ভাং লা একাডেমি; হারানো বিজ্ঞপ্তি ও গোরুর গাড়ি; বাংলা একাডেমির অদক্ষতা

ড. মোহাম্মদ আমীন

ভাং লা একাডেমি; হারানো বিজ্ঞপ্তি ও গোরুর গাড়ি; বাংলা একাডেমির অদক্ষতা

সংযোগ: https://draminbd.com/ভাং-লা-একাডেমি-হারানো-বিজ/

ভাং লা একাডেমি

বাংলা একাডেমি একটি অথর্ব, অদূরদর্শী আর রুগ্ণ প্রতিষ্ঠান। এখানে যারা চাকুরি করে তাদের সিংহভাগই মনে হয় বাংলা জানেন না। ভুল বানান আর সাংঘর্ষিক বানান বাংলা একাডেমির মজ্জাগত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। একেকটা অভিধানে একেক বানান। বিস্ময়ের বিষয় হলো সবগুলো অভিধান একই সঙ্গে বর্তমান।
প্রমিত বানান বিধিতে বলছে, অতৎসম শব্দে ঈ-কার হবে না। আবার একাডেমি থেকে প্রকাশিত বিদেশি শব্দের অভিধানে এ বিধি সম্পূর্ণ উপেক্ষিত; বিদেশি শব্দেও ঈ-কার।
বাংলা বানানের আদর্শ মান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আধুনিক বাংলা অভিধানে বিকল্প বানান খুব কম রাখা হয়েছে। অনেক শব্দের একাধিক বানান বাদ দিয়ে কেবল একটি রাখা হয়েছে। ভালো কথা, কিন্তু তার সঙ্গে ব্যবহারিক অভিধানের মতো নিম্নমানের একটি অভিধানকেও ছাপিয়ে যাচ্ছে হরদম।
একই শব্দের বানানে কোনো অভিধানে ই/ঈ-কার আবার কোথাও উ/ঊ-কার; কোথাও ন আবার কোথাও ণ; কোথাও স আবার কোথাও ষ; কোথাও ঙ আবার কোথাও অনুস্বার; কোথাও ব্য আবার কোথাও ব্যা; কোথাও ত্য আবার কোথাও ত্ত্য; কোথাও জ আবার কোথাও য। একই অভিধানেও একই শব্দের ভিন্ন বানান ও ভিন্ন উৎস দেখা যায়।
বাংলা ভাষা নিয়ে তারা যা করছে তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। এতগুলো ভিন্ন বানানের সাংঘর্ষিক অভিধান দিয়ে বাংলাকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে বাংলা একাডেমি। এত অদূরদর্শী লোক আর কোথাও নেই।
কেন তাদের বানানে এত সাংঘর্ষিকতা?
তারা কি আসলে কিছু্ই জানে না? যার যেমন ইচ্ছে তেমন বানান লিখে তদবির করে একাডেমি থেকে বই ছাপিয়ে নিচ্ছে। এসব দেখে মনে হয়, গুণগত মানের বই প্রকাশের ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমি বাংলাবাজারের একটি ছোটোখাটো বই বিক্রেতার চেয়েও নিকৃষ্ট।
তাহলে, এত বড়ো অফিস নিয়ে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে কেন? কতগুলো নিম্নমানের বই প্রকাশ, বইমেলা এবং সাংঘর্ষিক বানানের অভিধান বিক্রি ছাড়া তাদের আর কোনো কাজ তো দেখা যায় না।
আমি বাংলা একাডেমির এমন বাংলা বিধ্বংসী কাজের অবসান চাই। সমন্বিত অভিধান হোক একটাই একই বানানের। বাংলা একাডেমিকে ঢেলে সাজানো হোক বাংলার কল্যাণকামী কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে।

হারানো বিজ্ঞপ্তি ও গোরুর গাড়ি

শুবাচি জনাব Noor E Alam Basunia লিখেছেন, “আমরা জানি, ‘হারানো’ শব্দটি কোনোকিছু হারিয়ে যাওয়া অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে হারানো দিন, হারানো স্মৃতি, হারানো অর্থ ইত্যাদি উদাহরণের দিকে তাকালে ‘হারানো বিজ্ঞপ্তি’ পদবাচ্যটি দ্বারা কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর হারিয়ে যাওয়ার বিজ্ঞপ্তি না বুঝিয়ে তো বিজ্ঞপ্তিটিই হারিয়ে গেছে’— এরূপ বোঝানোর কথা। অবশ্য ‘হারানো বিজ্ঞপ্তি’ পদবাচ্যটির যথোপযুক্ত বিকল্প আমি নিজেও খুঁজে পাইনি; তাই এ ব্যাপারে বিজ্ঞজনদের মতামত আশা করছি।”
হারানো বিজ্ঞপ্তি কথাটি যে অর্থে প্রচলিত তা যথার্থ। এর অর্থ কেউ ভিন্ন কিছু ধারণা করলেও অসুবিধা নেই। বাংলা এমন দরিদ্র ভাষা নয় যে, সবসময় একটি কথার কেবল একটি অর্থ হবে। বউয়ের ভাই না হলেও অনেককে অনেকে শালা ডাকে। চাল কথা কেবল শস্য নির্দেশ করে না, দাবার চালও নির্দেশ করে; আরও অনেক অর্থ নির্দেশ করে।
বাবার গাড়ি কথা দিয়ে বাবার মালিকানাধীন বা বাবার কেনা গাড়ি নির্দেশ করলেও গোরুর গাড়ি কথা গোরুর মালিকানাধীন বা গোরুর কেনা গাড়ি নির্দেশ করে না।
error: Content is protected !!