বিসিএস বাংলা : ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর /৩

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর/৩

ড. মোহাম্মদ আমীন

বিদ্যাসাগর উপাধি

১৮৩৯ খ্রিষ্টাব্দের ২২ শে এপ্রিল ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় হিন্দু ল কমিটির পরীক্ষায় অসাধারণ কৃতিত্ব দেখাতে সক্ষম হন । ১৮৩৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই মে ল কমিটির কাছ থেকে তিনি যে প্রশংসাপত্রটি পান, তাতে সর্বপ্রথম তাঁর নামের সঙ্গে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধিটি যুক্ত করা হয়। সংস্কৃত কলেজে বারো বছর পাঁচ মাস অধ্যয়নের পর তিনি এই কলেজ থেকে অপর একটি প্রশংসাপত্র লাভ করেন। ১৮৪১ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে প্রাপ্ত দেবনাগরী হরফে লিখিত এই সংস্কৃত প্রশংসাপত্রে কলেজের অধ্যাপকগণ তাঁকে পুনরায় ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

 সনাতন পাঠশালায় ভর্তি

চার বছর নয় মাস বয়সে পিতা ঠাকুরদাস ঈশ্বরচন্দ্রকে গ্রামের সনাতন পাঠশালায় ভর্তি করে দেন। রামজয় তর্কভূষণের উদ্যোগে পাশের  গ্রামের কালীকান্ত চট্টোপাধ্যায়, বীরসিংহে একটি পাঠশালা স্থাপন কললে ঈশ্বরচন্দ্র, বাংলা শেখার জন্য আট বছর বয়সে এই পাঠশালায় ভর্তি হন।

 কলকাতা গমন

১৮২৮ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে পাঠশালার শিক্ষা সমাপ্ত করে উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য পিতার সঙ্গে কলকাতায় আসেন। কথিত আছে, পদব্রজে মেদিনীপুর থেকে কলকাতায় আসার সময় পথের ধারে মাইল ফলকে ইংরেজি সংখ্যা দেখেই তিনি সবগুলো সংখ্যা আয়ত্ত করে নিয়েছিলেন।

 ইংরেজি শ্রেণিতে ভর্তি

ব্যাকরণ পড়ার সময় ঈশ্বরচন্দ্র ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে সংস্কৃত কলেজের ইংরেজি শ্রেণিতেও ভর্তি হন। ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে বার্ষিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের জন্য মাসিক পাঁচ টাকা হারে বৃত্তি এবং ‘আউট স্টুডেন্ট’ হিসেবে একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ ও আট টাকা পারিতোষিক পান।

 কাব্য শ্রেণিতে ভর্তি

সংস্কৃত কলেজে তিন বছর ব্যাকরণ শ্রেণিতে অধ্যয়নের পর বারো বছর বয়সে কাব্য শ্রেণিতে ভর্তিহন। তখন এই শ্রেণির শিক্ষক ছিলেন জয়গোপাল তর্কালঙ্কার। ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে ‘পে স্টুডেন্ট’ হিসেবে ঈশ্বরচন্দ্র ২ টাকা বৃত্তি পান।

বিবাহ

১৮৩৪ খ্রিষ্টাব্দে ইংরেজি ষষ্ঠশ্রেণির ছাত্র ঈশ্বরচন্দ্র বার্ষিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের জন্য ৫ টাকা মূল্যের পুস্তক পারিতোষিক হিসেবে পান। এই বছর ক্ষীরপাই নিবাসী শত্রুঘ্ন ভট্টাচার্যের কন্যা দীনময়ী দেবীর সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়।

 অলংকার শ্রেণিতে প্রবেশ

১৮৩৫ খ্রিষ্টাব্দে ইংরেজি পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র হিসেবে পলিটিক্যাল রিডার নং ৩ ও ইংলিশ রিডার নং ২ পারিতোষিক পান। এ বছর নভেম্বর মাসে সংস্কৃত কলেজ থেকে ইংরেজি শ্রেণি উঠিয়ে দেওয়া হয়। দ্বিতীয় বর্ষে সাহিত্য পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে পনেরো বছর বয়সে প্রবেশ করেন অলংকার শ্রেণিতে। এক বছরের মধ্যেই তিনি অলংকার সাহিত্যে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। ১৮৩৬ খ্রিষ্টাব্দে অলংকার পাঠ শেষ করেন। বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে রঘুবংশম্, সাহিত্য দর্পণ, কাব্যপ্রকাশ, রত্নাবলী, মালতী মাধব, উত্তর রামচরিত, মুদ্রারাক্ষস, বিক্রমোর্বশী ও মৃচ্ছকটিক গ্রন্থ পারিতোষিক পান। ১৮৩৭ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসে তাঁর ও মদনমোহনের মাসিক বৃত্তি বেড়ে হয় আট টাকা।


বিসিএস বাংলা : ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর /১

বিসিএস বাংলা : ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর/২

knowledge Link

শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ)/১

শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ)/২

শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ)/৩

শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ)/৪

Language
error: Content is protected !!