে। এর সম্পাদকেরা ছিলেন আদিত্য ওহদেদার, কালিদাস ভট্টাচার্য, গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য, চিন্তামণি কর, চিন্তাহরণ চক্রবর্তী, নির্মলকুমার বসু, ফণিভূষণ চক্রবর্তী, বিনয় দত্ত, রমেশচন্দ্র মজুমদার, রামগোপাল চট্টোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, সুকুমার সেন, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ও সুশীলকুমার দে। লেখক তালিকায় ছিলেন সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতির জগতের প্রথম সারির ব্যক্তিত্বেরা। পাঁচ খণ্ডে প্রকাশিত হয় এই বিশ্বকোষ।

বাংলা বিশ্বকোষ মুক্তধারা

ঢাকার ফ্রাঙ্কলিন বুক প্রোগ্রামস    ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা বিশ্বকোষ প্রকল্প চালু করে। কিন্তু প্রকৃত ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই মাস থেকে প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব প্রাপ্ত খান বাহাদুর আব্দুল হাকিম এর তত্ত্বাবধানে  নিয়মিতভাবে সঙ্কলন কার্য শুরু হয়। প্রকাশকের ভুমিকায় ছিল মুক্তধারা। প্রারম্ভিক পরিকল্পনায় ঠিক করা হয় যে বিশ্বকোষে প্রায় ৩০,০০০ নিবন্ধ থাকবে।

বাংলা বিশ্বকোষের ভিত্তি

কলম্বিয়া এনসাইক্লোপেডিয়া (৩য় সংস্করণ,১৯৬৩) এবং এর সংক্ষেপিত রূপ কলম্বিয়া ভাইকিংস ডেস্ক এনসাইক্লোপেডিয়া(৩য় সংস্করণ,১৯৬৮) কে এই বাংলা বিশ্বকোষের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। কিন্তু কার্যত সঙ্কলন কালে প্রায় অর্ধেক সংখ্যাক নিবন্ধ প্রয়োজন মত সংশোধিত এবং অভিযোজিত আকারে অনূদিত হয়ে এখানে সন্নিবিষ্ট হয়েছে। অবশিষ্ট আনুমানিক অর্ধেক নিবন্ধ স্থানীয় বিজ্ঞ লোকদের দ্বারা মৌলিক রচনা রূপে স্থান পেয়েছে।প্রথমে মাত্র এক খন্ড বাংলা বিশ্বকোষ প্রকাশ করার প্রস্তাব ছিল। পরে অনেকটা বৃহত্তর আকারে চার খন্ডে এই বিশ্বকোষ প্রকাশ করা হয়।

এরপর বাংলা ভাষায় প্রকাশিত হয় একাধিক সাধারণ ও নির্দিষ্ট বিষয়কেন্দ্রিক বিশ্বকোষ। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য: ‘বাংলাপিডিয়া’ (বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, ঢাকা), ‘সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান’ (সাহিত্য সংসদ, কলকাতা), ‘বাংলা একাডেমী চরিতাভিধান’, ‘বাংলা একাডেমী বিজ্ঞান বিশ্বকোষ’ (বাংলা একাডেমী, ঢাকা), ‘বিজ্ঞানকোষ’ (শিশু-কিশোর আকাদেমি, কলকাতা), ‘বঙ্গসাহিত্যাভিধান’ (হংসনারায়ণ ভট্টাচার্য, ফার্মা কেএলএম, কলকাতা), ‘রবীন্দ্ররচনাভিধান’ (দীপ প্রকাশন, কলকাতা) ইত্যাদি।

বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়া

২০০১ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই জানুয়ারি জিমি ওয়েলস এবং ল্যারি স্যাঙ্গার উইকিপিডিয়া চালু করেন। বর্তমানে এটি সর্ববৃহৎ এবং সর্বাধিক জনপ্রিয় ইন্টারনেটভিত্তিক তথ্যসূত্র।   বাংলা বিশ্বকোষের জগতে বৃহত্তম কীর্তি মুক্ত বিশ্বকোষ ‘উইকিপিডিয়া’ । ‘বিদ্যাকল্পদ্রুম’-এর প্রায় ১৬০ বছর পরে ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে সম্পূর্ণভাবে স্বেচ্ছাসেবকদের দ্বারা লিখিত এই ইন্টারনেট বিশ্বকোষের সূচনা ঘটে। বর্তমানে বাংলা উইকিপিডিয়ার নিবন্ধ সংখ্যা ২২ হাজারের কিছু বেশি। নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০,০০০।  পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ থেকে মোট নয় জন প্রশাসক বাংলা উইকিপিডিয়ার কাজকর্ম তদারক করেন। এই উইকিপিডিয়া গড়েও উঠছে দুই বাংলার ব্যবহারকারীদের যৌথ উদ্যোগে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায়।

