ব্যবহারিক বা ব্যাবহারিক বানানের বহুরূপতা

খুরশেদ আহমেদ ( Khurshed Ahmed), সদস্য, উপদেষ্টা পরিষদ, শুবাচ

ব্যবহারিক বা ব্যাবহারিক বানানের বহুরূপতা

এই পোস্টের লিংক: https://draminbd.com/ব্যবহারিক-বা-ব্যাবহারিক/

প্রথম পর্ব
১.১। অনলাইন বিভিন্ন সাইট থেকে পাই—যেমন কেবল য-ফলা-যুক্ত ‘ব্যবহারিক’, ঠিক তেমনই য-ফলা-আ-কার-যুক্ত ‘ব্যাবহারিক’—যার কিছু নমুনা:
ক) জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের ষষ্ঠ শ্রেণির গণিত লিখেছে: ব্যবহারিক জ্যামিতি;
 
খ) লালমনিরহাট কেন্দ্র লিখেছে: এস এস সি ব্যবহারিক পরীক্ষা ২০২০ খ্রি:;
 
গ) রেজাউল ইসলাম লিখেছেন: ব্যবহারিক বাংলা;
খুরশেদ আহমেদ
ঘ) গাজী আজমল ও গাজী আসমত লিখেছেন: ব্যবহারিক জীববিজ্ঞান পরিচয়;
 
ঙ ) মোঃ জসীম উদ্দিন লিখেছেন: ব্যবহারিক উচ্চতর গণিত;
অন্যদিকে,
 
চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বাংলা ভাষা বাস্তবায়ন কোষ লিখেছে: সরকারি কাজে ব্যাবহারিক বাংলা;
 
ছ) ড. মোহাম্মদ আমীন লিখেছেন: ব্যাবহারিক প্রমিত বাংলা বানান সমগ্র;
 
জ) মো. মোস্তফা শাওন লিখেছেন: প্রসঙ্গ ব্যাবহারিক বাংলা;
 
ঝ) ড. সুশান্ত কুমার সাহু লিখেছেন: ব্যাবহারিক জীববিদ্যা;
 
ঞ) প্রশান্ত চৌধুরী ও সৌরভ ঘোষ লিখেছেন: ব্যাবহারিক পদার্থবিদ্যা;
ইত্যাদি।
[বলে রাখি: ‘ব্যবহারিক’ ও ‘ব্যাবহারিক’ শব্দ দুটোতে মোটা হরফ আমি সংযোজন করেছি।]
 
১.২। এখন প্রশ্ন:
ক) য-ফলা-আ-কার-যুক্ত ‘ব্যাবহারিক’ শুদ্ধ, না কি কেবল য-ফলা-যুক্ত ‘ব্যবহারিক’?
না কি দুটো রূপই শুদ্ধ?
 
খ) ‘ব্যাবহারিক’ প্রমিত, না কি ‘ব্যবহারিক’?
না কি দুটি রূপই প্রমিত?
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম [পরিমার্জিত সংস্করণ ২০১২] এ-ব্যাপারে কী বলে?
 
গ) সংস্কৃত ভাষায় আছে কি দুটি রূপই—‘ব্যাবহারিক’ ও ‘ব্যবহারিক’?
 
ঘ) বাংলায় ‘ব্যাবহারিক’ ও ‘ব্যবহারিক’ উচ্চারণে কোনো পার্থক্য আছে কি?
 
ঙ) ‘ব্যবহার’ থেকে কীভাবে হয় ‘ব্যাবহারিক’ ও/অথবা ‘ব্যবহারিক’?
 
চ) ‘ব্যবহার’-এর আদ্যস্বরটি কী?
সংস্কৃত ব্যাকরণে, বা বাংলা ব্যাকরণে, ‘ব্যবহার’-এর সঙ্গে প্রত্যয় যোগ হওয়ার ফলে এই আদ্যস্বরের এক ক্ষেত্রে বৃদ্ধি ঘটার এবং অন্য ক্ষেত্রে বৃদ্ধি না-ঘটার নিয়মটি কী?
প্রিয় শুবাচি!
[ প্রতিটি পর্ব-শিরোনামে ক্লিক করলে সংশ্লিষ্ট পর্বের ছবিসমূহ পাবেন]

দ্বিতীয় পর্ব

 
‘ব্যবহারিক’ ও ‘ব্যাবহারিক’ এবং বাংলা একাডেমি
২.১। ২০১৬-র দুটি সংস্করণের কোনোটিতেই বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান [প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০১৬; পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ: এপ্রিল ২০১৬] অন্তর্ভুক্ত করেনি ‘ব্যবহারিক’; অন্তর্ভুক্ত করেছে কেবল ‘ব্যাবহারিক’।
এ-সাক্ষ্য উপস্থাপন করে অনেকে দাবি করেন এবং প্রচার করেন বাংলা একাডেমি (ক) ‘ব্যাবহারিক’ রূপটি প্রমিত করেছে এবং (খ) ‘ব্যবহারিক’ রূপভেদটি অপ্রমিত করেছে।
প্রকৃতপক্ষে, বাংলা একাডেমি কোথাও সে-কথা বলেনি।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান নিশ্চয়ই দাবি করেনি ওই অভিধান সকল প্রমিত বাংলা শব্দের পূর্ণাঙ্গ ভান্ডার, এবং ওর বাইরে কোনো প্রমিত শব্দ নেই।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান তার মুখবন্ধে কেবল এ-কথাই বলেছে যে, “এই অভিধানে ২০১২ সালে প্রকাশিত ‘বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম’ অনুসরণ করা হয়েছে।” যদিও, পরীক্ষা করে আমরা পাই, অভিধানটির দাবি-করা এই অনুসরণ ১০০% নয়, নিরঙ্কুশ নয়, নির্ভুল নয়।
আমি যেভাবে বুঝেছি, অভিধানটি যা বলেছে তার মানে, এ-অভিধানে অন্তর্ভুক্ত ‘ব্যাবহারিক’ বানান-রূপটি বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম-অনুসারী, এর বেশি কিছু নয়; এবং, ‘ব্যবহারিক’ প্রমিত-কি-অপ্রমিত সে-প্রসঙ্গে অভিধানটি কিছুই বলেনি।
 
