ব্যাকরণবিধি ছাড়া প্রমিত বানান মনে রাখার কৌশল : নিমোনিক

ড. মোহাম্মদ আমীন

উচিত:  উচিত (√উচ্‌+ত) সংস্কৃত শব্দ। বাক্যে সাধারণত বিশেষণ পদ হিসেবে ব্যবহৃত শব্দটির অর্থ— যোগ্য, যথাযথ প্রভৃতি। শব্দটির শেষ বর্ণ ‘আস্ত-ত’ হলেও উচ্চারণ অ-কারন্ত বা ‘খণ্ড-ৎ’ এর মতো। তাই বানানে ‘খণ্ড-ৎ’ হবে না কি ‘আস্ত-ত’ হবে তা নিয়ে সংশয় লেগে যায়। সংশয় দূর করার জন্য একটা নিমোনিক মনে রাখুন : অপূর্ণ বর্ণ হিসেবে খণ্ড-ৎ একটি অনুচিত বর্ণ। তাই ‘উচিত’ বানানটি উচিত বর্ণ ‘আস্ত-ত’ দিয়ে লেখা উচিত। অতএব, উচিত বানানে কখনো অপূর্ণ বর্ণ ‘খণ্ড-ৎ’ দেবেন না।

সন্ধ্যক্ষর: বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ‘সন্ধ্যক্ষর (সন্ধি+অক্ষর)’ অর্থ— সন্ধিজাত বর্ণ য র ল এবং অন্তঃস্থ-ব। পর পর উচ্চারিত দুটি স্বরধ্বনির সমন্বয়ে গঠিত স্বরকেও সন্ধ্যক্ষর বলে। যেমন ঐ=(ও+ই) এবং ঔ= (ও+উ)।সন্ধ্যক্ষর শব্দের সঙ্গে সন্ধ্যার কোনো সম্পর্ক নেই, সম্পর্ক আছে সন্ধির। য-ফলা সন্ধিবর্ণ। তাই এখানে সন্ধ্যা হবে না, সন্ধ্য হবে।

রানি রাণী : বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত এবং সংস্কৃত ‘রাজ্ঞী’ হতে জাত তদ্ভব শব্দের অর্থ— রাজার পত্নী, রাজবধূ, রাজমহিষী, রাজ্ঞী প্রভৃতি। এটা অতৎসম বলে দন্ত্য-ন। কিন্তু এসব তৎসম-অতৎসম গবেষকদের বিষয়। আমাদের মতো সাধারণদের জন্য সহজে স্মরণযোগ্য সূত্র প্রয়োজন। তাই একটা নিমোনিক প্রয়োজন। দেখুন নিমোনিকটি: মূর্ধন্য-ণ অর্ধমাত্রার বর্ণ, কিন্তু রানি হচ্ছে রাজার বউ।রাজা অর্ধেক বউ নিয়ে খুশি হতে পারেন না। তাই রাজা  ‘রানি’ হতে অর্ধমাত্রার মূর্ধন্য-ণ সরিয়ে পূর্ণমাত্রার দন্ত্য-ন বসিয়ে রানিকে পূর্ণ করে দিলেন।

বর্ষণ বরিষন : বর্ষণ শব্দে মূর্ধন্য-ণ, কিন্তু বরিষন শব্দে দন্ত্য-ন। কারণ ‘বরিষন’ সংস্কৃত ‘বর্ষণ’ শব্দ হতে জাত তদ্ভব শব্দ। যা বর্ষণ শব্দের কাব্যিক রূপ। প্রসঙ্গত, তৎসম শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দে মূর্ধন্য-ণ বসে না।

Language
error: Content is protected !!