সৈয়দ আমীর আলী ভারতবর্ষের প্রথম আধুনিক মুসলিম। তাঁকে ভারতবর্ষে মুসলিমদের মধ্যে প্রথম আধুনিক মানুষ বলা হয় কেন?সৈয়দ আমীর আলী (জন্ম: ৬ই এপ্রিল, ১৮৪৯-মৃত্যু: ৩রা আগস্ট, ১৯২৮) বুঝতে পেরেছিলেন— মুসলিম জাতির পশ্চাদপদতার মূল কারণ অন্ধ-অনুকরণ, পশ্চাদনুবর্তিতা এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মুক্তবুদ্ধির প্রতিকূল অবস্থান। ধর্মের ভেদবোধহীন চিন্তাচেতনা পরিত্যাগ করে তিনি মুসলিম সমাজকে আধুনিক চিন্তাচেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মিথ্যা এবং অবাস্তব কল্পনা ছুড়ে ফেলে সত্য ও বাস্তবতার মিছিলে সামিল হয়ে নিজেদের অবস্থানকে সুসংহত করার প্রয়াস নিয়েছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন— ষষ্ঠদশ শতকের তরোয়াল দিয়ে বিংশ শতকের আকাশাভিযান মোকাবেলা নিতান্তই বালখিল্য।
তিনি মনে করতেন, স্থিতিশীল ধর্মীয় অনুশাসন দিয়ে পরিবর্তনশীল সমাজের চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। ইসলামের যে সকল বিধান মৌলিক ধর্ম বিশ্বাসের সাথে জড়িত নয় এবং যেগুলো গ্রগতি ও বিজ্ঞানমনস্কতার প্রতিকূল সেগুলোকে তিনি পরিবর্তন, পরিমার্জন এমনকি বর্জনেরও সুপারিশ করেছেন। বহুবিবাহ ও পর্দাপ্রথার বিলুপ্তি, মুসলিম পারিবারিক আইনের সময়োপযোগী সংশোধনসহ আরও বহুবিধ সংষ্কারমূলক প্রস্তাব তার উদারনীতি ও প্রগতিশীল চিন্তার নিদর্শন।
তিনি জানতেন পাহাড় পৃথিবীর পেরেক নয়, সূর্য কোনো কাদামাখা গর্তে ডুবে যায় না; উল্কাগুলো কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নয়। ধর্ম ও সমাজ সংস্কারের যুগোপযোগী মতবাদ, সাহসী বক্তব্য, মুক্তচিন্তার প্রসার, অসাম্প্রদায়িক মনোভাব এবং আধুনিক বিজ্ঞানমনস্কতা প্রভৃতি বিবেচনায় তাকে ভারতবর্ষের মুসলমানদের মধ্যে প্রথম আধুনিক মানুষ বলা হয়।
সৈয়দ আমির আলী (জন্ম: ৬ই এপ্রিল, ১৮৪৯-মৃত্যু: ৩রা আগস্ট, ১৯২৮) ছিলেন ভারতীয় মুসলিম আইনজ্ঞ এবং কলকাতা হাইকোর্টের প্রথম মুসলিম বিচারপতি। ছিলেন। তিনি ইসলামের ইতিহাস নিয়ে অনেকগুলো বই লিখেছেন। তন্মধ্যে অন্যতম হল দ্যা স্প্রিট অফ ইসলাম। এই বইটি পরবর্তীকালে মুসলিম আইন প্রবর্তন করার অনুকূলে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল। সৈয়দ আমীর আলী অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন।
বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন
লাতভিয়া (Latvia) : ইতিহাস ও নামকরণ
লিচটেনস্টেইন (Liechtenstein) : ইতিহাস ও নামকরণ
লিথুয়ানিয়া (Lithuania) : ইতিহাস ও নামকরণ
কীভাবে হলো দেশের নাম, ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়, বাংলাবাজার, ঢাকা।
বাংলাদেশ ও বাংলাদেশবিষয়ক সকল গুরুত্বপূর্ণ সাধারণজ্ঞান লিংক