২.২। আমাদের জন্য প্রমিত বানানের আকর-রেফারেন্স—তথা যে-কোনো বাংলা শব্দের বানানের প্রমিত রূপ যাচাই করার কষ্টিপাথর—কেবল বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম [পরিমার্জিত সংস্করণ ২০১২], অন্য কোনো বই বা রেফারেন্স নয়।
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম বলেছে:
“এই নিয়মে বর্ণিত ব্যতিক্রম ছাড়া তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের নির্দিষ্ট বানান অপরিবর্তিত থাকবে ৷”
 [নিয়ম ১.১]
অর্থাৎ, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম যে-সমস্ত তৎসম শব্দের বানানের ব্যতিক্রমের কথা বলেছে, সেগুলো ছাড়া অন্য সকল তৎসম শব্দের বানান আগের মতোই থাকবে।
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী, এখন, যেমন, ‘শ্রেণি’ প্রমিত, কিন্তু ‘শ্রেণী’ প্রমিত নয়, যদিও দুটি রূপই শুদ্ধ [নিয়ম ১.২]; আবার, ‘প্রাণিবিদ্যা’ ও ‘প্রাণীবিদ্যা’ দুটি রূপই প্রমিত [নিয়ম ১.৫]
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম কোথাও বলেছে কি যে কেবল ‘ব্যাবহারিক’-ই প্রমিত এবং ‘ব্যবহারিক’ অপ্রমিত? বলেনি।
অথচ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অন্তর্ভুক্ত করেছে বিকল্প-না-রেখে ‘প্রাণিবিদ্যা’ ও ‘ব্যাবহারিক’; অন্তর্ভুক্ত করেনি ‘প্রাণীবিদ্যা’ ও ‘ব্যবহারিক’।
এটা বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়মের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ নয়, বরং, আংশিক—সুতরাং পক্ষপাতমূলক—অনুসরণ, সুতরাং আমি বলি বিচ্যুতি।
এ-অবস্থায়, একটি শব্দের প্রমিত-অপ্রমিত রূপ নির্ণয়ের জন্য রেফারেন্স হিসেবে বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান আমার কাছে নির্বিচারে গ্রহণযোগ্য নয়।
 
২.৩। বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম (২০১২) প্রকাশ করার পর বাংলা একাডেমি ২০১৪ সালে প্রকাশ করেছে বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ (প্রথম প্রকাশ: মাঘ ১৪২০/জানুয়ারি ২০১৪)।
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ বইটির শিরোনামে—প্রচ্ছদে ও প্রতি পাতায়—কেবল ব-য়ে য-ফলা-যুক্ত ‘ব্যবহারিক’-এর ব্যবহার ও উপস্থিতি প্রমিত রূপ হিসেবে ‘ব্যবহারিক’-এর গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে দৃশ্যত বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়মের এবং বাংলা একাডেমির ব্যাকরণবিদদের ঐকমত্যই প্রকাশ করে।
 
২.৪। ২০১৬ সংস্করণের বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান ও ২০০৮ সংস্করণের বাংলা একাডেমি বাংলা বানান-অভিধান সম্পাদনা করেছেন একই সম্পাদক। সুতরাং, ওতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই যে উভয় অভিধানেই অভিন্নভাবে ঠাঁই পেয়েছে কেবল ‘ব্যাবহারিক’; উভয় অভিধানেই অনুপস্থিত ‘ব্যবহারিক’।
তবে, বাংলা একাডেমি বাংলা বানান-অভিধানে আন্তর্জাতিক ধ্বনিলিপিতে উপস্থাপিত ‘ব্যবহার /bæboɦar ব্যাবোহার্‌/’ও ‘ব্যাবহারিক /bæboɦarik ব্যাবোহারিক্‌/’ উচ্চারণ দুটি তাৎপর্যপূর্ণ—‘ব্যবহার’ রূপটিতে কেবল য-ফলা ও ‘ব্যাবহারিক’ রূপটিতে য-ফলা-আ-কার থাকলেও তাদের উভয়ের প্রথম ধ্বনিদলের—‘ব্য’ ও ‘ব্যা’-র—উচ্চারণ দেখানো হয়েছে অভিন্ন ‘bæ’/’ব্যা’।
প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার আগে মূলশব্দ ‘ব্যবহার’-এর ‘ব্য’ এবং প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পর প্রত্যয়ান্ত শব্দ ‘ব্যাবহারিক’-এর ‘ব্যা’ একইভাবে উচ্চারিত হবে? তথাকথিত ‘বৃদ্ধি’ কি কেবলই বাংলা বানান-রূপে? এবং উচ্চারণে নয়?
 
২.৫। ২০০০ সংস্করণের বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান [পরিমার্জিত সংস্করণ ডিসেম্বর ২০০০-এর চতুর্দশ পুনর্মুদ্রণ: জুন ২০১১] অন্তর্ভুক্ত করেছে দুটো রূপই—‘ব্যবহারিক’ ও ‘ব্যাবহারিক’; এবং ভুক্তির অভিধা অংশে ‘ব্যবহারিক’ রূপটিকে আগে বসিয়ে ‘ব্যবহারিক’-কে প্রমিত করেছে।
বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান বলেছে, “অভিধা অংশ এবং ভুক্তি-উপভুক্তির শীর্ষশব্দের প্রথমটির বানান বাংলা একাডেমীর প্রমিত বানান অনুযায়ী করা হয়েছে,” [পৃষ্ঠা-ছয়]
এবং
“এক. ভুক্তির শীর্ষশব্দ হিসেবে একই শব্দের জন্য একাধিক বানান থাকলে সেক্ষেত্রে প্রথম বানানটির বানান প্রমিত করা হয়েছে, এবং সেই অনুযায়ী ভুক্তিটি বিন্যস্ত হয়েছে। দুই. অভিধা অংশের বানান প্রমিত করা হয়েছে।” [পৃষ্ঠা-বাইশ]
সুতরাং, বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধানে ‘ব্যবহার’ ভুক্তির অভিধা অংশে ‘ব্যবহারিক’ শব্দটির অগ্রবর্তী অবস্থান নিশ্চিত করছে, সে-আমলেরও প্রমিত বানান ‘ব্যবহারিক’।
তৎকালীন প্রমিত ‘ব্যবহারিক’ এখন অপ্রমিত—এ দাবির পক্ষে কোনো রেফারেন্স আছে কি, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে শব্দটি নেই—এই খোঁড়া যুক্তি ছাড়া?
 
