ভীমরতি

ড. মোহাম্মদ আমীন

ভীমরতি শব্দের আভিধানিক ও প্রচলিত অর্থ কাণ্ডজ্ঞানহীনতা, অতি বার্ধক্যজনিত বুদ্ধিভ্রংশতা। ভীম মানে ভীষণ আর রতি মানে রাত্রি। সুতরাং ভীমরতি মানে ভীষণ রাত্রি। সংস্কৃত শব্দ ভীমরতির সঙ্গে বয়স ও বয়স অনুযায়ী আচরণের সম্পর্ক প্রকাশ করা হত। চালশেও বয়সপ্রকাশজনিত একটি শব্দ। বয়স চল্লিশ পের হলে মানুষের চোখের দৃষ্টি কমে আসার প্রমাণ স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হয়ে উঠতে শুরু করে। এ সময় মানুষ দৃষ্টি শক্তি স্বাভাবিক রাখার জন্য চশমা পরতে শুরু করে। এটাকে বলে চালশে। বয়স সত্তর পের হওয়াকে বলে বাহাত্তুরে। বাহাত্তুরে ধরলে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কেও গণ্ডগোল শুরু হয়। আস্তে তার স্বাভাবিকতায় বিঘ্ন ঘটতে শুরু করে।

বাহাত্তুরে আরও বিপজ্জনক শারীরিক অবস্থার ঈঙ্গিত দেয়। এর কয়েক বছর পর শুরু হয় ভীমরতি। ভারতীয় পুরাণমতে বয়স সাতাত্তর বছরের সাত মাসের সপ্তম রাত্রির নাম ভীমরতি। বলা হয়, এ রাতের পর মানুষের জীবনে ভীষণ পরিবর্তন আসে। এ বয়সে অধিকাংশ মানুষ শিশুর মতো অবোধ আবার কাণ্ডজ্ঞানহীন যুবকের মতো নির্বোধ আচরণ শুরু করে। তার সামগ্রিক চালচলন পূর্বেকার স্বাভাবিকতাকে অস্বাভাবিক করে তোলে। এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ থেকে ভীমরতি শব্দটি এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন অর্থ ধারণ করে। ভীমরতি শব্দের একটি কদর্থ করা যায় ‘ভীষণ রকম রতি’, যদিও তা অবাস্তব নয় । সত্তর বাহাত্তর বছর বয়সে পুরুষ মানুষের প্রোস্টেট গ্ল্যান্ড বড় হয়ে যায় । তখন পুরুষালী হরমোন Testosterone একটু বেশী পরিমাণে নিঃসরণ হয় । ফলে রতিশক্তি বেড়ে যায় । সেই পুরুষ নতুন বিয়ে করতে চায় । ভীষণরকম রতি শক্তি বেড়ে যায়, এবং এর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ে কাণ্ডজ্ঞান হীন আচরণ । তাই একে বুড়ো বয়সের ভীমরতি বলা যায় ।

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, বাংলা গবেষণা, সাধারণ জ্ঞান এবং শুদ্ধ বাংলা শেখার জন্য নিচের অপরিহার্য লিংকের সহায়ক লেখাগুলো হতে পারে আপনার লক্ষভেদের সার্থক সহায়ক।

————————————————————————————————————

শুবাচ লিংক

শুবাচ লিংক/২

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/১

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/২

জঞ্জাল দিবস

শব্দকল্পদ্রুম/২

শব্দকল্পদ্রুম/৩

শব্দকল্পদ্রুম/৪

শব্দকল্পদ্রুম/৫

শব্দকল্পদ্রুম/৬

শব্দকল্পদ্রুম/৭

error: Content is protected !!