বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন : ষষ্ঠ শহিদ বীরশ্রেষ্ঠ

ড. মোহাম্মদ আমীন

. মোহাম্মদ রুহুল আমিন : ১০ই ডিসেম্বর

মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের জন্য ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে “বীরশ্রেষ্ঠ” উপাধিতে ভূষিত করা হয়। মোহাম্মদ রুহুল আমিন ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার বাঘপাঁচড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই ডিসেম্বর শাহাদাত বরণ করেন। সাত জন বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে শাহাদাতের তারিখ বিবেচনায় তিনি ষষ্ঠ। তাঁর পিতা আজহার পাটোয়ারী এবং মায়ের নাম জোলেখা খাতুন। এসএসসি পাশ করে ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি জুনিয়র মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যোগদান করেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাকে ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রাম পিএনএস বখতিয়ার নৌঘাঁটিতে বদলি করা হয়। ১৯৭১  খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল মাসে ঘাঁটি থেকে পালিয়ে ভারতের ত্রিপুরা সীমান্ত অতিক্রম করে আগরতলা সেক্টর প্রধান কোয়ার্টারে যান এবং সেখানে মেজর শফিউল্লাহর অধীন ২ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন।

১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৬ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী যশোর সেনানিবাস দখলের পর ‘পদ্মা’, ‘পলাশ’ এবং ভারতীয় মিত্রবাহিনীর একটি গানবোট ‘পাভেল’ খুলনার মংলা বন্দরে পাকিস্তানি নৌঘাঁটি পিএনএস তিতুমীর দখলের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ১০ই ডিসেম্বর দুপুর ১২টার দিকে গানবোটগুলো খুলনা শিপইয়ার্ডের কাছে এলে অনেক উঁচুতে তিনটি জঙ্গি বিমানকে উড়তে দেখে। পদ্মা ও পলাশ থেকে গুলি করার অনুমতি চাওয়া হলে অভিযানের সর্বাধিনায়ক ক্যাপ্টেন মনেন্দ্রনাথ ভারতীয় বিমান মনে করে অনুমতি দেননি। কিছুক্ষণ পরে বিমানগুলো গুলিবর্ষণ শুরু করে। গোলা সরাসরি ‘পদ্মা’র ইঞ্জিন রুমে আঘাত করে। পলাশের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রায় চৌধুরী নাবিকদের যুদ্ধ বন্ধ করে জাহাজ ত্যাগের নির্দেশ দেন। রুহুল আমিন উপস্থিত সবাইকে বিমান লক্ষ করে গুলি ছোঁড়ার নির্দেশ দিয়ে ইঞ্জিন রুমে ফিরে গিয়ে বিমান লক্ষ করে গুলিবর্ষণ করতে থাকেন। বিমানের উপর্যুপরি বোমাবর্ষণে পলাশের ইঞ্জিনরুম ধ্বংস হয়ে যায়। গোলার আঘাতে রুহুল আমিনের ডান হাত উড়ে যায়। আহত রুহুল আমিন রূপসা নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। আহত রুহুল আমিনকে রাজাকার দল বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে। পরবর্তীকালে স্থানীয় জনসাধারণ বাগমারা গ্রামে রূপসা নদীর পাড়ে তাকে তাঁকে দাফন করে এবং সেখান একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দে  জেলাপ্রশাসনের উদ্যোগে তাঁর সমাধিসৌধের সংস্কার করা হয়।


১. বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : প্রথম শহিদ বীরশ্রেষ্ঠ 

২. বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল : দ্বিতীয় শহিদ বীরশ্রেষ্ঠ

৩. বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : তৃতীয় শহিদর বীরশ্রেষ্ঠ

৪.  বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নুর মোহাম্মদ শেখ : চতুর্থ শহিদ বীরশ্রেষ্ঠ

৫. বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ হামিদুর রহমান : পঞ্চম শহিদ বীরশ্রেষ্ঠ. 

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ সমগ্র : লিংক

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ : মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সেক্টর কমান্ডার

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ : অপারেশন জ্যাকপট

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ : মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহিদ প্রথম প্রতিরোধকারী

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন

শুবাচ

শুদ্ধ বানান চর্চা/২

শুদ্ধ বানান চর্চা/৪

error: Content is protected !!