বিসিএস বাংলা সাধারণ জ্ঞান : মধ্যযুগের মহিলা কবি ও দোভাষী পুথি

মধ্যযুগের মহিলা কবি
রামী বোধানী, মাধবী দাসী, চন্দ্রাবতী, আনন্দময়ী, গঙ্গামণি ও রহিমুন্নিসা প্রমুখ বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের মহিলা কবি। এঁদের মধ্যে চন্দ্রাবতী ছিলেন শীর্ষ স্থানীয়া। ১৫৫০ খ্রিষ্টাব্দে কিশোরগঞ্জ জেলার নীলগঞ্জের পাটোয়ারী গ্রামে চন্দ্রাবতী জন্মগ্রহণ করেন।মনাসামঙ্গলকাব্যের রচয়িতা দ্বিজ বংশীদাস ছিলেন চন্দ্রাবতীর পিতা। ‘রামায়ণ’ চন্দ্রাবতীর শ্রেষ্ঠ কাব্য। পিতার আদেশে তিনি কাব্যটি রচনা শুরু করেন। রামের জন্ম হতে সীতার বনবাস পর্যন্ত লেখা শেষ হওয়ার পর এক দুর্ঘটনায় তিনি মারা যান।

দোভাষী পুথি সাহিত্যের কেন্দ্র
বড়খাঁ গাজী নামে খ্যাত পির ইসমাইল গাজীকে আশ্রয় করে ভূরশূট-মন্দারণে দোভাষী পুথি সাহিত্যের কেন্দ্র গড়ে ওঠে। গরীবুল্লা এবং সৈয়দ হামজা ছিলেন ভূরশূট-মন্দারণের প্রখ্যাত কবি। গরীবুল্লা ছিলেন বড়খাঁ গাজীর ভক্ত। তিনি উর্দু কাব্য ‘দাস্তান-ই-আমীর হামজা’র ভাবালম্বনে ‘আমীর হামজা’ কাব্য রচনা করেছিলেন, তবে তা সম্পূর্ণ করে যেতে পারেননি। ১৭৯২ খ্রিষ্টাব্দে সৈয়দ হামজা গরীবুল্লার অসমাপ্ত কাব্য ‘আমীর হামজা’ সমাপ্ত করেন। গরীবুল্লার দ্বিতীয় কাব্য ‘ইউসুফ জোলেখা’। তবে, বাংলায় ইউসুফ জোলেখা’ কাব্যের আদি রচয়িতা শাহ মুহম্মদ সগীর। গরীবুল্লার অন্যান্য কাব্য ‘জঙ্গনামা’ (মুহম্মদ এয়াকুব আলীর নামে পরিচিত), ‘সোনাভানের পুথি’ (সৈয়দ হামজার নামে প্রচলিত) এবং সত্য-পীরের পুথি উল্লেখযোগ্য। দোভাষী পুথি রচয়িতাদের মধ্যে সবচেয়ে খ্যাতিমান ছিলেন সৈয়দ হামজা। তাঁর রচিত চারটি কাব্য- ‘মধুমালতি’, আমির হামজা’(দ্বিতীয় খণ্ড), ‘জৈগুনের পুথি’ ও ‘হাতেম তাই’। 

প্রথম দোভাষী পুথির রোমান্টিক কাহিনী
১৮৬৪ খ্রিষ্টাব্দে মুহম্মদ খাতের, লায়লি-মজনু কাব্য রচনা করেন। এটি বাংলা সাহিত্যে প্রথম দোভাষী পুঁথির রোমান্টিক কাহিনি হিসেবে খ্যাত।দোভাষী পুথির রোমান্টিক কাহিনির মধ্যে ‘লায়লি-মজনু, ‘গোলে বকাউলি’, ‘চাহার দরবেশ’ ও ‘হাতেম তাই’ প্রভৃতি প্রসিদ্ধ। 

দোভাষী পদ্যে শাহনামার তরজমা ও মধুমালতি কাব্যের আদি রচয়িতা
দোভাষী পদ্যে ‘শাহনামা’র প্রথম তরজমা করেন মুহাম্মদ খাতের। ষোড়শ শতকের হিন্দি-অবধী ভাষার কবি মন্ঝন ‘মধুমালতি’ কাব্যের আদি রচয়িতা।

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

বিসিএস বাংলা সাধারণ জ্ঞান : কবিওয়ালা পদাবলি বাউল গীতগোবিন্দম

error: Content is protected !!