বিসিএস বাংলা সাধারণ জ্ঞান বাংলা গদ্যগ্রন্থের প্রথম নিদর্শন

বাংলা গদ্যগ্রন্থের প্রথম নিদর্শন
দোম অ্যান্তনিউ প্রণীত ‘ব্রাহ্মণ রোমান ক্যাথালিক সংবাদ’ বাংলা গদ্য সাহিত্যের আদি নিদর্শন। ১৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দের কিছু পূর্বে বইটি রচিত হয়েছিল। তবে গ্রন্থটি ছাপা হয়নি। পর্তুগালের এভোরা নগরে গ্রন্থটির মূল পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে। পর্তুগিজ পাদ্রি ম্যানুয়াল দ্যা আসসুম্পসাঁউ বইটি পর্তুগিজ ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন। সুরেন্দ্রনাথ সেন পর্তুগালের এভেরো নগরে গিয়ে গ্রন্থটির অধিকাংশ নকল করে নিয়ে আসেন। দোম অ্যান্তনিউ ছিলেন ভূষণার রাজকুমার। ১৬৬৩ খ্রিষ্টাব্দে মগ দস্যুরা তাঁকে বন্দি করে আরকানে নিয়ে যায়। এক রোমান পাদ্রি টাকা দিয়ে তাঁকে মুক্ত করে নিয়ে আসেন এবং খ্রিষ্ট ধর্মে দীক্ষিত করে দোম অ্যান্তনিউ নাম রাখেন।

প্রথম গদ্যবাচ্য, বাংলা গদ্যে লিখিত প্রাচীনতম মুদ্রিত পুস্তক
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পাঠ্যসূচি প্রস্তুতের সময় বাংলা গ্রন্থের অভাববোধ কেরিকে বাংলা গ্রন্থ রচনায় উৎসাহী করে তোলে। ঊনবিংশ শতকের পূর্বে বাংলা সাহিত্যে গ্রহণযোগ্য কোনো গদ্যগ্রন্থ ছিল না। পর্তুগিজ পাদ্রিগণ প্রথম— মূলত ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে গদ্য পদবাচ্যমূলক গ্রন্থ রচনার উদ্যোগ গ্রহণ করতে বাধ্য হন। এ ধারার প্রাচীনতম বই দোস আন্তনিও রচিত ‘ব্রাক্ষ্মণ রোমান ক্যাথালিক সংবাদ’। ১২০ পৃষ্ঠা পরিধির এ বইটি সপ্তদশ শতকের সপ্তম দশকের প্রথম পুস্তক। তবে, ধর্ম প্রচারই ছিল গ্রন্থটি রচনার মূল উদ্দেশ্য। পর্তুগিজ পাদ্রীদের অপর বই ‘কৃপাশাস্ত্রের অর্থভেদ’। ৩৯১ পৃষ্ঠার এ পুস্তকটি ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে পাদ্রি ম্যানুয়াল দ্যা আসসুম্পসাঁউ ভাওয়ালের প্রচলিত মৌখিক ভাষায় রচনা করেন। এটি বাংলা গদ্যে লিখিত প্রাচীনতম মুদ্রিত পুস্তক।

ড. মোহাম্মদ আমীন, বিসিএস (প্রশাসন), দশম ব্যাচ।

error: Content is protected !!