২.৬। ২০০০ সালেরও আগে, ১৯৯৬ সংস্করণের বাংলা একাডেমী সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান [প্রথম প্রকাশ সেপ্টেম্বর ১৯৯২] অন্তর্ভুক্ত করেছে কেবল ‘ব্যবহারিক’; অন্তর্ভুক্ত করেনি ‘ব্যাবহারিক’, যা ২০০৮ সংস্করণের বাংলা একাডেমি বাংলা বানান-অভিধান ও ২০১৬ সংস্করণের বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানের অবস্থানের একেবারে বিপরীত মেরুর অবস্থান।
 
২.৭। ব্যবহারিক বাংলা অভিধানের ‘অখণ্ড সংস্করণের প্রসঙ্গ-কথা’-য় বাংলা একাডেমির তৎকালীন মহাপরিচালক ১৯৮৪ সালে লিখেছেন:
” ‘বাংলাদেশের ব্যবহারিক বাংলা অভিধান’ সংকলনের কাজ ১৯৬১ সালে শুরু হয়।”
এ-তথ্য থেকে ধারণা করি, অন্তত ১৯৬১ থেকে বাংলা একাডেমি নিজেই ব্যবহার করেছে এবং বাংলা শিক্ষার্থী আমাদেরকে শিখিয়েছে বানান-রূপ ‘ব্যবহারিক’, য-ফলার পর আ-কার ছাড়া।
১৯৬১ থেকে ২০১৬—৫৫ বছরে বাংলা একাডেমির বানান দোলাচলের দোলকটি বিপরীত মেরুতে এসে পৌঁছেছে বইকি।
[৬১ ও ১৬-র প্যালিনড্রোম-সাজ আমার ইচ্ছাকৃত নয়, কাকতালীয়! তবে, ‘ব্যবহারিক’ রূপটিতে মোটা হরফ আমার সংযোজন।]
প্রিয় শুবাচি!
[ প্রতিটি পর্ব-শিরোনামে ক্লিক করলে সংশ্লিষ্ট পর্বের ছবিসমূহ পাবেন]
তৃতীয় পর্ব
 
বাংলা একাডেমির বাইরের অভিধান ও রেফারেন্স বইগুলোতে ‘ব্যবহারিক’ ও ‘ব্যাবহারিক’:
৩.১। Sir Graves C. Haughton-সংকলিত এবং ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে লন্ডন থেকে প্রকাশিত A Dictionary, Bengali and Sanskrit, explained in English লিখেছে:
“ব্যবহাৰিক a. (mfn. ব্যবহাৰ+ইক)”
এবং
“ব্যাবহাৰিক a. (mfn. ব্যবহাৰ+ইক Wilkins’ Gr. § 903)”।
 
৩.২। জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাসের বাঙ্গালা ভাষার অভিধান (অখণ্ড) (১৩২৩/১৯১৭) লিখেছে:
“বিণ. ব্যাবহারিক, ব্যবহারীক—ব্যবহারসম্বন্ধীয়।“
 
৩.৩। সুবলচন্দ্র মিত্র সংকলিত ও নিউ বেঙ্গল প্রেস লিমিটেড, কলকাতা থেকে প্রকাশিত আদর্শ বাঙ্গালা অভিধান (তৃতীয় সংস্করণ, ১৩৫০ বঙ্গাব্দ) লিখেছে:
“ব্যবহারিক … ব্যবহার+ইক (ঠন্‌) নিষ্পন্নার্থে।”
এবং
“ব্যাবহারিক … ব্যবহার+ইক সম্বন্ধার্থে, জ্ঞাতার্থে।”
 
৩.৪। হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বঙ্গীয় শব্দকোষ [দ্বিতীয় খণ্ড ।। প-হ; প্রথম প্রকাশ ১৩৪০-৫৩; কলিকাতা: সাহিত্য অকাদেমী (১৯৪৬)] অন্তর্ভুক্ত করেছে দুটি স্বতন্ত্র ভুক্তি: ‘ব্যবহারিক’ ও ‘ব্যাবহারিক’।
ওই অভিধানে পাই:
“ব্যবহারিক … [ *র+ইক ( ঠন্‌ ); স্ত্রী -কা ]”
এবং
“ব্যাবহারিক … [ ব্যবহার+ইক ( ঠক ) [যদৃষ্ট; (ঠক্‌)], পা ৭ ৩ ৭, স্ত্রী -কী ]”।
‘ব্যবহার’-এর সঙ্গে ইক (ঠন্‌) প্রত্যয়যোগে বৈধ ও শুদ্ধ ‘ব্যবহারিক’;
আবার,
সেই একই ‘ব্যবহার’-এর সঙ্গে ইক (ঠক্‌) প্রত্যয়যোগে বৈধ ও শুদ্ধ ‘ব্যাবহারিক’;
অর্থাৎ, সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুযায়ীই সিদ্ধ ‘ব্যবহারিক’ ও ‘ব্যাবহারিক’।
বঙ্গীয় শব্দকোষ ‘ব্যবহারিক’ ভুক্তিতে সুনির্দিষ্ট করে আরও বলেছে:
“ব্যবহারিক … ( বাঙ্‌লায় ) প্রয়োগবিষয়ক ( practical ) ।”
 
৩.৫। কাজী আবদুল ওদুদ সংকলিত ও প্রেসিডেন্সী লাইব্রেরী কলিকাতা থেকে প্রকাশিত ব্যবহারিক শব্দকোষ [বহুল সংশোধিত ও পরিবর্ধিত সংস্করণ, ১৩৫৬ বঙ্গাব্দ/১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ] তার শিরোনামে ধারণ করে আছে ‘ব্যবহারিক’, য-ফলার পর আ-কার ছাড়া।
এই ব্যবহারিক শব্দকোষে দুটি আলাদা ভুক্তি পাই: একটি ‘ব্যবহারিক, ব্যা-‘ শীর্ষক, অন্যটি ‘ব্যাবহারিক’ শীর্ষক, যদিও দ্বিতীয়টি থেকে আবার প্রথমটি দেখতে বলা হয়েছে।
‘ব্যবহারিক, ব্যা-‘ শীর্ষক ভুক্তিতে পাই: ‘[ব্যবহার+ষ্ণিক]’; কিন্তু এই ব্যুৎপত্তি কি দুটি বানান-রূপকেই সমর্থন করে?
 
৩.৬। রাজশেখর বসু সংকলিত ও কলিকাতা থেকে প্রকাশিত চলন্তিকা/আধুনিক বঙ্গভাষার অভিধান [সংশোধিত ও পরিবর্ধিত নবম সংস্করণ, ১৩৬২ বঙ্গাব্দ] থেকে পাই: ‘ব্যবহারিক’ ও ‘ব্যাবহারিক’।
 
৩.৭। আশুতোষ দেব সংকলিত ও দেব সাহিত্য কুটীর থেকে প্রকাশিত নূতন বাঙ্গালা অভিধান (সংশোধিত তৃতীয় সংস্করণ, জানুয়ারি ১৯৫৯) লিখেছে:
“ব্যবহারিক … ব্যবহার+ইক (ঠন্‌) সিদ্ধার্থে, যুক্তার্থে, সম্বন্ধার্থে।“
এবং
“ব্যাবহারিক … ব্যবহার+ইক সম্বন্ধার্থে। … ব্যবহার+ইক জ্ঞাতার্থে।”
 
৩.৮। সুবলচন্দ্র মিত্রের সরল বাঙ্গালা অভিধান (অষ্টম সংস্করণ, এপ্রিল ১৯৬০) লিখেছে:
“ব্যবহারিক … ব্যবহার+ষ্ণিক নিষ্পন্নার্থে।”
এবং
“ব্যাবহারিক … ব্যবহার শব্দ+ষ্ণিক ইদমর্থে।”
 
