বিসিএস ক্যাডার হওয়ার কার্যকর কৌশল ও নিশ্চিত মন্ত্র

ড. মোহাম্মদ আমীন, বিসিএস (প্রশাসন), ১০ম ব্যাচ

আগেই বলেছি, আমি নিম্ন মধ্যমানের ছাত্র এবং খুব অস্থির এবং চঞ্চল, কিন্তু আত্মবিশ্বাস এবং শুধু আত্মবিশ্বাসেরর কারণে অনেক স্ট্যান্ড করা ছাত্রকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ঘায়েল করে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হতে পেরেছিলাম। এটি আমার পরবর্তী জীবনে প্রতিটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রেরণার উৎস হয়ে উঠত। যখনই দেখতাম, আমার সামনে অনেক সনদি মেধাবী, যাদের সঙ্গে আমাকে প্রতিযোগিতা করে টিকতে হবে, তখনই আমি আমার প্রথম জয়কে সামনে নিয়ে আসতাম উদ্দীপক হিসেবে।
আমার বাড়ি চন্দনাইশ, কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ রাঙ্গুনিয়া। আমি উঠলাম সাউথ হোস্টেলে। একদিন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটি গেলাম। চট্টগ্রামের ছেলে হলেও ওটিই ছিল আমার জীবনে প্রথম চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটি দর্শন। ইউনিভার্সিটির অবস্থা দেখে মনে হলো, আমি স্কুলে পড়ছি। চট্টগ্রাম বিশ্¦বিদ্যালয়কে মনে হলো সমুদ্র আর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে মনে হলো পুকুর। অথচ এই পুকুরের জন্য সাগরের চেয়ে বেশি প্রতিযোগিতা। আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। ভাবতে লাগলাম কী করব?

বিশ্ববিদ্যালয় দেখার পর আর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে যেতে ইচ্ছা করছিল না। আমি কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিলাম, চঞ্চলতা জয়ী হয়ে গেল। ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে চিঠি এল বাবার কাছে, আপনার ছেলে কলেজে অনুপস্থিত। তাকে সত্বর কলেজে পাঠানোর ব্যবস্থা করুন। আমি যেতে রাজি না। বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে পাগল করে দিয়েছে।
বাবা বললেন, বাড়িতে তোমার জায়গা হবে না। হাজার হাজার ছেলে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তির জন্য পাগল হয়ে যাচ্ছে, আর তুমি তা ছেড়ে দিয়েছ। তোমার মতো ছেলেকে আমি বাড়ি রাখব না। তুমি একটা অপদার্থ।
তারপরও আমি রাজি হলাম না। বাবা বাধ্য করতে শুরু করলেন। মা কাঁদছে। তবু আমার মন ওই মুখী হলো না। পড়শীরাও বার বার চাপ দিচ্ছে। এ অবস্থায় আমি কাউকে কিছু না বলে বাড়ি ছেড়ে চট্টগ্রাম শহরে চলে গেলাম। যাকে বলে রীতিমতো পালিয়ে যাওয়া।

লজিং নিলাম হাটহাজারী উপজেলার মধ্যম মাদার্শা গ্রামের ইউনুছ কোম্পানি নামের জনৈক ব্যক্তির বাড়িতে। একটা বছর নষ্ট করে ভর্তি হয়ে গেলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে। সবাই ছি ছি করতে শুরু করল। আমি মুক্তা ছেড়ে ছাই বয়ে বেড়াচ্ছি। কথাগুলো আমার ভীষণ কষ্টের মনে হলো। সিনিয়র-জুনিয়র বন্ধুরাও আমার কা-কথা শুনে উপহসার করছিল। অনেকেই বিশ্বাসই করছিল না, আমি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে টিকেছি। আমি যেন, পৃথিবীর সবার কাছে উপহাসের পাত্র হয়ে গেলাম। আমার সবুজ সতেজ আত্মবিশ্বাস ক্রমশ হলদে হয়ে যেতে শুরু করল।
কী করি?
ইঞ্জিনিয়ার কী এত বড়ো, যে বিশ্ববিদ্যালয় ছাই হয়ে গেল?
তখন আমি দ্বিতীয় বর্ষের মধ্যভাগে। আরও ছয় মাস পর অনার্স তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা শুরু হবে। একদিন আমার এক বন্ধু শিহাবের বড়ো ভাই এলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ভাইকে দেখতে। তিনি হাটহাজারী উপজেলায় পরিসংখ্যান অফিসের সহকারী।
তাকে বললাম, ইঞ্জিনিয়ার কি সবচেয়ে বড়ো চাকুরি?