উইকিপিডিয়া

উইকিপিডিয়া একটি সম্মিলিতভাবে সম্পাদিত, বহুভাষিক, মুক্ত প্রবেশাধিকার, মুক্ত কন্টেন্ট সংযুক্ত একটি ইন্টারনেট বিশ্বকোষ, যা অলাভজনক উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন কর্তৃক সমর্থিত, আয়োজিত এবং পরিচালিত। স্বেচ্ছাসেবীরা বিশ্বব্যাপী সম্মিলিতভাবে ৩০১টি ভাষার উইকিপিডিয়ায় প্রায় ৪০ মিলিয়ন নিবন্ধ রচনা করেছেন, যার মধ্যে শুধু ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় রয়েছে ৫৮ লক্ষের অধিক নিবন্ধ। যে কেউ ওয়েবসাইটে প্রবেশের মাধ্যমে যে কোনো নিবন্ধের সম্পাদনা করতে পারেন, যা সম্মিলিতভাবে ইন্টারনেটের সর্ববৃহৎ এবং সর্বাধিক জনপ্রিয় সাধারণ তথ্যসূত্রের ঘাটতি পূরণ করে থাকে। ফেব্রুয়ারি ২০১৪ সালে, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায় উইকিপিডিয়া সব ওয়েবসাইটের মধ্যে বিশ্বব্যাপী পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে, “মাসিক প্রায় ১৮ বিলিয়ন পৃষ্ঠা প্রদর্শন এবং প্রায় ৫০০ মিলিয়ন স্বতন্ত্র পরিদর্শক নিয়ে উইকিপিডিয়ায় ইয়াহু, ফেসবুক, মাইক্রোসফট এবং গুগলের পথানুসরণ করে, সর্বাধিক ১.২ বিলিয়ন স্বতন্ত্র পরিদর্শক রয়েছে।”

উইকি এবং উইকি উইকি

২০০১ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই জানুয়ারি জিমি ওয়েলস এবং ল্যারি স্যাঙ্গার উইকিপিডিয়া প্রতিষ্ঠা করেন। পরে  উইকি শব্দকে এর সংক্ষিপ্ত নাম হিসেবে পরিচিত করা হয়। হাওয়াইন ভাষায় ইউকি শব্দের অর্থ হাঁটা এবং আলংকারিক অর্থ বিশ্বকোষ। ‘উইকি উইকি’ মানে দাঁড়িয়ে ছোটো-ছোটো পায়ে  হাঁটা বা ধীরে ধারে অগ্রসর হওয়া। উইকি ভান্ডারে  অগণিত মানুষের  ছোটো ছোটো অবদান যুক্ত হয়ে গড়ে উঠেছে বিশাল ভান্ডার। প্রতিদিন বেড়ে চলছে এর পরিধি, বিস্তার ও জনপ্রিয়তা। বর্তমানে এটি সর্ববৃহৎ এবং সর্বাধিক জনপ্রিয় ইন্টারনেট ভিত্তিক তথ্যসূত্র হিসাবে ব্যবহার হয়।

উপসংহার

বিশ্বকোষ  মানুষের জ্ঞাত সর্ব প্রকার তথ্য সম্বলিত একটি বিশাল তথ্যভাণ্ডার। অতি সহজে প্রয়োজনীয় বিষয় জানার জন্য মানুষ বিশ্বকোষ এবং অধুন উইকিপিডিয়ার সহায়তা নেয়। ফলে এটি  আধুনিক জ্ঞান আহরণের অন্যত উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

শুবাচ গ্রুপ এর লিংক: www.draminbd.com

শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ) প্রমিত বানানবিধি

বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও প্রধান

শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ) প্রমিত বানানবিধি
শুবাচ আধুনিক প্রমিত বাংলা বানান অভিধান
 

 

 

error: Content is protected !!