৩.৯। শৈলেন্দ্র বিশ্বাস সংকলিত ও সাহিত্য সংসদ থেকে প্রকাশিত সংসদ বাঙ্গালা অভিধান (আগস্ট ১৯৫৭, পুনর্মুদ্রণ: মে ১৯৭৩) লিখেছে:
“বিণ. ব্যবহারিক, ব্যাবহারিক …।”
 
৩.১০। বাংলা লেখক ও সম্পাদকের অভিধান [পরিমার্জিত সংস্করণ; কলকাতা: আনন্দ পাবলিশার্স, ১৯৯৭] বলেছে:
“ব্যবহারিক, ব্যাবহারিক দুইই বর্তমানে প্রচলিত, তবে দ্বিতীয়টি অধিকতর সংগত ।“
 
৩.১১। কলিম খান ও রবি চক্রবর্তীর বঙ্গীয় শব্দার্থকোষ (ক্রিয়াভিত্তিক-বর্ণভিত্তিক শব্দার্থের অভিধান) দ্বিতীয় খণ্ড (প্রথম প্রকাশ পৌষ ১৪১৭) বি (বিধ্‌) ক্রিয়ামূলের বংশে জনিত শব্দসমূহের তালিকা ২৯৪ পৃষ্ঠায় অন্তর্ভুক্ত করেছে দুটো রূপই:
‘ব্যবহারিক’ ও ‘ব্যাবহারিক’, সমমর্যাদায়।
 
.১২। সুভাষ ভট্টাচার্য তাঁর বাংলা প্রয়োগ অভিধানে (নবযুগ প্রকাশনী, পরিমার্জিত নবযুগ সংস্করণ: বইমেলা ২০০৩, চতুর্থ মুদ্রণ: ২০১৪) বলেছেন: “ব্যাবহারিক সংগত হলেও ব্যবহারিক প্রচলিত।”
 
৩.১৩। পবিত্র সরকার তাঁর বানান-বোধিনী/একটি অভিনব বানান অভিধান [বাংলা প্রকাশ, প্রথম প্রকাশ একুশে বইমেলা ২০১৫] বইটিতে মত প্রকাশ করে বলেছেন:
“আমাদের মতে ব্যাবসায়িক, ব্যাবহারিক-এর আ-কার ছাড়া বানানের বিকল্প যেহেতু আছে, তাতে আ-কার না লিখলেও চলে, তাতে প্রথম শিক্ষার্থীর সুবিধে হয়।”
 
৩.১৪। Dr Mohammed Amin তাঁর প্রণীত ‘বাংলা শব্দের পৌরাণিক উৎস (ব্যবহারিক পৌরাণিক অভিধান)’ [প্রথম প্রকাশ: অক্টোবর ২০১৫; ঢাকা, পুথিনিলয়] বইটির শিরোনামে ব্যবহার করেছেন ‘ব্যবহারিক’ রূপ, য-ফলার পর আ-কার ছাড়া।
 
৩.১৫। ড. মাহবুবুল হক তাঁর খটকা বানান অভিধান [ড. মাহবুবুল হক; প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০১৭; ঢাকা: প্রথমা প্রকাশন] বইটিতে ১৩০-১৩১ পৃষ্ঠায় বলেছেন: “ব্যবহারিক বিকল্প ব্যাবহারিক” এবং “ব্যাবহারিক [য-ফলা আ-কার] বিকল্প ব্যবহারিক”।

আজকের মতো এখানেই হোক ইতি, প্রিয় শুবাচি!
[ প্রতিটি পর্ব-শিরোনামে ক্লিক করলে সংশ্লিষ্ট পর্বের ছবিসমূহ পাবেন]
চতুর্থপর্ব
 
বাংলা ব্যাকরণে ‘ব্যবহারিক’ ও ‘ব্যাবহারিক’:
৪.১। প্রত্যয়যুক্ত ব্যবহার+ইক, দৃশ্যত, ব্যাকরণিকভাবে হতে পারে ব্যবহারিক, ব্যাবহারিক এবং বৈয়বহারিক:
 
ক) ব্যবহার+ইক=ব্যবহারিক, যেভাবে ক্রম+ইক=ক্রমিক, দেশ+ইক=দেশিক;
আবার,
 
খ) ব্যবহার+ইক=ব্যাবহারিক; যেভাবে বৎসর+ইক=বাৎসরিক, বর্ষ+ইক=বার্ষিক;
আবার,
 
গ) ব্যবহার+ইক=বৈয়বহারিক, যেভাবে ব্যক্তি+ইক=বৈয়ক্তিক।
 
‘বৈয়বহারিক’ রূপের ব্যবহার পাই অনলাইন:
“তোমরা সংস্কৃত ভাষায় হয়তো সেই মূর্খ ব্রাহ্মণপুত্ত্রের গল্প পড়েছ৷ সে গুরুগৃহ থেকে অনেক শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছিল৷ জ্ঞানে বৈদুষ্যে তার জুড়ি মেলা ভার, কিন্তু তার বৈয়বহারিক বুদ্ধি বলে কোনো জিনিস ছিল না৷”
 
৪.২। আমাদের বাংলা ব্যাকরণে সহজ-করে-বলা ‘ইক’ প্রত্যয়টি সংস্কৃত ব্যাকরণের ‘ষ্ণিক’ প্রত্যয়, যার আবার তিনটি ভাগ: ‘ঠক্‌’, ‘ঠঞ্‌’ ও ‘ঠন্‌’।
 
ক) ‘ঠন্‌’ প্রত্যয়ান্ত শব্দের শেষে ‘ইক’ হয়, কিন্তু আদ্যস্বরের বৃদ্ধি হয় না; যেভাবে, কোনো কোনো রেফারেন্স অনুযায়ী, ব্যবহার+ইক (ঠন্‌)=ব্যবহারিক। একইভাবে নির্মিত হয়েছে ‘ক্রমিক’ ও ‘দেশিক’।
 
খ) অন্যদিকে,
‘ঠক্‌’ ও ‘ঠঞ্‌’ প্রত্যয়ান্ত শব্দের শেষে ‘ইক’ হয় ও আদ্যস্বরের বৃদ্ধি হয়; যেভাবে, কোনো কোনো রেফারেন্স বলেছে, যেমন বঙ্গীয় শব্দকোষ বলেছে, ব্যবহার+ইক (ঠক্‌)=ব্যাবহারিক। একই নিয়মে নির্মিত হয়েছে ‘বাৎসরিক’ ও ‘বার্ষিক’।
 
