ভিটেয় ঘুঘু চরানো, ভূতের মুখে রামনাম, বকধার্মিক, ঘরকা মুরগি ডাল/ দাল বরাবর

 মোর্শেদ হাসান

https://draminbd.com/ভিটেয়-ঘুঘু-চরানো-ভূতের-মু/
 
১) ভিটেয় ঘুঘু চরানো
সাহিত্য, সিনেমায় এ প্রবাদটি অসংখ্যবার শোনা যায়। এ মুহূর্তে ‘নয়নমণি’ সিনেমায় এ.টি.এম শামসুজ্জামানের সংলাপ মনে পড়ছে- “এমন ব্যবস্থা করব বাপধন ভিটেয় ঘুঘু চরিয়ে ছাড়ব। এখন ষড়যন্ত্র বা প্রতিহিংসাপরায়ণতার সঙ্গে ভিটেয় ঘুঘু চরানোর কী সম্পর্ক? ভিটে থেকে কুচক্রী বুদ্ধির মাধ্যমে শুধু উচ্ছেদ করলে তা-ও না হয় বোঝা যেত। কিন্তু ঘুঘু চরানোর ব্যাপারটা কী?
 
আসলে গ্রাম বাংলার খুব পরিচিত একটি পাখি ঘুঘু। নির্জন দুপুরে ঘুঘুর সুমধুর ডাক শুনে আনমনা হয়ে যান নি সে যুগে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে। ঘুঘু পাখির স্বভাব হচ্ছে মানুষের কোলাহল মুক্ত পরিবেশে, শান্ত নির্জন স্থানে বিচরণ করা। তাই কাউকে ভিটে-মাটি ছাড়া করার হুমকি দেওয়ার জন্য বলা হয়- ভিটেয় ঘুঘু চরাবো। অর্থাৎ উচ্ছেদ করার পর সে ভিটে এতটাই বিরানভূমি হবে যে সেখানে ঘুঘু চরানোর মতো নির্জন পরিবেশ তৈরি করা হবে।
 
২) ভূতের মুখে রামনাম
বহুল প্রচলিত প্রবাদ। শরৎচন্দ্রের ‘শ্রীকান্ত’ উপন্যাসে মাছ চুরির সময় ইন্দ্রনাথ একটি ছোট বাচ্চার মড়া নৌকায় তুলে নেয়। গা ছমছম করা গভীর রাতে শ্রীকান্তের হঠাৎ মনে হলো নৌকার গলুইয়ে কেউ বসে আছে। ইন্দ্রকে এ কথা বলতেই সে বলে, শ্রীকান্ত রামনাম করো।
 
আসল কথা হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বাস রাম-নাম নিলে ভূত পালিয়ে যায়, কাছে ধারে আর ভিড়ে না। আর সেই ভূতই যদি রামের নাম মুখে আনে তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়ায় অবাস্তব ও অবিশ্বাস্য । তাই সমাজে যার পক্ষে যে কথা বা কাজ করা অসম্ভব বলে মনে হয় সেটা প্রকাশ করতে বলা হয় ‘ভূতের মুখে রাম-নাম’।
 
৩) বকধার্মিক
বক খালে-বিলে মাছ শিকার করে। এজন্য বক যখন মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে জলাভূমিতে দাঁড়িয়ে থাকে তখন সে এক ঠ্যাং পানিতে ডুবিয়ে রাখে এবং আর এক ঠ্যাং তুলে চুপচাপ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এ অবস্থায় বককে দেখলে মনে হবে সে বুঝি ঋষি-মুনিদের মতো যোগাসনে আছে। কিন্তু কোথায় তার সেই যোগাসন! যেই মুহূর্তে মাছের দেখা পায় তখনই সে বিদ্যুৎ চমকের মতো পানিতে মুখ ডুবিয়ে দুই ঠোঁটের মাঝে মাছটিকে গেঁথে নেয়। বকের মাছ শিকারের জন্য এরূপ পরম তপস্যা ভরে দাঁড়িয়ে থাকা থেকেই এসেছে ‘বকধার্মিক’(ভণ্ড ধার্মিক) কথাটি।
 
৪) ঘরকা মুরগি ডাল বা দাল বরাবর
নিজ বাড়ির রান্নার কদর নেই। অন্যের বাড়ির রান্না অতি সুমধুর মনে হয়। এজন্য নিজের বাড়ির মুরগি রান্না হলেও সেটার স্বাদ মনে হয় পানসে ডালের মতো আর অন্যের বাড়ির মুরগি; ওহ্ তার জবাব নেই। সৈয়দ মুজতবা আলীর গল্পে উল্লেখ আছে এই –‘ঘরকা মুরগি ডাল বরাবর’ প্রবাদটি।
 
 
error: Content is protected !!