ভাইভা বোর্ডে যা করবেন না

ড. মোহাম্মদ আমীন, বিসিএস (প্রশাসন), ১০ম ব্যাচ
মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে অনেকে আতংকে থাকেন, আসলে এটি আতংকের কিছু নয়, বরং উপভোগের বিষয়, যদি আপনি আত্মবিশ্বাস, সাহস, বিনয়, শোভন আচরণ, মার্জিতভঙ্গি আর অকপট মনোভাব নিয়ে টিকে থাকতে পারেন। মনোবল, ভাইভা বোর্ডকে আপনার বন্ধুদের মুখোমুখি ক্যারাম বোর্ডে পরিণত করতে পারে, যদি আপনি দক্ষ হোন। এ দক্ষতা অর্জনের প্রধান শর্ত হচ্ছে – আত্মবিশ্বাস। মনোবল না থাকলে ভালো প্রস্তুতি থাকলেও আপনি অকৃতকার্য হয়ে যেতে পারেন। আপনার কাছে যতই উপাদেয় খাদ্য থাকুক না কেন, পেটে যতই ক্ষুধা থাকুক না কেন, মনে ভয় বা দুঃশ্চিন্তা থাকলে এক গ্রাসও গ্রহণ করতে পারবেন না। ভাইভা বোর্ডের ক্ষেত্রেও কথাটি সত্য। আপনি যতই জানেন না কেন, যদি ভয়াতুর হয়ে পড়েন তাহলে আপনার সব জানা ভ-ুল হয়ে যাবে। এবার দেখুন ভাইভা বোর্ডে কী করবেন না-