গ) আবার, অন্তত একটি উদাহরণে পাই: ব্যবহার+ইক=বৈয়বহারিক।
আমার ধারণা, এখানে য-ফলাকে ধরা হয়েছে সংস্কৃত ‘য’=বাংলা ‘ইয়’, যেখানে আদ্যস্বর ‘ই’, যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ‘ৈ’ (ওই)।
ফলে, ব্যবহার=ব(ইয়)বহার=বইয়বহার; এবং, প্রত্যয় যুক্ত হওয়ায় আদ্যস্বর বৃদ্ধি পেয়ে নির্মিত হল: ব্যবহার+ইক=বইয়বহার+ইক=বৈয়বহারিক।
 
ঘ) অশোক মুখোপাধ্যায়ের সংসদ ব্যাকরণ অভিধান [প্রথম প্রকাশ ১৯৮৯; পরিবর্ধিত তৃতীয় সংস্করণ ২০০৫, দ্বিতীয় মুদ্রণ ২০০৯; সাহিত্য সংসদ; কলকাতা] ওই ‘ষ্ণিক’, ‘ইক’, ‘ঠক্‌’, ‘ঠঞ্‌’ ও ‘ঠন্‌’ সংজ্ঞাগুলো ভুক্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং ব্যাখ্যা করেছে।
ওই অভিধান থেকে নেওয়া এবং কোলাজ-করা সংজ্ঞার্থগুলো পাবেন এ-পোস্টের সঙ্গে সংযুক্ত ছবিতে।
 
ঙ) সংসদ ব্যাকরণ অভিধান আরও দিয়েছে ‘বৃদ্ধি’-র সংজ্ঞা ও উদাহরণ, এবং, ‘গুণ’ ও ‘বৃদ্ধি’-র একটি সারণি, যার ছবিও এ-পোস্টের সঙ্গে যুক্ত করেছি।
‘ব্যবহার+ইক’-এর ক্ষেত্রে আদ্যস্বরের বৃদ্ধি হবে-কি-হবে-না, সে-বিতর্কে এ-সংজ্ঞা ও সারণি আমাদের কাজে লাগতে পারে।
 
৪.৩। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ তাঁর বাঙ্গালা ব্যাকরণ [১৩৪২ সন; প্রথম সংস্করণ] বইটির ‘অস্তি (আছে) অর্থে প্রত্যয়সমূহ’-শীর্ষক অনুচ্ছেদে [১৭৩ পৃষ্ঠায়] ইক (ঠন্‌) প্রত্যয়ান্ত শব্দের উদাহরণে অন্তর্ভুক্ত করেছেন ‘দণ্ডিক’, ‘ধনিক’, ‘শ্রমিক’, ‘কর্ম্মিক’ ইত্যাদি, যেখানে ঠন্‌ প্রত্যয়ের সংজ্ঞার্থ অনুযায়ীই মূলশব্দের আদ্যস্বরে কোনো বৃদ্ধি ঘটেনি।
 
৪.৪। ইক (ঠন্‌) প্রত্যয়ান্ত শব্দের আরও একটি চমৎকার উদাহরণ পাই বঙ্গীয় শব্দকোষে:
“অহমহমিকা … [অহম্‌ অহম্‌+ইক (ঠন্‌)+… আ (টাপ্‌), বীপ্সার্থে দ্বিত্ব, … ] ‘আমি আমি’ এইরূপ পরস্পরের যে অহঙ্কার বা অন্যোন্যোক্তি; পরস্পরাহঙ্কার।”
ইক (ঠন্‌) প্রত্যয়ের নিয়মেই ‘অহমহমিকা’-য়ও কোনো বৃদ্ধি নেই।
 
৪.৫। বামণদেব চক্রবর্তী তাঁর উচ্চতর বাঙলা ব্যাকরণ [অভিনব নবম সংস্করণ; ১৯৯১; কলকাতা] বইটির তৃতীয় খণ্ড পৃষ্ঠা-৩০৫ ‘অপত্যভিন্ন অর্থে তদ্ধিত ॥ ষ্ণিক (ইক) ॥’-শীর্ষক অনুচ্ছেদে অন্তর্ভুক্ত করেছেন দুটো রূপই:
“ব্যবহার—ব্যবহারিক (ব্যাবহারিক)।”
 
৪.৬। জ্যোতিভূষণ চাকী তাঁর বাংলা ভাষার ব্যাকরণ [প্রথম প্রকাশ ১৯৯৬, তৃতীয় মুদ্রণ ২০১৩] বইটির ১২৩ পৃষ্ঠায় বলেছেন:
“প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতু বা শব্দের মধ্যে কোনও কোনও ক্ষেত্রেস্বরগত কিছু পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তনগুলির নামগুণ, বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণ।”
বৃদ্ধিনামক পরিবর্তন তিনি উদাহরণ-সহ বর্ণনা করেছেন এভাবে:
“বৃদ্ধি : অ > আ (অলস+য=আলস্য), ই,ঈ > ঐ (নিশা+অ=নৈশ), উ, ঊ > ও [যদৃষ্ট; (হবে: ঔ)] (ভূত+ইক=ভৌতিক), ঋ > আর্‌ (স্মৃ+অক=স্মারক)।”
তারপর, তিনি ১৩৩ পৃষ্ঠায় লিখলেন:
“ব্যবহার+ইক=ব্যাবহারিক ব্য > ব্যা (বৃদ্ধি), … ।”
য-ফলা থেকে য-ফলা-আ-কার-এ ‘বৃদ্ধি’ হতে পারে সে-কথা জ্যোতিভূষণ চাকীর-দেওয়া সংজ্ঞার্থ বলে না; সে-কথা বলে না সংসদ ব্যাকরণ অভিধানও। ‘বৃদ্ধি’-র সারণি বা সংজ্ঞার্থে নেই য-ফলার কথা।
‘ব্যবহারিক’ ও ‘ব্যাবহারিক’ উচ্চারণ যে এক ও অভিন্ন হবে, সে-নমুনা তো আমরা বাংলা একাডেমি বাংলা বানান-অভিধানে আন্তর্জাতিক ধ্বনিলিপিতে উপস্থাপিত ‘ব্যবহার /bæboɦar ব্যাবোহার্‌/’  ‘ব্যাবহারিক /bæboɦarik ব্যাবোহারিক্‌/’ উচ্চারণ দেখেই বুঝতে পারি।
প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার আগে মূলশব্দ ‘ব্যবহার’-এর ‘ব্য’ এবং প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পর প্রত্যয়ান্ত শব্দ ‘ব্যাবহারিক’-এর ‘ব্যা’ উচ্চারিত হচ্ছে একইভাবে, যথা, ‘bæ’ ধ্বনি দিয়ে।
এ-অবস্থায়, উচ্চারণে ‘বৃদ্ধি’ কীভাবে হল?
 
