বুরকিনা ফাসো (Burkina Faso) ইতিহাস ও নামকরণ

ড. মোহাম্মদ আমীন

বুরকিনা ফাসো ( Burkina Faso)

স্থলবেষ্ঠিত দেশ বরুকিনা ফাসো পশ্চিম-আফ্রিকায় অবস্থিত। এর উত্তরে মালি, পূর্বে নাইজার, দক্ষিণ-পূর্বে বেনিন, দক্ষিণে টোগো ও ঘানা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে আইভরি কোস্ট অবস্থিত। রাজধানীর নাম ওয়াগাডুগু (Ouagadougou) । ওয়াগাডুগুর অর্থ ‘এখানে আমাদের ঘরে আমাদের সঙ্গে আপনাকে স্বাগত’ (You are welcome here at home with us)। মুদ্রার নাম ফ্রাংক। পৃথিবীর রাজধানীর নামসমূহের মধ্যে এর চেয়ে কাব্যিক ও হৃদ্যিক নাম আর নেই। ফ্রেঞ্চ বুরকিনা ফাসোর সরকারি ভাষা। দেশের অধিবাসীরা সরকারিভাবে বুরকিনাব নামে পরিচিত। দেশটির ৬০.৫০% অধিবাসী মুসলিম।
বুরকিনা ফাসোর প্রাচীন নাম ‘আপার ভোল্টা’। ‘আপার ভোল্টা’ শব্দের অর্থ ‘আপার ভোল্টা’ নদীর দেশ। আপার ভোল্টা নদীর শাখাপ্রশাখা ও পলি-বিধৌত হয়ে ভূখ-টি গঠিত। এ নদীর পলি আর জলে অধিবাসীদের সমৃদ্ধ রচিত। তাই নাম রাখা হয়েছিল আপার ভোল্টা। ভোল্টা পর্তুগিজ শব্দ। এর অর্থ সুতা, বাঁক (twist, turn)। পর্তুগিজ স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা অঞ্চলটিকে চিহ্নিত করার জন্য নদীটির নাম ভোল্টা এবং নদীর নিকটবর্তী ভূখ-টির নাম রাখেন আপার ভোল্টা।

১৯৬০ খ্রিস্টাব্দের ৫ আগস্ট ফ্রান্স হতে স্বাধীনতা লাভের পর প্রেসিডেন্ট থমাস সঙ্কারা দেশটির নাম পরিবর্তন করে বুরকিনা ফাসো রাখেন। বুরকিনা শব্দের অর্থ স ৎবা সম্মানিত এবং ফাসো শব্দের অর্থ পিতৃভূমি বা দেশ। সুতরাং বুরকিনা ফাসো শব্দের সম্মিলিত অর্থ সম্মানিত মানুষের দেশ (Land of the Honourable People) সৎ মানুষের দেশ। এ নামটাকে পৃথিবীর স্বাধীন দেশসমূহের নামের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর এবং অর্থবহ নাম বলা হয়।

বুরকিনা ফাসোর মোট আয়তন ২,৭৪,২০০ বর্গকিলোমিটার বা ১,০৫,৮৬৯ বর্গমাইল। তন্মধ্যে জলীয় ভাগের পরিমাণ ০.১৪৬%। ২০১৪ খ্রিস্টাব্দের হিসাবমতে, জনসংখ্যা ১,৭৩,২২,৭৯৬ এবং প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যা ৫৭.৪। আয়তন বিবেচনায় বুরকিনা ফাসো পৃথিবীর ৭৪-তম বৃহত্তম দেশ কিন্তু জনসংখ্যা বিবেচনায় ৬১-তম। আবার জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনা বুরকিনা ফাসো পৃথিবীর ১৪৫-তম জনবহুল দেশ।

২০১৪ খ্রিস্টাব্দের হিসাবমতে, বুরকিনা ফাসোর মোট জিডিপি (পিপিপি) ২৮.০০০ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং মাথাপিছু আয় ১৬৬৬ ইউএস ডলার। অন্যদিকে, জিডিপি (নমিনাল) ১৩.০০০ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং মাথাপিছু আয় ৭৯০ ইউএস ডলার। মুদ্রার নাম ফ্রাঙ্ক। সরকারি ভাষা ফ্রেঞ্চ। দেশটি ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দের ৫ আগস্ট ফ্রান্স হতে স্বাধীনতা লাভ করে। ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের ৪ আগস্ট বুরকিনা ফাসোর বর্তমান পতাকাটি গৃহীত হয়।

এটি সাহারা মরুভূমির দক্ষিণে অবস্থিত এবং দরিদ্র রাষ্ট্র। জনগণের জীবনযাত্রার মান খুব নিচে। এখানে ৬০টি নৃতাত্তি¦ক গোষ্ঠী রয়েছে। প্রত্যেকের রয়েছে আলাদা লোকসংগীত। এরা প্রায় প্রত্যেক খাবার সস দিয়ে থাকেন। স্বর্ণ এ দেশের প্রথম রপ্তানি দ্রব্য। তারপর আছে তুলা, পশুজাত দ্রব্য। এটি আফ্রিকার বৃহত্তম তুলা উৎপাদনকারী দেশ। বায়ে-টেক শস্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার পর বুরকিনা ফাসোর স্থান। এখানে পাওয়া যায় ম্যাঙ্গনিজ, লাইমস্টোন, মার্বেল, পিউমিস ও লবণ। এটি আফ্রিকার চতুর্থ স্বর্ণ উৎপাদনকারী দেশ।

বতসোয়ানা

error: Content is protected !!