বিসিএস বাংলা : ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর /৬

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর/৬

ড. মোহাম্মদ আমীন

 

নারী শিক্ষায় বিদ্যাসাগর

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে বর্ধমান জেলায় মেয়েদের জন্য একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। গ্রামাঞ্চলে নারীদের মধ্যে শিক্ষার প্রসারের উদ্দেশ্যে তিনি বাংলার বিভিন্ন জেলায় স্ত্রীশিক্ষা বিধায়নী সম্মেলনী প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ব্যাক্তিগত উদ্যোগ নিয়ে ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে মে মাসের মধ্যে নদীয়া, বর্ধমান, হুগলী ও মেদিনীপুর জেলায় ৩৫ টি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। প্রায় ১৩০০ ছাত্রী এই স্কুলসমূহে অধ্যয়ন করত। ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় বালিকা বিদ্যালয়ের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৮৮ টি। ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় “মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন” প্রতিষ্ঠা করেন। যা বর্তমানে বিদ্যাসাগর কলেজ নামে পরিচিত। নিজের মায়ের নামে নিজ গ্রাম বীরসিংহে ভগবতী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

 বাংলা গদ্যের জনক

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মের বহুপূর্বে বাংলা গদ্যরচনার সূত্রপাত হলেও তাঁকে বলা হয় বাংলা গদ্যের প্রথম সার্থক জনক। কারণ ঈশ্বরচন্দ্রপূর্ব বাংলা গদ্য ছিল শিল্পগুণবিবর্জিত নীরস এবং অনেক ক্ষেত্রেই অসংলগ্ন বাক্যসমষ্টি। বিদ্যাসাগর সর্বপ্রথম বাংলা সাধু গদ্যের একটি মান্য ধ্রুবক নির্ধারণ করেন। এই অর্থে তিনি ছিলেন বাংলা গদ্যের নব জন্মদাতা। মান্য সাধু বাংলা গদ্যের শিল্পরূপটি  কেমন হতে পারে, তার প্রথম আভাস পাওয়া গিয়েছিল, সংস্কৃত সাহিত্য থেকে অনূদিত বিদ্যাসাগরের বাংলা রচনাসমূহে। ১৮৫৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত শকুন্তলা এবং ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত ‘‘সীতার” বনবাস গ্রন্থে তাঁর সে নব গদ্যশৈলীর পরিচয় পাওয়া যায়।

বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ

বর্ণপরিচয় (১ম ও ২য় ভাগ :১৮৫৫);  ঋজুপাঠ (১ম, ২য় ও ৩য় ভাগ : ১৮৫১-৫২); সংস্কৃত ব্যাকরণের উপক্রমণিকা (১৮৫১); ব্যাকরণ কৌমুদী (১৮৫৩)।

 বিদ্যাসাগর রচিত মৌলিক গ্রন্থ

সংস্কৃত ভাষা ও সংস্কৃত সাহিত্য বিষয়ক প্রস্তাব (১৮৫৩); বিধবা বিবাহ চলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব (১৮৫৫); বহুবিবাহ রহিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব (প্রথম খণ্ড ১৮৭১, ২য় খণ্ড ১৮৭৩); অতি অল্প হইল এবং ”আবার অতি অল্প হইল দুখানা পুস্তক (১৮৭৩, বিধবা বিবাহ বিরোধী পণ্ডিতদের প্রতিবাদের উত্তরে ‘কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য’ ছদ্মনামে।); ব্রজবিলাস (১৮৮৪); রত্নপরীক্ষা (১৮৮৬); প্রভাবতী সম্ভাষণ (১৮৬৩); জীবন-চরিত (১৮৯১ ; মরণোত্তর প্রকাশিত); শব্দমঞ্জরী (১৮৬৪); নিষ্কৃতি লাভের প্রয়াস (১৮৮৮); ভূগোল খগোল বর্ণনম্ (১৮৯১ ; মরণোত্তর প্রকাশিত)।

