ব্যাবহারিক প্রমিত বাংলা বানান সমগ্র : শুবাচ/৩

ব্যাবহারিক প্রমিত বাংলা বানান সমগ্র
দুই মিনিটের পাঠশালা/৩
 ড. মোহাম্মদ আমীন
অকালি, কিন্তু মাকালী: অকালি, কিন্তু মাকালী— একটা ল-য়ে ‘ই-কার’ এবং আরেকটায় ‘ঈ-কার’, কিন্তু কেন? ‘অকালি’ একটি সম্প্রদায়ের নাম। শিখ সম্প্রদায়ের যেসকল অনুসারী অকাল-পুরুষ উপাসনা করেন তাদের অকালি বলা হয়।ভারতে এরা বিশেষভাবে ‘অকালি’ হিসেবে পরিচিত। এটি অতৎসম শব্দ। এজন্য শব্দটির বানানে দীর্ঘ-ঈ অনাবশ্যক। ‘কালী’ বা ‘মা-কালী’ একজন হিন্দু দেবী। তাঁর অপর নাম শ্যামা বা আদ্যাশক্তি। শাক্ত সম্প্রদায়ের লোকেরা মা কালীর পূজা করে থাকে। এটি তৎসম শব্দ। তাই এর বানানে দীর্ঘ ঈ-কার আবশ্যক। বাঙালি হিন্দু সমাজে কালীর মাতৃরূপের পূজা বিশেষ জনপ্রিয়। তাই কালী।
অংশগ্রহণ, কিন্তু অংশ গ্রহণ: অংশ’ ‘গ্রহণ’ শব্দদুটো পরস্পর সেঁটে বসে গঠন করেছে নতুন শব্দ অংশগ্রহণ। এখানে ‘অংশ’ ও ‘গ্রহণ শব্দের সার্থক মিলন ঘটেছে। ফলে উভয়ের অর্থ বা মৌলিকত্ব বহুলাংশে ক্ষুণ্ন হয়েছে। যেমনটি হয়ে থাকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে। অন্যদিকে, ‘অংশ গ্রহণ’ দুটি পৃথক শব্দ নিয়ে গঠিত। এখানে ‘অংশ’ ও ‘গ্রহণ’ পরস্পর নিরাপদ দূরত্বে অবস্থানপূর্বক বাক্য-সমাজের শালীন শব্দ-ফাঁক বজায় রেখে অবস্থান করে। তাই অবিবাহিত নারী-পুরুষের মতো উভয় শব্দের অর্থ বা মৌলিকত্ব অক্ষুণ্ন থেকে যায়। ‘অংশগ্রহণ’ শব্দের অর্থ যোগ দেওয়া। যেমন : সভাপতি সাহেব যথাসময়ে সভায় অংশগ্রহণ করেছেন। ‘অংশ গ্রহণ’ বাগ্‌ভঙ্গির অর্থ ভাগ নেওয়া। যেমন : সমিরা তার পিতার সম্পত্তির প্রাপ্য অংশ গ্রহণ করেছেন। অতএব ‘অংশগ্রহণ’ অর্থে ‘অংশ গ্রহণ’ লেখা সমীচীন নয়।
ফাউ:
নগরায়ন নয়, লিখুন নগরায়ণ (নগর+আয়ন; অন্তঃস্থ-র থাকায় ‘আয়ন’ হয়ে গেল ‘আয়ণ’)।
নাড়িভুড়ি নয়, লিখুন নাড়িভুঁড়ি
নিয়মি নয়, নিয়মী (নিয়ম পালন করে এমন, সংযমী)।
নুব্জ্য নয়, ন্যুব্জ (উচ্চারণ: নুবজো)।
ন্যুন নয়, লিখুন ন্যূন (উচ্চারণ: নুনো)।
নুন্যতম নয়, লিখুন ন্যূনতম
error: Content is protected !!