বিশ্বসভ্যতা, সভ্যতার কাহিনি, মানুষ সভ্য হলো যেভাবে, সভ্যতা পরিক্রমা

 

তাহসিন ঐশী/ জোহিরা

এই পোস্টের সংযোগ: https://draminbd.com/বিশ্বসভ্যতা-সভ্যতার-কাহ/

বিশ্বসভ্যতা, সভ্যতার কাহিনি, মানুষ সভ্য হলো যেভাবে, সভ্যতা পরিক্রমা

বিশ্বসভ্যতা: পর্ব-০১

বুদ্ধিবৃত্তি সম্পন্ন জীব হিসেবে মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি হলো জ্ঞানপিপাসা। জ্ঞানের প্রতি এ অনুরাগ মেটাতে মানুষ অসংখ্য বিষয় প্রত্যক্ষণ, পরীক্ষণ ও নিরীক্ষণ করে। অসংখ্য বিষয়ের মধ্যে বিশ্বসভ্যতার ইতিহাস নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। মানুষ এমনই এক জাতি, যারা গ্রহ হিসেবে পৃথিবীর ইতিহাস জানতে যেমন উৎসুক, তারচেয়ে আরও বেশি উৎসুক নিজেদের অগ্রগতির ইতিহাস সম্পর্কে জানতে। মানবসভ্যতার ইতিহাস অনেক পুরোনো, তাৎপর্যপূর্ণ ও তথ্যবহুল।
 
সভ্যতাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে আসতে আমাদের ডিঙাতে হয়েছে দীর্ঘ পথ, দিতে হয়েছে অনেক শ্রম। পৃথিবী আমাদের সাজায়নি, আমরা সাজিয়েছি এই পৃথিবীকে। মানবসভ্যতার এ দীর্ঘ সময়কে ইতিহাস দুটি যুগে বিভক্ত করে:— ১. প্রাগৈতিহাসিক যুগ; ২. ঐতিহাসিক যুগ। প্রাগৈতিহাসিক যুগ: ‘প্রাগ’ হচ্ছে ‘পূর্ব’। প্রাগৈতিহাসিক হচ্ছে ইতিহাসের পূর্বে। অর্থাৎ, যে যুগ বা সময়ের ইতিহাস সম্পর্কে ওই সময়ে মানবজাতির জীবনযাত্রা কেমন ছিল, সে সম্পর্কে জানা যায় না, তা-ই হচ্ছে প্রাগৈতিহাসিক। ঐতিহাসিক যুগ: ঐতিহাসিক যুগ হচ্ছে যে সময়ের ইতিহাস জানা যায়। ঐতিহাসিক যুগের সূত্রপাতের মাধ্যমে অবসান ঘটে প্রাগৈতিহাসিক যুগের। এই সময় থেকে সভ্যতার অগ্রযাত্রা শুরু।
 

বাংলা শব্দার্থ : জেনে নিন

 

বিশ্বসভ্যতা: পর্ব-০২

আদিম যুগের মানুষ যাযাবর জীবন যাপন করত। বনের ফল-মূল সংগ্রহ ও পশু শিকার করে খাদ্য সরবরাহ করত। খাদ্যের সন্ধান করতে গিয়ে হিংস্র বন্য প্রাণীর সঙ্গে সংগ্রাম করতে হতো তাদের। এসব সহজে মোকাবেলার জন্য আদিম মানুষ শুরু করে দল বেঁধে শিকার করা। আদিম যুগে শিকারের প্রধান মাধ্যম ছিল পাথরের হাতিয়ার। এ-কারণে ওই সময়কে পাথরের যুগ বলা হয়। পাথরের যুগকে দুভাগে ভাগ করা হয়েছে—
১. পুরনো পাথরের যুগ বা পুরোপলীয় যুগ।
২. নতুন পাথরের যুগ বা নবোপলীয় যুগ।
 
পুরোপলীয় যুগ: এসময় শিকার করার জন্য মানুষ পাথর ঘষে-মেজে বিভিন্ন হাতিয়ার তৈরি করত এবং পাথর ঘষে আগুন জ্বালাতে পারত।
নবোপলীয় যুগ: একসময় মানুষ কৃষি কাজ করতে গিয়ে দলবদ্ধভাবে বসবাস করতে শুরু করে। তখন অবসান ঘটে পুরনো পাথরের যুগ ও যাযাবর জীবনের; প্রতিষ্ঠিত হয় কৃষিভিত্তিক সামাজিক জীবন, এযুগকে বলা হয় নতুন পাথরের যুগ বা নবোপলীয় যুগ। কৃষিকে কেন্দ্র করে মূলত সভ্যতার যাত্রা শুরু। কৃষির প্রয়োজনে মানুষ সেচ ব্যবস্থার সুবিধার্থে বসতি গড়ে তুলে নদীর তীরবর্তী জায়গায়। এভাবেই শুরু হয় মানব সভ্যতা।
 

বিসিএস প্রিলি থেকে ভাইভা কৃতকার্য কৌশল

 

