বিসিএস সমগ্র /২: শুবাচ

ড. মোহাম্মদ আমীন
শুবাচ বিসিএস সমগ্র/১১

হেমলক

হেমলক ইউরোপ ও উত্তর আফ্রিকায় বহুল পরিচিত অত্যন্ত বিষাক্ত বহুবর্ষজীবী একটি সপুস্পক উদ্ভিদ। হেমলকের রস থেকে প্রচণ্ড বিষাক্ত একপ্রকার বিষ তৈরি করা হয়। যার নামও হেমলক। সক্রেটিসকে এই হেমলক পান করিয়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছিল।
শুবাচ বিসিএস সমগ্র/১২

চন্দ্রমুদ্রা বা Moon Money

চন্দ্রমুদ্রা বা Moon Money হলো প্রাচীনকালে চীনে প্রচলিত এক ধরনের বিনিময় মাধ্যম বা বিনিময় মুদ্রা। তামার তৈরি এ মুদ্রাটি অর্ধ চন্দ্রাকৃতির ছিল।তাই এর নাম হয় চন্দ্রমুদ্রা।
সূত্র: বিসিএস সমগ্র (বিবিধ), ড. মোহাম্মদ আমীন।
শুবাচ বিসিএস সমগ্র/১৩

অপেরা

ইতালীয় অপেরা (Opera) শব্দের বাংলা গীতিনাট্য। এর উদ্ভব ইতালিতে। পরবর্তীকালে তা সমগ্র ইউরোপে

ড. মোহাম্মদ আমীন

ছড়িয়ে পড়ে। এটি পাশ্চাত্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় গীতিনির্ভর বিশেষ ধরনের নাটক। এটি পশ্চিমা শাস্ত্রীয় সংগীতের একটি প্রধান শাখা। অভিনয়, পোশাকসজ্জা এবং কখনো কখনো নৃত্য সহকারে মঞ্চে গীতিনাট্য পরিবেশন করা হয়। সহজ কথা, সংগীত-প্রধান নাটককে অপেরা বা গীতিনাট্য বলা হয়।অপেররার কাহিনি ও চরিত্রের সঙ্গে সমন্বয় করে সংগীত চয়ন করা হয়। শকুন্তলা বাংলা ভাষার প্রথম অপেরা বা গীতিনাট্য।

সূত্র: বিসিএস সমগ্র (বিবিধ), ড. মোহাম্মদ আমীন।
শুবাচ বিসিএস সমগ্র/১৪

ক্রশ ভোটিং

শাসকদল বা বিরোধীদলের সদস্যগণ যখন দলের সিদ্ধান্ত কিংবা দলগত বাধা এবং সমর্থন ভঙ্গ করে বিপক্ষ দলকে ভোট দেয় তাকে ক্রশ ভোটিং বলা হয়।
সূত্র: বিসিএস সমগ্র (বিবিধ), ড. মোহাম্মদ আমীন।
শুবাচ বিসিএস সমগ্র/১৫

নববর্ষ সববছর ১৪ই এপ্রিল হয় কীভাবে?

প্রতি চার বছর অন্তর লিপ ইয়ার। লিপইয়ারে একদিন বেশি। সে বছর নববর্ষ ১৪ই এপ্রিল নাও হতে পানে; কিন্তু তবু বাংলা নববর্ষ কীভাবে সববছর ১৪ই এপ্রিল হয়?
বঙ্গাব্দকে আধুনিক করার লক্ষ্যে ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ই ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমি ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে। গঠিত কমিটির প্রস্তাব অনুসারে বছরের ১ম পাঁচ মাস ৩১দিনের ও বাকি ৭ মাস ৩০দিনের এবং লিপইয়ারের ক্ষেত্রে ফাল্গুন মাসে ১দিন যোগ করা হয়।এ কারণে বাংলা নববর্ষ প্রতিবছর ১৪ এপ্রিল হয়।