১. কোন অবস্থাতে ভাইভা বোর্ডে তর্ক করবেন না। বোর্ডের কোনো সদস্য যদি, ভুলও বলেন, তারপরও তর্ক করা যাবেন না। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিমানের কাজ হবে, চুপ করে থাকা। তবে আপনি যদি প্রচ- আত্মবিশ্বাসী হন, তাহলেও তার ভুল বর্ণনা মেনে নিয়ে, বিনয়ের সঙ্গে নিজের কিছু মন্তব্য যোগ করে দিতে পারেন। ভাইভা বোর্ডে যারা বসেন, তারা আপনার চাকুরি প্রত্যাশাকে মুহূর্তের মধ্যে ধুলিসাৎ করে দিতে পারেন। মনে রাখবেন, বিনয়ের মাধ্যমে তাদের মন জয় করতে হবে। আপনি যতই ভালো হোন না কেন, একটু উদ্ধত্য প্রকাশ পেলে আপনার সব জ্ঞান নাশ হয়ে যাবে। বিনয় প্রদর্শনের যত উপায় আপনার জানা আছে সব দিয়ে সব বিনয় ভাইভা বোর্ডে ঢেলে দিন, আপনার ভুল উত্তর বিনয়ের ন¤্রতায় শুদ্ধ হয়ে যাবে। আমার অভিজ্ঞতা থেকে আমি বলতে পারি- ভাইভা বোর্ড কিছু ভুল বললেও তার প্রতিবাদ করা কোনো অবস্থাতে ঠিক হবে না, সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হচ্ছে এমন পরিস্থিতিতে চুপ করে থাকা। কেন এমন বলছি তা, নিচের ঘটনা থেকে অনুমান করে নিন।
১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই অগাস্ট পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্টিত হওয়ার পর ‘ফ্র্যাডেরিক চালমার্স বোর্ন’ পূর্ব বাংলার প্রথম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দের ৫ই এপ্রিল পর্যন্ত তিনি পূর্ব বাংলার গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
কাসেম নামের এক প্রার্থী ভাইভাতে খুব ভালো করছিলেন। বোর্ডের এক সদস্য বললেন, স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রে পূর্ব বাংলার প্রথম গভর্নর কে ছিলেন?
কাসেম বললেন, চালমার্স বোর্ন।
আর নাথ নামের এক বহিরাগত সদস্য বললেন, ঠিক হয়নি, পূর্ব বাংলার প্রথম গভর্নর ছিলেন চৌধুরী খালেকুজ্জামান।
কাসেম বিনয়ের সঙ্গে বললেন, আমার মনে হয়, চালমার্স বোর্ন।
তুমি ভুল জানো, সদস্য মহোদয় রাগতঃস্বরে বললেন।
কাসেম বললেন, স্যার, আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, চালমার্স বোন।
আর নাথ বাবু চোখমুখ কালো করে চুপ করে গেলেন।
যাই হোক, ভাইভা শেষ হয়ে গেল। দুই সদস্য তাকে মোটামুটি ভালো নাম্বার দিয়েছিলেন, হয়তো তর্ক না-করলে আরও ভালো নম্বর দিতেন; কিন্তু আর নাথ বাবু, কাসেমকে এত কম নম্বর দিয়েছিলেন যে, যা প্রায় ফেলের কাছাকাছি। কাসেমের উচিত ছিল, চুপ করে থাকা। কারণ, কাসেমের প্রথম জবাবের পর আর নাথ বাবুও, তিনিও জেনে গেছেন, কাসেমের উত্তরই ঠিক।
২. রাজনীতি বা দলমত নিয়ে কোনো অবস্থাতে তর্ক করবেন না। আপনার রাজনৈতিক অবস্থান যেন কোনোভাবেই আপনার কথায় বোঝা না যায়। কারণ ভাইভা বোর্ডে কার কী দৃষ্টিভঙ্গি তা আপনি জানেন না। যদিও ভাইভা বোর্ডে সাধারণত সরকারের প্রিয় লোকদের বসানো হয়। রাজনীতিক তর্কের বিষয় এসে গেলে না-জানার ভান করে বলবেন, এ বিষয়ে স্যার আমার জ্ঞান সীমিত। আপনার রাজনীতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে যদি কোনো প্রশ্ন করা হয়, তাহলে আপনি যদি সক্রিয় রাজনীতিতে খুব বেশি পরিচিত না-হন এবং আপনি যে রাজনীতি করেন, তার কোনো লিখিত দলিল না থাকে, তাহলে বিনয়ের সঙ্গে বলে দিন, আমার কাছে অধ্যয়নই প্রধান। আমি স্যার রাজনীতিতে সক্রিয় না। তারপরও রাজনৈতিক বিরোধপূর্ণ কোনো বিষয় এসে গেলে তা কৌশলে এড়িয়ে যাবেন।
এক প্রার্থীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, স্বাধীনতার ঘোষক কে?
তখন বিএনপির আমল। প্রাথী বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধু।
বোর্ড বললেন, জিয়াউর রহমান।
প্রার্থী নিঃশ্চুপ থেকে তা মেনে নিয়েছিলেন।
ওই প্রার্থী ভালোই করেছিল ভাইভাতে।
৩. ধর্ম নিয়ে কখনও তর্ক করবেন না। বোর্ড যদি ধর্ম নিয়ে কোনো আলোচনা না তোলে তাহলে আপনি পরোক্ষভাবেও ধর্মীয় প্রসঙ্গ টেনে আনবেন না। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। মনে রাখবেন, বোর্ডে যারা বসেন, তারাও আপনার মতো রক্তমাংসের মানুষ। ধর্মীয় অনুভূতি কার মধ্যে কেমনভাবে সাড়া দেয়, নাড়া দেয় তা বলা যায় না। ভাইভা মাত্র দশ/পনের মিনিটের বিষয়; কোনো অবস্থাতে ঝুঁকি নেবেন না।
ভাইভা বোর্ডে এক প্রার্থীকে প্রশ্ন করা হলো, আপনি কি ভাইভাতে পাস করতে পারবেন? আপনার কী মনে হয়?
প্রার্থী বলল, আল্লাহ চাহে তো পাস করব।
আপনি কী চান?
আমি আল্লাহর বান্দা। আমার কিছু চাওয়ার নেই। আল্লাহপাক, যদি চান কেউ আমাকে ফেল করাতে পারবেন না।
বলাবাহুল্য, তিন সদস্যের সবার কাছ থেকে তিনি যে নাম্বার পেয়েছিলেন তা ফেলেরই নামান্তর। লিখিত পরীক্ষায় ভালো করেও ওই প্রার্থী শুধু আল্লাহর উপর নির্ভর থাকার বিষয়টি প্রকাশ করায় পাস করতে পারেননি। এই প্রার্থী এখন একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন।
এক প্রার্থী ভাইভা বোর্ডে বেশ ভালো করলেন। তিনি বিজ্ঞানের ছাত্র, বোর্ডের চেয়ারম্যান তাকে প্রশ্ন করলেন, আপেক্ষিক তত্ত্বের সঙ্গে ইসলামের কী সম্পর্ক?
মুচকি হেসে প্রার্থী বলেছিলেন, এই তত্ত্বের সঙ্গে অনেকে হযরত মুহম্মদ(স:) এর মেরাজ গমনের বিষয়টি বলে থাকেন।
আপনি কি এটি বিশ্বাস করেন?
: স্যার, এই বিষয়ে মুসলিম প-িতদের মধ্যে মতভেদ আছে।
প্রশ্নকারী একটু উত্তেজিত হয়ে বললেন, কী রকম মতভেদ?
: স্যার, অনেক ইসলামি চিন্তাবিদ মনে করেন মেরাজ স্বশরীরে ঘটেনি। নবিজীরর স্বপ্নে এটি ঘটেছিল। আরেকদল মনে করেন স্বশরীরে ঘটেছিল।
আপনি কোনটি বিশ্বাস করেন?
: স্যার আমি সঠিক বলতে পারছি না।
ওসামা বিন লাদেন টুইন টাওয়ারে হামলা করেছে, এমনটি বিশ্বাস করেন?
: স্যার এই বিষয়ে পত্রিকায় অনেক কথা লেখা হয়েছে। আসলে কে দায়ী বোঝা মুশকিল।
এই প্রার্থীর প্রথম পছন্দ ছিল প্রশাসন, কিন্তু ভাইভা ও লিখিত পরীক্ষা ভালো হওয়া সত্ত্বেও টিকেনি। তার আশঙ্কা, ধর্মবিষয়ক প্রশ্নই তার না- টেকার কারণ। আমার অভিমতও তাই। তিনি ধর্মবিষয়ক প্রশ্নগুলো এড়িয়ে গেলে ভালা করতেন।
৪. ভাইভা বোর্ডে ঢোকার কমপক্ষে একঘণ্টা পূর্ব হতে সিগারেট পান বা এমন কিছু গ্রহণ করা হতে বিরত থাকুন, যার গন্ধ আপনার মুখ থেকে বোর্ডের সদস্যগণের নাকে আঘাত করার আশঙ্কা সামান্য হলেও থেকে যায়। আমি একবার ভাইভা বোর্ডে এক প্রার্থীর মুখ থেকে সিগারেটের গন্ধের অস্তিত্ব পেয়েছিলাম। এর প্রতিক্রিয়াস্বরূপ তার নম্বরকে কমিয়ে দিয়েছিলাম। এমন আচরণ একজন প্রার্থীর অসচেতনতা, অধৈর্য এবং আত্মসংযমহীনতার পরিচায়।
৫. এমন কোনো পোশাক পরবেন না, যা সাধারণভাবে মার্জিত নয় বলে বিবেচিত। আামাদের দেশে সাধারণভাবে অফিস-আদালতে যে পোশাক পরে যাওয়া হয় সেরূপ পোশাক পরবেন। মেয়েদের কড়া প্রসাধনী মেখে ভাইভা বোর্ডে যাওয়া মানে অর্ধেক নম্বর, প্রসাধনীর আড়ালে ঢেকে দেওয়া। অভিজ্ঞতার কথা, যেসব মেয়ে কড়া প্রসাধনী পড়ে ভাইভা বোর্ডে এসেছেন- তাদের কৃতকার্যের হার সন্তোষজনক নয়। হাসিমুখ ভালো, তবে মেয়েদের হাসিতে যেন, ব্যক্তিত্ব আর মার্জিত ভাব থাকে। তাই মেয়েদের হাসতে হবে ছেলেদের চেয়ে সাবধানে। তাদের উচিত ঠোঁটে না হেসে চোখ আর কপাল দিয়ে হাসা উচিত।

