বেসরকারি মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষক: অধ্যাপক পদবি কতটুকু যৌক্তিক

ড. মোহাম্মদ আমীন
সংযোগ: https://draminbd.com/বেসরকারি-মহাবিদ্যালয়ের-শ/
 Professors শব্দটি লাতিন Profess থেকে উদ্ভূত। যার অর্থ দৃঢ়কণ্ঠে ঘােষণা করা। এখানে ঘােষণা বলতে জ্ঞানচর্চার এবং সে সম্পর্কিত সত্য প্রচারকেই বােঝান হয়।  শিক্ষকতা পেশাকে বােঝাতে এই অধ্যাপনা শব্দটি ব্যবহৃত হয়। যেখানে পেশাধারী মৌলিক ধরনের উচ্চপর্যায়ের গবেষণায় নিয়ােজিত থাকেন। এসব গবেষণা থেকে পাওয়া জ্ঞানকে প্রথাগতভাবে বলা যায় প্রাতিষ্ঠানিকতা এবং তা দৃঢ়চিত্তে প্রচার করার কাজকেই বলে অধ্যাপনা। অধ্যাপনা পেশার মূল কাজ তিনটি। প্রথমত, শিক্ষকতা করা, দ্বিতীয়ত, গবেষণা করা এবং তৃতীয়ত, সামাজিক উন্নয়ন তথা মানব কল্যাণে মৌলিক অবদান রাখা। 
সুতরাং, যিনি অধ্যাপনা করেন তিনি অধ্যাপক। কোথায় অধ্যপনা করেন সেটি বিষয় নয়। যিনি পড়ান তিনি শিক্ষক, কোথায় পড়ান সেটি বিষয় নয়। ভিন্নতা থাকতে পারে বেতন-ভাতা বা প্রতিষ্ঠানের বৈশিষ্ট্য নিয়ে। পদনাম কিন্তু অভিন্ন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট যেমন মানুষ তেমনি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টও মানুষ। এ হিসেবে যে-কোনো শিক্ষক নিজেকে অধ্যাপক হিসেবে পরিচয় দিতে পারেন। বিশ্বের যে-কোনো ভাষার অভিধানে এমন কথা লেখা আছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনা করলে অধ্যাপক হবেন, নইলে লেখা যাবে না বা হওয়া যাবে না— এটি ঠিক নয়। সরকারি কলেজের অধ্যাপক কে হবেন তা সরকারি কলেজের চাকুরিবিধিমালা/ নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণকেও অধ্যাপক বলা হয়। সরকারি কলেজের শিক্ষকগণ যেমন ছাত্রছাত্রী পড়ান, বেসরকারি কলেজের শিক্ষকগণও তেমনি ছাত্রছাত্রী পড়ান। উভয়ের পেশা অধ্যাপনা। তাই উভয়ে অধ্যাপক। বেসরকারি কলেজের সংশ্লিষ্ট বিধিতে ওভাবে উল্লেখ থাকে। আমি উপসচিব থাকাকালীন ডিপিডিসির কোম্পানি সেক্রেটারি বা সচিব পদে বদলি হয়েছিলাম।
প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিধি বা গঠনতন্ত্র আছে। রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন বা সংবিধান লংঘন না করলে সংশ্লিষ্ট গঠনতন্ত্র অনুসারে তা পরিচালিত হয়। কোন রাষ্ট্রীয় বিধিতে আছে যে, সরকারি কলেজের শিক্ষক ছাড়া কেউ অধ্যাপক লিখতে পারবেন না? আমাদের গ্রামে একটি ক্লাব আছে। এর প্রধানকে বলা হতো প্রেসিডেন্ট। নন্দীর হাটে আমি সচেতন যুব সংঘ নামের একটা সংগঠনের প্রধান ছিলাম। আমার পদবি ছিল প্রেসিডেন্ট। এখনো অনেক বেসরকারি সংস্থার প্রধান প্রেসিডেন্ট নামে আখ্যায়িত। এর মানে ওই ব্যক্তি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট নন। সচিব শুধু সরকারি অফিসে নয়, বেসরকারি অফিসেও আছে। ইউনিয়ন পরিষদেও সচিব আছে। এর মানে সরকারের মন্ত্রণালয়ের সচিব পদবির ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ সচিব হতে পারবে না- এমনটি হতে পারে না। সরকারের সচিব হতে হলে তোষামুদে আর রাজনীতিক আশীর্বাদ ছাড়া আর কোনো যোগ্যতা লাগে না।
যিনি অধ্যাপনা করেন তিনি অধ্যাপক। কোথায় অধ্যাপনা করেন কিংবা কোন প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক সেটি অন্য বিষয়। কোনো অধ্যাপক গ্রামের কোনো কলেজে অধ্যাপনা করে যদি বলেন, তিনি ঢাকা কলেজের অধ্যাপক, সেটি হবে অন্যায়। অন্যথায়, নয়। এককথায়, অধ্যাপনা পেশায় নিয়োজিত সবাই অধ্যাপক। গ্রামের একটি ক্লাবের প্রধান যদি ওই ক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট হতে পারেন বা প্রেসিডেন্ট লিখতেপারেন তো বেসরকারি কলেজের  একজন শিক্ষক কেন অধ্যাপক হতে পারবেন না? আগে যখন সরকারি কলেজ ছিল না তখনও প্রভাষক অধ্যাপক বা প্রফেসর পদ ছিল। সরকারি কলেজ ওই পদসমূহ ধার করেছে। বেসরকারি কোনো কলেজ সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো পদ ধার করেনি।
———————–
error: Content is protected !!