বোনজা বোটলার দিবস: ভয়ংকর, হাঁটা হাঁটু গোরু বউ; কাঁচা কচি কাচ ক্লাস ঘৃণা বঁধু বধূ: এসো কর্তাভজা

ড. মোহাম্মদ আমীন
সংযোগ: https://draminbd.com/বোনজা-বোটলার-দিবস-ভয়ংকর-হ/
ভয়ংকর বানানে অনুস্বার না দিলে কী হয়?
ভয়ংকর বানানে অনুস্বার; ঙ নয়; কেন? কারণ: অহম্, ভয়ং/ভয়ম্, শুভম্, সম্/শম ও ম্ থাকলে ‘ঙ’ না বসে ‘ং’ বসে। এটাই ব্যাকরণের নিয়ম। যেমন: অহংকার (অহম্‌+কার), ভয়ংকর (ভয়ম্‌+কর) , সংবাদ (সম্+বাদ), শুভংকর (শুভম্+কর), শংকর (শম্+কর)।
এর বেশি আমি কিছু জানি না। প্রশ্ন করলেও বলতে পারব না।
রমণী স্যার বলতেন, তোমাদের কাছে সবচেয়ে ভয়ংকর কী?
“স্যার, আপনার ওই চিকন-চাকন বেত” আমরা বলতাম।
তাহলে মনে করো, ভয়ংকর বানানের অনুস্বারটাই আমার বেত।
জি, স্যার।
অনুস্বার আছে বলেই ভয়ংকর শব্দটি আমার বেতের মতো এত ভয়ংকর।
ঙ দেব না কেন, স্যার।
ঙ তো ব্যাটারা মোচড়ানো বেত, তা দিয়ে কি ভয় দেখানো যায়?
ক্রিয়াও সংখ্যাবাচক শব্দে কখনো মূর্ধন্য-ণ দেবেন না। যেমন: করুন, মারুন, মরুন, ধরুন, সরুন। সংখ্যাবাচক শব্দ , ত্রিনবতিতম (৯৩), চতুর্নবতিতম (৯৪)।
কয়েকটি সাধারণ ভুল
ঘুস: ঘুস বানানে ঘষাঘষি বানানের ষ দেবেন না। ঘাস বানানের স দিন। ঘুস খাবে ঘুসাঘুসি হবে না তা কী হয়?
ফোঁটা ফোটা:বৃষ্টি পড়ে আকাশ থেকে। তাই বৃষ্টির ফোঁটা আর বিন্দুজাতীয় ফোঁটা বানানে আকাশের চন্দ্রবিন্দু দিতে হয়। এ যেন ছাতা। ফুল ফোটার ফোটা বানানে কখনো চন্দ্রবিন্দু দেবেন না। ফুল ফোটা তরল বা বিন্দু ফোঁটা নয়। এটি বিকশিত হওয়া।
হাঁটা হাঁটু: হাঁটা বানানে চন্দ্রবিন্দু দেবেন। হাঁটতে হাঁটু লাগে তাই হাঁটু বানানেও চন্দ্রবিন্দু।
গোরু: গোরু বানানে ও-কার দেবেন। ও-কার ছাড়া গোরু লিখে গোরুকে চিকন বানিয়ে ফেলবেন না।
বউ: বউ লিখুন। ব-য়ে ঘোমটা পরা বৌ লিখবেন না। আধুনিক বউ ঘোমটা পরে না।
কাঁচা: কাঁচা জিনিস খেতে ছুরি লাগে। তাই কাঁচা বানানে চন্দ্রবিন্দু। ওই চন্দ্রবিন্দু হচ্ছে ছুরি। কচি বানানে চন্দ্রবিন্দু দেবেন না। কচি হাতে ছুরি দিলে বিপৎ।
ক্লাস: ক্লাস বানানে পাশ বানানের শ দেবেন না। পাশ করা আর পাশ ফেরা এক হলেও ক্লাস করা এক জিনিস নয়।
ঘৃণা: অতসব বুঝি না। তৎসম শব্দের বানানে ঋ বা ঋ-কার চিহ্নের পর মূর্ধন্য-ণ দেবেন। যেমন: তৃণ ঋণ ঘৃণা মৃণাল
বঁধু বধূ: বন্ধু থেকে বঁধু। তাই বন্ধুর বঁধুতে চন্দ্রবিন্দু নিজের বধূতে চন্দ্রবিন্দু দেবেন না। বরং নিচে ঊ-কার দিয়ে দেবেন। নিজের বধূতে চন্দ্রবিন্দু দিলে চাঁদের মতো সবার হয়ে যাবে।
কাঁচা, কচি কাচা : কাঁচা অর্থ অপক্ব (ক-য়ে ব), অপরিণত, অস্থায়ী, অশুষ্ক, পারদর্শী নয় এমন। কাঁচা ফল পক্ব বা পাকা ফলের চেয়ে শক্ত। তাই কাঁচা ফল খেতে ছুরি লাগে। চন্দ্রবিন্দু হচ্ছে ছুরি। এজন্য কাঁচা বানানে ছুরি হিসেবে চন্দ্রবিন্দু দিতে হয়। কাপড় কাচতে গেলে চন্দ্রবিন্দু পড়ে যেতে পারে। তাই কাপড় কাচার কাচা বানানে চন্দ্রবিন্দু নেই। কচি বানানে চন্দ্রবিন্দু নেই কেন? কচি মানে কাঁচা নয়, শিশু। কচিদের মাথায় চন্দ্রবিন্দুর বোঝা দিতে নেই। পিঠ তাদের এমনি বইয়ের ভারে ন্যুব্জ।
কাঁচার মতো কাঁচা-যুক্ত সব শব্দে চন্দ্রবিন্দু। যেমন: কাঁচকড়া, কাঁচকলা, কাঁচড়া (বুনো শাকবিশেষ), কাঁচল (কাঁচুলি), কাঁচাগোল্লা, কাঁচুমাচু প্রভৃতি। কিন্তু গ্লাসের কাচে চন্দ্রবিন্দু নেই। যেকোনো সময় ভঙ্গুর কাচের সঙ্গে চন্দ্রবিন্দুটা ভেঙে যাতে পারে। একটামাত্র চন্দ্র ভেঙে গেলে জোছনা আপুর কী হবে?