শুবাচ বিসিএস সমগ্র/১৬

ট্যাবলয়েড পত্রিকা

সাধারণত যে আকারের পত্রিকা প্রকাশিত হয় তার চেয়ে অর্ধেক আকারের পত্রিকাকে ট্যাবলয়েড পত্রিকা বলে । যেমন: মানবজমিন ।
শুবাচ বিসিএস সমগ্র/১৭
থানা বনাম উপজেলা:
থানারর আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রধান অফিসার ইনচার্জ (OC)। উপজেলার প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (UNO)। একটি উপজেলায় একাধিক থানা থাকতে পারে। তবে একটি থানায় একাধিক উপজেলা থাকতে পারে না। উপজেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির প্রধান হলো উপজেলা নির্বাহী অফিসার।,উপজেলায় উপজেলা চেয়ারম্যান থাকে ও ভাইস চেয়ারম্যান থাকে। একটি উপজেলার অন্তর্ভুক্ত বিশেষ এলাকা।
শুবাচ বিসিএস সমগ্র/১৮

খাণ্ডব, খাণ্ডবদাহ খাণ্ডবদহন

খাণ্ডব, মহাভারতে বর্ণিত যমুনা নদীর তীরে (বর্তমান দিল্লির নিকট) অবস্থিত বনবিশেষ। অগ্নিকে সন্তুষ্ট করার জন্য কৃষ্ণ ও অর্জুন জীবজন্তুসহ পুরো খাণ্ডব বন দাহ করে ফেলে। কৃষ্ণার্জুনের খাণ্ডববন দাহ করার এই ঘটনাই হচ্ছে খাণ্ডবদাহ বা খাণ্ডবদহন।
অগ্নি পনেরো দিন ধরে খাণ্ডববন দগ্ধ করে। বনের প্রাণীর মধ্যে ময় নামক দানব, তক্ষক নাগের পুত্র অশ্বসেন ও চারটি মাত্র শর্ঙ্গক পক্ষী রক্ষা পায়। বাকি সব জীবজন্তু অগ্নির দহনে লয়প্রাপ্ত হয়। খাণ্ডববনের এই মহা দাহকে খাণ্ডবদাহ বলে। খাণ্ডবদাহ ও খাণ্ডবদাহন সমার্থক। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা একাডেমি অনুযায়ী খাণ্ডবদাহ অর্থ শ্রীকৃষ্ণ ও অর্জুনের সহায়তায় খাণ্ডববন দহন।
নজরুল লিখেছেন:
“ওই বন্দুক তোপ, সন্দুক তোর পড়ে থাক, স্পন্দুক বুক যায়!
নাচ তাতা থই থই তাতা থই –
থই তাণ্ডব, আজ পাণ্ডব সম খাণ্ডবদাহ চাই।”
(রণ-ভেরী:৪১; অগ্নি-বীণা)
শুবাচ বিসিএস সমগ্র/১৯

ভাইরাস

‘ভাইরাস’ লাতিন শব্দ।এর লাতিনিক মূল অর্থ— বিষ। ‘বিষ’ থেকে ভাইরাস শব্দের অর্থ দাঁড়িয়েছে— ‘একদল অতি খুদে শয়তান যারা শরীরে ঢুকে অসুস্থতা আনে। কিছু কিছু ভাইরাস অণুবীক্ষণেও গা ঢাকা দিয়ে থাকতে পারে। কবির ভাষায়:
‘‘স্বার্থ আর লুব্ধতার ভাইরাস বলে,
‘আয় আয় ঢুকে পড়ি সবলে সকলে’,
সমাজের শরীরে শরীরে বেঁধে ফেলি বাসা।” (ভাইরাস, কল্যাণ দাশগুপ্ত)
তবে বাংলায় ‘ভাইরাস’ শব্দটি বিষ অর্থে ব্যবহৃত হয় না। আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, শব্দটির অর্থ— জীবদেহে রোগ সৃষ্টি করে এমন অতি ক্ষুদ্র জীবাণু; কম্পিউটারের উপাত্ত ধ্বংস করে এমন গুপ্ত সাংকেতিক নির্দেশ।অর্থাৎ, ‘ভাইরাস’ এখন শুধু জীবের শরীরে নয়, কম্পিউটারেও হানা দিয়েছে। তবে এ ভাইরাস জীবাণু ভাইরাস নয়। সূত্র: পৌরাণিক শব্দের উৎস, ড. মোহাম্মদ আমীন।
—————————————————
শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com
error: Content is protected !!