বোনের চার বিয়ে হয় কেন?

ড. মোহাম্মদ আমীন
আমার বোনের চার বিয়া : আপনার বোনেরও কি চার বিয়া হবে?
কলিং বেলের আওয়াজ হওয়ার কিছুক্ষণ পর ছাত্র গিয়ে দরজা খুলে দিল। ঘরে ঢুকলেন গৃহশিক্ষক।
ঢুকেই প্রশ্ন করল ছাত্রকে : কী করছ?
কাচ্ছি।
কী খাচ্ছ?
চুপ।
কী খাচ্ছ?
চুপ।
তোমার মা কোথায়?
মা গুমে। আপনি চুপ খাবেন?
গৃহশিক্ষক টেবিলে গিয়ে দেখলেন, চুপ নয়, তার ছাত্র স্যুপ খাচ্ছে।
তোমার মা কোথায়? শিক্ষক চুপ গলায় ফিস ফিস করে আবার জানতে চাইলেন।
মা চুপ করে আমাকে চুপ খেতে দিয়ে এখন গুমে আছে। মা চুপ করলে বাবা খুব খুশি হন। চুপ করা কষ্টের কাজ।অনেক কিছু লাগে। বাবা বলেছেন : খাওয়ার সময় কুত্তার খাওয়ার মতো চপচপ আওয়াজ হয় বলে এর নাম চুপ। চায়-নিজ থেকে মা চুপ রান্না শিখেছেন। মা চুপ করলে মাছের বাজার পর্যন্ত নিশ্চুপ হয়ে যায়।
বই নিয়ে এসো, ছাত্রের কথায় পাত্তা না-দিয়ে শিক্ষক বললেন। তোমার মা চুপ করলে আমারও ভালো লাগে।
ছাত্র : স্বামী কা বাপ করেছেন মা। এটি আরো দারুণ। কাবেন?
শিক্ষক : এটা আবার কী?
লিখে দিই? আপনি তো আবার কানে কম শুনেন। গোড়াকে বলেন ঘোড়া। ফোনকে বলেন পোন, কেলাকে বলেন খেলা।
শিক্ষক : লিখে দাও। আমি তোমার কথা বুঝি না।
ছাত্র খাতা নিয়ে লিখল : শামী কাবাব।
শিক্ষক বললেন, এটা তো শামী কাবাব।
ছাত্র : আমিও তো বললাম, স্বামী কা বাপ। আপনার খানের ডাক্তারকানায় যাওয়া দরকার।
শিক্ষক : আজ কী পড়বে?
ছাত্র : অনেক খাবার আছে আজ। শিংগাড়া, বিড়িআনি, কিচুরি, পরউঠা, আলুর দম- আরো অনেক কিছু। মাংস দিয়া পরউঠা নিয়ে আসি? মায়ের নিজের হাতের মাংস। খুব মজা মায়ের হাতের মাংস। আমার বাবা খায় আর বাল বাল করে। বাবা মাকে বলে, কী বাল রান্না করো পিয়া, বড়ো শান্তি পাই আমি খাইয়া।
শিক্ষক বললেন, এমন খাবারের নাম তো জীবনে শুনিনি, তোমার মা করেছেন সব?
ছাত্র : না। দুকান থেকে এনেছে বাবা। বাবার হাতির মতো বিশাল দুকান। বাবার দুকানে শব পাওয়া যায়। মাংসটা এক্কেবারে মায়ের নিজের হাতের। আমার মায়ের হাতের মাংস যা টেস্টি না!
শিক্ষক : তোমার মায়ের হাতের মাংস খাব কীভাবে?
ছাত্র : মায়ের হাতের মাংস নয়, মায়ে রান্না করেছে।
শিক্ষক : তাই বলো। তো এত খাবার কেন?
ছাত্র : আমার বোনের চার বিয়া। আজ আশির বাদ। আপনার বইনেরও কি চার বিয়া হবে? আচ্ছা, সবার বোনের চার বিয়ে হয় কেন? কিছু দিন আগে রহিমার আপুর চার বিয়ে হয়ে গেছে।
শিক্ষক বিস্মিত হয়ে বললেন, তোমার বোনের চার বার বিয়ে হয়েছে? আমি তো জানতাম অবিবাহিত। তোমার বাবাও বলেছেন, তার বিয়ে হয়নি।
ছাত্র : আমি চার বিয়ার কথা বলছি না, বিয়ার কথা বলছি। বিয়া মানে চা দিয়া মোবারক। শুদ্ধ করে বলে ছাদিয়া মোবারক।
শিক্ষক : বুঝেছি, তোমার বোনের বিবাহ?
ছাত্র : আমি টি-সার মিচা বলি না।
শিক্ষক : বাবা তুমি সত্য বলছ। কিন্তু স-কে চ আর, ছ-কে চ করে দিয়েছ। চার মানে তো ফোর।
ছাত্র : এই চার মানে ফোর নয়, এ চার মানে আপনি, মানে টি-সার।
শিক্ষক : এবার থেকে শুদ্ধ উচ্চারণ করবে। ঠিক আছে?
ছাত্র : টিক আছে, এবার চুদ্দ করে বলব। জানেন, আমার বাবা অনেকগুলো খাট এনেছে। সবগুলো ডামি খাট।
শিক্ষক : কতগুলো খাট এনেছেন?