“না”, তিনি বললেন, “বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের সদস্য হতে পারলে তুমি ইঞ্জিনিয়ার-ডাক্তারের চেয়ে বড়ো হতে পারবে। বাপের বয়সি ইঞ্জিনিয়ার তোমাকে সমীহ করব। আমাদের উপজেলা প্রকৌশলীর বয়স, ইউএনও স্যারের বয়সের দ্বিগুণ; চাকুরির বয়সও দ্বিগুণ, কিন্তু ওই বুড়ো ইঞ্জিনিয়ার, ইউএনও সাহেবকে স্যার ডাকেন। উপজেলার সব বিভাগের সভায় ইউএনও সাহেব সভাপতিত্ব করেন, দাদার বয়সি ডাক্তার থাকেন সদস্য। আপনি প্রশাসন ক্যাডারের সদস্য হয়ে যান। সবার বস হয়ে যেতে পারবেন, চেয়ারম্যান মেম্বার হতে শুরু করে এলাকার নেতার পর্যন্ত সালাম দিয়ে চলবে। একদিন ডিসি হবেন, সচিব হবেন, দেশের পর দেশ ঘুরতে পারবেন। কীসের ইঞ্জিনিয়ারং, বাদ দেন ওইসব।
এই একটা লোকের কটি কথা আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিল। তার কথা আমার হলদে হয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাসকে সবুজ করে তুলতে সাহায্য করে।
কিন্তু আমি কীভাবে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের সদস্য হব?
তিনি বললেন, বিসিএস পাস করতে হবে এবং প্রশাসন ক্যাডারে টিকতে হবে।
শুরু করলাম বিসিএস নিয়ে অধ্যয়ন। জেনে নিলাম নিয়ম কানুন, জেনে নিলাম ক্যাডার কী, কয়টা ক্যাডার আছে, কোন ক্যাডারের কী কাজ, কখন থেকে ক্যাডারগুলো শুরু হলো প্রভৃতি। বিগত কয়েক বছরের প্রশ্নপত্র যোগাড় করে পড়াশুনা শুরু করে দিলাম। অনার্স পাস করেও বিসিএস দিতে পারব। সেটি হিসেব করলে আমার হাতে আরও আড়াই বছর সময় আছে।
আমার বন্ধু খুরশেদ বলল, আগে তোমাকে কমপক্ষে অনার্স পাস করতে হবে, নইলে বিসিএস পরীক্ষার আবেদনই করতে পারবে না।
জানি।
এত সময় দিচ্ছ যে বিসিএস-এর জন্য?
আসলে আমি সময় দিচ্ছিলাম ঠিকই, কিন্তু তা আমার অ্যাকাডেমিক অধ্যয়নকে অবহেলা করে নয়। অনার্স পাস করতে আমার কমপক্ষে আরও বছর দুয়েক লাগবে। তখন এরশাদের আমল, প্রায় সময় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকত। সেটি হিসেব করলে তিন-চার বছরও লেগে যেতে পারে। ভাবলাম, অনার্স দিয়েই বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে দেব।
আমি আমার অ্যাকাডেমিক অধ্যয়ন শেষ করে প্রতিদিন রাতে কমপক্ষে দুই ঘণ্টা করে সাধারণ জ্ঞান পড়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। দেখলাম, তা পারা যাচ্ছে না। সকালে উঠে আমাকে লজিং বাড়ির ছাত্রদের পড়াতে হয়। তারপর দৌড় দিতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। ওখান থেকে আসার পর দুটো টিউশনি করি। আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে যায়।

