বোম্বাই মরিচ, নাগা মরিচ, কামরাঙা মরিচ, ভূত মরিচ, ফোটকা মরিচ

ড. মোহাম্মদ আমীন
সংযোগ: https://draminbd.com/বোম্বাই-মরিচ-নাগা-মরিচ-কা/

 নাগামরিচ বা নাগা-মরিচ বা নাগা মরিচ হলো মরিচের একটি প্রজাতিবিশেষ। এই  প্রজাতির মরিচ প্রচণ্ড ঝাল, আকর্ষণীয় সুগন্ধ এবং খাবারের স্বাদ বৃদ্ধির অনবদ্য সহায়ক হিসেবে সুপরিচিত। পূর্ব ভারতের অসম রাজ্যের নাগা নামের পার্বত্য এলাকায় এই মরিচের আদি জন্ম। তাই এর নাম নাগামরিচ বা নাগা মরিচ বা নাগা-মরিচ। নাগা মরিচ এলাকাভেদে বোম্বাই মরিচ, কামরাঙা মরিচ, ভূত মরিচ, ফোটকা মরিচ, পুটকা মরিচ প্রভৃতি নামে পরিচিত। সিলেট অঞ্চলে এটি নাগা মরিচ নামে পরিচিত। চট্টগ্রামে এটি 

নাগা মরিচ বা বোম্বাই মরিচ

 বোম্বাই মরিচ এবং ঢাকা বিভাগে ফোটকা বা পুটকা মরিচ। দেখতে অনেকটা কামরাঙার মতো, তাই কোথাও কোথাও এর নাম কামরাঙা মরিচ।  এই মরিচের রস হাতেমুখে লাগলে প্রচণ্ড জ্বালা করে। একসময়  বোম্বেটেরা নাগা মরিচের মরিচের রস দিয়ে মানুষদের আক্রমণ করত বা কষ্ট দিত বা বিরক্ত করত। তাই এর নাম হয়ে যায় বোম্বেটে মরিচ। যা থেকে বোম্বাই মরিচ। প্রচণ্ড ঝালের জন্য পাশ্চাত্যের গণমাধ্যমে একে ভূত জলোকিয়া বা ভূত মরিচ বলা হয়ে থাকে। দেখতে ফোটকা বা ফোটকা মাছের মতো। তাই অনেক জায়গার এর নাম ফোটকা বা পুটকা মরিচ।প্রচণ্ড ঝালের জন্য এটি কোথাও কোথাও পাগলা মরিচ নামেও পরিচিত।

শ্রীলঙ্কার এটি নাই মিরিচ (Nai Mirris) ও কোবরা মরিচ (Cobra Chilli) নামে পরিচিত।  এর ত্রিপদী নাম Capsicum chinense ‘Naga Jolokia। ঝাল পরিমাপের মানদণ্ড স্কোভিল (Scoville)  অনুযায়ী  নাগা মরিচের ঝালমান ১০+++। ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দে গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস নাগা মরিচকে পৃথিবীর সবচেয়ে ঝাল মরিচ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, যা টাবাসকো সস (Tabasco sauce) থেকে ৪০১.৫ গুণ বেশি ঝাল।

নাগা মরিচ ভারতের আসাম, নাগাল্যান্ড ও মণিপুর এবং বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে অধিক জন্মায়। প্রথমে নাগা হতে সিলেট এবং সিলেট হতে মরিচটি বাংলাদেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। এখন বাংলাদেশের সব জেলায় টবে বা বাড়ির আনাচে কানাচে এই মরিচের চাষ করা হয়।  শ্রীলঙ্কার গ্রামাঞ্চলেও মরিচটি জন্মায়।   নাগা মরিচ এর অনন্য ঘ্রাণ এবং ঝালের জন্য সমাদৃত। কাঁচা সবুজ পুষ্ট নাগামরিচ ঝালের জন্য খাবারের সাথে খাওয়া হয়ে থাকে। রাস্তাঘাটে নানান ঝাল খাবার যেমন মুড়ি, চানাচুর, ফুচকা ইত্যাদি তৈরিতে ও পরিবেশনে কুঁচি কুঁচি করে নাগা মরিচ ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও নানাবিধ খাবারকে মুখরোচক করার জন্য নাগা মরিচ বা বোম্বাই মরিচ ব্যবহার করা হয়। 
 

নাগা মরিচ কাঁচা অবস্থায়ই খাওয়া হয়। কাঁচা অবস্থায় এর ঘ্রাণ এবং স্বাদ থাকে অতুলনীয়।  পাকলে ঘ্রাণ আর স্বাদ কমে যায় এবং ঝালের পরিমাণ অসহনীয় হয়ে ওঠে। নাগা মরিচ ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। মুখের ঘা  প্রতিরোধের সহায়ক।  সাধারণত  বাড়ির উঠোন, ঘরের কোণ, অথবা টবে নাগা মরিচের চারা রোপন করা হয়। পারিবারিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে অল্প কয়েকটি গাছই যথেষ্ট। তবে বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে এর বাণিজ্যিক চাষও করা হচ্ছে।

শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com
error: Content is protected !!