ছাত্র : দুই হাজার চার।
শিক্ষক : ২০০৪? এতগুলো খাট দিয়ে কী করবে?
ছাত্র : ২০০৪ না, দুই হাজার চার। আপনাকে একটা খাট দেব।
শিক্ষক : আমাকে খাট দেবে কেন?
ছাত্র : ওই খাট আপনি বারি নিয়ে যাবেন যে।
শিক্ষক : আমার তো খাট আছে। আমি আরেকটা খাট রাখব কোথায়?
ছাত্র : ওই খাট নিয়েই আপনি আমার বইনের বিয়াতে আসবেন! বিয়াতে আসবেন তো? বিয়াতে খাট লাগে।
বিয়ানোর কথা শুনে শিক্ষক খুব লজ্জা পেয়ে গেলেন শিক্ষক, শালা কেমন ছাত্র, পুরুষকে বিয়োতে বলছে; কিন্তু তা মনের মধ্যে লুকিয়ে রেখে বললেন, খাট দেবে কেন, খাট আবার নিয়ে-ই বা আসব কেন?
ছাত্র : বিয়ার জন্য লাগবে। খাট চারা খেতে দেবে না।
শিক্ষক: আমি তো বাবা বিয়ার খাই না।
ছাত্র বিরক্ত হয়ে বলল, আপনি কিচ্ছু বুজেন না। বিয়ার মানি চাদিয়া মোবারক। খাট মানে চাদিয়া মোবারকের চিঠি। আপনি বেশি কম বুজেন, কীভাবে বুজাই?
শিক্ষক : ও, কার্ড দেবে? মানে নিমন্ত্রণ পত্র?
ছাত্র : এতক্ষণ কী বলছি? আপনার খানে সমস্যা। পাঞ্জাবি পড়ে আসবেন। পাঞ্জাবি পড়লে আপনাকে থালা থালা লাগে।
থালা থালা মানে?
অমিতাভ বাসন। বাসনের চুদ্দ শব্দ থালা, চুদ্দ করে বললাম।
শিক্ষক : আমি তো বাবা পাঞ্জাবি পড়ি না, বই পড়ি।
ছাত্র : সামান্য পাঞ্জাবি পড়তে পারেন না, বই কীভাবে পরেন?
শিক্ষক : পাঞ্জাবি পরতে হয়, পড়া যায় না।
ছাত্র : পাঞ্জাবি পড়তে না পারলে পতুয়া পড়ে আসবেন। পতুয়া পড়লে আপনাকে হুতোম হুতোম লাগে।
এটা আবার কে?
চুচিত্রা চেনের সঙ্গে সিনেমা করে যে, মহানায়ক। গুরু জবাই হবে, কাশি জবাই হবে।
শিক্ষক : কাশি কী?
ছাত্র : পাঁঠার বিয়া হলে কাশি হয়। আমার বাবাকে না, মা কাশি ডাকে। কবরদার, মাকে বলবেন না।
শিক্ষক : অনুষ্ঠান কোথায় হবে?
ছাত্র : চাঁদে।
শিক্ষক : চাঁদে? সে কী, চাঁদে কীভাবে অনুষ্ঠান হবে?
ছাত্র : আমাদের চাঁদটা অনেক বড় তো। চাঁদে গেলে ছাদ দেখা যায়। চাঁদ থেকে ছাদ দেকে দেকে বাত খাবেন।
শিক্ষক : চাঁদ চাঁদ করো কেন, এটা হবে ছাদ।
ছাত্র : আমিও তো চাঁদ বললাম, আপনি আসলেই খানে কম শুনেন? বিয়ার পর না ডুলা-ভাই, আমার বইনকে কবরে নিয়ে যাবে। সেখান থেকে নিয়ে যাবে নতুন গড়ে। তারপর তাদের বাছুর হবে।
বাছুর কী? শিক্ষক জানতে চাইলেন।
ছাত্র : বাছুর বিয়ের পর হয়। বাছুর রাতে বাছুর হয়। আপু বলেছেন।
শিক্ষক : তুমি বাসর রাতের কথা বলছ।
ছাত্র : আপনি দেরিতে বুজেন। এটাই তো বাছুর রাত। আমি চুদ্দ করে বললাম।
শিক্ষক : তোমার দুলা ভাই কী করেন?
ছাত্র : কবরে কাজ করেন।
শিক্ষক : কবরে মানে?
ছাত্র : হ চার, তিনি কবরে কাজ করেন, কবরে খান, কবরে ঘুমান, কবরে হাগেন। বেশালার (Bachelor) মানুষ তো তাই। আমার বইন গেলে শালার হয়ে যাবে। তখন কবর ছেড়ে গড়ে চলে আসবে।
শিক্ষক : মানুষ কবরে কীভাবে থাকে?
ছাত্র : টি সার, আপনি কিচু জানেন না। ওই যে পত্রিকা দৈনিক কবর। সকালে যে পরেন, পরে স্কুলে যান। সেই কবর। বুঝিছেন টি সার?
শিক্ষক : এখন বুঝেছি।
কী বুঝেছেন?
শিক্ষক : তুমি “দৈনিক খবর” পত্রিকার কথা বলছ।
লেখক : ড. মোহাম্মদ আমীন, বাঙালির বাংলা হাসি।
error: Content is protected !!