তারপর বসতে হয়, লজিং বাড়ির ছেলেমেয়েদের পড়াতে। তাদের পড়িয়ে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আমার রুমে আসতে আসতে প্রায় দশটা বেজে যায়। যদিও ছাত্রছাত্রীদের পড়ার ফাঁকে ফাঁকে আমি পড়তাম, কিন্তু তা একাগ্রতার অভাবে মনে ধরে রাখা যেত না। পরিসংখ্যান শুধু মুখস্থের বিষয় ছিল না, গাণিতিক বিষয়গুলো অন্তর দিয়ে গভীরভাবে গেঁথে নিতে হতো।
রুমে এসে কয়েক ঘণ্টা পড়ার পর ঘুম এসে চোখ বন্ধ করে দিত। জেগে থাকতে চাইতাম, পারতাম না- ক্লান্তিতে অবসন্ন দেহ শুধু বিছানা খুঁজত। এই অবস্থায় আমার সাধারণ জ্ঞান অধ্যয়ন আধ ঘণ্টার বেশি হচ্ছিল না। শুক্রবার ছাড়া আমার রুটিন যথার্থভাবে কার্যকর করা যেত না। অবশ্য, বিশ্ববিদ্যালয় তখন এরশাদ-বিরোধী আন্দোলণের জন্য ঘন ঘন বন্ধ থাকত।
কী করি?
আমাকে বিএসএস পাস করতেই হবে, প্রশাসন ক্যাডার না হোক, যে-কোনো ক্যাডার হলেই হবে। কিন্তু যে শক্ত প্রতিযোগিতা, না পড়লে টিকব কীভাবে? আমি ছাত্র হিসেবে মধ্যমানের। অর্ধ লক্ষাধিক ছেলে পরীক্ষা দেয়, নেয় মাত্র কয়েক হাজার। টিকতে হলে আমাকে কয়েক হাজারে থাকার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। তা কীভাবে সম্ভব?
একদিন বুদ্ধি পেয়ে গেলাম।
চট্টগ্রাম-নাজির হাট মহাসড়ক আমার লজিং বাড়ি থেকে সাত মিনিটের হাঁটাপথ। সড়কে পৌঁছে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হতো বাসের জন্য। সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয় আরও বিশ মিনিটের পথ। তারপর বিশ্ববিদ্যালয় এক নম্বর গেট। এক নম্বর গেট থেকে ইউনিভার্সিটি যেতে লেগে যেত আধ ঘণ্টা। আসার পথেও একই অবস্থা। সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয় যেতে আসতে আমার চল্লিশ- পয়তাল্লিশ মিনিট লেগে যেত।

আমি ভাবলাম, এই পয়তাল্লিশ মিনিটের মধ্যে চল্লিশ মিনিটই আমাকে গাড়িতে বা রাস্তায় থাকতে হয়। তখন আমি সাধারণ জ্ঞান পড়তে পারি। যাতায়াতে থাকার সময়ের অর্ধেকও যদি আমি সাধারণ জ্ঞান শেখার কাজে লাগাতে পারি, তাহলে আমি পাচ্ছি বিশ মিনিট। বিকেলে টিউশনিতে আসা-যাওয়ায় সময় খরচ হয় চল্লিশ মিনিট, সেখান থেকেও আমি বিশ মিনিট সময় আমার বিসিএস পরীক্ষর পড়ার কাজে লাগাতে পারি। তাহলে আমার চল্লিশ মিনিট হয়ে যাচ্ছে। অন্যান্য যোগাযোগে পাচ্ছি আরো বিশ মিনিট, মোট এক ঘণ্ট। কিন্তু বড়ো বই নিয়ে গাড়িতে বা হাঁটার সময় পড়া সম্ভব নয়, হাস্যকরও বটে।
কী করি?
আমি ১৪ ইঞ্চি বাই ৮.৫ ইঞ্চির সাদা কাগজকে আড়াআড়ি সমান চার ভাগ করে নিয়ে পঁচিশ-ত্রিশ তা কাটা পাতা দিয়ে একটি ছোটো খাতা বানালাম। খাাতটার নাম দিলাম জিকেন খাতা বা জেনারেল নোলেজ খাতা।