৬. ভাইভা বোর্ডে কোনো অবস্থাতেই কোনো বিষয় নিয়েই মেজাজ গরম করা যাবে না। বোর্ড আপনাকে যেই প্রশ্ন করুক, আপনি স্বাভাবিকভাবে নেবেন। যে ধরনের প্রশ্ন করা হোক না, বিনীতভাবে উত্তর দেবেন। আপনার উত্তরে যেন কোনো অহমিকা বা অশ্রদ্ধা প্রকাশ না পায়। অনেকে অতি প্রাণবন্ততা দেখানোর জন্য নাটকীয়ভাবে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেন- এটি কখনও করবেন না। অতিচালাকি ভালো নয়, নিজেকে আবার বেশি ওজনদার ভাবাও ঠিক নয়। সুন্দর, সাবলীল ও বিনীতভাবে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মাধ্যমেই যোগ্যতার পরম বহিঃপ্রকাশ ঘটে। ভাইভা শেষ করে চলে আসার সময়, অবস্থা বুঝে হ্যান্ডস্যাক করতে পারেন।
মনে রাখবেন, বোর্ড যেমন আপনার বন্ধু নয়, তেমনি শত্রুও নয়। অনেক সময় বোর্ড আপনাকে প্রশ্ন করে উত্তেজিত করে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। এরূপ প্রশ্ন করার কারণ হচ্ছে, আপনার ধৈর্য পরীক্ষা। পুলিশ ও প্রশাসন ক্যাডার প্রার্থীদের সচরাচর এমন প্রশ্ন করা হয়।
কোনো প্রশ্নের উত্তরে সংশয় থাকলে আপনি যতটুকু জানেন, ততটুকু আস্থার সঙ্গে বলুন। যদি প্রশ্নের উত্তর সম্পর্কে কোনো ধারণা আপনার না-থাকে তাহলে, বিনয়ের সঙ্গে বলুন- মনে পড়ছে না।
এক ভাইভা পরীক্ষায় এক প্রার্থীকে প্রশ্ন করা হলো, পুলিশ ক্যাডারে আসার কারণ হচ্ছে, ঘুস খেয়ে অল্প সময়ে বড়ো লোক হয়ে যাওয়া, নইলে এত ক্যাডার থাকতে, পুলিশ ক্যাডারকে কেন প্রথম পছন্দে রেখেছেন?
স্যার, আমি ঘুস খাব না।
তাহলে কী খাবেন? আপনার চেহারা বলছে, আপনি ঘুস খাবেন।
হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে গেলেন প্রার্থী, স্যার, আমার পরিবারে টাকার অভাব নেই। আমার বাবা ছিলেন, প্রধান প্রকৌশলী, মা ছিলেন- ––।
লিখিত পরীক্ষা খুব ভালো করা ছেলেটি ভাইভাতে ফেল করে বসেন।
একই প্রশ্ন করা হয়েছিল রাজন নামের এক প্রার্থীকে। তিনি বলেছিলেন, স্যার, মানুষ যে কারণে ঘুস খায়, আমি সে কারণটাকে নেহাত অকার্যকর মনে করি।
কী কারণে ঘুস খায়?
তাড়াতাড়ি বড়ো লোক হয়ে যাবার জন্য।
আপনি চান না?
চাই, তবে তা ঘুস খেয়ে নয়। কারণ, এর মধ্যে যে অশান্তি, শঙ্কা এবং ভয় আছে, তা একজন ঘুসখোরের জীবনকে অশান্তিময় করে রাখে। আমি অযথা, অশান্তিতে পড়তে যাব কেন।
কিন্তু আপনার চোখমুখ বলছে, আপনি ঘুস খাবেন।
আসলে স্যার, ঘুসের বিষয়টা তোলায় আমি ভয় পেয়ে গিয়েছি। তাই আমার চোখেমুখে একটা চঞ্চলতা পরিলক্ষিত হয়েছে আাপনার দূরদর্শী চোখে।
প্রসঙ্গত, ছেলেটি ভলো নাম্বার পেয়েছিল।

