বিশ্ব বাবা দিবস; বিশ্ব বাবাদিবস; বিশ্ব পিতৃদিবস: বাবা আমার বাবা

মিনহা সিদ্দিকা
বিশ্ব বাবা দিবস; বিশ্ব বাবাদিবস; বিশ্ব পিতৃদিবস: বাবা আমার বাবা 
সংযোগ: https://draminbd.com/বিশ্ব-বাবা-দিবস-বিশ্ব-বাব/
ইউরোপের  ক্যাথলিক-প্রধান দেশসমূহে মধ্যযুগের সূচনা থেকে সেন্ট জোফেস দিবস (Saint Joseph’s Day) নামের উদ্ভাসে প্রতিবছর ১৯শে জুন পরোক্ষভাবে বাবা দিবস বা পিতৃদিবস পালিত হয়ে আসছিল। তখন সেন্ট জোসেফ দিবস বা বাবা দিবসটি ধর্মীয় বিবেচনায় সরকারি ছুটির দিন ছিল। তবে  দিবসটিতে বাবা নয়, সেন্ট জোসেফই ছিল মুখ্য। পরিবার নয়, ধর্মই ছিল প্রধান বিবেচ্য বিষয়। তবে আধুনিক বাবা দিবস পালনে পরিবার ও বাবাই মুখ্য বিষয়।
মধ্যযুগ ( The Middle Ages) হলো ইউরোপীয় ইতিহাসের একটি অতি আলোচিত কাল। ৪৭৬ খ্রিষ্টাব্দে রোমান সাম্রাজ্যের পতন থেকে ১৪৯২ খ্রিষ্টাব্দে ক্রিস্টোফার কলম্বাসের নতুন জগৎ আবিষ্কারের পূর্ব পর্যন্ত সময়কে মধ্যযুগ বলা হয়। 
আধুনিক বাবা দিবসের সূচনা যুক্তরাষ্ট্রে। যুক্তরাষ্ট্রের সোনোরা স্মার্ট ডোড (Sonora Smart Dodd) নামের একজন মহিলা ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসের তৃতীয় রবিবার প্রথম বাবা দিবস পালন করেন। আবার অনেকের মতে, ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের ৫ই জুলাই, আমেরিকার পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টের এক গির্জায় দিবসটি প্রথম পালিত হয়। তবে সোনোরা পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় অনুষ্ঠিত বাবা দিবস সম্পর্কে জ্ঞাত ছিলেন না। অধিকন্তু ভার্জিনিয়ায় উদ্‌যাপিত বাবা দিবস তেমন প্রচারও পায়নি।

কথিত হয়, সেনোরার মা ষষ্ঠ সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান।   তখনও তার বাবা যুবক। ছয় শিশু  সন্তানের দিকে তাকিয়ে তিনি আর বিয়ে করেননি। মাতৃহীন ছয় শিশু বাবার একান্ত আদরে বেড়ে  উঠে। বাবার এই ত্যাগ সোনোরাকে অভিভূত করে। বাবার জন্য কিছু করার চিন্তা তার মনে প্রবল হয়ে উঠে।  সোনোরা ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে গির্জার এক বক্তব্যে মা দিবসের কথা জানতে পারেন।

বাবা আমার বাবা

 মা দিবসের কথা শুনে তাঁর মনে বাবা দিবস পালনের চিন্তা জাগ্রত হয়।  সন্তানদের জন্য পিতার ভূমিকাও কম নয়। অথচ মা দিবস আছে, কিন্তু বাবা দিবস নেই। বিশেষ করে তার পরিবারের জন্য পিতা একাই মায়ের ভূমিকাও পালন করে আসছেন। সুতরাং, মায়ের মতো পিতার প্রতিও সন্তানদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি আন্তর্জাতিক দিবস থাকা উচিত। সোনোরা  কয়েকজন ধর্মযাজকের সঙ্গে বাবা দিবস পালন নিয়ে কথা বলেন। তাঁরা জানান, “মধ্যযুগে ইউরোপের ক্যাথলিক-প্রধান দেশসমূহে ১৯শে জুন বাবা দিবস পালন করার প্রচলন ছিল।” যাজকগণ এমন চিন্তাকে উত্তম আখ্যায়িত করে বাবা দিবস পালনে সোনোরাকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। পরের বছর অর্থাৎ ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে জুন সোনোরার উদ্যোগে কয়েকজন যাজক, পরিবারের সদস্য এবং কিছু ঘনিষ্ঠ আত্মীস্বজনের উপস্থিতিতে ঘরোয়াভাবে বাবা দিবস পালন করা হয়। এটাই ছিল পৃথিবীর প্রথম আধুনিক বাবা দিবস। পরের বছর  পুরো এলাকায় বাবা দিবস পালিত হয়। এভাবে ধীরে ধীরে তা পুরো আমেরিকার আরো অনেক এলাকায় পালিত হতে থাকে।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নিজ নিজ  ঐতিহ্য অনুযায়ী ভিন্ন দিন বাবা দিবস পালিত হতো। লিথুনিয়ায় বাবা দিবসকে সর্বপ্রথম সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করা হয়। এরপর স্পেনের কিয়দংশে এবং ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে ইতালিতে বাবা দিবসকে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করা হয়। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ায়  দিনটি পিতামাতা দিবস (Parents Day) হিসেবে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে গণ্য।
 ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসন  প্রতিবছর জুনের তৃতীয় রবিবার বাবা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত ঘোষণ করেন। ফলে দিবসটি  আরও স্থায়ী ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন বাবা দিবস নিয়ে একটি আইন প্রণয়ন করেন। ফলে বাবা দিবসা রাষ্ট্রীয় আইনগত স্বীকৃতি পায়। একই সঙ্গে  পুরো পৃথিবীতে বাবা দিবস জনপ্রিয় হয়ে যায়। ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে বিশ্বের ১১১টি দেশে বাবা দিবস পালিত হয়।
বাবা কে
সাধারণভাবে জন্মদাতাকে বাবা বলা হয়। আমি মনে করি, জন্ম না দিয়েও বাবা হওয়া যায়। কোনোরূপ প্রতিদানের প্রত্যাশা ছাড়া যিনি কেবল স্নেহমমতার বশবর্তী হয়ে নিজের সাধ-আহ্লাদ অবলীলায় তুচ্ছ করে যাদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য সর্বপ্রকার ত্যাগ স্বীকারে আনন্দ পান, তৃপ্ত হন, নিজেকে সার্থক মনে করেন এবং যাদের জন্য এসব করাই যার জীবনের মূল্য লক্ষ্য হয়ে যায় তিনিই বাবা— জন্মদাতা হোক বা না হোক।
আমার এমন বাবার প্রতি আজ বাবা দিবস উৎসর্গ করলাম। সবার প্রতি রইল বাবা দিবসের শ্রদ্ধা, শুভেচ্ছা।
 
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমি শুবাচ থেকে বলছি
error: Content is protected !!