জিকেন খাতায় কোনো বাক্য লিখতাম না, বিভিন্ন বইপুস্তক, পত্রপত্রিকা, সংসদের প্রশ্নোত্তর প্রভৃতি হতে সংগৃহত তথ্য সংক্ষেপে লিখে রাখতম। প্রতিদিন অন্তত একটি পত্রিকা পড়তাম। ওই পত্রিকায় বিসিএস পরীক্ষায় আসতে পারে- এমন কোনো তথ্য থাকলে, তা তুলে নিতাম জিকেন খাতায়। একটি খাতা লেখা শেষ হলে আর একটি জিকেন খাতা তৈরি করতাম। রুম থেকে কোথাও যাওয়ার জন্য বের হলে, এমনকি বাথ রুমে গেলেও একটি করে জিকেন খাতা নিয়ে যেতাম।
হাঁটার সময় একটি তথ্য দেখে নিয়ে মনে মনে মুখস্থ করে নিতাম, সেটি শেষ হলে আর একটি। সমস্যা ছিল, ভুলে যাওয়া, পড়তাম আর ভুলতাম, কিন্তু বার বার পড়তে পড়তে অবস্থা এমন হলো যে, অনেক তথ্য আমার স্মৃতিতে অনেকটা কঠিন হয়ে গেঁথে থাকল-ঠিক সিমেন্ট যেমন লেগে থাকে ইটে।

আমি ফৌজি ফ্লাওয়ার মিলের জেনারেল ম্যানেজার মান্নান সাহেবের দুই ছেলে মুহিব ও আকিদকে পড়াতাম। মান্নান সাহেব ছিলেন বেশ ধনী। আমি জানতাম, এনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটিনিকায় অনেক তথ্য থাকে। ছাব্বিশ খ-ের এই গ্রন্থরাজির অনেক দাম, বাংলাদেশে পাওয়া যায় না। মুহিব এবং আকিদকে এনসাইক্লোপিডিয়ার প্রয়োজনীয়তা বললাম। কয়েকদিনের মধ্যে মান্নান সাহেব লন্ডন থেকে চাব্বিশটি খন্ড নিয়ে এলেন। এগুলো পেয়ে আমার সাধারণ জ্ঞানের পড়া আরও মজবুত হয়ে গেল।
তখন বিসিএস পরীক্ষায় পাঁচটি সাবজেক্ট ছিল সাধারণ ক্যাডারের প্রার্থীদের জন্য আবশ্যিক। এ বিষয়গুলো ছিল- বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ বিষয়াবলী, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী, সাধারণত গণিত এবং দৈনন্দিন বিজ্ঞান। পাঁচ বিষয়ে পাঁচশ নম্বর।
বিগত কয়েক বছরের প্রশ্নপত্র পর্যালোচনা করে দেখলাম, এই পাঁচটি বিষয়ের অধিকাংশ প্রশ্ন বিশেষ করে গণিত; ষষ্ঠ শ্রেণি হতে দশম শ্রেণির পাঠ্য বইয়ের অনুরূপ। লজিং আর টিউশনি করাতাম দশম আর অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের। ফলে, আমার কাছে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত গণিত একদম দিনের মতো আলোময় হয়ে গেল। তেমনিভাবে পরিষ্কার আয়ত্তে এসে গেল ইংরেজি গ্রামার এবং আরও নানা তথ্য।