৭. ভাইভাতে কোনো প্রশ্ন ইংরেজিতে করলে তার উত্তরও ইংরেজিতে দেবেন। ইংরেজি না-জানলেও ইংরেজিতে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করুন, হয়ে যাবে; আপনি যেমন ভালো ইংরেজি জানেন না, আপনার সামনে যারা বসেছেন, তারাও তাদের অবস্থান পরিপ্রেক্ষিতে ভালো ইংরেজি জানেন না। বাংলাদেশের অধিকাংশ ঊর্ধ্বতন অফিসার চায়নিজদের সঙ্গেও ইংরেজি বলতে ভয় পান। ইংরেজিতে প্রশ্ন করলে, কখনও বাংলায় বলার অনুমতি চাইবেন না। এটি বোর্ডের কাছে আপনার অজ্ঞতা এবং একই সঙ্গে অভদ্রতা। অভিজ্ঞতার কথা, এক পরীক্ষার্থীকে বলা হলো, ব্রিফলি ডেসক্রাইব দ্যা স্পিচ অব সেভেনথ মার্চ, ইন্ট্রোডিউস বাই ফাদার অব দ্যা নেশন।
প্রার্থী শুরু করল, বাংলায়।
বোর্ড বলল, প্লিজ, ডেসক্রাইব ইন ইংলিশ।
প্রার্থী বলল, বাংলায় বলি স্যার?
বোর্ড বললেন, আপনি আসুন।
এরপর একই প্রশ্ন করা হলো আর একজনকে। ওই প্রার্থী ছিল বাংলার ছাত্র। তিনি শুরু করলেন, ইংরেজিতে, যদি লিখতেন, তাহলে দশ নাম্বারে দুই নাম্বারও পেতেন না, কিন্তু বোর্ড তার ইংরেজি জ্ঞান নিয়ে ভাবলেন না, ভাবলেন, তার সাহসী প্রয়াস নিয়ে। এমন প্রয়াসই ভাষা শেখার জন্য যথেষ্ট।
প্রার্থী ভাইভাতে বেশ ভালো নাম্বার পেয়েছিলেন।
অতএব ইংরেজিতে প্রশ্ন করলে ইংরেজিতেই উত্তর দেবেন। কোনোভাবেই বাংলায় বলার অনুমতি চাইবেন না।