৪.৭। য-ফলা থেকে য-ফলা-আ-কার হতে পারে এমন কথা ‘বৃদ্ধি’-র সংজ্ঞার্থে বলা না-থাকলেও, বাংলার পণ্ডিতগণ আমাদের শেখাচ্ছেন: “ব্যবহার+ইক=ব্যাবহারিক ব্য > ব্যা (বৃদ্ধি), … ।” অর্থাৎ, ‘বৃদ্ধি’-র ফলে ‘ব্য’ হয়ে গেল ‘ব্যা’! বাহ্‌!
আমরা কার কাছে আপিল করব?
প্রিয় শুবাচি!
[ প্রতিটি পর্ব-শিরোনামে ক্লিক করলে সংশ্লিষ্ট পর্বের ছবিসমূহ পাবেন]
 
 
পঞ্চম পর্ব
॥ সংস্কৃত ব্যাকরণে ও ভাষায় ‘ব্যবহারিক’ ও ‘ব্যাবহারিক’ ॥
৫.১। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর-প্রণীত ও হরলাল বন্দ্যোপাধ্যায়-সম্পাদিত ব্যাকরণ-কৌমুদী (প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ভাগ) [কলিকাতা : ১৯৬০] পৃষ্ঠা-৪৫৬ থেকে পাই:
“ব্যবহারেণ জীবতি—ব্যবহারিক: (ঠন্‌), (litigant), …।”
প্রিয় শুবাচি, খেয়াল করে থাকবেন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এখানে লিখেছেন ‘ব্যবহারিক:’, ব-য়ে য-ফলা দিয়ে, আ-কার-ছাড়া।
 
৫.২। A Dictionary in Sanskrit and English by the Late Rev. W. Yates [Calcutta : 1846] দেখিয়েছে দুটি রূপই: ‘व्यवहारिक’ [ব্যবহারিক] ও ‘व्यावहारिक’ [ব্যাবহারিক]।
व्यवहारिक [ব্যবহারিক] … n. Customary; legal; litigant; engaged.
व्यावहारिक [ব্যাবহারিক] … m. A counsellor, minister. a. Judicial, customary.
 
৫.৩। Shabda-Sagara by Pandit-Kulapati Jibananda Vidyasagara [First Edition : 1900] অন্তর্ভুক্ত করেছে দুটি রূপই: ‘व्यवहारिक’ [ব্যবহারিক] ও ‘व्यावहारिक’ [ব্যাবহারিক]।
Vyavahārika (व्यवहारिक).—mfn. (-kaḥ-kā or kī-kaṃ) 1. Customary, usual. 2. Engaged in customary duty or avocation. 3. Connected with or relating to legal process. 4. Litigant, being party to a suit. E. vyavahāra, ṭhan aff.
Vyāvahārika (व्यावहारिक).—mfn. (-kaḥ-kī-kaṃ) 1. Usual, customary. 2. Juridical, judicial, legal, relative or referring to judicial procedure. 3. Relating to business. 4. Relating to the worldly life of illusion, (in Vedanta phil.) m. (-kaḥ) A counseller, a minister. E. vyavahāra litigation, ṭhañ aff.
 
৫.৪। Vaman Shivram Apte-প্রণীত The Practical Sanskrit-English Dictionary [Fourth Revised & Enlarged Edition : Delhi 1965 Reprint 1985] অন্তর্ভুক্ত করেছে দুটি রূপই: ‘व्यवहारिक’ [ব্যবহারিক] ও ‘व्यावहारिक’ [ব্যাবহারিক]।
Vyavahārika (व्यवहारिक).—a (-kā or -kī f.) 1 Relating to business. -2 Engaged in business, practical. -3 Judicial, legal. -4 Litigant. -5 Usual, customary.
Vyāvahārika (व्यावहारिक).—a. (-kī f.) 1 Relating to business, practical. -2 Legal, judicial. -3 Customary, usual. -4 Relating to the world of illusion; cf. प्रातिभासिक (prātibhāsika). -kaḥ 1 A counsellor, minister. -kam 1 Use.
 
৫.৫। অনলাইন Sanskrit Dictionary [sanskritdictionary.com] দেখাচ্ছে দুটি রূপই: ‘व्यवहारिक’ [ব্যবহারিক] ও ‘व्यावहारिक’ [ব্যাবহারিক]।
vyavahārika व्यवहारिक a (-का or -की f.) 1 Relating to business. -2 Engaged in business, practical. -3 Judicial, legal. -4 Litigant. -5 Usual, customary.
vyāvahārika व्यावहारिक a. (-की f.) 1 Relating to business, practical. -2 Legal, judicial; स्वभावेनैव यद्ब्रूयुस्तद्ग्राह्यं व्यावहारिकम् Ms.8.78. -3 Customary, usual. -4 Relating to the world of illusion; cf. प्रातिभासिक. -कः 1 A counsellor, minister; व्यपनिन्युः सुदुःखार्तां कौसल्यां व्यावहारिकाः Rām.2.66.13. -2 Superintendent of Transactions; Kau. A.1.12. -कम् 1 Use. -2 Business, trade.
 
৫.৬। Buddhist Hybrid Sanskrit Grammar and Dictionary by Franklin Edgerton, Sterling Professor of Sanskrit and Comparative Philology, Yale University, Volume II : Dictionary [First Edition 1953, Reprint 1993] বলছে:
“Vyavahārika (व्यवहारिक).—(Sanskrit °ra plus °ika; in Sanskrit vyāva°, but even in Sanskrit vyava° need not be called ‘erroneous’ with [Boehtlingk and Roth]), …”
 
[অনুবাদ: ব্যবহারিক (व्यवहारिक).—(সংস্কৃত ব্যবহার+ইক; সংস্কৃতে ব্যাব° [ব্যাবহারিক], কিন্তু এমনকি সংস্কৃতে ব্যব° [ব্যবহারিক]-কে ভুল বলার দরকার নেই [Boehtlingk and Roth], …।]

মানে, সংস্কৃতেও কেউ কেউ ‘ব্যবহারিক’-কে ভুল বলার চেষ্টা করেছেন, যুগে যুগে, ঐতিহাসিকভাবে!
স্পষ্টতই, সংস্কৃতে ‘ব্যবহারিক’ আছে, ‘ব্যাবহারিক’-ও আছে।
‘ব্যবহারিক’ ও ‘ব্যাবহারিক’ প্রসঙ্গে এটুকু সংস্কৃত-চর্চাই সংস্কৃত-অজ্ঞ আমার জন্য বোধ করি আপাতত যথেষ্ট হবে।
আপনার মনোযোগ ও সময়ের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ, প্রিয় শুবাচি!
 