কাঁটা: চন্দ্রবিন্দুযুক্ত কাঁটা শব্দের অর্থ- মাছের সরু ও সুচালো হাড়, শজারুর গায়ের তীক্ষ্ম শলাকা। মাছের কাঁটা চন্দ্রবিন্দুর মতো বাঁকা। তাই মাছের কাঁটা অর্থ দ্যোতক ‘কাঁটা বানান চন্দ্রবিন্দু। তবে যা দিয়ে কাঁটা কাটা হয় তাতে চন্দ্রবিন্দু নেই। যেমন: কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা। কাটার যন্ত্র বানানে চন্দ্রবিন্দু না থাকলেও চন্দ্রবিন্দুর মতো সরু চুল কাটার যন্ত্র কাঁচি বানানে চন্দ্রবিন্দু দিতে হয়।
বোনজা বোটলার দিবস 
বর্তমান বিশ্বে দিবসের ছড়াছড়ি। বছরে যতদিন, দিবসের সংখ্যা প্রায় তার দ্বিগুণ। তবে বোনজা বোটলার তেমন দিবস নয়। এটি মূলত তারিখ নির্ভর দিবস, অন্যান্য দিবসের মতো ঘটনা নির্ভর নয়। বোনজা বোটলার দিবস (Bonza Bottler Day) সংক্ষেপে বিবিডি (BBD) নামেও পরিচিত।প্রতিমাসে একটি বোনজা বোটলার দিবস আসে। এটি এমনটি একাটি দিবস, যে তারিখ দিন ও মাস অভিন্ন হয়।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, জানুয়ারি মাসের ১ তারিখ (১/১), ফেব্রুয়ারি মাসের ২ তারিখ (২/২), মার্চ মাসের ৩ তারিখ (৩/৩), এপ্রিল মাসের ৪ তারিখ (৪/৪), মে মাসের ৫ তারিখ (৫/৫), জুন মাসের ৬ তারিখ (৬/৬), জুলাই মাসের ৭ তারিখ (৭/৭), আগস্ট মাসের ৮ তারিখ (৮/৮), সেপ্টেম্বর মাসের ৯ তারিখ (৯/৯), অক্টোবর মাসের ১০ তারিখ (১০/১০), নভেম্বর মাসের ১১ তারিখ (১১/১১) এবং ডিসেম্বর মাসের ১২ তারিখ (১২/১২) প্রভৃতি বোনজা বোটলার দিবস। যেদিন দিন, মাস ও বছরের শেষ সংখ্যা অভিন্ন হয় সে তারিখটিকে বোডাসিয়াস বোনজা বোটলার দিবস (Bodacious Bonza Bottler Day) বলা হয়। যেমন: ১০/১০/১০, ১১/১১/১১, ১২/১২/১২। এরূপ তারিখগুলোতে বোডাসিয়াস বোনজা বোটলার দিবস পালন করা হয়। শতাব্দীর বোডাসিয়াস বোনজা বোটলার দিবস ছিল ১২/১২/১২। এ শতকে আর এমন তারিখ আসবে না। কারণ বছরে মাসের সংখ্যা ১২।
এসো: এসো বাংলা শব্দ। এর অর্থ আগমনের আদে, আসার আদেশ, অনুরোধ, আহ্বান, প্রার্থনা, যাওয়া প্রভৃতি। দেখুন উদাহরণ: অনুজ্ঞাক্রিয়ায় এসো, আগমনের অনুজ্ঞা, আগমন করো।যেমন: এক্ষুনি এসো, আধ ঘণ্টার মধ্যে। অনুরোধ, আহ্বান: যেমন: এসো আমার ঘরে এসো আমার ঘরে, বাহির হয়ে এসো, বাহির হয়ে এসো তুমি যে আছ অন্তরে এসা আমার ঘরে। রবীন্দ্রনাথ। গমন করো, যাও: যেমন: এখন এসো। ভবিষ্যতে আসার আহ্বান, আদেশ, অনুরোধ: সাতদিন পর আবার এসো।
কর্তাভজা: কর্তা ও ভজা নিয়ে বাংলা কর্তাভজা। ভজা অর্থ পুজো করা। কর্তাভজা অর্থ (বিশেষণে) প্রভুভক্ত, স্তবক, তোষামোদকারী; (বিশেষ্যে) ধর্মীয় সম্প্রদায়বিশেষ। তোষামোদ ফারসি হলেও বানানে ষ। অনেক বিদেশি বা অতৎসম শব্দের বানানে ষ আছে। যেমন: খ্রিষ্টাব্দ, খ্রিষ্ট, খ্রিষ্টান, ষাঁড়, মইষ- – -। সুতরাং, বিদেশি বা তৎসম শব্দের বানানে ষ হয় না- এটি ঠিক নয়।
প্রতিদিন খসড়া
আমাদের টেপাভুল: অনবধানতায়
— — — — — — — — √— — — — — — — — —
Spelling and Pronunciation
https://draminbd.com/english-pronunciation-and-spelling-rules-ইংরেজি-উচ্চারণ-ও-বান/
error: Content is protected !!