৮. আপনার প্রথম পছন্দ ট্যাক্স ক্যাডার কেন? আপনি তো রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র? আপনার তো দেওয়া উচিত ছিল, প্রশাসন।
প্রার্থী বলল, স্যার, বন্ধুর বলল, দিয়ে দিয়েছি। প্রশাসন ও পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রার্থীর সংখ্যা বেশি। তাই এটি দিয়েছি।
তার মানে আপনি ভালোভাবে নিজে না বুঝে অন্যের দ্বারা তাড়িত হয়ে ক্যাডার পছন্ধ করেছেন, তাই তো?
সত্য বলতে, কী তাই।
এমন প্রশ্নের উত্তর প্রার্থীটি সম্পর্কে প্রথমেই বোর্ডকে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এনে দিয়েছিল। এই উত্তরের মাধ্যমে প্রার্থীর মানসিক দুর্বলতা, না বুঝে অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। এমন ছেলে বিসিএস-এর মতো চাকুরিতে ঢুকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্থির থাকতে পারবে না।
আপনার প্রথম পছন্দ যেটাই হোক, এবং যেভাবেই দিয়ে থাকেন না কেন, কখনো, তা অন্যের দ¦ারা প্রভাবিত হয়ে বা না বুঝে দিয়েছেন- বলবেন না। অনেক সময় সত্য কথা বিপদ ডেকে আনে। এসব ক্ষেত্রে মিথ্যাই উত্তম।

৯. ভাইভা বোর্ড যা প্রশ্ন করেন, সংক্ষেপে সেই উত্তরটি দেবেন। যেমন, যদি জানতে হয়, বঙ্গবন্ধু কখন জন্মগ্রহণ করেন? উত্তরে কেবল, জন্ম তারিখটিই বলবেন। গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া বা অতিরিক্ত কিছু বলবেন না। যদি বলা হয়, যদি বলা হয়, চট্টগ্রাম কী জন্য বিখ্যাত? বলবেন- বন্দরের জন্য। একাধিক বলতে যাবেন না। বেশি বলা বাচলামির লক্ষণই শুধু নয়, সময় ক্ষেপক হিসেবেও আপনি নেতিবাচকতার শিকার হতে পারেন। আর একটা কথা, কোনো অবস্থাতে আগ বাড়িয়ে কিছু বলবেন, আপনি যতই জানেন না কেন, আপনার সব জানা শূন্য হয়ে যাবে, যদি ভালো নাম্বার না পান।

১০. কথা বলার সময় হাত নাড়াবেন না এবং পা ঝাঁকাবেন না। মাথা নড়াচড়ার ক্ষেত্রেও শালীনতা বজায় রাখুন, এমনভাবে মাথা নাড়বেন না, যেরূপ ফুটপাতে হকারেরা নাড়িয়ে থাকেন। চেয়ারে হেলান দিয়ে আরাম করে বসতে যাবেন না। সোজা হয়ে বসুন, তবে, শক্ত বা অস্বাভাবিকভাবে নয়। এটি নাপিতের সেলুন নয়, যে প্রয়োজনে আপনাকে ঠেলা দিয়ে ভদ্রোচিত করবেন।