[ প্রতিটি পর্ব-শিরোনামে ক্লিক করলে সংশ্লিষ্ট পর্বের ছবিসমূহ পাবেন]
 
ষষ্ঠ পর্ব
 
॥ ‘ব্যবহারিক’ বা ‘ব্যাবহারিক’-এর প্রথম ধ্বনিদলের স্বরধ্বনিটি ‘অ্যা’, বাংলার একান্ত নিজস্ব ধ্বনি, যা সংস্কৃতে নেই ॥
 
৬.১। ‘ব্যবহারিক’ বা ‘ব্যাবহারিক’ যেভাবেই বানান লেখা হোক, শব্দটির প্রথম ধ্বনিদলের স্বরধ্বনিটি—সংস্কৃতে আর যা-ই হোক—বাংলায় তা কেবলই ‘অ্যা’।
এই ‘অ্যা’ বাংলায় অন্যতম স্বরধ্বনিমূল, অথচ তা প্রকাশ করার প্রতিনিধিত্বশীল বর্ণ বাংলায় নেই।
তবে ‘অ্যা-কার’-চিহ্ন রূপে য-ফলা-আ-কার ( ্যা ) আমরা তো ইতিমধ্যে ব্যবহার করছিই।
এই চিহ্নটিকে ‘য-ফলা-আ-কার’ না-বলে আমরা বলতে পারি ‘অ্যা-কার’, যা এ-কার চিহ্ন (ে) থেকে ভিন্ন, স্বরে এবং লিপিতে।
৬.২। ক) ড. রামেশ্বর শ’ তাঁর সাধারণ ভাষাবিজ্ঞান ও বাংলা ভাষা [প্রথম প্রকাশ অখণ্ড : ফাল্গুন ১৩৯৪/ফেব্রুয়ারি ১৯৮৮; চতুর্থ সংস্করণ : বৈশাখ ১৪১৯/এপ্রিল ২০১২] বইটিতে বলেন:
“ ‘অ্যা’ / æ / ধ্বনিটি বাংলার একটি অভিনব ধ্বনি ; এই ধ্বনিটি সংস্কৃতে ছিল না।”
খ) বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ [প্রথম প্রকাশ: মাঘ ১৪২০/জানুয়ারি ২০১৪] বলেছে:
“বাংলায় স্বরধ্বনি দু-ধরনের হয়—মৌখিক ও অনুনাসিক। মৌখিক স্বরধ্বনি সাতটি আর এই সাতটিরই অনুনাসিক রূপ আছে।
“… সাতটি মৌখিক স্বরধ্বনি হচ্ছে :
ই /i/, উ /u/, এ /e/, ও /o/, অ্যা /æ/, অ /ɔ/, আ /a/
“এই সাতটি স্বরধ্বনি হল সাতটি স্বরস্বনিম বা স্বরধ্বনিমূল (vowel phoneme)।” [পৃষ্ঠা-৬০]
এবং ‘অ্যা’ স্বরধ্বনির স্বলক্ষণ:
“অ্যা [+নিম্ন, +সম্মুখ]”। [পৃষ্ঠা-১০১]
গ) ‘অ্যা’ স্বরধ্বনিটি বাংলার স্বকীয় স্বরস্বনিম; অথচ বাংলা একাডেমি তার বাংলা-বাংলা অভিধানগুলোর কোনোটিতেই ভুক্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেনি ‘অ্যা’; অন্তর্ভুক্ত করেছে কেবল চন্দ্রবিন্দুযুক্ত ‘অ্যাঁ’, যা আবার মৌখিক স্বরস্বনিম ‘অ্যা’-র অনুনাসিক রূপ হলেও সে-পরিচয়ের কোনো আভাস নেই ওই ‘অ্যাঁ’ ভুক্তিতে।
ঘ) বাংলা একাডেমির বাঙলা উচ্চারণ অভিধান [পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ (১৯৯৯)-এর সপ্তম পুনর্মুদ্রণ (২০১২)] বইটি বলেছে:
“এ বাঙলা ভাষায় এ-বর্ণটির দুটো উচ্চারণ বর্তমান। এক, এর মূল বা নিজস্ব উচ্চারণ,—এ (যথা : কে, সে, দেশ, তেজ, মেঘ, মেদ, বেদ ইত্যাদি) এবং দুই, এর ‘তির্যক’ বা ‘বাঁকা-এ’ — অ্যা (æ)-রূপ [যথা : এক (অ্যাক্‌); কেন (ক্যানো); দেখা (দ্যাখা); যেন (জ্যানো) ইত্যাদি]। উল্লেখ্য, এ-কারের এই তির্যক বা বাঁকা উচ্চারণ (অ্যা) সংস্কৃত বা প্রাকৃত ভাষায় স্বীকৃত নয়।” [পৃষ্ঠা-[একুশ]]
এবং
“খেলা (খ্যালা), বেলা (ব্যালা) ইত্যাদি শব্দের আদ্য ‘এ’-র উচ্চারণ ‘এ’ নয়[,] পরিষ্কার ‘অ্যা æ[’], (যেটা সংস্কৃত ভাষায় নেই[,] কিন্তু ইংরেজি Cat, Bat[-]এর মতো শব্দের a-তে আছে।” [পৃষ্ঠা-[চৌত্রিশ]]
এসব-তথ্যের ভিত্তিতে আমি ধারণা করি, বাংলায় আমরা যেভাবে ‘ব্যাবহারিক’ বা ‘ব্যবহারিক’ উচ্চারণ করি, যথা, ‘/bæboɦarik ব্যাবোহারিক্‌/’, সংস্কৃতে তা নিশ্চয়ই সেভাবে উচ্চারণ করা হয় না।
৬.৩। বাংলা ভাষায় মুষ্টিমেয় যে-সব শব্দের প্রথম বর্ণটি কেবলই য-ফলা-যুক্ত, এবং য-ফলা-আ-কার-যুক্ত নয়,—যেমন ত্যক্ত, ন্যক্কার, ন্যস্ত, ব্যক্ত, ব্যক্তি, ব্যগ্র, ব্যঙ্গ, ব্যঞ্জন, ব্যতিরেকে, ব্যতিহার, ব্যতীত, ব্যথা, ব্যথিত, ব্যবস্থা, ব্যয়, ব্যর্থ, ব্যষ্টি, ব্যস্ত ইত্যাদি—সেগুলো সবই কেবলই তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ।
নির্দিষ্ট নিয়মের অধীন কিছু শব্দ ছাড়া এদের মধ্যে বাকি সব শব্দই উচ্চারিত হয় প্রথম ধ্বনিদলের ব্যঞ্জনটির সঙ্গে ‘অ্যা’ ধ্বনি যুক্ত হয়ে।
যেমন ত্যক্ত, ন্যক্কার, ন্যস্ত, ব্যক্ত, ব্যগ্র, ব্যঙ্গ, ব্যঞ্জন, ব্যথা, ব্যবস্থা, ব্যবহার, ব্যয়, ব্যর্থ, ব্যস্ত ইত্যাদি শব্দের উচ্চারণ যথাক্রমে ত্যাক্-তো, ন্যাক্‌-কার্‌, ন্যাস্‌-তো, ব্যাক্‌-তো, ব্যাগ্‌গ্রো, ব্যাঙ্‌গো, ব্যান্‌জন্‌, ব্যাথা, ব্যাবোস্‌থা, ব্যাবোহার্‌, ব্যায়্‌, ব্যার্‌থো, ব্যাস্-তো ইত্যাদি। [কারিগরি কারণে এখানে কোনো কোনো শব্দের উচ্চারণে হাইফেন ব্যবহার করতে হয়েছে।]
য-ফলা-যুক্ত ‘ব্যগ্র’ উচ্চারণ ‘ব্যাগ্‌গ্রো’, এবং য-ফলা-আ-কার-যুক্ত ‘ব্যাঘ্র’ উচ্চারণ ‘ব্যাগ্‌ঘ্রো’, যেভাবে বলেছে বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান [প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০১৬; পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ: এপ্রিল ২০১৬]।
লক্ষ করবেন, প্রিয় শুবাচি, বানানে একটিতে য-ফলা ও অন্যটিতে য-ফলা-আ-কার থাকলেও, উভয় শব্দের প্রথম ধ্বনিদলের উচ্চারণ অভিন্ন ‘ব্যাগ্‌’।
ব্যতিক্রমী শব্দ সেগুলো যাদের দ্বিতীয় ধ্বনিদলে আছে ‘ই’ /i/ ধ্বনি। এদের উচ্চারণে প্রথম ধ্বনিদলের স্বরস্বনিমটি ‘অ্যা’ নয়, বরং ‘এ’। যেমন ব্যক্তি, ব্যতিরেকে, ব্যতিহার, ব্যতীত, ব্যথিত ইত্যাদির উচ্চারণ যথাক্রমে বেক্‌তি, বেতিরেকে, বেতিহার্‌, বেতিতো, বেথিতো ইত্যাদি।
এ-অবস্থায় ওপরে-উল্লেখ-করা ব্যতিক্রমী শব্দগুলো ছাড়া অ্যা-ধ্বনিযুক্ত সকল তৎসম শব্দকে আমি লিখতে চাই তাদের অতৎসম রূপে—প্রথম বর্ণে অ্যা-কার-যুক্ত করে।
আমরা এরই মধ্যে নিশ্চয়ই লিখছি তৎসম ‘ব্যবসায়’-এর পরিবর্তে অতৎসম ‘ব্যাবসা’।
ত্যক্ত, ন্যক্কার, ন্যস্ত, ব্যক্ত, ব্যগ্র, ব্যঙ্গ, ব্যঞ্জন, ব্যথা, ব্যবস্থা, ব্যবহার, ব্যয়, ব্যর্থ, ব্যস্ত ইত্যাদি তৎসম রূপের বিপরীতে এবং সমান্তরালে থাকতে পারে অতৎসম রূপ যথাক্রমে ত্যাক্ত, ন্যাক্কার, ন্যাস্ত, ব্যাক্ত, ব্যাগ্র, ব্যাঙ্গ, ব্যাঞ্জন, ব্যাথা, ব্যাবস্থা, ব্যাবহার, ব্যায়, ব্যার্থ, ব্যাস্ত ইত্যাদি।
এ-ধরনের অতৎসম রূপকে আমরা যদি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়মের আওতায় এনে বৈধতা দিতে পারি, তাহলে, ভাবুন দেখি, সংস্কৃত-না-জানা বাংলা শিক্ষার্থীদের কী পরিমান বানান-দ্বিধা ও বানান-যন্ত্রণা আমরা দূর করতে পারি!
বাংলা ভাষার পণ্ডিত ও অন্যান্য আগ্রহীদের জন্য অবশ্যই চলমান থাকবে যথারীতি সংস্কৃত বানান ‘ব্যগ্র’, ‘ব্যক্ত’, ব্যথা, ‘ব্যবসায়’, ব্যবহার, ব্যয়, ব্যস্ত ইত্যাদি, তাঁদের গভীরতর চর্চা ও গবেষণার জন্য।
 
