ভাইরাল কী ও কেন: ভাইরাল শব্দের বাংলা

ড. মোহাম্মদ আমীন

এই পোস্টের সংযোগ: https://draminbd.com/ভাইরাল-কী-ও-কেন/

ভাইরাল কী ও কেন: ভাইরাল শব্দের বাংলা,পরামর্শ বনাম পরামর্ষ, জম্পেশ

কোনো বিষয় যখন অতি দ্রুত বিস্তৃত স্থানে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে নানাজনের দেহ-মনে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে তখন তাকে ভাইরাল বলা হয়। কোনো বিষয় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল, কিন্তু কারও মনে কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করল না, তাকে ভাইরাল বলা যায় না। ভাইরাল শব্দটির আলংকারিক অর্থ— অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এবং ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যমে নানা জনের মনে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করা। সুতরাং, ভাইরাল হতে হলে তার দুটি শর্ত আবশ্যক— প্রথম: দ্রুত বিস্তারলাভ এবং দ্বিতীয়: প্রতিক্রিয়া। কিন্তু ভাইরাল অর্থ ভাইরাসজনিত, ভাইরাস-ঘটিত। তো ঘটনাকে ভাইরাল বলা হয় কেন? ঘটনায় জীবাণু এল কীভাবে?
 
ভাইরাল শব্দের আক্ষরিক অর্থ ‘ভাইরাসজনিত’। এটি ভাইরাস শব্দের বিশেষণ। যেমন, ভাইরাল ফিভার(ভাইরাসঘটিত জ্বর), ভাইরাল ইলনেস, ভাইরাল কফ প্রভৃতি। আণুবীক্ষণিক জীবাণু ভাইরাস কোনো পূর্ব সতর্কীকরণ ছাড়া প্রায় সব মাধ্যমে বাহিত হয়ে অতি দ্রুত সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে নানা প্রাণীর দেহমনে নানা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ভাইরাসের এমন চরিত্র থেকে ভাইরালের আলংকারিক অর্থ গৃহীত হয়েছে।
 
অর্থাৎ, ভাইরাসের মতো দ্রুত ও সর্বত্র ছড়িয়ে পড়া কোনো বিষয়কে বলা হয় ভাইরাল। যেমন: ভাইরাল মার্কেটিং, ভাইরাল সংবাদ, ভাইরাল যযাতি, ভাইরাল ঘটনা। বাংলায় ভাইরাল-এর কোনো প্রতিশব্দ নেই। ভাইরাল হিসেবে শব্দটি এত বহুল প্রচলিত যে, প্রতিশব্দ না করলেও চলে।
 
তারপরও কেউ যদি আমার কাছে  ভাইরাল শব্দের বাংলা কী হতে পারে জানতে চাই, তো পরিভাষা হিসেবে বলব— ত্বরাক, মহসঞ্চারি প্রভৃতি। আপনাদের কারও নতুন পরিভাষা জানা থাকলে বলতে পারেন।
 
সূত্র: ড. মোহাম্মদ আমীন, পৌরাণিক শব্দের উৎস ও বিবর্তন অভিধান।
 

পরামর্শ বনাম পরামর্ষ

বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ‘পরামর্শ (পরা + √মৃশ্‌+অ)’ শব্দের অর্থ মন্ত্রণা, উপদেশ, কর্তৃব্যের বিষয়ে অভিমত, বিবেচনা প্রভৃতি। অন্যদিকে, বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ‘পরামর্ষ (পরা + √মৃষ্‌+অ)’ শব্দের অর্থ সহ্যকরণ, সহন; ক্ষমা প্রভৃতি।
প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতির পরামর্ষ ঘোষণা কার্যকর করা হলো।

জম্পেশ অর্থ কী?

দেশি শব্দ জম্পেশ অর্থ (বিশেষণে) উত্তম, অতিশয় উপভোগ্য, চমৎকার। যেমন: জম্পেশ আড্ডায় মেতে ওঠেছে সবাই। জমা মানে একত্র হওয়া, উপভোগ্য হওয়া। পেশ অর্থ উপস্থাপন, কথামালা, গালগল্প। মনে করা হয়, জম্পেশ এই দুটি শব্দের (জমা ও পেশ) খিচুড়ি।
“আড্ডা দিলাম জম্পেশ, খাওয়াও হলো কমবেশ
স্মৃতি ছাড়া আর কিছু নেই, কথাই শুধু অবশেষ।”

কোরান শরিফে ভারতীয় শব্দ

কোরান শরিফে তিনটি ভারতীয় শব্দ রয়েছে। প্রথমটি হলো ‘কাফুর’। শব্দটির বাংলা অর্থ করপুর। এর মালয়িরূপ ‘কাপুর’ ও সংস্কৃতরূপ ‘কর্পূর’। দ্বিতীয় শব্দটি হলো ‘মিসক্‌’। যার বাংলা অর্থ সুগন্ধ। শব্দটির সংস্কৃতরূপ ‘মুশ্‌ক’। তৃতীয় শব্দটি হচ্ছে ‘জানজার্বিল (আদ)। শব্দটির সংস্কৃতরূপ ‘শৃঙ্গবের’।

তথ্যসূত্র:
(১) Dr. G. M Hilali, Perso-Arabic Elements in Bengali.
২) মো: হারুন-অর রশীদ, সাহিত্যে চিত্র-বৈচিত্র্য, গতিধারা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১০। পৃষ্ঠা ১৫৬

ভাইরাল কী ও কেন

প্রয়োজনীয় লিংক
শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com
error: Content is protected !!