১১. প্রশ্নের উত্তরে কখনো এমন কোনো শব্দ, তথ্য বা পরিসংখ্যান ব্যবহার করবেন না, যা সম্পর্কে আপনার নিজেরই ভালো ধারণা নেই। মনে রাখবেন, বোর্ড আপনার উত্তর থেকেও প্রশ্ন করতে পারে; এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা-ই করা হয়।
তবে, আপনি যদি প্রবলভাবে আত্মবিশ্বাসী হন এবং মিথ্যাকে ঢাকার জন্য অতিরিক্ত জ্ঞান বা কৌশল আপনার আয়ত্তে থাকে, তাহলে তা করতে পারেন। যেমন; আমি করেছিলাম। আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনীতে লোকবল কত?
আমি বলেছিলাম, ৮৮ হাজার।
কেন বলেছিলাম, তাই পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে হয়তো তা পড়ে নিয়েছেন।

১২. ভাইভাতে যাবার একদিন আগে নয়, কয়েক দিন আগে চুল কাটবেন। ভাইভার আগের দিন চুল কাটলে ভাইভাতে যাবার দিন আপনাকে আপনার কাছেই একটু অন্যরকম বা অস্বাভাবিক মনে হবে। এটি আপনার মনের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। আর একটা কথা, চুল যেন খুব লম্বা না হয়। লম্বা চুল রাখার অভ্যাস থাকলেও ভাইভার জন্য তা বিসর্জন দিন। আগে পাস করুন, তারপর যদি সম্ভব হয়, চুল দিয়ে দোল খান, দিঘল চুলে বন্যা করেন- অসুবিধা নেই।

১৩. ভাইভা বোর্ডে কখনো নিজের যোগ্যতা নিয়ে কোনো বিষয়ে সামান্যতম মিথ্যারও আশ্রয় নেবেন না। অতিরঞ্জিত করার প্রশ্নই আসে না। আপনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নম্বরধারী মাস্টার্স হলেও বোর্ডের মন গলবে না, বরং আরও কঠিন হয়ে যাবে। বিসিএস পরীক্ষায় আপনার সানদিক কিংবা ব্যক্তিগত যোগ্যতা কোনো গুরুত্ববহন করে না। ওই মুহূর্তে কেবল বোর্ড আপনাকে যে স্বীকৃতি দেবে সেটিই গুরুত্ববহ।

১৪. নেতিবাচকতাকে কাছেই ঘেষতে দেবেন না। যেকোনো উত্তরের ক্ষেত্রে ইতিবাচকতা বজায় রাখার চেষ্টা করুন। না জানলে ‘না’ বলুন, এটিই সবচেয়ে বড়ো ইতিবাচকতা। যা সত্য তা স্বীকার করার চেয়ে বড়ো ইতিবাচকতা আর নেই। অনেকে না- জেনেও বলেন, এ বিষয়টা এ মুহূর্তে মনে পড়ছে না। এমন হলে বোর্ড ওই সংশ্লিষ্টে অন্য প্রশ্ন করতে পারেন। তাও যদি না পারেন, বোর্ড মনে করতে পারে, আপনি শুধু অজ্ঞ নন, মিথ্যুকও। কোনো বিষয় সম্পর্কে ধারণা না থাকলে খোলখুলি বলে দিন, বিষয়টি আমার জানা নেই।

১৫. বোর্ডের চেয়ারম্যান বা সদস্য নারী হলেও স্যার ডাকবেন, কখনও ম্যাডাম বা ম্যাম ডাকবেন না।এখন কেউ নারী হতে চান না। সবাই পুরুষ সম্বোধন শুনতে চান। নারীরা নিজেদের পুরুষ সম্বোধনে অভিহিত হতে গর্ব বোধ করেন।বিস্তারিত: বিসিএস প্রিলিমিনারি থেকে ভাইভা কৃতকার্য কৌশল


এখানে বিসিএস-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পাসের সহায়ক কয়েকটি বইয়ের ছবি দেওয়া হলো। বইগুলো সংগ্রহ করতে পারেন:
আলমগীর ০১৯১৫১-৬৫৩৩৩ (পুথিনিলয়)।
মাসুদুল হক : ০১৮১৭০৯১৩৮৬ (উত্তরণ)।
ওসমান গনি : ০১৮১৯-২১৯০২৪ (আগামী প্রকাশনী)।
তুষার প্রসূন : ০১৯৮০-১০৫৫৭৭ (অনুভব প্রকাশনী)।
মাকসুদ : ০১৭২৬-৯৫৬১০৪ (হাওলাদার প্রকাশনী)।
অথবা রকমারি ডট কম বা অন্যান্য অনলাইন গ্রুপ কিংবা নিকটস্থ লাইব্রেরিতে বলতে পারেন।
error: Content is protected !!