একই সঙ্গে মাধ্যমিক পর্যায়ের বইগুলোতে বর্ণিত সাধারণ তথগুলোও আমার দখলে চলে এল। এরমধ্যে আমি এইচএসসির একজন ছাত্রী পড়াতে শুরু করি। এভাবে আমার বিসিএস প্রস্তুতি চলতে থাকে। বছর খানেক পর দেখতে পাই, আমি সাধারণ জ্ঞানে আগের চেয়ে অনেক দক্ষ হয়ে উঠেছি। আগে যেসব তথ্য আমার জানা ছিল না, এখন সেগুলো জিকেন খাতা থেকে আমার মগজে চলে এসেছে। তবে কোনো অবস্থাতে আমি অ্যাকাডেমিক অধ্যয়নকে বিঘœ হতে দিতাম না। কেননা, বিসিএস পরীক্ষার যোগ্যতা অর্জন করতে হলে আমাকে কমপক্ষে দ্বিতীয় বিভাগে অনার্স পাস করতে হবে।
আমি জানতাম, আমি প্রথম বিভাগ পাব না। কারণ আমার উদ্দেশ্য প্রথম বিভাগ নয়, বিসিএস পাস করা। অধিকন্তু, আগের মতো তখনও বইয়ের খুঁটিনাটি পড়ার অভ্যাস দূর করতে পারিনি। কিন্তু আগের মতো পাঠ্যবইয়ে এত সময় না-দিয়ে যেভাবে হোক কিছু সময় কমিয়ে বিএসএস পরীক্ষার জন্য ব্যয় করতে লাগলাম।
এত আগে প্রস্তুতির কারণ কী?
কারণ আছে।
যে-কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয় ইচ্ছা করলে একজন ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আয়ত্তে নিয়ে আসতে পারে, কিন্তু সাধারণ জ্ঞান এতই অসাধারণভাবে ব্যাপক যে, এর কোনো শেষ নেই। কেউ যদি আপনাকে জিজ্ঞাসা করে ১৮৬২ খ্রিষ্টাব্দে শ্রীমঙ্গলে কত ইঞ্চি বৃষ্টিপাত হয়েছিল? এটিও একটি সাধারণ জ্ঞান। এটাও আসতে পারে বিসিএস পরীক্ষায়। তাই পৃথিবীতে প্রায় প্রত্যেক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আছে, কিন্তু সাধারণজ্ঞান বিষয়ে কোনো বিশেষজ্ঞ নেই। অধিকন্তু আমাকে এমন হাজার হাজার প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে হবে, যাদের শক্তি সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই। তাই আমাকে সবচেয়ে বেশি রসদ নিয়ে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হতে হবে। যাতে আমার অচেনা প্রতিযোগীদের কাছে আমাকে হেরে যেতে না হয়। আর একটা বিষয়, এটি পাসফেলের পরীক্ষা, প্রথম হওয়ার পরীক্ষা। এজন্য আমি আগেভাগে সাধারণ জ্ঞান অধ্যয়ন শুরু করি।

আমি প্রথম থেকে কীভাবে অগ্রসর হয়েছি তা পরবর্তী একটা অধ্যায়ে বর্ণনা করা হয়েছে। একটা বিষয় মনে রাখবেন, অতি মেধাবীরা বিসিএস পরীক্ষায় টেকে না এবং অনেক সময় তাদেরে অনেকে বিসিএস পরীক্ষাও দেয় না। ব্রিটিশ আমলে সিএসপির মর্যাদা ছিল আলাদা। তাই অনেক সিএিসপি বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরি ছেড়ে দিয়ে সিএসপি হয়েছেন। আমার কয়েকজন সিএসপি বস ছিলেন, যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। কিন্তু তা ছেড়ে দিয়ে সিএসপি হয়েছেন। অবশ্য বর্তমানে বিসিএস-এর সে মর্যাদা এবং শানশওকত নেই। তাই আমার মতো মধ্যমানের শিক্ষার্থীরাই বিসিএস পরীক্ষায় আসে। অ্যাডমিন ক্যাডার তো এখন বলা যায়, কারণিক ক্যাডার। বিচার বিভাগ পৃথককরণের পর, প্রশাসন ক্যাডার এখন তার অতীত ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলেছে।

বিস্তারিত :বিসিএস প্রিলিমিনারি থেকে ভাইভা কৃতকার্য কৌশল


এখানে বিসিএস-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পাসের সহায়ক কয়েকটি বইয়ের ছবি দেওয়া হলো। বইগুলো সংগ্রহ করতে পারেন:
আলমগীর ০১৯১৫১-৬৫৩৩৩ (পুথিনিলয়)।
মাসুদুল হক : ০১৮১৭০৯১৩৮৬ (উত্তরণ)।
ওসমান গনি : ০১৮১৯-২১৯০২৪ (আগামী প্রকাশনী)।
তুষার প্রসূন : ০১৯৮০-১০৫৫৭৭ (অনুভব প্রকাশনী)।
মাকসুদ : ০১৭২৬-৯৫৬১০৪ (হাওলাদার প্রকাশনী)।
অথবা রকমারি ডট কম বা অন্যান্য অনলাইন গ্রুপ কিংবা নিকটস্থ লাইব্রেরিতে বলতে পারেন।
Language
error: Content is protected !!