ভাবাধিকরণ বনাম করণ কারক

এবি ছিদ্দিক
সংযোগ: https://draminbd.com/ভাবাধিকরণ-বনাম-করণ-কারক/
কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়’, ‘টাকায় বাঘের চোখও মেলে’, ‘চেষ্টায় সবই সম্ভব’ প্রভৃতি বাক্যে ‘কান্নায়’, ‘টাকায়’, ‘চেষ্টায়’ প্রভৃতি পদের কারক নির্ণয় করতে বললে করণ কারক, না কি ভাবাধিকরণ, তা নিয়ে মাঝেমধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। প্রচলিত সংজ্ঞার্থ পড়ে যথাযথভাবে অনুধাবন করে ব্যাকরণজ্ঞানে ঋদ্ধ শিক্ষার্থীর পক্ষে এই বিভ্রান্তি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হলেও আমার মতো পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের সহজতর কৌশলের দরকার পড়ে বইকি। এক্ষেত্রে স্বস্তির বিষয় হচ্ছে, সামান্য একটু কৌশল অবলম্বন করলে নির্ভুলভাবে ভাবাধিকরণ আর করণ কারক নিরূপণ করাটা একেবারেই সহজ হয়ে যায়।
কৌশলটি হচ্ছে— যে পদের কারক নির্ণয় করতে বলা হবে, সে পদটির কোনো রূপ ক্রিয়াপদ হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না, তা দেখা। যদি ক্রিয়াপদ হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তাহলে ভাবাধিকরণ, ক্রিয়াপদ হিসেবে ব্যবহার করা না-গেলে করণ কারক। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে— নির্দিষ্ট পদটি দুইটি শব্দ নিয়ে গঠিত হলে উভয় শব্দের যে-কোনো একটি শব্দের যে-কোনো রূপ ক্রিয়াপদ হিসেবে ব্যবহৃত হলেও ভাবাধিকরণ হবে।
নিচের উদাহরণ কটি মনোযোগ দিয়ে লক্ষ করলে বিষয়টি স্পষ্টতর হয়ে যাবে আশা করি—
  •  ‘আলোয় অন্ধকার দূর হয়।’— বাক্যটিতে ‘আলোয়’ হচ্ছে করণ কারক। কারণ, ‘আলো’ শব্দটির কোনো রূপই ক্রিয়াপদ হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।
  •  ‘হাসিতে মন ভালো থাকে।’— এখানে ‘হাসিতে’ হচ্ছে ভাবাধিকরণ কারক। কারণ, ‘হাসিতে’ পদটির (‘হাস্ ধাতুর)) অনেক রূপ ক্রিয়াপদ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। যেমন: সে হাসছে।
  •  ‘সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।’— এখানে ‘সূর্যোদয়ে’ হচ্ছে ভাবাধিকরণ কারক। কারণ, ‘উদয়’ (সূর্য + উদয়) শব্দটির এক বা একাধিক রূপ ক্রিয়াপদ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। যেমন: সূর্য উদয়ের (ওঠার) পর বাড়ি যাব।
  •  ‘টাকায় বাঘের চোখও মেলে।’— এখানে ‘টাকায়’ করণ কারক। কারণ, ‘টাকা’ শব্দের কোনো রূপই ক্রিয়াপদ হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।
  •  ‘চেষ্টায় সব হয়।’— এখানে ‘চেষ্টায়’ করণ কারক। কারণ, ‘চেষ্টা’ শব্দের কোনো রূপই ক্রিয়াপদ হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।
  • ‘কান্নায় কষ্ট কমে।’— এখানে ‘কান্নায়’ ভাবাধিকরণ কারক। কারণ, কান্না শব্দের বিভিন্ন রূপ ক্রিয়াপদ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। যেমন: সে কাঁদছে(কান্না > কাঁদনা > কাঁদ্)।
শেষের আগে একবাক্যে বললে— এধরনের বাক্যে ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য হলে ভাবাধিকরণ, অন্যথা করণ কারক হবে।
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। তাই যদি হয়, তাহলে ভাবাধিকরণ তো অধিকরণের মধ্যেই পড়ার কথা নয়। ‘হাসিতে মন ভালো করে ।’ ‘সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূর করে।’ ‘কান্নায় কষ্ট কমায়। – এগুলোও কি ভাবাধিকরণ হবে ? ৭ম শ্রেণির বোর্ড ব্যাকরণে বলা হয়েছে : হাসিতে মুক্তা ঝরে = ভাবাধিকরণ কান্নায় শোক মন্দীভূত হয় = অধিকরণ।
এবি ছিদ্দিক এর উত্তর:
অধিকাংশ বইয়ে উল্লেখ-করা অধিকরণ কারকের সংজ্ঞার্থে কেবল সময় ও আধারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর প্রধান কারণ হচ্ছে— সামগ্রিক সংজ্ঞার্থে ভাবাধিকরণকে জুড়তে গেলে অধিকরণ কারকের সংজ্ঞার্থ অনেকটা জটিল হয়ে যাবে। তবে অশোক মুখোপাধ্যায় এই জটিল কাজটি অত্যন্ত সহজ ও সুন্দরভাবে করেছে। তিনি অধিকরণ কারকের একটি অতি মানসম্পন্ন সংজ্ঞার্থ প্রদান করেছেন— ‘ক্রিয়া সংঘটন যে-স্থানে, সময়ে, বিষয়কে অবলম্ব করে ঘটে, বাক্যের ক্রিয়াপদের সঙ্গে সেই স্থান, সময় কিংবা বিষয়ের সম্পর্ককে বলা হয় অধিকরণ কারক।’ ভাবাধিকরণে ক্রিয়া বিষয়কে অবলম্বন করে সম্পন্ন হয়। যেমন: কান্না-বিষয়কে অবলম্বন করে কষ্ট দূরীভূত হওয়ার কাজটি সম্পন্ন হয়। এ থেকে বলা যায়— সকল ভাবাধিকরণই অধিকরণ, কিন্তু সকল অধিকরণ ভাবাধিকরণ নয়। অধিকরণ কারক তখনই ভাবাধিকরণ হবে, যখন কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করবে।
  —————————————————-
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমাদের টেপাভুল: অনবধানতায়
error: Content is protected !!