৬.৪। এ-সিরিজে আমাদের আলোচ্য বিষয় ‘ব্যবহারিক’ ও ‘ব্যাবহারিক’ রূপভেদ। এদের একটি কেবল-য-ফলা-যুক্ত এবং অন্যটি য-ফলা-আ-কার-যুক্ত। এ-ধরনের তৎসম শব্দের রূপভেদের মধ্য থেকে শুধু একটি রূপকে—আমি প্রস্তাব করি, য-ফলা-আকার-যুক্ত রূপকে—বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়মের অধীন একটি নতুন নিয়ম তৈরি করে প্রমিত বলে আমরা গ্রহণ করতে পারি, যেভাবে প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম ১.২ প্রমিত করেছে যেমন ‘শ্রেণী’ ও ‘শ্রেণি’ দুটি রূপভেদের মধ্য থেকে ‘শ্রেণি’-কে।
শব্দের শুরুতে য-ফলা-আ-কার-যুক্ত রূপই বাংলার জন্য স্বাভাবিক।
সকল অতৎসম শব্দের শুরুতে য-ফলা-আ-কারই যুক্ত হয়, যখন দরকার হয়; ওখানে কেবল য-ফলা কখনোই নয়।
 
৬.৫। আমরা যদি সাহসী হই এবং প্রমিত বাংলা বানানের নিয়মকে আরও যুগোপযোগী করতে পারি, তাহলে বাংলা শিক্ষার্থী ও আপামর বাংলা ভাষা ব্যবহারকারীদের জন্য য-ফলা ও য-ফলা-আ-কার-এর দ্বন্দ্ব ও দোলাচল অনেকাংশে দূর হবে, বানান ভুল করার গ্লানি ও যাতনা থেকে রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে, বাংলা-ভাষা-চর্চার পথ অনেক কণ্টকমুক্ত হবে।
 
৬.৬। অন্যান্য আরও অনেক বিষয়ে উদ্যোগ-সহ এ-ধরনের বানান-সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে বাংলা একাডেমি আজকের বাংলাভাষী তরুণ প্রজন্মের ভাষা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারে এবং একটি প্রতীক্ষিত বানান-বিপ্লবের নেতৃত্ব দিতে পারে।
আজ-না-হোক-কাল বাংলা একাডেমিকে নতুন প্রজন্মের দাবিতে সাড়া দিতেই হবে!
কণ্টকাকীর্ণ বানান-ভুবনে অপরিসীম ধৈর্য ও মনোযোগ-সহ আপনাদের অবস্থান ও সময়ের জন্য আপনাদেরকে অনেক ধন্যবাদ, প্রিয় শুবাচি!
[ প্রতিটি পর্ব-শিরোনামে ক্লিক করলে সংশ্লিষ্ট পর্বের ছবিসমূহ পাবেন]
 
error: Content is protected !!