 

বিশ্বসভ্যতা: পর্ব-০৩

মেসোপটেমিয়া সভ্যতা
 
পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাচীন সভ্যতা হলো মেসোপটেমিয়া সভ্যতা। মেসোপটেমিয়া সভ্যতা যেমন প্রাচীন, তেমন তাৎপর্যপূর্ণও। এ সভ্যতা ধারণ করে আছে হাজার বছরের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির ইতিহাস। মোহনীয় এ সভ্যতা গড়ে উঠেছিল আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০০ অব্দে আধুনিক ইরাক, সিরিয়ার উত্তরাংশে, তুরস্কের উত্তরাংশে এবং ইরানের খুযেস্তান প্রদেশের টাইগ্রিস (দজলা) ও ইউফ্রেটিস (ফুরাত) নদীর তীরে।
‘মেসোপটেমিয়া’ একটি গ্রিক শব্দ; গ্রিকেরা এ নামটি দিয়েছিল। ‘মেসো’ অর্থ ‘দুই’ ‘পটেমিয়া’ অর্থ ‘নদী’। অর্থাৎ, মেসোপটেমিয়া অর্থ হলো ‘দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি’। টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী তীরাঞ্চল ছিল জলাভূমি। নলখাগড়ার জঙ্গল আর খেজুর গাছ ছিল এর প্রধান উদ্ভিদ। কালক্রমে এ দুই নদীর পলি দ্বারা জলাভূমি ভরাট হয়ে সৃষ্টি হয় এ উর্বরা অঞ্চলের। যৌথভাবে এ নদী দুটির পলিতে অঞ্চলটি পরিণত হয় আদর্শ কৃষি ভূমিতে। আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০০ অব্দ থেকে বিভিন্ন জায়গার লোকজন এসে বসতি স্থাপন করতে শুরু করে এ উর্বরা ভূমিতে। যাযাবর সংস্কৃতির মিশ্র প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে একটি মিশ্র সভ্যতার ধারা নিয়ে গড়ে উঠেছিল এ বিস্ময়কর মেসোপটেমিয়া সভ্যতা।
 
খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০০ অব্দে যাত্রা শুরু হয় ‘সভ্যতার রত্ন’ নামে পরিচিত এ মেসোপটেমিয়া সভ্যতার, এবং এ মহান সভ্যতা পূর্ণতা লাভ করে আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ অব্দে। নদীর তীরবর্তী জায়গায় গড়ে উঠেছিল বলে একে ‘দোয়াব অঞ্চল’-ও বলা হয়। পলিসমৃদ্ধ টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদী তাদের মধ্যবর্তী অঞ্চলে এ আশ্চর্যময় সভ্যতা গড়ে ওঠার জন্য একমাত্র সহযোগী। টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদী উত্তরে প্রবাহিত হয়ে পশ্চিমে বাঁক নিয়েছে, আবার দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়ে ভূমধ্যসাগরে পড়েছে। এ বাঁকবিশিষ্ট অঞ্চলকে ‘উর্বরা অর্ধচন্দ্রাকৃতিক’-ও বলা হয়। সভ্যতার এ কেন্দ্রবিন্দু উত্তর আর্মেনিয়ার পার্বত্য অঞ্চল, দক্ষিণ ও পশ্চিমে আরব মরুভূমি ও পূর্বে জাগরাস পার্বত্য অঞ্চল দ্বারা নিরূদ্ধ।
 
পৃথিবীর ইতিহাসের এ প্রাচীন মেসোপটেমিয়া সভ্যতা শুধু সভ্যতা নয়, যেন ইতিহাসের বটবৃক্ষ, জীবনের কথা এবং মানব সভ্যতার উত্থান-পতনের মহাকাব্য। মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে ঢিপির মতো ছোটো ছোটো পাহাড় ছিল, যেগুলোকে বলা হতো ‘টেল’। এই টেল খুঁড়ে মাটির বিভিন্ন স্তরে মানব বসতির চিহ্ন, সামগ্রী এবং ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়, যা ব্রোঞ্জ যুগের পরিচয় তুলে ধরে। মেসোপটেমিয়ায় গড়ে ওঠা এ উন্নত সভ্যতা আজও মোহনীয়। কয়েকটি দেশের বিভিন্ন অংশে এ সভ্যতা গড়ে উঠলেও বর্তমানে মেসোপটেমিয়া বলতে ইরাককে নির্দেশ করা হয়। সভ্যতার আতুঁড়ঘর হিসেবে পরিচিত এ মেসোপটেমিয়ায় জন্ম হয়েছিল বিস্মিত ও অন্যানসাধারণ আরও চারটি মোহনীয় সভ্যতার। সেগুলো হলো:
১. সুমেরীয় সভ্যতা;
২. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা;
৩. আসিরীয় সভ্যতা;
৪. ক্যালডীয় সভ্যতা।

শুবাচ বিসিএস প্রিলি সমগ্র: বাংলা ও সাধারণ জ্ঞান।

error: Content is protected !!