বিদ্যাসাগর রচিত অনুবাদ গ্রন্থ

হিন্দি থেকে বাংলা অনূদিত গ্রন্থ বেতাল পঞ্চবিংশতি। লল্লুলাল লিখিত বেতাল পচ্চীসী গ্রন্থটির অনুবাদ  ১৮৪৭ খ্রিষ্টাব্দের অগাস্ট মাসে প্রকাশিত হয়।

সংস্কৃত থেকে বাংলা : শকুন্তলা (ডিসেম্বর,১৮৫৪, কালিদাসের অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ অবলম্বনে); সীতার বনবাস (১৮৬০, ভবভূতির উত্তর রামচরিত ও বাল্মীকি রামায়ণ-এর উত্তরাকান্ড অবলম্বনে); মহাভারতের উপক্রমণিকা (১৮৬০, ব্যাসদেব মূল মহাভারত-এর উপক্রমণিকা অংশ অবলম্বনে); বামনাখ্যানম্ (১৮৭৩ ; মধুসূদন তর্কপঞ্চানন রচিত ১১৭টি শ্লোকের অনুবাদ)।

ইংরেজি থেকে বাংলা : বাঙ্গালার ইতিহাস (১৮৪৮, মার্শম্যান কৃত হিস্ট্রি অফ বেঙ্গল অবলম্বনে রচিত); জীবনচরিত (১৮৪৯, চেম্বার্সের বায়োগ্রাফিজ অবলম্বনে রচিত); নীতিবোধ (প্রথম সাতটি প্রস্তাব ১৮৫১ ; রবার্ট ও উইলিয়াম চেম্বার্সের মরাল ক্লাস বুক অবলম্বনে রচিত); বোধোদয় (১৮৫১ ; চেম্বার্সের রুডিমেন্টস অফ নলেজ অবলম্বনে রচিত); কথামালা (১৮৫৬ ; ঈশপস ফেবলস অবলম্বনে রচিত); চরিতাবলী (১৮৫৭, বিভিন্ন ইংরেজি গ্রন্থ ও পত্রপত্রিকা অবলম্বনে রচিত); ভ্রান্তিবিলাস (১৮৬৯, শেক্সপিয়রের কমেডি অফ এররস অবলম্বনে রচিত)। ইংরেজি গ্রন্থ : পোয়েটিক্যাল সিলেকশনস্, সিলেকশনস্ ফ্রম গোল্ডস্মিথ, সিলেকশনস্ ফ্রম ইংলিশ লিটারেচার।

বিদ্যাসাগর সম্পাদিত গ্রন্থ

অন্নদামঙ্গল (১৮৪৭); কিরাতার্জ্জুনীয়ম্(১৮৫৩); সর্বদর্শনসংগ্রহ (১৮৫৩-৫৮);শিশুপালবধ (১৮৫৩); কুমারসম্ভবম্ (১৮৬২); কাদম্বরী (১৮৬২); বাল্মীকি রামায়ণ (১৮৬২); রঘুবংশম্ (১৮৫৩); মেঘদূতম্ (১৮৬৯); উত্তরচরিতম্ (১৮৭২); অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ (১৮৭১); হর্ষচরিতম্ (১৮৮৩); পদ্যসংগ্রহ প্রথম ভাগ (১৮৮৮, কৃত্তিবাসি রামায়ণ থেকে সংকলিত); পদ্যসংগ্রহ দ্বিতীয় ভাগ (১৮৯০, রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র রচিত অন্নদামঙ্গল থেকে সংকলিত)।


বিসিএস বাংলা : ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর /১

বিসিএস বাংলা : ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর/২

বিসিএস বাংলা : ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর /৩

বিসিএস বাংলা : ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর /৪

বিসিএস বাংলা : ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর /৫

knowledge Link

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/২

সাধারণজ্ঞান সমগ্র/১

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ)/১

শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ)/২

শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ)/৩

শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ)/৪

 

 

error: Content is protected !!